কলেজ জীবনের কিছু কথা : রাইফেলস পাবলিক কলেজ

কলেজ থেকে পালানোর মোটমাট তিনটা রাস্তা জানা ছিল , যার সব গুলোই ছিল আমার আবিষ্কার ।

কলেজ থেকে পালানোর মোটমাট তিনটা রাস্তা জানা ছিল , যার সব গুলোই ছিল আমার আবিষ্কার ।

কলেজ থেকে কে না পালায় ? যে কলেজ পালালো না , তার কলেজ জীবনটাই বৃথা । কলেজ পালানোর কথা এমন গর্ব করে বলার কারণ: কলেজটার নাম রাইফেলস পাবলিক কলেজ । বিডিআর (তৎকালীন) এর ভেতর থেকে পালাতে বুকের পাটা লাগে । ক্যাম্পাসটা এতো বড় , যে পালানোর কথা চিন্তা করাটাও একটা ব্যাপার । তিনটা রাস্তার মাঝে একটা ছিলো নতুন বিল্ডিংএর দুই তলা থেকে বাঁশের মই বেয়ে নীচে নেমে পালানো । নতুন বিল্ডিংএর পাশে বাশের মই লাগানো ছিল, কারণ construction এর কাজ চলছিল । একটা ছিল ব্যাগ না নিয়ে কলেজে আসা । ব্যাগ ছাড়া দাড়োয়ান কলেজের বাইরে বের হতে দিত, তাই ব্যাগ ই আনতাম না। আরেকটা ছিল দেয়াল ডিঙ্গানো ।

HSC পরীক্ষার সময় লিখতে হতো “বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ রাইফেলস পাবলিক কলেজ” এতো বড় নাম লিখতে হবে এই কথা ভর্তির সময় মনে থাকলে হয়তো ঢাকা কলেজেই ভর্তি হতাম । এখন নাম বদল করা হইছে । নতূন নাম “বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ” । খুব একটা ছোট কিন্তু হয় নাই ।

আমার জীবনের দুইটা ভাগ । একটা ২০০৯ এর আগে । আরেকটা ২০১০ এর পরে । ২০০৯ এর আগের সবকিছুই আমার খুব দূরের বলে মনে হয় । কলেজের স্মৃতি খুব ঝাপসা । কলেজের স্মৃতি বলতে শুধু মনে পড়ে কলেজ পালানোর কথা । আর তেমন কিছু স্পষ্ট ভাবে মনে পড়ে না । সবাই নিজের কলেজের ক্যাম্পাসে চাইলেই ঢু মারতে পারে । আমরা পারিনা । আজকে তাই কলেজ গেলাম প্রায় বছর চারেক পর । বিজিবি এরিয়াতে ঢুকেই একসাথে মনে পড়ে গেলো অনেক কিছু । এইতো এখানে যে পুকুরটা আছে , এতে নাকি অনেক লাশ পাওয়া গেছে । চারিদিক সুনশান । হয়তো কোনোকিছু আগের মতো আর নেই । ভাবতে না ভাবতেই একপাল গরুর মাঝেপড়ে গেলাম ।

এরা গরু পালে । কলেজে পর্যন্ত যাবার পথে এমন অসংখ্য বার গরুর মুখোমুখি হইছি । অনেকে যেমন কুকুর ভয় পায় , আমি তেমনি গরু ভয় পাই ।তবে গরু দেখে ভালো লাগলো । আগের সময়ে ফিরে গেলাম । পুরাতন স্যারদের দেখলে আমার কেনো জানি খুব ভালোলাগে । কতোদিন পর দেখলাম স্যারদের ! সবচাইতে ভালো লাগলো নুরুল ইসলাম স্যার কে দেখে । ওনাকে নিয়ে কতো স্মৃতি ! পোলাপাইনরে উনিই সবচে বেশী পেইন দিতেন ।

একটা ক্যামেরার অভাবে কোনো স্যারের সাথে ছবি তোলা হলো না । খুব ইচ্ছা ছিল । যে সবুজ জামা মেয়েটাকে দেখে প্রেমে পড়লাম , ক্যামেরা থাকলে তার একটা ছবি তোলা যেত । ক্যামেরা থাকলে র‍্যাম্প নামধারী পাছা দুলানি প্রদর্শনিটাকেও ভিডিও করা যেত । কিন্তু টিপিক্যাল খ্যাত বালকদের মত আমারো কোনো ক্যামেরা বা ক্যামেরা ওয়ালা মোবাইল নাই । তাই সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসের ভিতর দিয়ে একলা ফিরে আসার সময় দেখা গাছের পাতার ফাঁকে সুতা কাটা ঘুড়িটার কথা ভুলে যাব হয়তো ।

সবুজ জামার বালিকার সাথে কথা হয়েছিল ।

১১ thoughts on “কলেজ জীবনের কিছু কথা : রাইফেলস পাবলিক কলেজ

  1. ভাই একই প্রতিষ্ঠানের একজন কে
    ভাই একই প্রতিষ্ঠানের একজন কে পেয়ে ভাল লাগলো।আমি ২০১২ ব্যাচের।আপনি ছদ্ম নাম ব্যবহার করছেন বিধায় আপনাকে চিন তে পারছিনা।

  2. মনে পড়ে শৈশব, কৈশর, স্কুল,
    মনে পড়ে শৈশব, কৈশর, স্কুল, কলেজ কত কি…
    আবার ভুলেও যাই! হয়তো এটাই মনের নিয়ম ।

  3. মনে পড়ে যায় সুখের দিন গুলো
    মনে পড়ে যায় সুখের দিন গুলো ফিরে যেতে ইচ্ছে করে কিন্তু হায় তা তো আর সম্ভব নয় .। সবাই ইস্টিশনে আমার বড়

    1. ঠিক কইছেন ভাই , মাইয়া মাইনষের
      ঠিক কইছেন ভাই , মাইয়া মাইনষের বড় ভাই থাকতে নাই । এইডি থাকবো সংসারের একমাত্র সন্তান যাতে শান্তি মতন ফিল্ডিং মারন যায় :চশমুদ্দিন:

      1. হাহা আপনি ই প্রথম লখ্য করলেন
        হাহা আপনি ই প্রথম লখ্য করলেন আমার সাইন এত দিন ধরে দিয়ে রেখেছি কেউ দেখে না!!!

        ———————————–
        সব মেয়েদের কেন বড় ভাই থাকে?
        ———————————–

  4. আমি ছিলাম ৯৯ এর ব্যাচ ♩ তখনো
    আমি ছিলাম ৯৯ এর ব্যাচ ♩ তখনো আমরা শুধু কলেজের ফাঁক ফোঁকর খুজতাম, কিভাবে ফাকি দিয়ে বেরুব ♩ অনেক পুরোনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন ভাই ♩ আপনাকে ধন্যবাদ

    1. আমাদের ব্যাচটা বের হয়ে যাবার
      আমাদের ব্যাচটা বের হয়ে যাবার পর নাকি সব ফাকা বন্ধ করে দিছে ভাই 😉 আর নতুন বিল্ডিং হওয়া শেষে বাশের মইও উধাউ । তবে আমি আপ্নে এক্লগে হইলে নিশ্চই একটা না একটা উপায় বাইর হইত 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *