দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(৩য় পর্ব)

(৩) ধ্যাত্‍ আবার লোড়শেডিং।দিগন্ত প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে ছাদে গেল।একঘণ্টার মাঝে তিনবার লোডশেডিং হলে কেমন লাগে?কিছুদিন পরই সেকেন্ড টার্ম পরীক্ষা।গত টার্মের রেজাল্ট হতাশাজনক।এবার ভালো করতেই হবে।কিন্তু এভাবে লোডশেডিং হলে কি আর পড়ায় মন বসে?এসব ভাবতে ভাবতেই দিগন্ত আকাশের দিকে তাকালো।সে অবাক হয়ে গেল।চারদিকে এত জোছনা!অদ্ভুত আলোয় পৃথিবীকে যেন কেমন লাগে।হঠাত্‍ই নদীর কথা মনে পড়ে যায়।দিগন্ত পকেট থেকে ফোনটা বের করে।১১টা বেজে গেছে।না এখন ফোন দেয়া যাবে না।সমস্যা হতে পারে।তবু কেন যেন মন মানলো না।দিগন্ত নদীর নাম্বারটা টাইপ করে ডায়াল করল।দেখা যাক ফোন ধরে কিনা?


(৩) ধ্যাত্‍ আবার লোড়শেডিং।দিগন্ত প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে ছাদে গেল।একঘণ্টার মাঝে তিনবার লোডশেডিং হলে কেমন লাগে?কিছুদিন পরই সেকেন্ড টার্ম পরীক্ষা।গত টার্মের রেজাল্ট হতাশাজনক।এবার ভালো করতেই হবে।কিন্তু এভাবে লোডশেডিং হলে কি আর পড়ায় মন বসে?এসব ভাবতে ভাবতেই দিগন্ত আকাশের দিকে তাকালো।সে অবাক হয়ে গেল।চারদিকে এত জোছনা!অদ্ভুত আলোয় পৃথিবীকে যেন কেমন লাগে।হঠাত্‍ই নদীর কথা মনে পড়ে যায়।দিগন্ত পকেট থেকে ফোনটা বের করে।১১টা বেজে গেছে।না এখন ফোন দেয়া যাবে না।সমস্যা হতে পারে।তবু কেন যেন মন মানলো না।দিগন্ত নদীর নাম্বারটা টাইপ করে ডায়াল করল।দেখা যাক ফোন ধরে কিনা?

কিছুক্ষণ রিং হবার পর নদী ফোন ধরেই বলল,”এত রাতে ফোন দিয়েছ কেন?”(গত তিন মাসের বন্ধুত্বে দিগন্তের অনেক কাকুতি মিনতিতে নদী এখন তুমি বলা শুরু করেছে)

দিগন্ত,”না মানে….চাঁদ দেখে তোমার কথা মনে পড়ল তাই..।”

নদী,”চাঁদ দেখে আমার কথা মনে পড়ল?হা হা অনেক রোমান্টিক হয়েছো তো?মনে পড়েছে তো পড়েছে তাই বলে ফোন করতে হবে?সমস্যা হতে পারে জান না?”

দিগন্ত,”এত প্রশ্নের উত্তর একসাথে দেব কীভাবে?আর তাছাড়া শুধু মনে পড়েছে তা তো না।তোমার কণ্ঠস্বরটা শুনতে ইচ্ছে করল।আর সমস্যা হবে কেন?তুমি তোমার বন্ধুর সাথে তো কথা বলতেই পার।”

নদী,”খুব নেতা হইছো তাইনা?মা যদি জানতে পারে এত রাতে আমি কোনো ছেলের সাথে কথা বলছি তাহলে একদম লঙ্কাকান্ড বাঁধিয়ে দেবে।কটি খোকা হইছ?এইটুকু বুঝনা?”

দিগন্ত,”না বুঝি না।কেন?তুমি কি তোমার প্রেমিকের সাথে কথা বলছ?আমি তো তোমার বন্ধু তাই না?নাকি আরো বেশি কিছু।”

নদী চুপ করে রইল।কোনো কথা বলল না।

দিগন্ত,”কী ব্যাপার কথা বলো না কেন?বেশি কিছু নাকি?”

নদী,”ইয়েহ্!খুব তো ফাজিল হয়েছ।আমি কোন দুঃখে তোমার প্রেমে পড়ব।”

দিগন্ত,”মানুষ কি দুঃখে প্রেমে পড়ে নাকি সুখে প্রেমে পড়ে?”

নদী,”বাদ দাও তো।আচ্ছা?” দিগন্ত,”কী?” নদী,”না থাক।”

দিগন্ত,”থাকবে কেন?বলো শুনি।”

নদী,”বলব?আচ্ছা বলেই ফেলি।তুমি কি আমাকে…?”

দিগন্ত,”তোমাকে কী?ভালোটালোবাসার কথা বলছো নাতো আবার?”

নদী(কেমন লজ্জিতভাবে),”হুম।”

দিগন্ত,”আমি কি পাগল হইছি যে আপনাকে ভালোবাসবো?ভীতু মেয়ে কোথাকার!যে মেয়ে মাকে যমের মত ভয় পায় তাকে নাকি আমি ভালোবাসবো।কোন দুঃখে আপনাকে ভালোবাসতে যাবো?”

নদী,”যাহ্ শয়তান!আমার জায়গায় তুমি থাকলে বুঝতে ঠেলা।আচ্ছা অনেক হয়েছে।এখন ফোনটা রাখেন।এক্ষুনি হয়তো মায়ের ডাক পড়বে।”

দিগন্ত,”রেখে দেবো?আরো কথা বলতে ইচ্ছে করছে যে?”

নদী,”ইচ্ছা থাকলেও উপায় নাই।গুড নাইট।”

দিগন্ত,”হুম। আচ্ছা শোনো।আজকের চাঁদটা দেখেছ?”

নদী,”না।চাঁদ দেখে কী হবে?”

দিগন্ত,”কিছু হবে না।কিন্তু প্লিজ একবার ছাদে যাওনা।”

নদী,”এত রাতে ছাদে যাওয়া যাবে না।”

দিগন্ত,”আচ্ছা তোমার ঘরের কোনো জানালা দিয়ে চাঁদ দেখা যায়না?”

নদী,”যায়।তাতে কী হইছে?ফোন রাখো তো তুমি।”

দিগন্ত,”রেখে দেব।শুধু একবার তুমি জানালা দিয়ে চাঁদটা দেখ।আর আমি তোমাকে একটা কবিতা শুনাই।রবীঠাকুরের।”

নদী,”তুমি এত জ্বালাও কেন আমাকে বলোতো?আমি তো কবিতার কিছুই বুঝিনা।আর প্রায় প্রায়ই এই কবিতার কপচানি শুরু কর।”

দিগন্ত,”প্লীজ।কবিতাটার পরই আমি ফোন রেখে দেব।”

নদী,”হুম।জানালার কাছে এসেছি।”

দিগন্ত,”চাঁদ দেখছ?”

নদী,”হ্যা দেখছি।”

দিগন্ত,”চাঁদের দিকে এক পলকে চেয়ে থাকো।”

এই বলেই দিগন্ত মুখস্ত আবৃতি করতে থাকলো…

“অধরের কানে যেন অধরের ভাষা,

দোঁহার হৃদয় যেন দোঁহে পান করে-

গৃহছেড়ে নিরুদ্দেশে দুটি ভালোবাসা

তীর্থযাত্রা করিয়াছে অধর সংগমে।….”

পুরো কবিতাটি আবৃতি করার পর দিগন্ত ফোন রেখে দিল।ফোন রাখার পর সে ভাবলো,সে কীভাবে নদীকে বলবে এই কটি মাসে সে কতটা দিগন্তকে জুড়ে আছে।আরো কিছুক্ষণ দিগন্ত ছাদে বসে রইলো।চাঁদের দিকে তাকিয়ে নদীর কথা ভাবতে থাকলো।হঠাত্‍ ফোনে তাকিয়ে সে দেখল ২টা বেজে গেছে।কারেন্টও অনেকক্ষণ আগে এসেছে।নাহ্ এখন গিয়ে পড়তে বসতে হবে।সামনেই পরীক্ষা।এই ভেবে দিগন্ত পড়ায় মন দিল। এভাবেই ধীরে ধীরে সময় কেটে যাচ্ছে।দিগন্ত আর নদীর সম্পর্ক এখন তুই তুকারিতে চলে এসেছে।ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনালাপ,ম্যাসেজিং।মাঝেমাঝে খুনসুটি।তারা কখনো বলেনি একে অপরকে ভালোবাসে কিনা?তবু কেটে যাচ্ছে।তাছাড়া তারা একে অপরকে দেখেনি পর্যন্ত।নদী প্রতি ঈদেই দিগন্তকে তাদের বাড়ি যেতে বলে।কিন্তু দিগন্তের আর যাওয়া হয়না।শুধু ঈদেই না এছাড়াও নদী অনেকবার দেখা করতে চেয়েছে কিন্তু দিগন্ত করেনি।কেন যে এমন হচ্ছে তা দিগন্তও জানেনা।এভাবেই সময়ের স্রোতে দুটি ফোনবন্ধু ভেসে চলল। [আগের পর্ব পড়ুনঃ istishon.com/node/4159 ]

১৫ thoughts on “দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(৩য় পর্ব)

  1. হাহাহা।শহিদ ভাই এত ব্যস্ত
    হাহাহা।শহিদ ভাই এত ব্যস্ত হলেন কেন।পরের পর্বই শেষ পর্ব হবে।আর পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  2. আতিক ভাই মোবাইলে ব্রাউজিং করি
    আতিক ভাই মোবাইলে ব্রাউজিং করি তো তাই প্যারা ট্যারা করে দিলেও তা আর হয় না। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  3. আপনার আগের পর্ব পরতে পারি নি
    আপনার আগের পর্ব পরতে পারি নি ব্যস্ততায়। সেই পর্বের পর আজ পিসিতে বসলাম। ঢুকেই দেখি এই পোস্ট দেরি না করে পড়া শুরু করলা্‌ম।

    মাঝখানটা পাইরেসি করেছেন,

    চাঁদ দেখে তোমার কথা মনে পড়ল তাই..।” নদী,”চাঁদ দেখে আমার কথা মনে পড়ল?হা হা অনেক রোমান্টিক হয়েছো তো?মনে পড়েছে তো পড়েছে তাই বলে ফোন করতে হবে?সমস্যা হতে পারে জান না?” দিগন্ত,”এত প্রশ্নের উত্তর একসাথে দেব কীভাবে?আর তাছাড়া শুধু মনে পড়েছে তা তো না।তোমার কণ্ঠস্বরটা শুনতে ইচ্ছে করল।আর সমস্যা হবে কেন?তুমি তোমার বন্ধু সাথে তো কথা বলতেই পার।” নদী,”খুব নেতা হইছো তাইনা?মা যদি জানতে পারে এত রাতে আমি কোনো ছেলের সাথে কথা বলছি তাহলে একদম লঙ্কাকান্ড বাঁধিয়ে দেবে।কটি খোকা হইছ?এইটুকু বুঝনা?” দিগন্ত,”না বুঝি না।কেন?তুমি কি তোমার প্রেমিকের সাথে কথা বলছ?আমি তো তোমার বন্ধু তাই না?নাকি আরো বেশি কিছু।” নদী চুপ করে রইল।কোনো কথা বলল না। দিগন্ত,”কী ব্যাপার কথা বলো না কেন?বেশি কিছু নাকি?” নদী,”ইয়েহ্!খুব তো ফাজিল হয়েছ।আমি কোন দুঃখে তোমার প্রেমে পড়ব।” দিগন্ত,”মানুষ কি দুঃখে প্রেমে পড়ে নাকি সুখে প্রেমে পড়ে?” নদী,”বাদ দাও তো।আচ্ছা?” দিগন্ত,”কী?” নদী,”না থাক।” দিগন্ত,”থাকবে কেন?বলো শুনি।” নদী,”বলব?আচ্ছা বলেই ফেলি।তুমি কি আমাকে…?” দিগন্ত,”তোমাকে কী?ভালোটালোবাসার কথা বলছো নাতো আবার?” নদী(কেমন লজ্জিতভাবে),”হুম।” দিগন্ত,”আমি কি পাগল হইছি যে আপনাকে ভালোবাসবো

    এইটা তো আমার কাহিনী আপনে আমার ইনবক্স দেখলেন কেমনে???

    হেব্বি হইসে ভাই। আর পারলে প্যরা কইরেন দুইবার এন্টার দিয়েন মোবাইল দিয়ে লিখলেও সমস্যা হবে না। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. বুঝেছি হেসেছেন কেন!!
      তবে আগে

      বুঝেছি হেসেছেন কেন!!
      তবে আগে বলেন আমার মোবাইলের ম্যসেজ পড়লেন কি করে??
      আমি কিন্তু সি আইডি আর এফবিআই কে ডাকব…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *