সিগারেট থেকে শুরু, শেষকালে হেরোইন! মাঝখানে একটু আধটু…!!!

১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ইং
আমার HSC ফলাফল দেয়ার পরের দিনের ঘটনা।
আমি কোচিং ক্লাসে যাই। কোচিং শেষ করার পর, নোয়াখালি’র মাইজদী নূতন বাস স্টেশনের পাশের একটি দোকানে গেলাম। আশে পাশে লোকজন দেখে নিলাম। পরিচিত কাউকেই দেখছিলাম। প্রথমে দোকানদারের কাছ থেকে একটা এনার্জি ড্রিঙ্ক নিলাম। তারপর ২টা চুইং গাম নিলাম। এরপর দোকানিকে খুব আস্তে করে বললাম, একটা বেনসন দেন। দোকানদার বুঝতে পারেনি। আমাকে জিজ্ঞেশ করল, কি??
আমি গলা খাকাড়ি দিয়ে বললাম, একটা বেনসন সিগারেট দেন।

১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ ইং
আমার HSC ফলাফল দেয়ার পরের দিনের ঘটনা।
আমি কোচিং ক্লাসে যাই। কোচিং শেষ করার পর, নোয়াখালি’র মাইজদী নূতন বাস স্টেশনের পাশের একটি দোকানে গেলাম। আশে পাশে লোকজন দেখে নিলাম। পরিচিত কাউকেই দেখছিলাম। প্রথমে দোকানদারের কাছ থেকে একটা এনার্জি ড্রিঙ্ক নিলাম। তারপর ২টা চুইং গাম নিলাম। এরপর দোকানিকে খুব আস্তে করে বললাম, একটা বেনসন দেন। দোকানদার বুঝতে পারেনি। আমাকে জিজ্ঞেশ করল, কি??
আমি গলা খাকাড়ি দিয়ে বললাম, একটা বেনসন সিগারেট দেন।
সিগারেটটা হাতে নেওয়ার সময় আমার হাত খুব কাঁপছিল। দোকানি বিষয়টা খেয়াল করল। বলল, ভাইয়া, এই ফার্স্ট সিগারেট খাইতেছেন, ক্যান?? গত কাইল তো ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্ট দিছে। আমনে কি খারাপ কইরছেন?
আমি বললাম, না ভাইয়া, ঐ রকম কিছুই না।

সিগারেটটা আস্তে করে পকেটে ঢুকিয়ে বাস স্ট্যান্ড এর পশ্চিম দিকের পাবলিক টয়লেটের ভিতরে চলে গেলাম। ও হ্যা, দোকানির কাছ থেকে একটা দিয়াশলাই ও নিয়েছিলাম।
তারপর সিগারেটটা ঠোঁটের মাঝখানে বসালাম। আমার হার্ট বিট কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছিল। একটা সিগারেট ধরাতে ১১টা কাঠি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অবশেষে ১২ তম কাঠি দিয়ে সিগারেটটা ধরালাম। খুব আনাড়ি ভাবে সিগারেটটা টানছিলাম। চোখ দিয়ে পানি এসে যাচ্ছিল। তবে কাশি আসে নি। নিজের অনিচ্ছায় যখন সিগারেটের কিছু ধোঁয়া আমার গলা দিয়ে নেমে গিয়েছিল, তখন শরীরের মধ্যে কেমন যেন একটা অনুভূতি হল। মনে হল আমি এখ্যুনি ঢলে পড়ে যাব। সবচেয়ে বেশি ভয় লেগেছিল যখন সিগারেটের ধোঁয়া আমার নাকের ফুটো দিয়ে বের হওয়ার সময় আমার মস্তিষ্কে আঘাত করেছে। মাথাটা ঝিমঝিম করে উঠল। কয়েক সেকেন্ডের জন্যে আমি জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়েছিলাম। টয়লেটের ওয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিলাম। ইচ্ছে করছিল বসে পড়ি।

সিগারেটটা আমি পুরোই শেষ করে ফেলেছিলাম। মজার ব্যপার হল শেষ টানে সিগারেটের শেষের দিকের ফোমের সাথে আগুন ধরে গিয়েছিল। ভয়ে সিগারেট ফেলে দিয়েছিলাম।
সিগারেট খাওয়া শেষ করার পর, আমি ব্যস্ত হয়ে গেলাম, কিভাবে সিগারেটের গন্ধ দূর করা যায়, তা নিয়ে। একটু পরেই তো বাসায় যাব। পথে যদি আবার পরিচিত কারও সাথে দেখা হয়ে যায়, এই ভয় ছিল। পানি দিয়ে দু’হাত অনেক ভালো করে ধুয়েছিলাম। এনার্জি ড্রিঙ্কটা খেয়েছিলাম যেন মুখ থেকে ঔষধের মত গন্ধ ছড়ায়। তারপর দুইটা চুইং গাম একসাথে মুখে পুরে দিয়েছিলাম। আবার দোকানে গিয়ে একসাথে দুইটা চা খেয়েছিলাম। বাসায় ঢুকার আগে পুকুর ঘাটে নেমে গড়গড়া করে কুলকুচি করেছিলাম। পরিচিত মানুষ গুলার কাছ থেকে একটু দূরে দূরে থেকে কথা বলছিলাম। পাছে যদি টের পেয়ে যায়!

সিগারেট খাওয়ার সময়ের চাইতে আমাকে সিগারেট পরবর্তী এটিচুড গুলা বেশি ভুগিয়েছিল। সেই থেকে বেশ কিছুদিন আর সিগারেটের ধারে কাছেও যাই নি।
তবে ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় মেঘনা ব্রিজের কাছে গাড়ি বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়েছিল। ব্রিজের কাজ চলছিল তখন। বাস থেকে নেমেই সিগারেট টানা শুরু করে দিয়েছিলাম। খুব কৌশলী স্মোকারের মতই টানছিলাম। ঐসময় কোন ভয়ই কাজ করছিল না। বাস প্রায় ২ঘন্টার মত দাঁড়িয়েছিল। এর মধ্যে আমি পাঁচটা সিগারেট খেয়ে শেষ করে ফেলেছিলাম। ঢাকায় গিয়ে কাকার বাসায় উঠেছিলাম। কাকা সারাদিন অফিসে থাকত। আর আমি এই সুযোগে বাসায় বসে সিগারেটের পর সিগারেট টেনেছিলাম। একটা জিনিষ লক্ষ্য করলাম, একাকীত্বই অধিকাংশ অপরাধ বোধের প্রাথমিক স্টেজ। হু, একাকীত্বতাই মানুষের মনে শয়তানি বুদ্ধির উদ্রেক ঘটায়।

খুব অবাক লাগে আমার কাছে! আমার সিগারেট টানা শিখার পেছনে কেউই নাটের গুরু হিসেবে কাজ করেনি। আমিই আমাকে বাধ্য করেছিলাম সিগারেট টানার জন্যে! আমি কি কারনে সিগারেট টানা শুরু করেছিলাম, কেনই বা সিগারেট টানতাম, তা আমি আজও আবিষ্কার করতে পারি নাই। তবে একটা বদ অভ্যেস হয়ে গিয়েছিল। আমি যখন রাত জেগে পড়া শুনা করতাম, তখন সিগারেটা না টানলে আমার মাথায় অংক গুলো ঢুকতই না। বিশ্বাস করুন, আমি মাথায় একটা অংকও ঢুকাতে পারতাম না। কেন জানি, এমন হয়ে গিয়েছিলাম বুঝতেই পারি নি। মানুষ নাকি ছ্যাকা খেয়ে সিগারেট আর অন্যান্য নেশা গুলো ধরে। হাহ, আমার ক্ষেত্রে এমন কিছুই ঘটে নি।

সিগারেট থেকে শুরু, শেষকালে হেরোইন। মাঝখানে মাদকের, আসক্ত প্রতিদিন। ডাঃ অরূপ রতন চোধুরী স্যারের গাওয়া এই গানটা আমি খুব করে বুঝা শুরু করেছি। এক সিগারেট ধরলেই যে মানুষ কতটুকু ভয়াবহতার দিকে এগুতে পারে, এই শিক্ষা নিজের চোখের সামনেই পেয়েছি। প্রথমে সিগারেট, তারপর গাঁজা(most worst intoxicating drug, please dont experience it.), তারপর ভোদকা, বাংলা, শ্যম্পেইন, লাল পানি, নীল পানি, হাবি জাবি, ডাইল, বাবা, বালছাল শইল্যে ইঞ্জেকশান, আরও কত কি! শেষমেশ একটা অপমৃত্যু!

আর বুঝতে শিখলাম, অদম্য ইচ্ছা শক্তিই পারে নেশাড়ুকে নেশার জগত থেকে ফিরিয়ে আনতে। আর আশেপাশের মানুষও পারে অনেক ভূমিকা পালন করতে। এই জন্যেই গতকাল বলেছিলাম, মনযোগ দিয়ে প্রেম করার বিষয়টা। নেশাড়ুকে তাচ্ছিল্য না করে, উচিৎ বুঝিয়ে শুনিয়ে অনেক মানুষের মাঝে রেখে, একটু আনন্দ দেয়া। আর একটু মুখে হাসি ফুটাতে পারলেই নেশড়ু হয়ত তার নেশার জগত থেকে মুক্তি পেতে পারে। আর হ্যা, আমি কখনওই বলব না যে ধরেই নেশা ছেড়ে দিতে হবে। যেভাবে নেশাড়ু নেশা শুরু করেছিল, ঠিক তাকে যদি ঐভাবে পিছন দিকে টেনে আনা যায়, তবে সে শূণ্যে এসে পৌছাবে। আর সে যদি একবার শূণ্যে আসতে পারে তবে তাকে বিপণন গুরু ফিলিপ কটলারের একটা কথা মনে করিয়ে দেয়া যেতে পারে, শূণ্য থেকেও শুরু করা যায়।

সবাই ভালো থাকবেন।

১৯ thoughts on “সিগারেট থেকে শুরু, শেষকালে হেরোইন! মাঝখানে একটু আধটু…!!!

  1. ইস্টিশনে কি সিগারেট খাবার ইমো
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ইস্টিশনে কি সিগারেট খাবার ইমো আছে??? থাকলে সেটা দিতাম… ভাই জান ভালই বলেছেন একাকীত্বই হয়তো অপরাধের জনক

    1. মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ
      মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ মহামান্য ব্লগার ভাইয়া।
      সিগারেট খাবার ইমো থাকলে কী করতেন ভাইয়া??

  2. একাকীত্বের কারণে মানুষ অপরাধী
    একাকীত্বের কারণে মানুষ অপরাধী হয় আবার অপরাধী হয়ে মানুষ একাকীত্বে ভোগে। মিস্টেরিয়াস ওয়ার্ল্ড।

    1. মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ
      মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ মহামান্য ব্লগার।
      আসলেই এই ‘এক’ হয়েই দুনিয়াতে আসা, আবার ‘এক’ হয়েই দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়া। এই একের মাঝে কি আছে বুঝি না। :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

  3. ধূমপান ত্যাগ করা পৃথিবীর
    ধূমপান ত্যাগ করা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ। কারন আমি এটা হাজারবার করেছি। ———মার্ক টোয়েন

    ভাগ্যিস মার্ক টোয়েন অন্য কিছু খায়নি!

    😀

  4. আপনার লেখার ধরণটা খুবই ভাল।
    আপনার লেখার ধরণটা খুবই ভাল। বিশেষ করে ঘটনার বর্ণনা আমাকে অভিভুত করেছে। ধন্যবাদ চালিয়ে যান।

  5. দারুন লিখেছেন ।সাধারনত
    দারুন লিখেছেন ।সাধারনত প্রথমদিকে কৌতুহল থেকেই সিগারেটের মত মাদকে আসক্তি আসে ।অর্থ্যাৎ একবার খেয়ে দেখি কেমন লাগেi এই ভাব থেকেই প্রথমে মাদক গ্রহন করেন।এবং গবেষনার ফলাফলেও দেখা গেছে বেশির ভাগ মাদক সেবীই প্রথমে কৌতুহল থেকেই মাদক গ্রহনে জড়িয়ে পড়েছেন।
    তাই কৌতুহল থেকে দুরে থাকাই শ্রেয় ।

    1. মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ,
      মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ, শাহিন ভাইয়া।
      আর আপনি সঠিক বলেছেন। কৌতুহল থেকেই বেশির ভাগ মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।

    2. এখনের যুগে তো নাকি সিগারেট না
      এখনের যুগে তো নাকি সিগারেট না খেলে নাকি স্মার্ট হওয়া যায় না।
      প্রিয়তমাকে পাশে বসিয়ে রিক্সায় যাবার সময় হাতে সিগারট না থকলে নাকি স্মার্ট হওয়া যায় না

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *