প্রসঙ্গঃ আশরাফুল এবং ফিক্সিং।।

(লেখাটা গত ১৪ তারিখের।। তখন ব্লগে আসতে পারি নি।। তাই এখন পোস্ট দিচ্ছি।।)

আশরাফুলের ব্যাপারে বলার কিছু নেই।। এটা মোটামুটি বুঝতে পারছিলাম যে যে যাই খুশি করুক খড়গটা বড় হয়ে নেমে আসবে আশরাফুলের উপরই।। সাথে যারা আছে তাদের হয়তোবা ততটা ক্ষতি হবে না যতটুকু হবে আশরাফুলের।। রফিক, মোশাররফ রুবেল, রবিন এরা বর্তমানে জাতীয় দলে চান্স পাওয়ার আশা রাখে না।। কিন্তু আশরাফুল রাখে।। অপরদিকে লোকুয়ারাচ্চি আর স্টিভেন্স এর তো কোন নাম-গন্ধই নেই।। সেলিম চৌধুরী, শিহাব চৌধুরীর কথা আলাদা করে আর কি বলব।। যতটুকু মনে হয় তাতে এই দুই জনের জন্যই এতকিছু হয়েছে।। সাথে তো আরেকজন আছেই।। উনার নামটা আর না বলি।। (আসলে ভুলে গিয়েছি; খুজে বের করতে ইচ্ছা হচ্ছে না)



(লেখাটা গত ১৪ তারিখের।। তখন ব্লগে আসতে পারি নি।। তাই এখন পোস্ট দিচ্ছি।।)

আশরাফুলের ব্যাপারে বলার কিছু নেই।। এটা মোটামুটি বুঝতে পারছিলাম যে যে যাই খুশি করুক খড়গটা বড় হয়ে নেমে আসবে আশরাফুলের উপরই।। সাথে যারা আছে তাদের হয়তোবা ততটা ক্ষতি হবে না যতটুকু হবে আশরাফুলের।। রফিক, মোশাররফ রুবেল, রবিন এরা বর্তমানে জাতীয় দলে চান্স পাওয়ার আশা রাখে না।। কিন্তু আশরাফুল রাখে।। অপরদিকে লোকুয়ারাচ্চি আর স্টিভেন্স এর তো কোন নাম-গন্ধই নেই।। সেলিম চৌধুরী, শিহাব চৌধুরীর কথা আলাদা করে আর কি বলব।। যতটুকু মনে হয় তাতে এই দুই জনের জন্যই এতকিছু হয়েছে।। সাথে তো আরেকজন আছেই।। উনার নামটা আর না বলি।। (আসলে ভুলে গিয়েছি; খুজে বের করতে ইচ্ছা হচ্ছে না)

ক্রিকেট খেলাটাকে নিয়ে ব্যাবসা তো আর এখন শুরু হয়নি।। হয়েছে বহুৎ আগে।।
কাদের হাতে এটা শুরু হয়েছে তা কি আর আলাদা করে বলতে হবে???
যাক, শুরু থেকেই বলি।। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান।। মানে কি??? মানে হচ্ছে উত্তেজনা আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ঢাকা দুটি দলের লড়াই।। লড়াই বললে হয়তো ভুল হবে।। ওটা যুদ্ধের কাছাকাছি কিছু একটা।। ঐ উত্তেজনা নিয়েই শুরু হয় ব্যাবসা।। তার মূলে কিন্তু একটি ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা আশ্চর্যরকম ভাবে বেশি।। বোর্ডটার নাম বলব না।। বুঝতে পারলে ভালো; আমি বুঝব যে লোকজন খেলা সম্পর্কে ভালো ধারণাই রাখে।। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া এশেজ-এর মত সম্মানী ইস্যুতে যতটা না উত্তেজনা কিংবা ব্যাবসা হয় তা থেকে অনেক বেশি হয় ইন্ডিয়া-পাকিস্তান খেলায়।। প্রথম প্রথম বলা হত ক্রিকেট খেলা ব্যবহৃত হচ্ছে তাদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা কে বৃদ্ধি করার কাজে।। কিন্তু তেল হয়তো পানিতে মিশে যেতে পারে; সাপ হয়তো বেজীর সাথে বন্ধুত্ব করতে পারে কিন্তু ইন্ডিয়া-পাকিস্তান একসুতায় বাধা; উঁহু অসম্ভব!! ফলস্রুতিতে শুরু হল ক্রিকেট লীগ।। নাম দেয়া হল ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগ সংক্ষেপে আইসিএল।। কয়েকদিন ভালই চলল ক্রিকেট নিয়ে ব্যাবসাটা।। উপমহাদেশের ক্রিকেট পাগল মানুষ ভালই উপভোগ করল।। তারপর হঠাৎ করে কোথা হতে যেন কি হয়ে গেল।। যে বিসিসিআই-এর ছত্রছায়ায় তৈরী হয়েছিল আইসিএল এর মত একটা ব্যাবসাদার ক্রিকেট লীগ, সেই বিসিসিআই-ই নিষিদ্ধ ঘোষণা করল ওটাকে।। তার সাথে তাদের দাদার আমলের চাকর আইসিসি-কে বলল, সকল বোর্ডকে যেন বলে দেয়া হয় যেসকল প্লেয়ার আইসিএল-এ খেলতে আসবে প্রত্যেককে যেন নিষিদ্ধ করা হয়।। আইসিসি’র ধড়ে মাথা একটা থাকার কারণেই সেই আদেশ(!) অমান্য করতে পারল না।। যার ফলস্রুতিতে উপমহাদেশের অনেক ভালো প্লেয়ারই নিষিদ্ধ হল।। তাও টাকার মায়ায়!! টাকা; টাকা; টাকা!!

আইসিএলকে টক্কর দিতে তৈরী করা হল আইপিএল।। যাকে সাধারণত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ বলা হলেও অত্যধিক শর্ট ড্রেস পরিহিতা চিয়ার্স লীডারদের কল্যাণে নাম ইন্ডিয়ান পর্ণ লীগ হয়ে গেল।। যাই হোক, আসল কথায় থাকি।। (এটা আমার একটা সমস্যা; যা মাথায় আসে তাই লিখে ফেলি) আইপিএল দেখাল ক্রিকেটের বাণিজ্য কত প্রকার ও কি কি।। উদাহরণসহ সংজ্ঞা দিয়ে বুঝিয়েও দিল।। তার সাথে যুক্ত হল নতুন একটা জিনিস।। ফিক্সিং।। আসলে ফিক্সিং শুরু হয়েছে অনেক আগেই।। বলা হয়

“কোন খেলার সাথে যখন টাকা যুক্ত হয় তখন সেটা আর খেলা থাকে না; তাকে বলা হয় জুয়া খেলা।।”

তেমনি তার সাথে যুক্ত হয় ফিক্সিং।। ফিক্সিং সোজা বাংলায় পাতানো।। অনেকগুলো ভাগ রয়েছে এই ফিক্সিং এর।। তার মাঝে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে স্পট ফিক্সিং এবং ম্যাচ ফিক্সিং।। “Match fixing occurs as a match is played to a completely or partially pre-determined result, violating the rules of the game and often the law.” এটা হল ম্যাচ ফিক্সিং এর সংজ্ঞা।। আর স্পট ফিক্সিং এর সংজ্ঞা হল, “Spot-fixing involves a player agreeing to perform to order by pre-arrangement.” অর্থাৎ খেলার রেজাল্ট বা অন্য যে কোন কিছু পূর্ব অনুমানিত কোন উপায়ের উপর ভিত্তি করে তৈরী হওয়া।। এসকল ফিক্সিং শুরু হয়েছে অনেক আগেই।। তখন এত কড়াকড়ি ছিল না।। তবুও অনেক প্লেয়ারকে অপমানিত হতে হয়েছে।। আইপিএল শুরু হুয়ে এই ফিক্সিংটাকে যেন বৈধ রূপ দিয়ে দিল।। অনেকে বলে থাকেন ইচ্ছা করে ম্যাচ হেরে লাভ কি??? অবশ্যই লাভ আছে।। একটা ম্যাচের উপর কোটি কোটি না বিলিওন বিলিওন টাকার বাজী খেলা হয়।। টীমের মালিককে বাজীকররা আগেই টাকা দিয়ে রাখে।। এর ফলে দল হারলেও সকল টীমের ব্যাবসায়ী মালিকরা সন্তুষ্ট থাকে।। তার সাথে করের বিষয়টা তো আছেই।। একসময় পূর্ণদমে শুরু হয়ে ফিক্সিং।। কিন্তু সরিষার মধ্যেই যেমন ভূত থাকে তেমনি বিসিসিআই আইপিএলএর এসকল বিষয় দেখতে পেত না।। তবে এবছর ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে অনেক বেশি আলোচনা হওয়ায় বোর্ডের টনক নড়েছে।। যার ফলস্রুতিতে শ্রীশান্তকে গ্রেফতার হতে দেখেছি।।

তারপর শুরু আমাদের গর্বের(!) বিপিএল।। প্রথম বছরই অনিয়ম দ্বারা সকল ক্রিকেট লীগের উপরে অবস্থান করেছে।। দ্বিতীয় বছরও এর ব্যতিক্রম নয়।। প্লেয়ারদের পেমেন্টের টাকা নির্দিষ্ট সময়ে তো দূরে থাক নির্দিষ্ট এমাউন্টের টাকাই দেয়া হয় না।। টীমের মালিকরা নিজেদের ব্যাবসাটা করে নিয়ে উড়াল দেয়।। মাঝে পড়ে প্লেয়াররা চিড়িয়াখানার প্রদর্শিত জন্তু জানোয়ার হয়ে যায়।। ওদের দেখিয়ে এত এত টাকা কামায় অথচ ওদের ভাগের টাকাই ওরা পায় না।। আচ্ছা এমন একটা অবস্থায় যদি আপনি পড়তেন যে

“আপনার পেমেন্ট আটকে আছে; আপনাকে বলা হল এই খেলাটায় এমন সময় এই ফিক্সিংটা করতে হবে; তাহলে আপনাকে ফিক্সিং এর টাকার সাথে আপনার পেমেন্টের পুরো টাকাও দেয়া হবে; তখন আপনি কি করবেন???”

আসলে বিষয়টা এরকম কিনা ক্লিয়ার করে জানি না।। তবে যতটুকু মনে হয় তাতে বিষয়টা এমন হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।। কিভাবে সম্ভব ভাই??? বাংলাদেশের এমন কোন ছেলে কি আছে যে খেলাধুলা শেখার আগে টাকা গোনা শিখে যায়??? আমার তো মনে হয় নেই।। কারণ আমরা ছোট দেশ হতে পারি; আমরা দরিদ্র হতে পারি; আমাদের দেশে উন্নত দেশের সুবিধা না থাকতে পারে কিন্তু কোন কিছুর প্রতি আমাদের আন্তরিকতা অন্যান্য জাতির চেয়ে আমাদের বেশি।। আমরা যা করি অন্তর দিয়ে করি।। তেমনি যেসব প্লেয়াররা ক্রিকেট খেলাটাকে আস্তে আস্তে নিজেদের নেশা থেকে পেশায় নিয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রেও আন্তরিকতার ঘাটতি এমন হয় না।। ক্রিকেট খেলা বা অন্যান্য খেলায় যখন ব্যাবসায়ীরা ঢুকে যায় তখন তা আর খেলার মর্যাদা পায় না; হয়ে যায় ব্যাবসা পন্য।। একটা উদাহরণ দেই, একটু খারাপ হয়ে যাবে তারপরও বলি, আপনার ঘরের একটা জিনিস আপনার কাছে প্রাণের টুকরা, কিন্তু একজন ব্যবসায়ীর কাছে সেটা ব্যবসা করার একটা পণ্য বিশেষ ছাড়া আর কিছু না।। (মেয়ে আর পতিতার কথা বলতে চেয়েছিলাম; কিন্তু ভালো না লাগায় বলি নি) আমি বলছি না যে, ব্যবসায়ীরা খারাপ।। আমি বলছি যে সবকিছুর মাঝে ব্যবসাটা না ঢুকানোই ভালো।। একই কথা রাজনীতির ক্ষেত্রেও; কিন্তু সেটা অন্য ইস্যু।।

ছিলাম আশরাফুলের কথায়।। সেখানেই ফিরে যাই।। আমি কখনো বিশ্বাস করি নি আর এখনো করছি না যে আশরাফুল গুরুতর শাস্তি পাওয়ার মত দোষী।। তবে সে যে দোষী তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই।। তার শাস্তি অবশ্যই তাকে পেতে হবে।। তবে দেখতে হবে তা যেন শুধুমাত্র শাস্তিটা লঘু পাপে গুরু দন্ড হয়ে না যায়।। আর বাকিদের ক্ষেত্রেও একই কথা।। শাস্তি সবাইকে পেতে হবে; তা না হলে ফিক্সিং চলতেই থাকবে।। আর বন্ধ করতে হবে প্রাণপ্রিয় ক্রিকেট খেলাটা নিয়ে ব্যবসাটা।। এর জন্য আমি বিপিএল বন্ধ করে দিতে বলছি না।। আমি বলছি বিপিএল হবে, আইপিএল হবে; সবই হবে।। তবে টীমের মালিকদের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা, টান থেকে; কোন ব্যবসায়িক মন-মানসিকতা থেকে নয়।।

সবশেষে বলছি, এটা আমি সবসময়ই বলি, আশরাফুল সবসময়ই আমার কাছে না আমার কাছে না পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে আশার ফুল হয়েই থাকবে।।

৯ thoughts on “প্রসঙ্গঃ আশরাফুল এবং ফিক্সিং।।

  1. এদেশের ক্রিকেটে আশরাফুলদের
    এদেশের ক্রিকেটে আশরাফুলদের কোন স্থান দেখতে চাইনা ।এক আশরাফুলের জন্য এদেশের ক্রিকেট থেমে থাকবে না, খোজ করলে লক্ষ আশরাফুল বাংলার ঘরে ঘরে পাওয়া যাবে।
    আশরাফুল ও ফিক্সিং এর সাথে জড়িত সকলকে বহিস্কার ও এদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানাই ।

    1. তাই বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের
      তাই বলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টারকে আপনি ফেলে দিতে পারেন না।।
      আপনি বললেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আশরাফুল পাবেন না।। সুপারস্টাররা একবারই হয়।।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।।

    1. ভাই আশরাফুল শুধু বিপিএল এর
      ভাই আশরাফুল শুধু বিপিএল এর মতো টুর্নামেন্টে দুই নম্বরি করলে তাও ভাবার সুযোগ পেতাম।কিন্তু সে এই কাজ অনেক বার করেছে লাল সবুজ জার্সি গায়ে চাপিয়েও।সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরেও সে এই কাজ করেছে এবং ওই সফরে টপ অর্ডারে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বাংলাদেশ ওডিআই সিরিজ জিততে পারেনি।
      তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হলে সে পুলিশকে জানাবে।বিসিবিকে জানাবে।আর যদি বিসিবি নিজেই ইচ্ছা করে আমাদেরকে আগে থেকে ঠিক করে রাখা ম্যাচ দেখাতে চায়,আমরা তাহলে বাংলাদেশের খেলা দেখা বর্জন করব।

    2. হকি খেলোয়াড়কে হুমকি দেওয়ার
      হকি খেলোয়াড়কে হুমকি দেওয়ার পরেও তো কিছু ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ করা হোল।আর আইনগত ব্যবস্থা তো আছেই।

  2. আশরাফুল সুপার স্টার?লাল সবুজ
    আশরাফুল সুপার স্টার?লাল সবুজ পতাকা গায়ে দিয়ে যে বেঈমানী করে সে সুপার স্টার!বাহ!এরকম সুপার স্টারদের এদেশে জন্ম না হয়ে পাকিস্থানে বার বার জন্ম হোক এই দোয়াই করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *