The Sixth Sense Technology

এক কাপ কফি কিংবা চা হাতে নিয়ে লেখাটি পড়তে বসুন…. 😀

সবে মাত্র শুরু হল প্রযুক্তির এক নতুন যুগ যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং স্পর্শ করেছে এক নতুন মাইল ফলক। সাইন্স ফিকশন মুভিগুলোতে আমরা নিশ্চয় দেয়ালে কম্পিউটারের পর্দা ঝুলে থাকতে ও হাতের ইশারার মাধ্যমে সেসব কম্পিউটারকে কমান্ড দিতে দেখেছি!! এত দিন আমরা এসব সিনেমাতে দেখলেও খুব নিকট ভবিষ্যতে এই সব কিছু আমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি। যে প্রযুক্তিটির কল্যাণে কল্পবিজ্ঞান বাস্তবে পরিণত হয়েছে তার নাম Sixth Sense Technology. কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক সিনেমা নির্মাতাদের এখন সময় এসেছে নতুন কিছু চিন্তা করার কেননা যে প্রযুক্তিটি তারা তাদের সিনেমায় দেখাচ্ছেন, সেটি খুব তাড়াতাড়িই প্রত্যেকের ঘরে ঘরে দেখা যাবে। আর যে জিনিয়াস লোকটি মানবজাতিকে এই “Futuristic Technology”‘র সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি হলেন Pranav Mistry.


এক কাপ কফি কিংবা চা হাতে নিয়ে লেখাটি পড়তে বসুন…. 😀

সবে মাত্র শুরু হল প্রযুক্তির এক নতুন যুগ যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং স্পর্শ করেছে এক নতুন মাইল ফলক। সাইন্স ফিকশন মুভিগুলোতে আমরা নিশ্চয় দেয়ালে কম্পিউটারের পর্দা ঝুলে থাকতে ও হাতের ইশারার মাধ্যমে সেসব কম্পিউটারকে কমান্ড দিতে দেখেছি!! এত দিন আমরা এসব সিনেমাতে দেখলেও খুব নিকট ভবিষ্যতে এই সব কিছু আমরা বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি। যে প্রযুক্তিটির কল্যাণে কল্পবিজ্ঞান বাস্তবে পরিণত হয়েছে তার নাম Sixth Sense Technology. কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক সিনেমা নির্মাতাদের এখন সময় এসেছে নতুন কিছু চিন্তা করার কেননা যে প্রযুক্তিটি তারা তাদের সিনেমায় দেখাচ্ছেন, সেটি খুব তাড়াতাড়িই প্রত্যেকের ঘরে ঘরে দেখা যাবে। আর যে জিনিয়াস লোকটি মানবজাতিকে এই “Futuristic Technology”‘র সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি হলেন Pranav Mistry.

Sixth Sense Technology কি?:

Pranav Mistry’র অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে Sixth Sense Technology সম্পর্কে বলা হয়েছে,

Sixth Sense is a wearable gestural interface that enhances the physical world around us with digital information and lets us use natural hand gestures to interact with that information.

Sixth Sense Technology টি Augmented Reality(AR) Concept এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে । যেমনঃ আমরা পঞ্চইন্দ্রিয়ের সাহায্যে চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে একটা ধারণা পেতে পারি। কিন্তু Sixth Sense এর সাথে সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তা হলো ইনফরমেশন সংগ্রহ করা। ইনফ্যাক্ট, আমরা যে সব জিনিস ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করতে পারি না (যেমনঃ ডাটা) তাদের সাথে ইন্টারঅ্যাকশনের একটা মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি। আসলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উত্তোরত্তর উন্নতির কারণে রিয়েল ওয়ার্ল্ড ও ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের মধ্যে পার্থক্য অনেক কমে এসেছে। ফলে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড এখন আমাদের জীবনেরই একটা অংশ। তাছাড়া ইন্টারনেটের কল্যাণে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড তুলনামূলক অনেক সমৃদ্ধ। যেহেতু আমরা মানুষ এবং মানবদেহ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার মত উপযুক্ত নয় তাই আমরা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, পিডিএ এবং অন্যান্য গ্যাজেট বানিয়েছি ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সাথে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু আর অপেক্ষা নয়!! রিয়েল ওয়ার্ল্ড ও ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের যে ব্যবধান ছিলো তা ঘুচাবে এই Sixth Sense Technology. এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগুলো হল Gesture Recognition,Image Capturing, Processing and Manipulation etc. Pranav Mistry’র তৈরি এই WuW(Wear ur World) or Sixth Sense Technology প্রোটোটাইপ টিতে রয়েছে একটি ক্যামেরা, একটি প্রোজেক্টর,একটি কম্পিউটিং ডিভাইস এবং কালারড মার্কার যা ব্যবহারকারীর আঙ্গুলে থাকবে। ডিভাইসটি কালারড মার্কারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং সেই অনুসারে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের সাথে যোগাযোগের স্বাধীনতা দেয়। এই প্রযুক্তিটি কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে পরবর্তীতে আলোচনা করা হয়েছে।

কিভাবে কাজ করে এই Sixth Sense প্রযুক্তিঃ

বলে রাখা ভালো, প্রযুক্তিটি এখনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ছাড়া হয়নি শুধুমাত্র এর প্রোটোটাইপ বানানো হয়েছে।
আগেই বলা হয়েছে, প্রোটোটাইপ টি বানানো হয়েছে সাধারণ এবং সহজলভ্য কিছু ইকুইপমেন্ট দিয়ে
১.পকেট প্রোজেক্টর
২.মিরর
৩.মোবাইল কম্পিউটিং ডিভাইস
৪.কালার মার্কার
৫.এবং ক্যামেরা

কম্পনেন্টগুলো এমনভাবে অ্যাসেম্বল করা হয়েছে যাতে একে সহজে বহন করা যায়। প্রোজেক্টর এবং ক্যামেরা সংযুক্ত থাকে ইউজারের পকেটে রাখা মোবাইল কম্পিউটিং ডিভাইসে। প্রোজেক্টর টি আমাদের চারপাশে থাকা বিভিন্ন ইন্টারফেস যেমন দেয়াল বা অন্যান্য ফিজিক্যাল অবজেক্ট এর উপর ভিজ্যুয়াল ইনফরমেশন ফুটিয়ে তুলবে। আর Computer Vision Technology ব্যবহার করে ক্যামেরাটি ইউজারের হাতে থাকা কালার মার্কারগুলির বিভিন্ন গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে যা পরবর্তীতে সফটয়্যার প্রোগ্রাম প্রসেস করে সেই অনুযায়ী ইউজারকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, Sixth Sense also supports multi-touch and multi user interaction.সমগ্র প্রোজেক্ট টির খরচ পড়বে $350.

Sixth Sense Technology’র বিবর্তনঃ

Steve Mann কে বলা হয় Sixth Sense Technology’র জনক যিনি ১৯৯০ সালে একটি Wearable Computer বানিয়েছিলেন। তার সময়ে এটি ছিলো “Neck worn Projector with a Camera System”. পরবর্তীকালে তার এই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যান আরেক MIT Graduate Pranav Mistry (তাঁরা দুইজনই MIT Media Lab এর ছাত্র ছিলেন)। তিনি আরো চমকপ্রদ কিছু অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আসেন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এর নাম দেন Wear Ur World(WuW). ২০১০ সালে এর উদ্ভাবকরা এই নামেই প্রযুক্তিটি প্যাটেন্ট করেন।

অ্যাপ্লিকেশনঃ

ছবি আঁকার কাজেঃ
ব্যবহারকারী তার আঙুলের সহায়তায় মাউস ব্যবহার ছাড়াই যে কোন কিছু আঁকতে পারবেন। এমনকি এর মাধ্যমে 3D ছবি আঁকাও সম্ভব।

ছবি তোলার কাজেঃ

অতিরিক্ত কোন Gizmo বহন ছাড়াই ব্যবহারকারী শুধুমাত্র তার আঙুলের মাধ্যমেই ছবি তুলতে পারবেন। তার আঙুলের মাধ্যমে তৈরি বক্স আকৃতির কাঠামোটি ছবি তোলার ফ্রেম হিসেবে কাজ করবে।

হাতের তালুতেই থাকবে ফোন নাম্বার ডায়ালারঃ

এই প্রযুক্তিটি ইউজারকে ডায়ালার ব্যবহার ছাড়াই ফোন করার সুযোগ দেবে। ব্যবহারকারীর এক হাতের তালুতে ডায়ালার টি প্রজেক্টেড করা হবে এবং তিনি অন্য হাত দিয়ে ফোন নাম্বার ডায়াল করতে পারবেন।

বই পড়ুন সহজেঃ

যে বই আপনি কিনতে চান তার রেটিং দেখবেন???? এটি আপনার হয়ে ইন্টারনেট থেকে উক্ত বইয়ের রেটিং খুঁজে নেবে। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, এটি আপনার জন্য বইটি পড়েও শোনাবে।

ভিডিও নিউজপেপারসঃ

আপনাদের নিশ্চয় “হ্যারি পটারে” সেই ভিডিও সংবাদপত্রের কথা মনে আছে। Sixth Sense Technology ‘র কল্যাণে সেটি এখন আর কোন কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে আমাদের হাতের মুঠোয়। এই ক্ষেত্রে, এই প্রযুক্তিটি প্রথমে প্রধান সংবাদ শিরোনাম আইডেন্টিফাই করবে এবং সেই অনুসারে সংস্লিষ্ট ভিডিও টি প্রজেক্ট করবে।

আপনার ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করুন সহজেঃ

শুধু প্রোজেক্টরের সামনে আপনার প্লেনের টিকেট টি ধরুন এবং এটি ইন্টারনেট থেকে আপনার ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে দেবে নিমিষেই।

ইন্টারনেট অ্যাক্সেসঃ

ব্যবহারকারী যে কোন সারফেসে এমনকি তার হাতের তালুতেও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন কোন সমস্যা ছাড়াই।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজেঃ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence(AI) এ এই প্রযুক্তিটি এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিবে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এমনকি মানুষের সাথে যোগাযোগে সক্ষম রোবট তৈরিতে এই প্রযুক্তি অনেক উপকারে আসবে।

শেষ কথাঃ
এই প্রযুক্তিটির অগণিত অ্যাপ্লিকেশন আছে। আমরা এখন সহজেই তথ্যের জগতে অবাধে প্রবেশ করতে পারবো কোন রকম বাধা ছাড়াই। আর প্রতিবন্ধীদের জন্য এই প্রযুক্তিটি নিঃসন্দেহে একটি আশীর্বাদ। বাস্তব জগত ও তথ্যের জগতের মাঝে Sixth Sense একটি ইন্টার লিংক হিসেবে কাজ করবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি মেশিনারিজগুলো খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। অর্থাৎ একজন ডেভেলাপার কি চায় এবং কি কল্পনা করেন তার উপর নির্ভর করে এই প্রযুক্তিটি কাস্টোমাইজ করে তার সমস্যা সমাধানে কাজে লাগাতে পারবেন। তাই এর বহুমাত্রিক ও বিস্তৃত ব্যবহার ও সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে এর উদ্ভাবক Pranav Mistry এর সফটওয়্যার এর সোর্স কোডকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এর ফলে প্রত্যেক ডেভেলাপার তার প্রয়োজন অনুযায়ী এই প্রযুক্তির মোডিফিকেশন করে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন। পোর্টেবল প্রযুক্তি হবার কারণে এর কল্যাণে অনেক নতুন নতুন ডিভাইস এবং এর ফলে নতুন বাজার সৃষ্টি হবে। এর ফলে এখন যে সব ডিভাইস আছে তাদের মধ্যে কিছু কিছু বাতিল হয়ে যাবে কিন্তু একটা কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, Sixth Sense Technology বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে যার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

তথ্যসূত্রঃ
1.Pranav Mistry Official Website: http://www.pranavmistry.com/projects/sixthsense/‎
2.Augmented Reality Concept: http://en.wikipedia.org/wiki/Augmented_reality
3.Engineers Garage : http://www.engineersgarage.com/articles/sixth-sense-technology?page=1
4.Wikipedia : http://en.wikipedia.org/wiki/SixthSense‎

১৯ thoughts on “The Sixth Sense Technology

  1. বাহ দারুন একটা পোস্ট। নতুন এই
    বাহ দারুন একটা পোস্ট। নতুন এই প্রযুক্তি সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. দারুণ পোষ্ট।আমি জাস্ট ভাবতে
    দারুণ পোষ্ট।আমি জাস্ট ভাবতে পারছিনা যখন এই প্রযুক্তি সবার হাতে হাতে চলে আসবে তখন কেমন হবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *