আ. রহমান বয়াতির প্রয়াণে কুদ্দুস বয়াতি: এ দেশকে ছিঃ ছিঃ দিতে ইচ্ছা করে

কোন মিস্ত্রী এই দেহের ভেতর অদ্ভুত এক জীবন দিয়ে তা আবার কেড়ে নেয় তার সন্ধান করতেই সমগ্র জীবন নিজেকে ব্যয় করেছেন মহান বাউল শিল্পী আব্দুর রহমান বয়াতি। সে সন্ধান করতে গিয়ে যখন যা আবিষ্কার করেছেন তা-ই কণ্ঠে ধারণ করে মানুষের মাঝে মিশে ছিলেন আমৃত্যু।


কোন মিস্ত্রী এই দেহের ভেতর অদ্ভুত এক জীবন দিয়ে তা আবার কেড়ে নেয় তার সন্ধান করতেই সমগ্র জীবন নিজেকে ব্যয় করেছেন মহান বাউল শিল্পী আব্দুর রহমান বয়াতি। সে সন্ধান করতে গিয়ে যখন যা আবিষ্কার করেছেন তা-ই কণ্ঠে ধারণ করে মানুষের মাঝে মিশে ছিলেন আমৃত্যু।

বাংলা বাউল আধ্যাত্মিক গানের একনিষ্ঠ সাধক আব্দুর রহমান বয়াতির দেহ ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেছে। সোমবার সকালে রাজধানীর জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটালে তিনি এ জগতের মায়া ছেড়ে অন্য জগতের সন্ধানে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার মৃত্যুতে শোকাভিভূত দেশের আপামর জনগণ। তার এঅন্তর্ধানে শোকাচ্ছন্ন দেশের বাউলগোষ্ঠীও। তারসঙ্গে দীর্ঘদিন এক মঞ্চে গান গেয়েছেন দেশের আরেক জনপ্রিয় বাউল শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি।

আব্দুর রহমান বয়াতিকে চাচা ডাকতাম। ওনার বাড়ি কেরানীগঞ্জ। আমারবাড়ি নেত্রকোনা। ১৯৮৭ সালে তার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গানের অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে এক মঞ্চে গান গেয়েছিলাম। তারপর থেকেবিভিন্ন সময় এক মঞ্চে গান গেয়েছি আমরা। চাচার সঙ্গে সুখ দুঃখের অসংখ্য স্মৃতি আছে আমার।

সেই ব্রিটিশ আমল থেকে তিনি এ দেশকে মাতিয়ে রেখেছেন তার গানে। প্রায় চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় গান গেয়েছেন তিনি। তার মন আমার দেহ ঘড়ি থেকে শুরু করে অসংখ্য জনপ্রিয় গান আছে যা আমারও ভীষণ প্রিয়। দেশের মানুষের খুব কাছে যেতে পেরেছিলেন তিনি। একাই পুরো দেশ মাতিয়ে রাখার ক্ষমতা ছিল তার। দেশ বিদেশে কতো সম্মান ছিল তার। দেশের বাইরে গান গাইতেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকে চিনতো। কিন্তু দেশই তাকে চিনতে পারলো না। ওনার যখন যৌবন ছিল, যশ ছিল তখন তার কদর ছিল সর্বত্র। তার মতো একজন মহান শিল্পীকে দলে ভাগ করে ফেললো। আমাদের দেশে শিল্পীদের নিয়েও দলাদলি হয়। একজন শিল্পী কখনো কোনো দলের হতে পারে না। একজন শিল্পী সব সময় সব মানুষের। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো শিল্পীদেরও রাজনীতির দলাদলির বাইরে রাখে নাই। তারা আব্দুর রহমান বয়াতীর মতো শিল্পীকে একটি বিশেষ দলের শিল্পী হিসেবে পরিচিত করতে চেয়েছিল।

দেশ বিদেশে যে শিল্পীর এতো সম্মান, মানুষের এতো ভালোবাসা! সারা জীবন গানের পিছনে সাধনার পিছনে ব্যয় করলেন। কিন্তু তার কোনো সম্মান তিনি পেলেন না এ দেশ থেকে। কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান তিনি পেলেন না। তিন/চারবার একুশে পদকের জন্য দরখাস্ত করা হয়েছিল তার জন্য। রাষ্ট্র তাকে যোগ্যই মনে করলো না। বরং বয়স বেড়ে যাওয়ার পর বিনা চিকিৎসায় দিনের পর দিন কাটাতে হলো। এ দেশকে আমার ছিঃ ছিঃ দিতে ইচ্ছাহয়। এ দেশ শিল্পীদের সম্মান দিতে জানে না। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, কেনো এ দেশে জন্মগ্রহণ করতে গেলাম। এ দেশে শিল্পীদের জীবনের করুণ পরিণতি দেখে মনে হয়, আমার সময়ও ঘনিয়ে আসছে এমন পরিণতির জন্য।

জাপান বাংলাদেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি সহায়তা না করতো, রহমান চাচা আরো আগেই বিনা চিকিৎসায় মারা যেতেন। ধিক্কার জানাই আমাদের দেশের কাণ্ডারিদের!

তথ্য সূত্র: বাংলামেইল২৪ডটকম

১০ thoughts on “আ. রহমান বয়াতির প্রয়াণে কুদ্দুস বয়াতি: এ দেশকে ছিঃ ছিঃ দিতে ইচ্ছা করে

  1. মরমী এই শিল্পী স্মরণে
    মরমী এই শিল্পী স্মরণে ইস্টিশনে এই প্রথম একটি পোস্ট দেখলাম ।ধন্যবাদ পোস্টদাতাকে ।

    1. ধন্যবাদ আপনাকেও। আমিও প্রথমে
      ধন্যবাদ আপনাকেও। আমিও প্রথমে অবাক হয় যখন দেখি এই শিল্পীকে নিয়ে ইস্টিশনে কোনো পোষ্ট নেই। অন্য ব্লগে আছে দেখে হতাশ হইলাম পরে নিজেই পোষ্ট দেওয়ার দায়িত্ব টা নিলাম।

  2. একজন শিল্পীর প্রথম পরিচয় তিনি
    একজন শিল্পীর প্রথম পরিচয় তিনি শিল্পী । শিল্পী ও শিল্প যেন কখনো নোংরা রাজনীতির স্বীকার না হয় এই প্রত্যাশা করি । মরমী বাউল আব্দুর রহমানের প্রতি আমার বিনম্র প্রণতি !!!! :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  3. আমরা কবে শিল্প সাহিত্য কে
    আমরা কবে শিল্প সাহিত্য কে মূল্যায়ন করতে শিখব কে জানে। ছোট বেলায় বিটিভি তে ওনার গান শুনেছি। কিন্তু এখন এত চ্যানেল কখন বাউল বা আমাদের মাটির কোন অনুষ্ঠান দেখি না। কোটি মানুষ কে আনন্দদান কারি মানুষ ত চলে গেলেন নীরবে- নিভৃতে।

  4. আধুনিকতার ছোঁয়া মেরিল প্রথম
    আধুনিকতার ছোঁয়া মেরিল প্রথম আলো পুরষ্কার দিতে পারে কম্পিউটার শিল্পী হাবিব হৃদয় আরেফিন দের। কিন্তু মাটির মানুষ গুলো নীরবে চলে যান অন্যলোকে। সত্যিই জাতি হিসেবে আমাদের লজ্জিত থাকা উচিত।

  5. আমাদের শিল্পিত মন হয়তো
    আমাদের শিল্পিত মন হয়তো আছে,কিন্তু শিল্পীর চোখ নানান বাধায় বাধা।
    আর তাইতো আমাদের মন শিল্পীর ডাকে বিনোদিত হতেও বিভ্রান্তবোধ করে,প্রয়োজন খোজেঁ…
    শিল্পের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে আমাদের আরও সময় দিতে হবে…একদিন আসবে,যখন আমরা সত্যিকারের শিল্পমনস্ক হয়ে উঠবো…
    :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

  6. শিল্পী যখন তার বোনের বাড়ী
    শিল্পী যখন তার বোনের বাড়ী (মাতুয়াইল) বেড়াতে আসতেন, তখন বায়না ধরতাম, মামা একটা গান শোনান ♩ আমাদের দেশ গুণীর কদর দিতে জানে না ♩ তাই দেহঘড়ির মালিকরা নীরবে, সকলের অজান্তেই চলে যায় ♩ আর পুরস্কারের ব্যপারে কিছু না ই বললাম ♩ আপনাকে ধন্যবাদ শিল্পীকে নিয়ে লেখার জন্যে

  7. বাঙালি জীবিত প্রতিভাদের
    বাঙালি জীবিত প্রতিভাদের বরাবরই অগ্রাহ্য করে এসেছে। মূল্যায়ন কি জিনিশ এ জাতি কখনই বুঝে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *