মডিফিকেশন

প্রথমে একটা অবান্তর কথা দিয়ে শুরু করি । কলেজে যখন আমরা স্যারদের কাছে পড়তাম তখন রেডলিফ মার্কারের দাম ছিল ৪৫ টাকা । পরে দাম বাড়তে বাড়তে ৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকলো । আর এখন যখন আমরা পড়াই তখন আবার এই একই মার্কার ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ।

প্রাইমারিতে ছিলাম ভালোই ছিলাম । পড়ার উপকরণ ছিল এক বাক্স চক আর একটা কালোবোর্ড । আর এখন সেটাই মডিফাইড হয়ে হোয়াইটবোর্ড আর মার্কারে রুপান্তরিত হয়ে গেছে ।


প্রথমে একটা অবান্তর কথা দিয়ে শুরু করি । কলেজে যখন আমরা স্যারদের কাছে পড়তাম তখন রেডলিফ মার্কারের দাম ছিল ৪৫ টাকা । পরে দাম বাড়তে বাড়তে ৬০ টাকায় গিয়ে ঠেকলো । আর এখন যখন আমরা পড়াই তখন আবার এই একই মার্কার ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ।

প্রাইমারিতে ছিলাম ভালোই ছিলাম । পড়ার উপকরণ ছিল এক বাক্স চক আর একটা কালোবোর্ড । আর এখন সেটাই মডিফাইড হয়ে হোয়াইটবোর্ড আর মার্কারে রুপান্তরিত হয়ে গেছে ।

সব কিছুই যদি মডিফাইড হয়ে যায় তাহলে কিভাবে হবে!!! আগে কলেজে থাকাকালীন গল্প করতাম যে স্কুলের রসায়ন কোন বিষয় হলো? পরীক্ষার আগের রাতে পড়তে বসলেও শেষ করতে বেশিক্ষন লাগবে না । কলেজে উঠার পর বুঝলাম রসায়ন আসলে কি জিনিস! রসায়নের এতো পড়া শেষ করতে না করতে কলেজ পার হয়ে যায় । ১ম পত্র শেষ করার আগেই ২য় পত্রের বোঝা ঘাড়ের উপর । তাও তো এইটাইতুলনামূলক
সোজা একটা বিষয় ।

আমি ভাই ফাকিবাজ একটা মানুষ তাই পড়ানোর সময় সোজা বিষয়টাই বেছে নিই ।
আজকে একটা নতুন ব্যাচ পেলাম, সৃজনশীল শিক্ষাব্যবস্থার । বিষয়টাও সেই রসায়ন । তো তাদের কাছে শুনতে পেলাম বই নাকি মডিফাইড হইছে । তো এই মডিফিকেশনের
অবস্থা দেখে আমি কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ।

রসায়ন যারা পড়েছেন তারা জানেন আমাদের রসায়ন বই মাশাল্লাহ দুইখান আটার বস্তার সমান । বইয়ের প্রতি আগ্রহ কি জন্মাবে, বই দেখেই ২/৪ বার স্ট্রোক হয়ে যায় । আর বই খোলার পরের কাহিনী না হয় নাই বলি ।

তো নতুন ব্যাচের রসায়নের মডিফিকেশন শুনে তো আমি মোটামুটি খুশি, ভাবলাম এইবার রসায়নের কিছু আউলফাউল চ্যাপ্টার বাদ যাবে । গেলাম একটু মডিফিকেশন চেক করতে লাইব্রেরিতে । প্রথমে টাশকিত হলাম লাইব্রেরিওয়ালার কথায়।
আগে রসায়ন বইয়ের নাম বললেই লাইব্রেরিওয়ালা কবির, হাজারি না হয় মহির স্যারের বই বের করে দিত । মহামান্য লাইব্রেরিওয়ালার ১ম প্রশ্ন, কোন বই?
– রসায়ন ।
– লেখক?
– ৩টাই দেখি ।
– কোন ৩টা?
– কয়জনের বই আছে?
– এইবার তো অনেক বই বাহির হইছে। আপনার কোনটা লাগবে?
– অনেকগুলা?
– তা প্রায় ১১টা ।
– দেখি মহির স্যারের বইটাই দেন ।
মহামান্য লাইব্রেরিওয়ালা একটা পাতলা চোথার মত কি যেন বের করল । আমি ভাবলাম উনি বুঝি ভুলে ব্যবহারিক বই নিয়া আসতেছে । ওমা, কাছে আসার পর দেখি এযে আমাদের সেই উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন । আমি ভাবলাম মহির স্যারের বই তো এমনেই পাতলা টাইপ হয়, এইটায় মনে হয় সমস্যা আছে। কবির স্যারের বই চাইলাম । ওব্বাই!! এইটা তো আরো বস । এইটারো দেখি ডায়রিয়া হইছে । বই দেইখা মনে হইল, এরা ডায়েট কন্ট্রোল করা শুরু করার পর অফ করতে ভুইলা গেছে ।

যাক এইবার বইয়ের ভিতরে দেখার ইচ্ছা জাগল । প্রথম পেজ খোলার পর আমি মাননীয় স্পিকার আর বিবিসি ২টাই একসাথে হইয়া গেলাম ।
১ম অধ্যায়- ল্যাবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার ।
এইটাও একটা শেখার জিনিস!! সারাজীবন ল্যাবে এপ্রোন ছাড়া কাজ করে আসলাম আর এইখানে একটা পুরা চ্যাপ্টারই ল্যাব!!!

রসায়নের সব চাইতে বিদঘুটে জিনিস ছিলো রাসায়নিক গণনার অংকগুলো । যদিও বিদঘুটে, অনেক কাজের জিনিস ছিল সেগুলো । ওম্মা চ্যাপ্টারই ভ্যানিশ হয়ে গেলো । আরো খেয়াল করলাম যে যে চ্যাপ্টারে অংক ছিলো সবগুলা উধাও । অনেক কষ্ট করে কয়েকটা অঙ্ক খুঁজে বের করলাম । ভাগ্যিস, ১টা চ্যাপ্টারে অঙ্ক আছে । নাহলে তো পোলাপান বুঝতো রসায়নে অঙ্ক কোন কাজেই লাগে না । গুরুত্বপুর্ণ চ্যাপ্টারগুলাই নাই ।

মাননীয় স্পিকারের উপরে যদি কোনো লেভেল থাকে সেই লেভেলও পার হয়ে গেলো যখন ৫ম চ্যাপ্টার খুললাম । ওব্বাই এইটা তো দেখি আরো বস । কর্মমুখী রসায়ন ।
পাঠ্যবস্তু- স্নো, লিপিস্টিক, কোল্ড ক্রিম, হেয়ারওয়েল, মেহেদি, পারফিউম আরো কত কি!! পুরা একটা বিউটিপার্লার ।

এখনো ঘোরের মধ্যে আছি আমি এইটা কি দেখলাম । রসায়নের যদি এই দশা হয় বাকিগুলার যে কি অবস্থা আল্লা মালুম ।

যে ব্যক্তি এই বইগুলা লেখার উপদেশ দিছেন সে যে কোন মাপের সৃজনশীলতা দেখাইছেন !! উফফ পুরাই অস্থির ।। তেনাকে অবশ্যই মাদাম তুসোতে নেয়া উচিৎ । তবে জিন্দা । মোমের মূর্তি বানিয়ে নয় ।

সামনের বছরগুলোতে দেশ থেকে যে কি পরিমাণ মেধাবী বের হবে ভাবতেই গা হাতপা
ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে । এখন কথা হলো এতো মেধাবী ঠাই দিতে পারবেন তো??
মজা করবেন করেন । এখন পর্যন্ত তো আর কম দেখলাম না । এনালগ ছিল, ডিজিটাল বানাইছেন, খুব খুশি । শিক্ষাব্যবস্থায়ও মজা ঢুকাচ্ছেন!! নিকুচি করি আপনাদের সৃজনশীলতার । একটা শিক্ষার্থীকে ভার্সিটিতে খাপ খাওয়াতে কি পরিমান কষ্ট করতে হয় তাতো আপনাদের অজানা থাকার কথা না । এরমধ্যে যদি বইয়ের এই দশা করেন তাহলে সেইদিন আর দূরে নেই যখন শিক্ষার্থীরা প্রাইমারি নয় ভার্সিটি থেকে ঝড়ে
পরবে ।

৭ thoughts on “মডিফিকেশন

  1. রসায়ন নিয়ে আপনি কেমন যেন
    রসায়ন নিয়ে আপনি কেমন যেন রসযুক্ত বায়বীয় বিশ্লেষন করলেন ।বইয়ের ভিতরের বিষয়বস্তু টেনে পুরো ব্যাখ্যা সহ আলোচনা করলে ভাল বুঝতাম ।

  2. বইগুলা দলা পাকিয়ে সৃজনশীল
    বইগুলা দলা পাকিয়ে সৃজনশীল বিদদের মলদ্বার দিয়ে ঢুকিয়ে দিতে ইচ্ছা করে। ফিজিক্স বইয়ের অবস্থাও মোটামুটি স্পিকার টাইপের্।

  3. আপনার সরস লেখায় ভাসা ভাসা
    আপনার সরস লেখায় ভাসা ভাসা কিছু কথা পেলাম ।
    মনে হল, কর্তৃপক্ষ গাঞ্জা খেয়ে নির্দেশ দিয়েছিল ।
    আপনার কি মনে হয় কেমন হলে ভাল হতো ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *