কয়েক ফোঁটা জল

অনিচ্ছা সত্ত্বেও না করতে পারেনা। কারন সে মানুষ নয়, একজন নারি বলে। প্রায় প্রতি রাতেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে তার স্বামীকে দেহ দিতে হয়। ঘামে শুকানো ঠাণ্ডা শরীরটার সাথে নিজের শরীর জড়িয়ে শুয়ে থাকতে হয় রুমানাকে। এখনও তাই করতে হচ্ছে, কামড়ে কামড়ে নিংরে শেষ স্বাদটুকুও আস্বাদন করতে চায় ফিরোজ। কিছু বলতে পারে না ফিরোজকে। গা এলিয়ে পরে থাকতে হয়। রুমানার অসুস্থতা ফিরোজকে দমিয়ে রাখতে পারেনা। ফিরোজের ধারনা এসব করলে খারাপ লাগবে না, বরং আরও ভাল লাগবে রুমানার। কিন্তু রুমানার লাগে না। অসহ্য যন্ত্রনা হয়। যন্ত্রনা হলেই কি। সে তো আর মানুষ না, নারি,আর নারি বলেই তাকে এই যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে দাঁতে দাঁত চেপে।


অনিচ্ছা সত্ত্বেও না করতে পারেনা। কারন সে মানুষ নয়, একজন নারি বলে। প্রায় প্রতি রাতেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে তার স্বামীকে দেহ দিতে হয়। ঘামে শুকানো ঠাণ্ডা শরীরটার সাথে নিজের শরীর জড়িয়ে শুয়ে থাকতে হয় রুমানাকে। এখনও তাই করতে হচ্ছে, কামড়ে কামড়ে নিংরে শেষ স্বাদটুকুও আস্বাদন করতে চায় ফিরোজ। কিছু বলতে পারে না ফিরোজকে। গা এলিয়ে পরে থাকতে হয়। রুমানার অসুস্থতা ফিরোজকে দমিয়ে রাখতে পারেনা। ফিরোজের ধারনা এসব করলে খারাপ লাগবে না, বরং আরও ভাল লাগবে রুমানার। কিন্তু রুমানার লাগে না। অসহ্য যন্ত্রনা হয়। যন্ত্রনা হলেই কি। সে তো আর মানুষ না, নারি,আর নারি বলেই তাকে এই যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে দাঁতে দাঁত চেপে।

আরও কিছুক্ষন শুয়ে থাকার ইচ্ছা থাকলেও উঠতে হয় রুমানাকে। স্বামী, শশুর শাশুরি দেবরের জন্যে তাকে নাস্তা বানাতে হবে। হালকা জ্বর এসেছে বোধহয়। কিন্তু এসব হালকা জ্বর জারি মেয়েদের গায়ে মাখতে নেই। রাতে ভাল ঘুম হয়নি। তো কি। মেয়েদের ঘুম ভালো না হলেও উঠতে হয়। কারন সে নারি। ফিরোজের মুখের দিকে তাকালো একবার। অনেক আনন্দ নিয়ে ঘুমাচ্ছে। চোখে মুখে তৃপ্তির ছায়া। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানা ছেড়ে উঠে গেলো রুমানা। ফিরোজের মতো নিশ্চিন্তে ঘুমাতে না পারার কারনে এই দীর্ঘশ্বাস কিনা বোঝা গেলো না। প্রথমেই চায়ের জল বসিয়ে দিল। শশুরের দীর্ঘদিনের অভ্যাস বজায় রাখার জন্যে সবার প্রথমে তাকে কড়া লিকারের চিনি ছাড়া রঙ চা বানিয়ে দিতে হয়। ফজরের নামাজ শেষ করে ব্যালকনিতে বসে চা খাবেন তিনি। শ্বশুরকে চা দিয়ে তাড়াতাড়ি নাস্তা বানিয়ে রুমে এসে দেখে ফিরোজ তখনও ঘুমাচ্ছে। আজ শুক্রবার। ফিরোজের অফিস নেই। ফিরোজকে ডেকে দিয়ে যায় ছেলের ঘরে। ছেলে আবির এবার ক্লাস টুতে পড়ে। ছেলের ছোট্ট কপালে আলতো করে চুমু খায়। ধীরে ধীরে ছেলেকে ঘুম থেকে উঠায়। ছেলেকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বাথরুম করিয়ে খাবার টেবিলে আসার কথা বলে ফিরোজের ছোট ভাই কিশোরের রুমের দিকে যায়। অনেকক্ষণ ডাকার পর উত্তর পাওয়া যায় সে এখন খাবে না। শশুর শাশুড়িকে নাস্তার কথা বলে সব খাবার টেবিলে সাজায়। প্রচণ্ড ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও সে সবার সাথে খেতে বসতে পারে নি। বউদের সবার সাথে খাওয়ার নিয়ম নেই। সবার খাওয়া হলে সে খেতে বসে। খাওয়া দাওয়া শেষ করে খাবার প্লেটগুলো ধুয়ে তুলে রাখে। ফিরোজকে সে বাজারের লিস্ট দিয়ে বাজারে পাঠায়। এই ফাঁকে রুমানা একটু ব্যালকনিতে যেয়ে দাড়ায়। ভাবে নিজের কথা, বাবা মার কথা, বন্ধুদের কথা, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটির কথা। গনিতে অনার্স কমপ্লিট করার পরপরই বিয়ে। কথা ছিল বিয়ের পর মাস্টার্স করবে, ফিরোজ রাজিও ছিল তখন। কিন্তু বিয়ের পর শাশুড়ির অসুস্থতার দোহাই দিয়ে তাকে আর পড়তে দেয়া হয়নি। ভেবেছিল চাকরি করবে। হাহ! যেখানে পড়তেই দেয়নি সেখানে চাকরি তো অনেক দুরের বিষয়। তারপরেও এখনও মাঝে মাঝে ভাবে ফিরোজকে বলবে চাকরি করার কথা, কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না। অজানা ভয় কাজ করে, হয়তো আশা পুরন না হওয়ার ভয়। এই সময় শাশুরি ঘরে ঢুকে রুমানাকে ব্যালকনিতে দাড়িয়ে থাকতে দেখে হাহা করে খাকিয়ে ওঠে। গজ গজ করতে থাকে। শাশুড়ির কথা শুনে সম্বিৎ ফিরে পায় রুমানা। শাশুড়ির কথার সারমর্ম হোল বাড়ির বউদের ব্যালকনিতে দাড়াতে নেই, বাইরের লোকে দেখলে খারাপ বলবে। রুমানাকে এখন নিজের কথা ভাবার আগে বাড়ির মানুষের কথা ভাবতে হবে। বাড়ির লোকজন তাকে নিয়ে না ভাবলে সমস্যা নেই কিন্তু তাকে অবশ্যই বাড়ির লোকজনের কথা ভাবতে হবে। কারন সে এই বাড়ির বউ। এই বাড়ির অংশ না, এই বাড়ির বউ। কিশোর ঘুম থেকে উঠেছে। তার রুমে যেয়ে খাবার দিয়ে আসতে হবে। একটা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে কিশোর। সারাদিন রাত ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থাকে। এই ছেলের নেট ছাড়া আর কোন নেশা নেই, মাস শেষে তার নেটের টাকা বাসা থেকে পেলেই সে খুশি, আর কোন চাহিদা তার নেই। কিশোরকে সে কখনই দেবর হিসেবে দেখেনি, দেখেছে নিজের ছোট ভাই হিসেবে। কিশোরকে খাবার দিয়ে কাপড় চোপর ভিজিয়ে ধুয়ে দেয়। রুমানা ভাবে, সে গনিতে অনার্স করেছে প্রতিদিন বাড়ির সবার কাপড় ধুয়ে দেয়ার জন্যে। ফুট ফরমাস খাটার জন্যে। নিজের সংসার, শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও সব কিছু সামাল দিতে হয় তাকেই, বাড়ির কাজ করাতে রুমানার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। কিন্তু যখন দেখে পারিবারিক কোন সিদ্ধান্ততে সে উপেক্ষিত তখন সেই কষ্টটা আর সহ্য হতে চায় না। তাছাড়া শাশুড়ির কথা তো আছেই, পান থেকে চুন খসলেই তাকে শুনতে হয় হাজারটা কথা।

ফিরোজ আসলে বাজার নিয়ে রুমানা রান্না ঘরে চলে যায়। রান্না বান্না শেষে সবার দুপুরের খাওয়া হয়ে গেলে তবে গিয়ে একটু স্বস্তি। রান্না করতে করতে একবার ভাবল চাকরি করার কথাটা আজ যে করে হোক বলবেই। খাওয়া শেষে রুমানা ছেলের ঘরে গিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের ঘরে এসে দেখে ফিরোজও ঘুমিয়ে গেছে। রুমানাও শুয়ে পড়ে কিন্তু ঘুম আসে না। পড়ালেখা শেষ করে এভাবে জীবন কাটাতে হবে তা কখনই ভাবেনি রুমানা। মেয়ে হয়ে জন্মানোর কারনে মাঝে মাঝে জীবনটাকে অর্থহীন মনে হয়। বেঁচে থাকার মতো বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা অনেক আগেই মরে গেছে। শুধু ছেলেটার কথা ভেবেই টিকে আছে এখনও। বিয়ের আগেই রুমানা কি করতে চায় না চায় সবই ফিরোজকে বলেছিল, তাতে ফিরোজের সায়ও ছিল। কিন্তু এখন ফিরোজ কেন এমন করছে তা বুঝতে পারে না রুমানা। আগে সে ফিরোজকে যা বলত ফিরোজ তাই শুনত। এখন এক একটা কথা দুই তিনবার করে বলতে হয়। হয়তো রুমানাকে পাওয়া হয়ে গেছে, এখন আর হারাবার ভয় নেই, তাই রুমানার সব কথা না শুনলেও চলবে, রুমানার সব আবদার না মানলেও চলবে, রুমানা ভাবে। ভাবনা আর শেষ হয় না।

রাতে শোয়ার পর রুমানা ফিরোজকে বলার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, শুধু বললেই হবে না, তাকে রাজিও করাতে হবে। একটা চাকরি সে করবেই। রুমানা কিছু বলার আগেই ফিরোজ ওকে কাছে টেনে নেয়। আস্টে পৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। শক্ত করে চেপে ধরে রাখে। সারা শরীরে ফিরোজের দুই দিন বয়সের দাড়ির খোঁচা অনুভব করে রুমানা। ঝড় তুলে দেয় ফিরোজ, তুলুক। ক্ষত বিক্ষত করে দিতে চায় তাকে, করুক। রুমানা আগের দিনের মতো আজও গা এলিয়ে দিয়ে পড়ে থাকে। যা ইচ্ছা হয় করুক। ক্লান্ত হয়ে ফিরোজ পাশে শুয়ে পড়লে রুমানা ধীরে ধীরে তার চাকরির কথাটা তোলে। ফিরোজ যেন শুনতে পায়নি এমন অবাক হয়ে রুমানার দিকে তাকিয়ে আবার জানতে চায়। দ্বিতীয়বার বলার সময় রুমানা আর আগের মতো আনইজি বোধ করে না। স্পষ্ট ভাবেই বলে সে চাকরি করতে চায়। ফিরোজ প্রথমে অবাক হলেও পরে রুমানাকে জড়িয়ে ধরে আলতো করে চুমু খায়। ফিরোজ বোঝাতে চায় তাদের তো কোন আর্থিক সমস্যা নেই। সে নিজে ভাল ইনকাম করছে। কেন শুধু শুধু রুমানাকে চাকরি করতে হবে। তার চাইতে বরং রুমানা এই সংসারের দেখাশোনা করুক। তার বাবা মা, ছেলে, ভাই এর দেখাশোনা করুক। আরও অনেক কিছু বলে। কথা বলতে বলতেই ফিরোজ আবার শুরু করে তার উদ্দাম শারীরিক খেলা। হয়তো ফিরোজের তত্ত্ব অনুযায়ী এই শারীরিক খেলার মাধ্যমে তাকে সব ভুলিয়ে দিতে চাইছে। এবারও না করতে পারে না রুমানা। কষ্টে চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করে। নারি বলে সব ইচ্ছার মতো চিৎকার করে কাঁদার ইচ্ছাটাও পুরণ হয় না। শুধু চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পরে কয়েক ফোটা জল।

৬ thoughts on “কয়েক ফোঁটা জল

  1. বরাবরের মতই সৌরভ স্পেশাল
    বরাবরের মতই সৌরভ স্পেশাল :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: … তবে আজকে কিছু বানান ভুল ছিল… তারপরেও খুব ভালো লেগেছে :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: … চালিয়ে যান জনাব… :বুখেআয়বাবুল: পরেরটার জন্য অপেক্ষায় আছি… :জলদিকর: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  2. অসাধারন হয়নি ।শহুরে, উচ্চ
    অসাধারন হয়নি ।শহুরে, উচ্চ শিক্ষিত, স্বচ্ছল পরিবারে এরকম কাহিনী বাস্তব হলেও গল্পে বেমানান লাগে ।আপনার যা লিখনি শক্তি, তার চাইতে গ্রামীন নারীদের কষ্টের কথা তুলে গল্প লিখলে দারুন হত ।আশা করি আগামীতে লিখবেন ।ধন্যবাদ ।

  3. কোন গ্যাপ নাই। আমার আসলেই ভাল
    কোন গ্যাপ নাই। আমার আসলেই ভাল লেগেছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *