ঐশী জন্ম নেয়নি, তৈরি করা হয়েছে

:ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:
একদল বৃদ্ধ শকুন বা গন্ডার আছে যারা বছরের পর বছর ধরে এই দেশে বেঁচে আছে । কোন একটা ঘটনায় সুযোগ পেলেই তারা দুইপায়ের ফাঁকে চুলকাতে চুলকাতে বলেন,’আমাদের সময় আমরা এমন ছিলাম না।আমাদের সময়ে আমরা এই সাহসই পাইতাম না। আমরা এত হ্যান ছিলাম, ত্যান ছিলাম ইত্যাদি ।


:ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:
একদল বৃদ্ধ শকুন বা গন্ডার আছে যারা বছরের পর বছর ধরে এই দেশে বেঁচে আছে । কোন একটা ঘটনায় সুযোগ পেলেই তারা দুইপায়ের ফাঁকে চুলকাতে চুলকাতে বলেন,’আমাদের সময় আমরা এমন ছিলাম না।আমাদের সময়ে আমরা এই সাহসই পাইতাম না। আমরা এত হ্যান ছিলাম, ত্যান ছিলাম ইত্যাদি ।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই যে সমাজের বহুলকথিত ‘অধপতন’, এই যে ছেলেপেলের খেলার জায়গা নাই, প্রেম করার জায়গা নাই, যৌনতার শিক্ষা নাই, কবিতা নাই, ফুল নাই, কোথাও পাখির গান নাই, পথে থেমে অবসর নেয়ার সামান্য অপশন নেই, এসবের জন্য দায়ী কারা?

রাজধানীতে পুলিশ দম্পত্তির এই হত্যাকান্ডটি কেবলমাত্র নির্মম বা চাঞ্চল্যকরই নয়। বরং এক অবিশ্বাস্যও বটে! কারণ এই হত্যাকান্ডটি যে ঘটিয়েছে সে নিহতদেরই মেয়ে।

এমন হত্যাকাণ্ড, যেমন অবিশ্বাস্য তেমনি অকল্পনীয়। এ যেন হার মানায় রূপকথাকেও।

ইতিমধ্যে এই হত্যাকান্ডটি দেশের অন্যতম আলোচিত হত্যাকান্ড বলে বিবেচিত হচ্ছে। হয়ত ভালবাসা আর স্নেহের প্রতিদানে বর্বর এই ঘটনা সহজে মুছে ফেলতে চাইবে না ইতিহাস।

নিহত ইন্সপেক্টর দম্পত্তির কন্যা ঐশি রহমান মাদকাসক্ত বলে প্রকাশ পেয়েছে গণমাধ্যমে। আরও জানা যায়, ঐশী তার উশৃঙ্খল জীবন যাপনের জন্য পিতা মাতার কাছ থেকে একপ্রকার দুরেই ছিল। অষ্টম শ্রেণীতে বখে যাওয়া মেয়ের খবর বাবা-মা পেয়েছিলেন খুন হবার মাস তিনেক আগে।

তারপর থেকেই ঐশীর উপর কড়া নজরদারি। এমনকি তাকে বাইরে বের হতেও দেয়া হত না। উড়তে শিখা পাখি কখনও খাঁচায় থাকতে চায় না। আর তাই অল্প বয়স থেকেই স্বাধীনতার চরম সুযোগ ভোগ করা ঐশী তার বন্দী জীবনটাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।

বাবা মায়ের উপর প্রচন্ড ক্ষোভ জন্মাতে থাকে ঐশীর ভেতর। পাশাপাশি তার চিরচেনা জগতের হাতছানিও তাকে উম্মাদ করে দিয়েছিল। নেশাগ্রস্ত মানুষের মন কতোটা বিকারগ্রস্ত হয় সে কম বেশি প্রায় সবারই জানা আছে।

ঐশী মুক্তি চাইছিল। তার সেই মুক্তির জন্য সে বেছে নিল ইতিহাসের বর্বরোচিত এক পথ। বাবা-মায়ের ভালবাসা, স্নেহ-মমতা পরাজিত হয়েছে নেশার কাছে, নষ্ট হয়ে যাওয়া সন্তানের কাছে।

ঐশীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা বিভাগ, সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করেই সে খুন করেছে তার বাবা মাকে! যা চমকে দেয় নিষ্ঠুরের হৃদয়কেও।

গোয়েন্দা বিভাগ আরও তথ্য দিয়েছে, খুনের আগে আত্মহত্যার কথা ভাবছিল ঐশী। লিখেছিল একটি সুইসাইড নোটও। সেখানে সে নিজেকে একা, নিঃস্ব বলে দাবি করেছে। আফসোস করেছে অকালে স্বপ্ন মরে যাওয়া নিয়ে। এটা প্রমাণ করে গাইডলাইনের অভাব ছিল ঐশীর। বখে যাওয়ার অবশ্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এই ব্যার্থতা ঐশীর পরিবারকেই নিতে হবে।

এই ঘটনার পর থেকে যেখানে যাচ্ছি সর্বত্রই শুনছি সমাজের অবক্ষয়ের কথা। সবাই কেমন জানি সমাজের উপর দোষ চাপিয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু সমাজটা কিভাবে নষ্ট হলো সে কথা কেউ বলেন না। সমাজের কোন শক্তি নেই নষ্ট হবার। মানুষই সমাজ নষ্ট করে।

সমাজে এতগুলো ভাল আর সুন্দর পথ থাকতে ঐশীর মত মেয়ে কেন অন্ধকারে হারিয়ে গেল? প্রশ্নটা বারবার বিবেক নাড়া দিয়ে যায়। তার মানে কি আমরা আমাদের ভবিষ্যতের সমাজটাকে সুনির্মাণ করতে পারিনি?

অনেকে আবার যুগ-জামানাকেও দায়ী করছেন এই ঘটনার জন্য। জানতে ইচ্ছে করে, যুগ-জামানা কি নিজে নিজে বদলায়? নাকি মানুষই তাকে বদলে দেয়? আমরা যদি পারতাম সঠিক শিক্ষা আর আদর্শের আলোকে যুগ বদলাতে তবে আমাদের সন্তানেরা কি এভাবে বর্বর হতে পারত? জানতে খুব ইচ্ছে করে।

আমরা কেউ বলি না সন্তানদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় নিজেদের অক্ষমতার কথা।

একের পর এক ঘটনা ঘটে যায়। আমরা শিক্ষা নেই না।

সবশেষে বলবো ঐশীর হাতে তার বাবা-মায়ের খুন হবার ঘটনা যত আলোচিতই হোক সর্বোপরি এটা একটা দুর্ঘটনা। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা কোন ভাবেই আমাদের কাম্য নয়।

এখনই সময় সাবধানতার।

১৬ thoughts on “ঐশী জন্ম নেয়নি, তৈরি করা হয়েছে

  1. অভাববোধ মানুষকে মানুষ হতে
    অভাববোধ মানুষকে মানুষ হতে শেখায়। “চাহিবা মাত্রই পাইয়া যাইবে” টাইপ করে সন্তান পাললে সেই সন্তান বিপথগামী হয়ই। খোঁজ নিলে জানা যাবে ঐশীর বাপ ছুটেছে টাকার পেছনে, মা ছুটেছে সেই টাকা উপভোগ করতে। আর সন্তানকে সময় দিতে না পারার অভাব মিটিয়েছে টাকা দিয়ে (বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই এমন হয় নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে)। সুতরাং যা হওয়ার তাই হয়েছে।

  2. সব তথ্যের ভিত্তিতে একটা বিষয়
    সব তথ্যের ভিত্তিতে একটা বিষয় পরিস্কার যে, হত্যার পেছনে দায়ী মাদক এবং ঐশীর মাদকাসক্ততার পেছনে দায়ী তার বন্ধুরা।
    কথায় আছে, [“কাঁচা থাকতে না নোয়ালে বাশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস”]
    [কুসঙ্গে সং, গলায় ঢং ঢং]
    এই দুটি প্রবাদ ঐশীর বেলায় হুবহু ফলেছে।যদি ছোটবেলা থেকে আদর ও শাসন দিয়ে তাকে তোলা হত তবে সে এমন হত না ।এবং বড় হবার পর যদি তার চলাফেরা ও বন্ধুদের সম্পর্কে খোজ নেয়া হত তবে সে এত হিংশ্র হয়ে উঠত না ।

  3. সব দূর্ঘটনাই দূর্ঘটনা নয়,কিছু
    সব দূর্ঘটনাই দূর্ঘটনা নয়,কিছু দূর্ঘটনা অপরিকল্পিত হত্যাকান্ড। মেয়ের বাবা মা যেটাই করুক না কেন এইটা হত্যাযজ্ঞ যেটা ভয়ঙ্কর অপরাধ। আমি নিজেও যদি মাদকসেবী হতাম তাহলে আমার বাবা মা একই কাজ করতেন। প্রত্যেক বাবা মা সন্তানের জন্য লড়াই করে যান। মাদকাসক্ত সন্তানকে শাসন করা বাবা মায়ের অপরাধ নয় বরং ভুল। আর ভুল মানুষ মাত্রই করে ,পরে শুধরে নেয়। তাই আমি মানুষ হিসেবে বাবা মাকে দোষ দিতেই পারিনা। একদমই না। মেয়েটি নেশাগ্রস্ত হয়ে এই নারকীয় হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এখানে বাবা মায়ের অসাবধানতা আছে। কিন্তু অপরাধ নেই। অপরাধ আছে মাদকের। যারা মাদক বিক্রি করে তাদের। প্রশাসনের। যারা মেয়ের হাতে মাদক তুলে দিয়েছে তাদের। এবং নিজের সামান্য বিবেক ব্যবহারে ব্যর্থ মেয়ের। আমি বাবা মায়ের ভুল দেখতে পাই। অপরাধ নেই। আর মেয়েটির অপরাধ ও ভুল দুইটাই দেখতে পাই। তাই সুশীলতা দেখিয়ে তালিয়া পেতে চাই না। সামাজিক অবক্ষয়ের বড় বড় বুলি আওড়াতে চাই না। যেটা স্বাভাবিক সেটা হল মেয়েটি খুনি এবং মাদক অপরাধী। সেই সাথে মাদকের সাথে জড়িত সবাই।

    1. সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। আপনার
      সবার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। আপনার ও আমারটাও তাই আলাদা। আর সুশীল হলে তালিয়া মিলে জানলেন কি করে। হুমায়ূন আজাদের কপালে তো বর্বর হামলা মিলেছে…

  4. উড়তে শিখা পাখি কখনও খাঁচায়

    উড়তে শিখা পাখি কখনও খাঁচায় থাকতে চায় না।

    — দারুন বলেছেন ।
    আলোচিত এই ঘটনাকে নানা মাত্রিকতায় বিশ্লেষণ করা যায় । পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে ভরে ফেলা যায় । তবে খুব সংক্ষেপে যদি বলি, পারস্পারিক সামাজিক সম্পর্ক ও সংঘ গুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় ধংসে পড়েছে ব্যক্তির মানস ঘটনের মৌলিক সৌধগুলো । অবক্ষয়িত এই সমাজে স্বার্থপরতা, বিচ্ছিন্নতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, ভোগবাদীতা ইত্যাদির চাষাবাদ হচ্ছে বেশ আয়োজন করে । একজন মানুষকে মানুষ হয়ে উঠতে গেলে বেশ কিছু সু -জীবনের মধ্য দিয়ে যেতে হয় । তার পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবনে ‘ সু ‘ এর চর্চা না থাকলে কীভাবে ‘ সু ‘ ব্যক্তি মানুষ তৈরি হবে ? একে হত্যাকাণ্ড বলি আর দুর্ঘটনা বলি – এর দায় সর্বোপরি রাষ্ট্র তথা রাষ্ট্র ব্যবস্থা কেই নিতে হবে । বলা বাহুল্য, আমরা যে ধরণের রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বসবাস করি বা করতে বাধ্য হচ্ছি সেখানে এই জাতীয় ঘটনা আমাদের জন্য শেষ সতর্ক সংকেতের মতো । কারণ এর চেয়ে মর্মান্তিক, জঘন্য ঘটনার আবির্ভাব আসলেই সম্ভব নয় ।

  5. প্রাসঙ্গিক ও মনপূত হওয়ায়
    প্রাসঙ্গিক ও মনপূত হওয়ায় ফেসবুকে দেয়া Nirjhar Mazumder এর এই লিখাটি হুবহু কপি করলাম..

    ঘটনা একঃ শাফিলিয়া আহমেদ, পাকিস্তানি তরুনি,যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়ে মৃত্যু। মৃত্যুর সময় বয়েস হয়েছিল ১৮ বছর। কবিতা লিখতে পছন্দ করত। পড়ত ওকালতি।
    মারা গেছে শ্বাসরোধে, নিজের জন্মদাতা বাবা মা নিজের হাতে মেরেছে। এই মেয়ের সমস্যা ছিল, সে তার বাপের পছন্দ করা নিজের চেয়ে দ্বিগুণ বয়েসের ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি, বাবা-মার আদেশে হিজাব পরতে রাজি ছিলনা, এবং ভিনদেশী সাদা চামড়ার সহপাঠীদের সাথে কথা বলত-যা তার বাবা-মা ভালো চোখে নেয়নি। ফলাফল, মেরে ফেলা হল। মারা গেছিল ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে, সেই সময়ে কেউ অভিযুক্ত হয়নি, ৮ বছর পরে তারই আপন বোন এক চুরির মামলাতে ফেসে গিয়ে পুলিশের কাছে নিজের পিতা-মাতার কুকর্মের কথা জানায়।
    মেয়েটা যেদিন মারা যায়, তার আগের দিন একটা কবিতা লিখেছিল”I am trapped (আমি জালে আটকা পড়েছি)” শিরোনামে।

    ঘটনা দুইঃ ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০। নড়াইলের নরাগাতি থানার কলাবারিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমান তার নিজের মেয়ে ১৪ বছর বয়স্ক তানিয়া খাতুন কে গলাতে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
    গ্রেফতার হলে পরবর্তীতে সে বলে পারিবারিক কলহের জের এবং তানিয়ার অবাধ্যতার কারনেই তিনি কন্যাকে খুন করেন।

    ঘটনা তিনঃ ছেলের হাতে বাবা খুনের মাত্র দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করব। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর এর বৃদ্ধ দানেশ মিয়া (৭০) পুত্র বিল্লাল হোসেনের (৩০) হাতে ছুরিকাহত হয়ে খুন হন আজ (আগস্ট ২০, ২০১৩)
    এবং, টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় বৃদ্ধ এবারত আলী তার মেঝ ছেলে তোজাম এর হাতে নিহত হয় গত ১৯শে জুন,২০১৩।
    উভয় ক্ষেত্রেই খুনের কারণ ছিল সম্পত্তির ভাগ এবং মোটা দাগে পারিবারিক কলহ।
    এই ঘটনাক্রমের অপর উদাহরণ হল ঐশী এবং অবশ্যই সর্বাধিক আলোচিত।
    …………………………………………………………………
    এবার আসি কিছু আলোচনাতে। ঐশীর ঘটনাতে কম বেশি অনেকেই যে কারণ গুলি দায়ী করেছেন সেইগুলি হলঃ
    ১)মাদক, ২)পারিবারিক নজরদারির অভাব, ৩)পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন, ৪)চাকচিক্যময় জীবনের প্রতি লোভ, ৫)বন্ধুবান্ধবের প্রভাব, ৬) পিতামাতার অবহেলা, ৭) পিতামাতার অবৈধ আয়, ৮) ধর্মীয় অনুশাসন না মেনে চলা ইত্যাদি।
    যদি এই কারণ গুলিকেই আমি ঐশীর ঘটনাতে দায়ী করি, তাহলে উপরের বাকি ঘটনা সমূহের কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা মেলে না। ঐশীর ঘটনা ছাড়া বাকি ঘটনাগুলিতে খুনিরা কেউ মাদকাসক্ত ছিল না। শাফিলিয়ার পিতা এবং মাতা বাকি মেয়ে এবং ছেলে কে বেশ আদর করতেন। তানিয়া খাতুনের উপরে পশ্চিমা সংস্কৃতির এমন কোন প্রভাব পড়বার কথা না, যাতে তাকে খুন হবার মত যথেষ্ট কারণ থাকে। এবং শাফিলিয়া, তানিয়ার পরিবার উগ্র ধার্মিক ছিল, বিল্লাল এবং তোজাম ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনা করে নাই। ঐশীর মত তাদের বন্ধুবান্ধবরা ইয়াবা খেত না। তানিয়া এবং শাফিলিয়ার পরিবার এত বেশি নজরদারি এবং সন্দেহবাতিকতায় ভুগেছে যে, শেষমেষ নিজেদের মেয়েকে মেরেই ফেলতে হল।
    শাফিলিয়া, তানিয়ার পিতামাতা অবৈধ আয় করত না। ধর্মীয় অনুশাসন মেনেই চলত গ্রামের ছেলে বিল্লাম এবং তোজাম। এদের কারুরই (ঐশী ছাড়া) পিতামাতা অথবা সন্তানেরা অবৈধ আয় করত না। পিতামাতার অবহেলার প্রমানও পাওয়া যায় না খুব একটা, বরং শাফিলিয়া এবং তানিয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারির আভাস পাওয়া যায়।
    অর্থাৎ উপরে উল্লেখিত কারণ গুলির কোনটাই এই ধরনের ঘটনা (পারিবারিক সদস্যদের অভ্যন্তরীণ খুন) গুলির পিছনে একক কারণ হইতে পারেনা।
    নিজের চোখে, আমি যা দেখি, তা হইলো, শাফিলিয়ার সাথে তার বাবা-মার মতের অমিল, ফলাফল খুন। ১৪ বছরের তানিয়ার সাথে তার বাবার মতের অমিল, বিল্লাল এবং তোজামের সাথে তাদের বাবার মতের অমিল।

    ভাইয়েরা, আসল কারণ হইলো আমাদের অসহিষ্ণুতা। এই ৪ টা ঘটনার কোনটাই কাউকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট কারণ বহন করেনা।
    বাবা-মা এবং ছেলে-মেয়ের সম্পর্কে মতবিরোধ থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যাটা হয়,যখন সেই মতবিরোধের সাথে নিজের অহম বা লোভ যূক্ত হয়। আজকে ঐশীর ঘটনা নিয়ে মাতামাতি হচ্ছে, এই রকম হাজারটা একদম একই ধরণের ঘটনা প্রায় প্রতিনিয়তই হইতেছে।
    পারিবারিক ভাবেই যদি উগ্রতার চর্চা বাদ দেওয়া হয়, তাইলে এই ঘটনাগুলি কিছুটা কমতে পারে।

    সব শেষে বলব, নিজের ছেলে মেয়েদের অবুঝ থাকা অবস্থাতেই নিজের মতাদর্শে তৈরি করার চেষ্টা করা ভালো, বুঝতে সেখার পরে তার উপরে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মানে একটা দ্বন্দ্ব তৈরি করা। আর নিজের মত অন্যের উপরে চাপানোর ক্ষেত্রেও জোর না খাটিয়ে কৌশল খাটানো ভালো।

  6. ঘটনা প্রবাহে ঈশী সম্পর্কে
    ঘটনা প্রবাহে ঈশী সম্পর্কে অনেক লেখা, মতামত পড়লাম, জানলাম একেক জনের একেক রকম বিম্লেষণ। সার্বিক বিবেচনায় আমার কাছে পোস্টের শিরোনামটাই যথার্থ মনে হয়েছে। এই একটি বাক্যে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসে।

  7. ঐশীর কেসটা হিট খেয়েছে কারণ

    ঐশীর কেসটা হিট খেয়েছে কারণ ঐশী ইয়াবাখোর,বয়ফ্রেন্ড আছে,ইংরেজী মাধ্যমের ছাত্রী।তার উপর ঐশীর বাবা আবার পুলিশ কর্মকর্তা।গ্রামে-গঞ্জে কত ছেলে-মেয়ে পরিবারের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে তাও কিন্তু বিবেচ্য।
    ঐশী খুনী প্রমাণিত হলে যদি তার ফাঁসি হয় ,তবে ফেনীর ছাগলনাইয়ার মেয়েটিকে হত্যাকারী পিতা-মাতা-বোনের অপরাধ প্রমাণিত হলেও যেন তাদের ফাঁসি হয়।

    ফেসবুক থেকে ডাক্তার যুবরাজ অর্কিডের স্ট্যাটাস তুলে দিলামঃ
    ঐশির প্রকাশ্য ফাসি চাই ……
    ঐশির ব্যাপারে যারা সমবেদনা জানাচ্ছেন, মানবাধিকার খুজছেন, রিমান্ডে ধর্ষন হবে কিনা চিন্তা করছেন , ওর বয়স খুজছেন, বাবার টাকার উত্স খুজছেন , তারা এক ধরনের সাইকো , এবং পাগল …
    ঐশি জাষ্ট লাইক এ মাগী, যে এই বয়সে ৪টা বয়ফ্রেন্ড কন্ট্রোল করে, বাচ্ছা এ্যাবট করাতে পারে, তার আবার বয়স ??? তার আবার নিরাপত্তা ???
    যে মেয়ে নিজের বাবা মার গলায় চুরি চালাতে পারে, তার আবার মানবাধিকার ???
    ঐশির মতো কুলাংগার দের দৃষ্টান্ত শাস্তি না হলে, আরো ১০ জন প্রশ্রয় পাবে …
    কি সোনার বিচার ??? কি বালের বিচার ???
    ঐশির প্রকাশ্য ফাসি চাই… অথবা, ফায়ারিং স্কোয়াড়ে মৃত্যু চাই……

  8. আমাদের দেশে মারাত্বক কিছু না
    আমাদের দেশে মারাত্বক কিছু না হলে মানুষের টনক নড়ে না । ঐশির ঘটনাটার পর এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে যে, আসলে সন্তানদের সাথে বাবা-মা’র সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিৎ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *