মাদকের ভয়াল গ্রাস : আমাদের করণীয় ।

সম্প্রতি নতুন প্রজন্ম যেভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে তাতে প্রতিটি বাবা-মাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।সমাজে নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের বিস্তৃতি ক্রমেই হয়ে উঠেছে সর্বগ্রাসী।ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া ও মনুষ্যত্ব-সবকিছুই ধ্বংস করে দিচ্ছে।বিনষ্ট করছে স্নেহ-মায়া,ভালোবাসা,পারিবারিক বন্ধন।মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা, ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন।মাত্র এক বছরের মধ্যে নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন অন্তত দুই ডজনের ওপরে বাবা-মা।সম্প্রতি রাজধানীতে মাদকসেবী মেয়ের হাতে পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ও মা খুনের ঘটনা সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। এ ঘটনার পরপরই অনেকের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি নতুন প্রজন্ম যেভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে তাতে প্রতিটি বাবা-মাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে।সমাজে নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের বিস্তৃতি ক্রমেই হয়ে উঠেছে সর্বগ্রাসী।ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া ও মনুষ্যত্ব-সবকিছুই ধ্বংস করে দিচ্ছে।বিনষ্ট করছে স্নেহ-মায়া,ভালোবাসা,পারিবারিক বন্ধন।মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা, ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন।মাত্র এক বছরের মধ্যে নেশাগ্রস্ত ছেলের হাতে খুন হয়েছেন অন্তত দুই ডজনের ওপরে বাবা-মা।সম্প্রতি রাজধানীতে মাদকসেবী মেয়ের হাতে পুলিশ কর্মকর্তা বাবা ও মা খুনের ঘটনা সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে। এ ঘটনার পরপরই অনেকের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বর্তমান সময়ে মাদকাসক্ত মানেই ইয়াবাসেবী।আবার মাদকাসক্তদের অধিকাংশই ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

মাদকাসক্ত হবার পেছনের কারন : গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন,‘মাদাকাসক্ত হওয়ার পেছনে তিনটি বিষয় কাজ করে।এগুলো হলো-বাব-মার সন্তানের প্রতি খেয়াল না রাখা,ছেলে-মেয়েদের হাতে অতিরিক্ত টাকা দেয়া এবং খারাপ বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মেশা।
এছাড়াও কৌতুহল, কুসঙ্গ, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্র, অত্যধিক অর্থশালী হওয়া, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি,মাদকের সহজলভ্যতা ইত্যাদি কারনেও মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়ছে।

বিভিন্ন প্রকার মাদক : বর্তমানে যেসব মাদকদ্রব্য গ্রহণ করা হচ্ছে সেগুলো হলো – ইয়াবা,হেরোইন,গাঁজা,চোলাই মদ,দেশি মদ,বিদেশি মদ,বিয়ার,রেক্টিফাইড স্প্রিট,কেডিন,ফেনসিডিল, তাড়ি,প্যাথেডিন, ব্রুপ্রেনরফিন,টিডি জেসিক,ভাং,কোডিন ট্যাবলেট,ফার্মেন্টেড,ওয়াশ(জাওয়া),বনোজেসিক ইনজেকশন(বুপ্রেনরফিন),টেরাহাইড্রোবানাবিল,মরফিন,আইসপিল,ভায়াগ্রা,স্যানাগ্রা,টলুইন,পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট,মিথাইল, ইথানল,কিটোন ইত্যাদি। এছাড়া ইনোকটিন, সিডাক্সিন সহ বিভিন্ন ঘুমের ট্যাবলেট,জামবাক সহ ব্যথানাশক ওষুধ কিংবা টিকটিকির লেজ পুড়িয়ে কেউ কেউ নেশা করে থাকে।

দরদাম(শুধু মাত্র ইয়াবা): সম্প্রতি বহুল ব্যবহৃত মাদকের নাম হচ্ছে ইয়াবা।আর তরুন মাদকসেবীদের কাছে এর জনপ্রিয়তাও খুব বেশি।বর্তমানে চার রকমের ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে।এর মধ্যে গাঢ় লাল রঙের ‘চম্পা’ প্রতি পিস খুচরা ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হয়।টেকনাফে এটি কেনা হয় ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়।হালকা গোলাপী রঙের ‘আর সেভেন’ ইয়াবার দাম সবচেয়ে বেশি।এটি ঢাকায় কমপক্ষে ৫০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।হালকা গোলাপী রঙের আরেক ধরনের ইয়াবার নাম ‘জেপি’।এর খুচরা মূল্য ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। ‘ডগ’ নামের মাটি রঙের ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। এছাড়া,বিভিন্ন উপাদান মিশিয়ে দেশেই তৈরি হচ্ছে আরেক ধরনের ভেজাল ইয়াবা।এগুলো ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় পাওয়া যায়।
ইয়াবা নতুন প্রজন্মের কাছে পছন্দের মাদক হওয়ার কারণ হিসেবে জানা গেছে,ইয়াবা আকারে ছোট হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। সেবনকারী ও বিক্রেতারা খুব সহজে নিরাপদে সেবন ও বিক্রয় করতে পারে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কাও কম বলে খুব সহজেই বিক্রি করা যায় যেখানে-সেখানে বসেই।যারা ইয়াবা সেবন করে তারাই বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত হতে পারে।

পরিসংখ্যান : বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কমপক্ষে ৬৫ লাখ মানুষ সরাসরি মাদকাসক্ত।তাদের মধ্যে ৮৭% পুরুষ ও ১৩% নারী।দেশে ১ লাখেরও বেশি মানুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।মাদক ব্যবসায় প্রভাবশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী এবং শিশু-কিশোররাও সম্পৃক্ত।
এদিকে,বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা কতো তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যকে মাদক অভিহিত করলে নিশ্চয়ই তা কয়েক কোটি হবে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ২০০৩ সালেও দেশে ৫ লাখ মাদকাসক্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। এখন রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এ মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাই স্বীকার করে,দেশে ৬০ লাখের মতো মাদকাসক্ত রয়েছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরিপে বলা হয়, আসক্তদের মধ্যে শতকরা ৯১% কিশোর ও তরুণ।শতকরা ৪৫% বেকার এবং ৬৫% আন্ডার গ্র্যাজুয়েট।১৫% উচ্চ শিক্ষিত মাদকাসক্তও রয়েছেন।
ফ্যামেলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের পৃথক পরিসংখ্যান সূত্রে জানা গেছে,দেশে সুই-সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যাও ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।এ মাদকাসক্তরা শিরায় মাদক গ্রহণ করায় এইচআইভি ঝুঁকির মধ্যে থাকছে।গত বছর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ(আইসিডিডিআরবি)পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাজধানীর মাদকাসক্তদের ৭৯.৪ শতাংশ পুরুষ ও ২০.৬ শতাংশ মহিলা। মাদকাসক্তদের ৬৪.৮ শতাংশই অবিবাহিত।
আইসিডিডিআরবির অন্য জরিপে দেখা গেছে, প্রতিবছর ভারত থেকেই ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকার বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাংলাদেশে প্রবেশ করে।এর মধ্যে শুধু ফেনসিডিলই আসে কমপক্ষে দুই হাজার দুইশ’ কোটি টাকার।একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মাদক ব্যবহার জনিত ব্যয় বছরে গড়ে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা।গড়ে দৈনিক মাদকের জন্য ব্যয় হয় ১৩০ টাকা।

মাদক সংক্রান্ত মামলা মোকাদ্দমার হালচাল : মাদকের যে মামলা হয় সেগুলো দ্রুত নিস্পত্তি হয়না।আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা অনায়াসে বের হয়ে আসে।মাদক সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানা গেছে,সারা দেশে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার মাদক সংক্রান্ত মামলা ঝুলে আছে।RAB ও পুলিশের হাতে তদন্তাধীন মামলার সংখ্যা ২০ হাজারেরও বেশি।এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে তদন্তাধীন মামলা রয়েছে প্রায় ৮ হাজার।মামলা হলেও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে অভিযুক্তরা।

পরিত্রানে করনীয় : একথা স্বীকার্য যে,বর্তমানে মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে পুরোপুরি রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে না।তবে কারন অনুসন্ধান করে আগ থেকেই,পারিবারিক,সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিলে অনেকটা পরিত্রান পাওয়া সম্ভব।
সর্ব প্রকার কৌতুহল থেকে দুরে থাকা,লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া,কর্মে ব্যস্ত থাকা,ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চলা,ব্যাচেলর জীবনে অতিরিক্ত অর্থ হাতে না রাখা ইত্যাদি বিষয় মেনে চললে মাদক থেকে দুরে থাকা সম্ভব হবে।সর্বোপরি প্রতিকারের চাইতে প্রতিরোধই হবে উত্তম।

(তথ্যসুত্রঃ অনলাইন)

৭ thoughts on “মাদকের ভয়াল গ্রাস : আমাদের করণীয় ।

  1. পুরো লিখাটির দুটি পয়েন্ট যথাঃ
    পুরো লিখাটির দুটি পয়েন্ট যথাঃ “মাদকাসক্তের কারন” ও “পরিত্রানে করণীয়” বিষয়ে আরো বিশদভাবে একটি পোস্ট লিখার আগ্রহে পাঠকের কাছে জরুরী ও গ্রহণযোগ্য মতামত আশা করছি।আশা করি আলোচনায় অংশ নিয়ে আপনাদের কাছে থাকা মুল্যবান মতামত প্রদান করবেন।ধন্যবাদ ।

  2. আপনার পোস্ট সম্পর্কে কিছু
    আপনার পোস্ট সম্পর্কে কিছু বললাম না। কিন্তু,
    কিন্তু কি ?
    কিন্তু

    গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন,‘মাদাকাসক্ত হওয়ার পেছনে তিনটি বিষয় কাজ করে।এগুলো হলো-বাব-মার সন্তানের প্রতি খেয়াল না রাখা,ছেলে-মেয়েদের হাতে অতিরিক্ত টাকা দেয়া এবং খারাপ বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে মেশা।

    কারন তিনটি ১০০ % খাঁটি ভুল।এগুলো কারন হলেও ৩ নাম্বার এর পরের কারন।
    বিঃ দ্রঃ এই বিষয়ে আমি আপনি এবং অন্য কারো সাথেই বিতর্কে জড়াব না।এবং আমার মন্তব্য প্রমান করতে বাধ্য নই।আমি শুধু, আমি যা জানি তাই বলেছি।আপনার খারাপ লাগলে দুঃখিত।

    1. আপনি যে অংশটি কোট করেছেন তা
      আপনি যে অংশটি কোট করেছেন তা মুলত আমার নিজস্ব মতামত বা অভিব্যাক্তি নয়, গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের অভিমত ।
      কারন হিসেবে আমি যা বলেছি তা হল, কৌতুহল, কুসঙ্গ, প্রেমে ব্যর্থতা, পারিবারিক অশান্তি, দারিদ্র, অত্যধিক অর্থশালী হওয়া, পাশ্চাত্য সংস্কৃতি,মাদকের সহজলভ্যতা ইত্যাদি ।এর পরও আমার নিজের কাছে উল্লেখিত কারনগুলি ও প্রতিকার ছাড়াও আরো আছে বা থাকতে পারে এরকম মনে হওয়ায়, মন্তব্যে এসে কারন ও প্রতিকার বিষয়ে পাঠকের কাছে আরো মতামত চেয়েছি ।আশা করি বুঝাতে পেরেছি?

      আপনার কথায় আমার খারাপ লাগার কিছু নেই।তবে আপনার কাছ থেকে কারন ও প্রতিকার বিষয়ে আপনার নিজস্ব কিছু মতামত আশা করেছিলাম ।ধন্যবাদ আপনাকে ।

    1. সাপ্লাই বন্ধে বর্তমানের চাইতে
      সাপ্লাই বন্ধে বর্তমানের চাইতে অধিক কার্যকরী কি পদক্ষেপ নেয়া যায় বা আপনার ফর্মুলা কি একটু বলবেন?

  3. ভালোই লিখেছেন তবে কিছু স্থানে
    ভালোই লিখেছেন তবে কিছু স্থানে দ্বিমত আছে যেমন

    বর্তমান সময়ে মাদকাসক্ত মানেই ইয়াবাসেবী।আবার মাদকাসক্তদের অধিকাংশই ইংরেজি মাধ্যম ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

    এটি ভূল ধারণা যে বর্তমান সময়ে মাদকাসক্ত মানেই ইয়াবাসেবী। এটি কেমনে হয় মাদকাসক্ত নানা প্রকার মাদকে আসক্ত হয় শুধু মাত্র একটি এখানে কখনোই আদর্শ হয়ে উঠে না। এটা বললে ভালো হতো ইংরেজি মাধ্যম আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ইয়াবাতে আসক্ত।

    যেকোন প্রকার মাদকাসক্তি দূর করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নাই। সামাজিকভাবেই এই মাদকাসক্তি প্রতিহত করা যায়।

    1. মাদকাসক্ত মানেই ইয়াবাসেবী এই
      মাদকাসক্ত মানেই ইয়াবাসেবী এই কথাটির দ্বারা মুলত তরুন মাদকসেবীদের ইয়াবার উপর ব্যাপক আসক্তিকে বুঝানো হয়েছে ।
      আপনার কথায় সহমত যে, ইংরেজি মাধ্যম আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই ইয়াবাতে আসক্ত।
      ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *