দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(২য় পর্ব)

(২) দিগন্ত কেবল পড়ার টেবিলে বসল।টেবিল ক্লকের দিকে তাকিয়ে দেখল সাড়ে ৮টা বেজে গেছে।আর তখনই তার গতকালের সবকিছু মনে পড়ে গেল।আশ্চর্য,আজ সারাদিনে একবারও সেই ফোন কলের কথা মনে পড়েনি।আর এই পড়ার টেবিলেই মনে পড়তে হল?ধ্যাত।সেই কন্ঠস্বরের কথা মনে পড়লেই কেমন যেন লাগে।আর কথা বলা ভঙ্গিমার মাঝে যেন কিছু একটা আকর্ষনি বল আছে।সে আর বইয়ে মন দিতে পারল না।অবশেষে ফোনটা হাতে নিল।৮৩%অফ।বুকে ধুকপুক শুরু হয়ে গেছে।সে কম্পিত হাতে ফোন করল।টুন…..টুন…..টুন…..

মেয়েটি,”হ্যালো।কে বলছেন?”

দিগন্ত,”আমি।ঐ যে গতকাল….”

মেয়েটি,”ওহ্…তাইতো।নাম্বারটা দেখিইনি।আপনি আবার ফোন করেছেন?কী চান আপনি?”


(২) দিগন্ত কেবল পড়ার টেবিলে বসল।টেবিল ক্লকের দিকে তাকিয়ে দেখল সাড়ে ৮টা বেজে গেছে।আর তখনই তার গতকালের সবকিছু মনে পড়ে গেল।আশ্চর্য,আজ সারাদিনে একবারও সেই ফোন কলের কথা মনে পড়েনি।আর এই পড়ার টেবিলেই মনে পড়তে হল?ধ্যাত।সেই কন্ঠস্বরের কথা মনে পড়লেই কেমন যেন লাগে।আর কথা বলা ভঙ্গিমার মাঝে যেন কিছু একটা আকর্ষনি বল আছে।সে আর বইয়ে মন দিতে পারল না।অবশেষে ফোনটা হাতে নিল।৮৩%অফ।বুকে ধুকপুক শুরু হয়ে গেছে।সে কম্পিত হাতে ফোন করল।টুন…..টুন…..টুন…..

মেয়েটি,”হ্যালো।কে বলছেন?”

দিগন্ত,”আমি।ঐ যে গতকাল….”

মেয়েটি,”ওহ্…তাইতো।নাম্বারটা দেখিইনি।আপনি আবার ফোন করেছেন?কী চান আপনি?”

দিগন্ত,”বন্ধুত্ব।চলুন না বন্ধু হই।(দিগন্ত যে কী বলছে সে নিজেও জানে না।তার হৃত্‍ পিন্ড ভিম্ ভিম্ করতে করতে হয়তো ফেটে যাবে।)

মেয়েটি,”আচ্ছা ঝামেলায় পড়া গেল তো।আপনার সাথে আমি বন্ধুত্বটা করব কেন?আপনাকে তো আমি চিনিই না।”

দিগন্ত,”অসুবিধা কী?চিনবেন।আমি দিগন্ত।আপনার নামটা?”(দিগন্ত ভাবতেই পারছে না সে এই কথাগুলো বলছে।)

মেয়েটি,”আশ্চর্য।আপনি ফোন রাখবেন কিনা বলেন?”

দিগন্ত,”প্লিজ ফোন কাটবেন না।চলুন না বন্ধু হই।আপনার তো অবশ্যই অনেক বন্ধু আছে তাই না?আর একটা বন্ধু বাড়লে কী ক্ষতি হবে?জানেনই তো বন্ধু ছাড়া লাইফ ইমপসিবল।”(দিগন্ত নিজেকে দেখে নিজেই অবাক হচ্ছে।কী পরিমাণ নাটুকে ভাব করছে।সব নাটুকে ডায়লগ।)

মেয়েটি,”আপনারও তো অবশ্যই অনেক বন্ধু আছে তাই না?”

দিগন্ত চুপ।কী বলবে এখন কিছুই তো বলার নেই।তার তো সত্যি অনেক ভালো বন্ধু আছে।মেয়েটি যদি ওর বন্ধু না হয় তাহলে তার কীই বা হবে।তবু কেন যেন….

মেয়েটি,”কী চুপ হয়ে রইলেন যে?আচ্ছা যান ভেবে দেখব।আর একটি কথা,রোজ রোজ এভাবে ফোন দিবেন না।সমস্যা আছে।”

দিগন্ত,”আচ্ছা ঠিক আছে।আপনার নামটা?”

মেয়েটি,”নদী।”

কট্ করে ফোন কেটে গেল।আজকের এই ফোনালাপের কথা দিগন্ত ভাবতেই পারছে না।সে কীভাবে এতগুলো কথা বলে ফেলল?আর মেয়েটাও হয়তো তার বন্ধু হবে। পরেরদিন দিগন্ত তার বন্ধুদের সাথে নদীর সম্পর্কে বলল।বন্ধুরা তো দিগন্তকে ক্ষেপিয়েই অস্থির করে তুলল।

এক বন্ধু বলল,আমাদের দিগন্ত গলায় কলসি বেঁধে নদীতে ঝাপ দিতে যাচ্ছে!

অন্য বন্ধু বলল,না না,কলসি না গলায় প্রেম বেঁধে!

আরেকজন বলল,মামা তুমি ফাইসা গেছ!!

দিগন্ত বলল,কী যা তা বলছিস?জাস্ট বন্ধু হতে চাইছি।আর তাছাড়া বন্ধুই হলাম না আর প্রেম।তোরা সারাদিন ফোনে প্রেম করতে পারিস আমি একটা বন্ধু বানাতে পারবো না?

সব বন্ধুরা বলল,আরে নাহ।কে মানা করছে তোকে।আর দেখিস হয়ে যাবে।কিন্তু কীভাবে হবে তা তুই বুঝতেও পারবি না।

এভাবেই আড্ডা চলতে থাকলো।আড্ডা ফাড্ডা মেরে দিগন্ত যখন বাড়ি ফিরল তখন আটটা বেজে গেছে।সে ঠিক জানে আজ মায়ের কাছে বকুনি খেতেই হবে।সাতটার আগে বাড়ি ফেরার নিয়ম।দিগন্ত প্রতিদিন সাতটার আগেই বাড়ি ফিরে কিছু নাস্তা ফাস্তা করে.একটু টিভি দেখে ৮টার দিকে পড়তে বসে। কিন্তু আজ আটটা বেজে গেছে।তাই পেটে ক্ষুধা থাকলেও নাস্তার চিন্তা বাদ দিয়ে ড্রয়িং রুমটা পাশ কাটিয়ে চুপিচুপি নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।যাতে মায়ের বকুনি শুরু হলেও দীর্ঘস্থায়ী না হয়।কারণ কারো মুখের দিকে না তাকিয়ে বা সামনে তার অবস্থিতি না থাকলে তাকে বকাঝকা করে আরাম নেই।এত সতর্কতা সত্ত্বেও মা বুঝে গেল দিগন্ত ঘরে এসেছে।কিন্তু আশ্চর্য তেমন একটা বকাঝকা না করে শুধু জানতে চাইলো এত দেরি হল কেন?আর নাস্তা করেবে কিনা।দিগন্ত বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা বলল যে,এক বন্ধুর বাসায় চা বিস্কিট খেয়ে এসেছে।তারপরই সে ফোনে টাকা রিচার্জ করল এবং নদীকে ফোন করল।

নদী,”হ্যালো ।কে?”

দিগন্ত,”আমি দিগন্ত।”

নদী,”ওহ্ তাই তো?আপনাকে না বললাম রোজ রোজ ফোন করবেন না।সমস্যা আছে।”

দিগন্ত,”সরি।আসলে এই সময়টাতে হঠাত্‍ই কেন যেন আপনার কণ্ঠটা শুনতে মন চায়।”

নদী,”ন্যাকামি বন্ধ করেন।আর কিছু?”

দিগন্ত,”আচ্ছা আপনি কিসে পড়েন?”

নদী,”ক্লাস নাইন।এটা জেনে আপনার কী হবে?”

দিগন্ত,”না এমনিই।আসলে আমরা যেহেতু বন্ধু সেহেতু জানতে চাওয়া দোষের কিছু না তো।আর তাছাড়া দেখছি আমরা দুজন ক্লাসমেট।”

নদী,”তো কী হইছে তাতে?”

দিগন্ত,”না কিছু হয় নাই।আচ্ছা আপনি সবসময় এভাবে কথা বলেন কেন?”

নদী,”কীভাবে কথা বলি?”

দিগন্ত,”এই যে রাগ রাগ ভাবে।আপনি কি আমার উপর রাগ করে আছেন?”

নদী,”না তো।শুধু শুধু আপনার উপর রাগ করব কেন?আর তাছাড়া আমি এমনই।”

দিগন্ত,”আচ্ছা এটা আপনার ফোন?”

নদী,”নাহ এটা আমার বাসার ফোন।আমি সবসময় আমার কাছে রাখি।”

দিগন্ত,”আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন?”

নদী,”হ্যা।”(বলার ধরনটা এমন যে সত্যি নাকি মিথ্যা কিছু বোঝা গেল না।)

দিগন্ত,”আমার কথায় যদি আপনি বিরক্তি অনুভব করেন তাহলে আমি সরি।”

নদী,”সরি বলার মতো কিছু বলেন নি আপনি।”

দিগন্ত,”আমি আপনাকে তুমি বলতে পারি?”

নদী,”কেন?” দিগন্ত,”না মানে….বন্ধুত্বে তো তুমি/তুই থাকে।আপনি তো থাকে না তাইনা?”

নদী(স্মিত হাসিতে),”আমাদেরটায় আপনি থাকুক।সবাই যা করে আমাদেরও তাই করতে হবে নাকি?”

দিগন্ত,”না।কিন্তু……”

নদী(খিল খিল করে হেসে),”আচ্ছা।আপনি আমায় তুমি বলতে পারেন।আমি কিন্তু আপনাকে আপনি করেই বলব।আজকের মত রাখি।আম্মু এসে যাবে এখনই।ভালো থাকবেন।”

ফোন কেটে গেল।দিগন্ত আর কিছু বলতেই পারলো না।’ভালো থেকো’ এইটুকুও বলতে পারলো না।কেন যেন আজ তার খুব খুশি খুশি লাগছে।কেমন যেন একটা অনুভূতি।তার অনেক বন্ধুই আছে।তাই বলে এমন তো আর বন্ধু হয়নি।এটা অন্যরকম বন্ধুত্ব।এক নতুন বন্ধু।ফোনবন্ধু। [ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন প্লিজ।আর আগের পর্ব না পড়ে থাকলে নিচের লিঙ্ক থেকে পড়ে নিবেনঃistishon.com/node/4049 ]

৮ thoughts on “দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(২য় পর্ব)

  1. ওহ দুঃখিত।আপনার সাক্ষরকে আমি
    ওহ দুঃখিত।আপনার সাক্ষরকে আমি মন্তব্য ভাবছিলাম।খেয়াল করি নাই।দুঃখিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *