দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(১ম পর্ব)

(১) রাত ন’টা বেজে গেছে।এখনো কিচ্ছু পড়াশোনা হয়নি।দিগন্ত ফিজিক্স বই খুলে বসে আছে।গত এক ঘণ্টায় কেবল একটা থিওরী পড়া হয়েছে।তাও আবার গতির সবচেয়ে সহজ থিওরী,v=u+at,যা মাত্র ১০ মিনিটের ব্যাপার।মাঝে মাঝে এমন হয় দিগন্তের।কোনো কিছুতেই মন বসে না।টেবিলে এক কোণে রাখা তার নতুন মাল্টিমিডিয়া মোবাইলটা সে হাতে নিল।ফোনটা হাতে নিয়েই ভাবলো,”একটু ফেসবুক থেকে ঘুরে আসি।নাহ ফেসবুকেও কোনো বন্ধু নেই”।দিগন্ত যে কী করবে তাই ভেবে পাচ্ছে না।ক্লাস এইটে স্কলারশিপ পাওয়ার সুবাদে তার মা তাকে এই মোবাইলটা কিনে দিয়েছে।তার ফোন ব্যবহারের তেমন কোনো দরকার নেই তবু বন্ধুরা ব্যবহার করে এজন্যই।তার অন্যান্য বন্ধুরা সবাই প্রেমও করে।ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলে।কিন্তু দিগন্ত তা পারে না।মেয়েদের সাথে কথা বলার সময় তার কেমন যেন লাগে।গলা শুকিয়ে যায়।সে মেয়েদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দিতে পারে না।তার ক্লাসের মেয়েদের সাথেও না।কিন্তু দিগন্তের বন্ধুরা খুব আড্ডা দেয়।ক্লাসের মেয়েদের ক্ষেপায় পর্যন্ত।তার বন্ধুরা ক্লাসের প্রত্যেকটা মেয়ের একটা করে ছদ্মনাম দিয়েছে।সবগুলোই ইন্টারেস্টিং তবে একটি সবচেয়ে বেশি হাস্যকর।সেইটা হল শুটকী।তার বন্ধুরা সেই মেয়েটিকে শুটকী বলে ক্ষেপায়।কারণ হল মেয়েটি প্রতিদিন খুব সাজগোজ করে স্কুলে আসে কিন্তু এমন এক পারফিউম ব্যবহার করে যার গন্ধে বমি আসার উপক্রম হয়।শুটকীর যেমন কড়া গন্ধ পারফিউমটারও তেমন কড়া গন্ধ।একদম মাথা ধরানো।সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে দিগন্তের মাথায় একটা কুটবুদ্ধি এল,”আচ্ছা আমার নাম্বারের শেষ দুই ডিজিট উল্টো করে একটি মিসকল দিয়ে দেখি তো কী হয়”?যা ভাবা তাই।সে শেষ দুই ডিজিট উল্টো করে একটি মিস দিল।কিছুক্ষণ পর অপর পাশ থেকেও মিসকল আসল।দিগন্ত আবার মিস দিল।ঐ নাম্বার থেকেও আবার মিসকল।”মজা তো”!এই ভেবে কিছুক্ষণ মিসকল খেলা চলল।তারপর সে ভাবলো কল দিলে কেমন হয়?গ্রামীণফোনে আজকাল নতুন অফার চলছে।৮৩%অফ কলরেট।এখন ৮৩%অফ অর্থাত্‍ খুব জোর ৩০পয়সা/মি. কাটবে।অপরিচিত নাম্বারে ১মিনিট ফোন করলে কী এসে যাবে?ভাবতে ভাবতেই দিগন্ত কল করল।তার বুক ধকধক করছে।ফোন বেজে যাচ্ছে।অবশেষে অপর পাশ থেকে ফোন ধরল কিন্তু কথা বলল না।দিগন্তও কিছুক্ষণ চুপ।

তারপর দিগন্ত বলল,”হ্যালো।কে বলছেন”?

অপর পাশ হতে,”কাকে ফোন করেছেন জানেন না(মেয়ে কন্ঠ)”?

দিগন্ত,”না।আসলে আমার বন্ধু এই নাম্বারটা দিয়ে বলল যে তার নাম্বার।তাই….”

অপর পাশ হতে,”ফাজলামী করতেছেন?আমি কি কিছু বুঝিনা নাকি?এরপর আর কখনো ফোন দিবেন না”।

সাথে সাথে ফোন কেটে গেল।দিগন্তের মনটা খারাপ হয়ে গেল।ইশ্ কী বোকা সে!কত বড় মিথ্যাই না বলেছে।তার মনে হল সরি বলা উচিত।তাই সে কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করল।এত সুন্দর কণ্ঠ এর আগে সে কখনো শুনেনি।মেয়েটিকে সরি বলা উচিতই।

ফোন ধরেই মেয়েটি,”কী ব্যাপার?আপনি তো বুঝলেনই এটা আপনার বন্ধুর নাম্বার না।আবার কেন”?

দিগন্ত কম্পিত সুরে,”সরি।আসলে আমি মিথ্যা বলেছিলাম”।

মেয়েটি,”আচ্ছা ঠিক আছে।ফোন রাখলাম”।

দিগন্ত,”প্লিজ ফোন রাখবেন না।আপনার সাথে একটু কথা বলি।আপনার কণ্ঠটা খুব সুন্দর”।

মেয়েটি,”লাইন মারার জায়গা পান না তাই না?আর আপনার সাথে আমি কথাইবা বলবো কেন?আপনাকে আমি জানিও না চিনিও না”।

দিগন্ত,”আমরা কি বন্ধু হতে পারিনা”?

মেয়েটি,”আপনি কি মগের মুল্লুক পেয়েছেন?রং নাম্বারে ফোন করে মেয়ে গলা শুনেই বন্ধু হতে চান”?

কট্ করে ফোন কেটে গেল।এরপর আর দিগন্ত ফোন দেয়ার সাহস পেল না।পড়াশোনাতেও মন দিতে পারলো না।তার মাকে খাবার দিতে বলল।খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ল দশটা না বাজতেই,যেখানে ১২টার আগে কখনো সে ঘুমায়ই না।আজ ঘুমও আসছে না।সে শুধু ভাবছে কাল আবার,শুধু একবার ফোন দেবে। [বিঃদ্রঃ নতুন নতুন গল্প লেখার চেষ্টা করছি।ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন প্লিজ।]

১৩ thoughts on “দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(১ম পর্ব)

  1. কম্বাইন্ড স্কুলে পড়াইয়া
    কম্বাইন্ড স্কুলে পড়াইয়া পোলাপান রে দিয়া ভালই প্রেম করাইতেছেন, চালিয়ে যান। আপাতত :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: লন।

  2. ধারাবাহিক হলেও পর্বটা আর একটু
    ধারাবাহিক হলেও পর্বটা আর একটু বাড়ানো উচিত। শুরুটা ভাল হয়েছে। আশা করবো পরবর্তী পর্বটা আর একটু বড় লিখবেন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *