দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(শেষ পর্ব)

(৪) দিগন্ত এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছে।ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছে।অনেকক্ষণ হল লোডশেডিং হয়েছে।কিন্তু ফেসবুকের বদৌলতে এতক্ষণ তেমন একটা খারাপ লাগছিল না।কিন্তু কপাল খারাপ,লেপটপের চার্জ প্রায় শেষের দিকে।আর ফোনে চ্যাট করে তেমন একটা মজা নাই।তাই বন্ধুদের সাথে চ্যাট করা বন্ধ করতে হল।লেপটপটা শাটডাউন দিয়ে দিগন্ত ছাদে গেল।ফোনে দেখল দেড়টা বাজে।এখন দেড়টা তেমন কোনো রাত না তার কাছে।সে একটা সিগারেট ধরিয়ে আকাশের দিকে তাকালো।ভার্সিটিতে উঠার পর এই সিগারেট বদ অভ্যাসটা তার হয়েছে।আকাশের মাঝখানে দ্বাদশীর চাঁদটা দেখে সে বিস্মিত হয়ে গেল।জোছনা কেন এত অসহ্য সুন্দর হয় তা সে ভেবে পেল না।চারদিকে জোছনার বৃষ্টি হচ্ছে।জোছনা সবসময়ই কবি কবি করে তোলে।মাথায় কি কোনো কবিতা আসছে?নাহ্।অনেকদিন কবিতা লিখা হয়না।তবে তার প্রিয় কিছু কবির কবিতা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।যেমনঃ জীবনানন্দ দাশের ‘আট বছর আগের একদিন’।মনের অজান্তেই সে মৃদু কণ্ঠে আবৃতি করতে থাকলো…..

“শোনা গেল লাশকাটা ঘরে

নিয়ে গেছে তারে;

কাল রাতে- ফাল্গুনের রাতের আধারে

যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ

মরিবার হল তার সাধ।…”

এরপর আবার জীবনানন্দের ‘কুড়ি বছর পরে’…

“কুড়ি বছরের পরে তখন তোমারে নাই মনে

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের

কুড়ি কুড়ি বছরের পার-

তখন আবার যদি দেখা হয় তোমার আমার।…”

তারপর আবার শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের ‘ছেলেটা’।এভাবেই আরো কয়েকটা কবিতা বা ভালো লাগা কিছু কবিতার লাইন সে আওড়াচ্ছিল।আওড়াতে আওড়াতে পূর্ণিমার আলোয় উদাশ হয়ে রবীঠাকুরের ‘চুম্বন’ কবিতার ২ লাইন যখন সে আবৃতি করলঃ

“অধরের কানে যেন অধরের ভাষা

দোঁহার হৃদয় যেন দোঁহে পান করে,…

তখনই তার ফোনবন্ধুর কথা মনে পড়ে গেল।সেই নদী।এমন কত রাত সে নদীর সাথে কথা বলে কাটিয়েছে।নদীর জন্য কত কবিতা সে লিখেছে।কত কবিতা,গান,হুটোপুটি,ছেলেমানুষিতে মেতে থাকতো তারা দুজনে।হা নদী কখনোই কবিতা বুঝত না।তবু যদি শুনত যে তার জন্য কবিতা লিখেছে দিগন্ত তাহলে সে কত যে খুশী হত!কিন্তু আজ সেই নদী কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।নতুন সব বন্ধুর ভিড়ে কত দূর চলে গেছে।সর্বশেষ যে কবে তার সাথে কথা হয়েছে মনে পড়েনা দিগন্তের।গত দুই বছরে তেমন কোনো কথাই হয়নি।অথচ এক সময় প্রতি রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে কাটাত দুজনে।প্রতি ফ্রেন্ডশিপ ডে এর মত এবারও দিগন্ত নদীকে ম্যাসেজ দিয়েছিল।নদীও ঐদিন ফোন করেছিল কিন্তু দিগন্ত ধরতে পারেনি।ঐসময় দিগন্ত ঘুমুচ্ছিল।তারপর দিগন্ত আবার ফোন দিতে চেয়েছিল কিন্তু আর দেয়া হয়ে উঠেনি।আচ্ছা এমন হল কেন?নদী অনেকবার দেখা করতে চেয়েছে।কিন্তু দিগন্ত দেখা করেনি।আজ পর্যন্ত তাদের দেখা হলনা হয়তো আর হবেও না।শুধু নামটুকু,স্মৃতিটুকু থেকে যাবে।তাদের মাঝের বন্ধুত্বে এমন দূরত্ব সৃষ্টির মূল কারণটা দিগন্ত আজও বোঝেনা।নদী হয়তো দিগন্তকে ভালোওবাসতো।কিন্তু দিগন্ত কোনোদিন এসব ব্যাপারে সিরিয়াস ছিল না।আজও না।তাই হয়তো….আর কি…।দিগন্ত চাঁদটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাত্‍ ফোনটা পকেট থেকে বের করল।নদীর নাম্বারটা টাইপ করলো।অনেক রাত হয়েছে এখনও কি নদী জেগে আছে?এই ভেবে দিগন্ত আবার ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো।দিগন্তের মাঝেমাঝেই এমন নদীকে ফোন করতে ইচ্ছে করে।নদীর বিয়ে হয়ে গেল কিনা বা কোন ভার্সিটিতে পড়ছে এসব জানতে ইচ্ছে করে।কিন্তু আর ফোন করা হয়না।সময়ের স্রোতে কত কিছু হারিয়ে যায়।দিগন্তের ফোনবন্ধুটিও কি হারিয়ে গেল?প্রতিবারের মতন দিগন্ত ভাবল,কাল একবার তার ফোনবন্ধুটির সাথে কথা বলতেই হবে।
(আগের পর্ব না পড়ে থাকলে নিচের লিঙ্কে পড়ুনঃ
istishon.com/node/4222 )

৮ thoughts on “দুটি ফোনবন্ধুর গল্প(শেষ পর্ব)

  1. সব মিলিয়ে ফিনিশিং টাও ভাল
    সব মিলিয়ে ফিনিশিং টাও ভাল লেগেছে। আপনার গল্পের সাথে পাঠক কে টেনে নিয়ে যাওয়ার প্রশংসা করতে হয়। পরবর্তী কোন গল্পের অপেক্ষায় রইলাম।

  2. আর ভাই এই গল্পের প্লটটা
    আর ভাই এই গল্পের প্লটটা অনেকটা আমার জীবন থেকে নেয়া।আমারো একটা ফোনবন্ধু ছিল।এই জন্যই এরকম হইছে।পরের গল্পের নাম বলে দেই।
    ‘আমার বন্ধু এবং তাহরিমা তন্নী’।

  3. চার পর্ব পড়তে জান বের হয়ে
    চার পর্ব পড়তে জান বের হয়ে গেছে। প্যারাগ্রাফ করে, একটু গুছিয়ে নিয়ে এডিট করে দিয়েন। তাহলে পাঠকের পড়তে ভালো লাগবে।
    গল্পটা ভালোই ছিল কিন্তু কেন যেন গল্পই মনে হল। কেন মনে হয়েছে তা বলতে পারছি না। মনে হয় গল্পের কাঠামো ঠিক আছে কিন্তু প্রান নেই।

    চালিয়ে যান…

    হ্যাপি ব্লগিং!

  4. মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।আর
    মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।আর মোবাইলে পোস্ট করেছি বলে প্যারা ঠিকভাবে করতে পারিনি।আপনার কথামত পিসি বসে প্যারা করে দেয়ার চেষ্টা করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *