হাংরি জেনারেশন সাহিত্য

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার

প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার
এই কবিতাটির জন্য ১৯৬৪ সালে মলয় রায়চৌধুরীর বিরুদ্ধে মকদ্দমা করেছিল তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মলয়ের হাতে হাতকড়া পরিয়ে ও কোমরে দড়িবেঁধে প্রথমে থানায় এবং থানা থেকে ছয়-সাতজন অপরাধীর সঙ্গে রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মলয়ের বিরুদ্ধে ৩৫ মাস মামলাটি চলে প্রথমে নিম্ন আদালতে, যেখানে মলয়ের একমাস জেলের সাজা ঘোষিত হয় ও তারপর কলকাতা উচ্চ আদালতে, যেখানে তিনি বেকসুর ছাড়া পান। মলয়ের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন তরুণ সান্যাল, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় দত্ত, সত্রাজিৎ দত্ত ও অজয় হালদার। পাঠকের হয়ত আশ্চর্য লাগবে, মলয়ের বিরুদ্ধে পুলিসের পক্ষের সাক্ষী ছিলেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ও উৎপলকুমার বসু। দুজন পুলিস ইনফর্মার, পবিত্র বল্লভ ও সমীর বসু, ছিলেন পুলিসের ভুয়ো সাক্ষী, যাঁরা মলয়ের পরিচিত না হওয়া সত্ত্বেও কোর্টে জানান যে মলয়ের সঙ্গে তাঁদের বহুবার কফিহাউসে দেখা হয়েছে। সবচেয়ে লজ্জার যে দুজন হাংরি আন্দোলনকারী রাজসাক্ষী , অর্থাৎ অ্যাপ্রুভার, হয়ে মলয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন; তাঁরা দুজন হলেন শৈলেশ্বর ঘোষ ও সুভাষ ঘোষ।এঁদের সাক্ষ্যের কারণেই নিম্ন আদালত মলয়কে সাজা দিয়েছিল ।

ওঃ মরে যাব মরে যাব মরে যাব
আমার চামড়ার লহমা জ্বলে যাচ্ছে অকাট্য তুরুপে
আমি কী কোর্বো কোথায় যাব ওঃ কিছুই ভাল্লাগছে না
সাহিত্য-ফাহিত্য লাথি মেরে চলে যাব শুভা
শুভা আমাকে তোমার তর্মুজ আঙরাখার ভেতর চলে যেতে দাও
চুর্মার অন্ধকারে জাফ্রান মশারির আলুলায়িত ছায়ায়
সমস্ত নোঙর তুলে নেবার পর শেষ নোঙর আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে
আর আমি পার্ছি না, অজস্র কাঁচ ভেঙে যাচ্ছে কর্টেক্সে
আমি জানি শুভা, যোনি মেলে ধরো, শান্তি দাও
প্রতিটি শিরা অশ্রুস্রোত বয়ে নিয়ে যাচ্ছে হৃদয়াভিগর্ভে
শাশ্বত অসুস্হতায় পচে যাচ্ছে মগজের সংক্রামক স্ফুলিঙ্গ
মা, তুমি আমায় কঙ্কালরূপে ভূমিষ্ঠ করলে না কেন ?
তাহলে আমি দুকোটি আলোকবষহ ঈশ্বরের পোঁদে চুমো খেতুম
কিন্তু কিছুই ভলো লাগছে না আমার কিচ্ছু ভালো লাগছে না
একাধিক চুমো খেলে আমার গা গুলোয়
ধর্ষণকালে নারীকে ভুলে গিয়ে শিল্পে ফিরে এসেছি কতদিন
কবিতার আদিত্যবর্ণা মূত্রাশয়ে
এসব কী হচ্ছে জানি না তবু বুকের মধ্যে ঘটে যাচ্ছে অহরহ
সব ভেঙে চুরমার করে দেব শালা
ছিন্নভিন্ন করে দেব তোমাদের পাঁজরাবদ্ধ উৎসব
শুভাকে হিঁচড়ে উঠিয়ে নিয়ে যাব আমার ক্ষুধায়
দিতেই হবে শুভাকে
ওঃ মলয়
কোল্কাতাকে আর্দ্র ও পিচ্ছিল বরাঙ্গের মিছিল মনে হচ্ছে আজ
কিন্তু আমাকে নিয়ে আমি কী কোর্বো বুঝতে পার্ছি না
আমার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে
আমাকে মৃত্যুর দিকে যেতে দাও একা
আমাকে ধর্ষণ ও মরে যাওয়া শিখে নিতে হয়নি
প্রস্রাবের পর শেষ ফোঁটা ঝাড়ার দায়িত্ব আমায় শিখতে হয়নি
অন্ধকারে শুভার পাশে গিয়ে শুয়ে পড়া শিখতে হয়নি
শিখতে হয়নি নন্দিতার বুকের ওপর শুয়ে ফরাসি চামড়ার ব্যবহার
অথচ আমি চেয়েছিলুম আলেয়ার নতুন জবার মতো যোনির সুস্হতা
যোনোকেশরে কাঁচের টুকরোর মতন ঘামের সুস্হতা
আজ আমি মগজের শরণাপন্ন বিপর্যয়ের দিকে চলে এলুম
আমি বুঝতে পার্ছি না কী জন্যে আমি বেঁচে থাকতে চাইছি
আমার পূর্বপুরুষ লম্পট সাবর্ণচৌধুরীদের কথা আমি ভাবছি
আমাকে নতুন ও ভিন্নতর কিছু কোর্তে হবে
শুভার স্তনের ত্বকের মতো বিছানায় শেষবার ঘুমোতে দাও আমায়
জন্মমুহূর্তের তীব্রচ্ছটা সূর্যজখম মনে পড়ছে
আমি আমার নিজের মৃত্যু দেখে যেতে চাই
মলয় রায়চৌধুরীর প্রয়োজন পৃথিবীর ছিল না
তোমার তীব্র রূপালি য়ূটেরাসে ঘুমোতে দাও কিছুকাল শুভা
শান্তি দাও, শুভা শান্তি দাও
তোমার ঋতুস্রাবে ধুয়ে যেতে দাও আমার পাপতাড়িত কঙ্কাল
আমাকে তোমার গর্ভে আমারই শুক্র থেকে জন্ম নিতে দাও
আমার বাবা-মা আন্য হলেও কি আমি এরকম হতুম ?
সম্পূর্ণ ভিন্ন এক শুক্র থেকে মলয় ওর্ফে আমি হতে পার্তুম ?
আমার বাবার অন্য নারীর গর্ভে ঢুকেও কি মলয় হতুম ?
শুভা না থাকলে আমিও কি পেশাদার ভদ্রলোক হতুম মৃত ভায়ের মতন ?
ওঃ বলুক কেউ এসবের জবাবদিহি করুক
শুভা, ওঃ শুভা
তোমার সেলোফেন সতীচ্ছদের মধ্যে দিয়ে পৃথিবীটা দেখতে দাও আমায়
পুনরায় সবুজ তোশকের ওপর চলে এসো শুভা
যেমন ক্যাথোড রশ্মিকে তীক্ষ্ণধী চুম্বকের আঁচ মেরে তুলতে হয়
১৯৫৬ সালের সেই হেস্তনেস্তকারী চিঠি মনে পড়ছে
তখন ভাল্লুকের ছাল দিয়ে সাজানো হচ্ছিল তোমার ক্লিটোরিসের আশপাশ
পাঁজর নিকুচি করা ঝুরি তখন তোমার স্তনে নামছে
হুঁশাহুঁশহীন গাফিলতির বর্ত্মে স্ফীত হয়ে উঠছে নির্বোধ আত্মীয়তা
আ আ আ আ আ আ আ আ আ আঃ
মরে যাব কিনা বুঝতে পার্ছি না
তুল্কালাম হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতরকার সমগ্র অসহায়তায়
সব কিছু ভেঙে তছনছ করে দিয়ে যাব
শিল্পের জন্যে সক্কোলকে ভেঙে খান-খান করে দোব
কবিতার জন্যে আত্মহত্যা ছাড়া স্বাভাবিকতা নেই
শুভা
আমাকে তোমার লাবিয়া ম্যাজোরার স্মরণাতীত অসংযমে প্রবেশ কোর্তে দাও
দুঃখহীন আয়াসের অসম্ভাব্যতায় যেতে দাও
বেসামাল হৃদয়বত্তার স্বর্ণসবুজে
কেন আমি হারিয়ে যাইনি আমার মায়ের যোনিবর্ত্মে ?
কেন আমি পিতার আত্মমৈথুনের পর তাঁর পেচ্ছাপে বয়ে যাইনি ?
কেন আমি রজোস্রাবে মিশে যাইনি শ্লেষ্মায় ?
অথচ আমার নীচে চিত আধবোজা অবস্হায়
আরামগ্রহণকারিণী শুভাকে দেখে ভীষণ কষ্ট হয়েছে আমার
এরকম অসহায় চেহারা ফুটিয়েও নারী বিশ্বাসঘাতিনী হয়
আজ মনে হয় নারী ও শিল্পের মতো বিশ্বাসঘাতিনী কিছু নেই
এখন আমার হি২স্র হৃৎপিণ্ড অসম্ভব মৃত্যুর দিকে যাচ্ছে
মাটি ফুঁড়ে জলের ঘূর্ণি আমার গলা ওব্দি উঠে আসছে
আমি মরে যাব
ওঃ এসমস্ত কী ঘটছে আমার মধ্যে
আমি আমার হাত হাতের চেটো খুঁজে পাচ্ছি না
পায়জামায় শুকিয়ে-যাওয়া বীর্য থেকে ডানা মেলছে
৩০০০০০ শিশু উড়ে যাচ্ছে শুভার স্তনমণ্ডলীর দিকে
ঝাঁকে-ঝাঁকে ছুঁচ ছুটে যাচ্ছে রক্ত থেকে কবিতায়
এখন আমার জেদি ঠ্যাঙের চোরাচালান সেঁদোতে চাইছে
হিপ্নোটিক শব্দরাজ্য থেকে ফাঁসানো মৃত্যুভেদী যৌনপর্চুলায়
ঘরের প্রত্যেকটা দেয়ালে মার্মুখি আয়না লাগিয়ে আমি দেখছি
কয়েকটা ন্যাংটো মলয়কে ছেড়ে দিয়ে তার আপ্রতিষ্ঠিত খেয়োখেয়ি
( হাংরি বুলেটিন, ১৯৬৪ )

১৬ thoughts on “হাংরি জেনারেশন সাহিত্য

  1. হাংরি জেনারেশন বাঙলা
    হাংরি জেনারেশন বাঙলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অস্থির সময়ের পরিচায়ক… বিশেষত শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় মলয় রায়চৌধুরী,বিনয় মজুমদার,রবীন্দ্র গুহ প্রমুখ এই আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন।আর তৎকালীন সময়ের অস্থিরতা,মূল্যবোধের অবক্ষয়, অনাচার সব কিছু এই আন্দোলনের কবি ও লেখকদের লেখায় ফুটে উঠেছিল খুব নির্মম এক সত্য হিসেবে…

    হালের কলকাতায় সৃজিত মুখোপাধ্যায় তার বাইশে স্রাবন মুভিতে এই আন্দোলনের কিছু কবিতা এবং কিছু থিম ব্যবহার করেছিলেন বটে,কিন্তু তাতে এই আন্দোলন সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা উঠে আসেনি… কি জানি আমি হয়তোবা একটু বেশিই চেয়ে ফেলেছিলাম… আপনাকে কবিতাটা পোস্ট করবার জন্য অশেষ ধইন্না :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: দগ্ধ সময় ,তবে এই আন্দলন সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা আশা করেছিলাম… পরবর্তী একটা পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করবার ইচ্ছা রইল… যাই হোক লেখা ভালো হয়েছে, এরকম আরও লেখা চাই :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: … চালিয়ে যান… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :থাম্বসআপ: :গোলাপ: :ফুল:

    1. রাআদ,
      এই বিষয়ের উপর লেখা

      রাআদ,
      এই বিষয়ের উপর লেখা লেখেন ।
      মনে হচ্ছে হাংরি জেনারেশন সম্পর্কে আপনার জানাশোনা আছে ।
      ঐশী জ্বর শেষে এরকম বিষয়ের উপর লেখা পড়ে ভাল লাগছে । ধন্যবাদ দগ্ধ সময়কে ।

  2. সত্যি কথা বলতে হ্যাংরি
    সত্যি কথা বলতে হ্যাংরি জেনারেশন সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানিনা। আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে পরে যদি আরও বিস্তারিত এক বা একাধিক পোস্ট দেন তাহলে খুশি হব। আপাতত :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. কবিতাটা ও এর পেছনের ইতিহাস
    কবিতাটা ও এর পেছনের ইতিহাস অন্য একটি ব্লগে পড়েছিলাম(খুব সম্ভবত সামুতে) ।জানি না ঐ লেখক আপনি কি না?

  4. হাংরি মুভমেন্ট সম্পর্কে তেমন
    হাংরি মুভমেন্ট সম্পর্কে তেমন একটা কিছু জানিনা।শুধু জানি এই রকম একটা মুভমেন্ট হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি।এই জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি লেখককে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত একটা পোস্ট আমাদের উপহার দিতে।আর এই পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

  5. আপনি এই ইতিহাস কতটুকু জানেন
    আপনি এই ইতিহাস কতটুকু জানেন আমি জানিনা। তবে এই লিখাটা কপি পেস্ট করতে গেলেন কেন ভাই?
    https://facebook.com/permalink.php?story_fbid=670108796349573&id=621297454564041

    পুরোপুরি কপি না করে নিজ থেকেও লিখতে পারতেন কিছুটা।

    1. অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন,
      আপনি তো

      অঘূর্নায়মান ইলেকট্রন,
      আপনি তো ভাই সাঙ্গাতিক লোক !!!
      কোত্থেকে খুঁজে খুঁজে বের করলেন । দেখেন তো আরও ইনফো আছে কিনা ।
      থাকলে জানান দিয়েন ।

      1. আসলেই সাংঘাতিক লোক ইলেকট্রন
        আসলেই সাংঘাতিক লোক ইলেকট্রন সাব :খাইছে: :খাইছে: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: … পুরাই কপি মারছেন দেখি এই দগ্ধ সময় :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: … নিজের থেকে কিছুটাও লিখতে পারতেন… এভাবে একটা চমৎকার বিষয়কে নষ্ট করার কোন মানে হয় না

  6. আমি ভুল স্বীকার করছি যে, উক্ত
    আমি ভুল স্বীকার করছি যে, উক্ত লেখাটির রেফারেন্স দেয়া উচিত ছিল, কিন্তু আমি তা করিনি। আমি দুক্ষিত। তার সাথে আমি এও মান তে পারিনা যে, কপি পেস্ট করা অপরাধ। কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে আমি চাইনি মানুষ কে আকর্ষণ করতে, আমি শুধু চেয়েছিলাম এক্টি প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়া ইতিহাসের সাথে মানুষ কে পরিচয় করিয়ে দিতে। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *