একটি সাহায্যের আবেদন এবং ভালবাসা

এক

মানুষ আজীবন বাঁচে না। বেঁচে থাকার কথাও না। এমন কোন নিয়ম নেই। আগেকার সময় মানুষ নাকি হাজার বছর বাঁচত। কিন্তু তারাও আজ হারিয়ে গেছে। কেউ নেই। মানুষের অমর হবার কোন নিয়ম নেই। আর দশজনের মত এই কথাটা হাসানও জানে। তবু নিজের মনকে সে শান্ত রাখতে পারছে না।


এক

মানুষ আজীবন বাঁচে না। বেঁচে থাকার কথাও না। এমন কোন নিয়ম নেই। আগেকার সময় মানুষ নাকি হাজার বছর বাঁচত। কিন্তু তারাও আজ হারিয়ে গেছে। কেউ নেই। মানুষের অমর হবার কোন নিয়ম নেই। আর দশজনের মত এই কথাটা হাসানও জানে। তবু নিজের মনকে সে শান্ত রাখতে পারছে না।

বিছানা থেকে নেমে বারান্দার গ্রীল ধরে দাঁড়ায় হাসান। ক্লান্ত আর বিষন্ন শরীরটা জানালার উপর ছেড়ে দিল সে। দৃষ্টি রাখল আকাশের বুকে। বড্ড নীল দেখাচ্ছে আকাশটাকে। আচ্ছা আজ কোন মাসের কত তারিখ? কি যে হল! আজকাল কোন কিছুর খবর নেই হাসানের কাছে।

নীতুর মুখটা ভেসে উঠল চোখে। দীর্ঘদিনের হাসপাতালবাস মেয়েটাকে একেবারে ভেঙ্গে ছুঁড়ে দিয়েছে। চেহারাটা দেখে চিনতে কষ্ট হয়। কী রূপ ছিল নীতুর। আহা! সবকিছু কোথায় হারিয়ে যায়।

বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠে হাসানের। কিচ্ছু করতে পারেনি সে। নীতুর জন্য কিচ্ছু করতে পারেনি। চিকিৎসার অভাবে প্রানবন্ত নীতুর আজ নির্জীব-নিষ্প্রাণ। সাদা চাদরের নিচে দুধ সাদা শরীরটাকে নিয়ে আজ মৃত্যুর প্রহর গুনছে। কিচ্ছু করতে পারেনি হাসান তার জন্য।

মানুষ এত অসহায় কেন? ইশ্বর মানুষকে কেন সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করে দিতে পারেনি। এই যে, হাসানের এখন অনেক টাকা দরকার। কিন্তু সেই টাকা যোগার করতে পারছে না সে। অথচ অনেক টাকা না কিছুতেই তার স্ত্রীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। হাসানের অনেক টাকা দরকার।

ডাক্তার বলেছে, নীতুর অপারেশন করতে হবে। জরায়ু ক্যান্সার। গরীবের ঘোড়া রোগ। অপারেশন ছাড়া সারবে না। তার জন্য ৩ লাখ টাকা দরকার। কোথায় পাবে হাসান এত টাকা? ৫০০০টাকা বেতনের গার্মেন্টসকর্মী হাসান এত টাকা তো কোনদিন চোখেও দেখেনি।

কি নিষ্ঠুর পৃথিবী! চোখের সামনে সে কাছে মানুষ কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে। অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার নেই হাসানের।

নীল আকাশটা চোখের সামনে আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে থাকে। অন্ধকার নামে রাত নিয়ে। মসজিদে মাগরিবের আযানের ধ্বনি ভেসে আসে। সম্বিত ফিরে হাসানের। জানালাটা বন্ধ করে বাথরুমে যায় সে। ফ্রেশ হয়ে এখনি বের হতে হবে। সন্ধ্যায় নীতুকে অষুধ খাওয়াতে হবে।

বিকেলে অফিস থেকে ফিরে প্রতিদিন হাসপাতাল ঘুরেই বাসায় আসে হাসান। নিজের জন্য কয়েকটা ভাত আর আলু ভর্তার ব্যবস্থা করে পেটে দেয়। তারপরেই ছুটে হাসপাতালে। এই নিয়ম গত এক মাসের।

কিন্তু আজ শরীরটা হঠাৎ দুর্বল লাগছিল। শত হলেও এটা তো শরীর। আর কত! গত তিনটা মাস ধরেই সে বিরামহীন ছুটছে। এখানে, ওখানে-নীতুকে বাঁচিয়ে তোলার আশা পাওয়া যায় যেখানেই।

একটা মানুষ নেই, যার উপর নীতুর দায়িত্ব দেয়া যায়। নিজের বাবা মা মারা গেছেন শৈশবে। স্বজন বলতে তেমন কেউ নেই। যারা আছেন তারা সবাই গ্রামে। এক এক করে সবাই ঢাকায় এসে নীতুকে দেখে গেছে। দায়িত্ব শেষ করে গেছে। তাছাড়া সবারই ব্যস্ততা আছে। তার বউয়ের জন্য কেউ এসে মাসের পর মাস বসে থাকবে কেন।

এদিকে নীতুরও মা-বাবা নেই। বড় ভাই থাকেন সিলেটে। সেখানে চা বাগানে ছোট একটা চাকরি করেন। সংসার চলে টেনেটুনে। বোনের জন্য কিছু করার সামর্থ্য তার নেই। তাই লজ্জায় মাথা তুলে তাকান না বোনের দিকে। প্রতি মাসে একবার করে এসে দেখে যান তিনি। যাবার বেলায় হাসানের হাতে গুঁজে দিয়ে যান কিছু টাকা। সেই টাকায় নীতুর এক বেলার অষুধের দামও হয় না। তবু টাকাটা আনন্দের সাথেই নেয় হাসান। এই ভেবে, নীতুকে বাঁচানোর সংগ্রামে একা নয় সে। আরও কেউ আছে, যে চায় তার নীতু বেঁচে থাকুক।

এর বাইরে মাঝেমাঝে দু একটা বন্ধু বান্ধব আসে। পিঠে হাত রাখে, সাহস দেয়। যদিও সবাই জানে এই সাহসের কোন মানে নেই। হাসানের পক্ষে সম্ভব নয় নীতুকে বাঁচিয়ে তোলা। এতগুলো টাকা কোথা থেকে পাবে হাসান!

দু একজনের পরামর্শে পত্রপত্রিকায় সাহায্যের আবেদন করেছিল সে। সবাই ভেবেছে আমি না দিলেও অন্য কেউ দিবে। এই ভাবনাতেই আটকে আছে সাহায্যের আবেদন। এক মাসে ২৫ হাজার টাকাও কপালে জুটেনি। সবাই জানে নীতু চলে যাবেই। অপেক্ষা কেবল সময়ের।

রাজাবাজারের আমবাগান বস্তি থেকে ঢাকা মেডিক্যাল পৌছাতে ৪৫ মিনিট সময় লাগে। শাহবাগ পর্যন্ত বাসে এসে বাকি পথ হেঁটেই আসে হাসান। পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে থেকে একটা স্টার ফিল্টার সিগারেট কিনে ধরায় সে। ধুয়া ছাড়ে উদাস ভঙ্গিতে।

চারুকলা পার হয়ে একটু সামনে পা বাড়াতেই হাসানের চোখে পড়ে দৃশ্যটা। একজন মহীলা হুইল চেয়ারের পিছন থেকে ঠেলে চলেছেন। আর সামনে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন একজন পুরুষ। তার একটা পা নেই। দুই হাতসহ সারা গায়ে ব্যান্ডেজ। মহীলার হাতে একটা প্লাস্টিকের থালা। সেটাতে কিছু টাকা। দুই টাকা আর দশ টাকার নোটই বেশি। মহীলা পথচারীদের কাছে কি যেন বলছে। কেউ শুনছে, কেউ শুনছে না। কেউ কেউ টাকা দিচ্ছে থালায়। নির্বিকার সে ভঙ্গি টাকা দেয়ার।

হাসান বুঝতে পারেনি কখন সে দাঁড়িয়ে পরেছে। মহীলা তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলতে থাকে-‘স্যার গো কয়ডা টেহা দ্যান মোরে। মোর স্বামীর একটা পাও নাই। হাত দুইটাও ভাইঙ্গা গেছে। নদী ভাইঙ্গা ঘর-বাড়ি-গরু-সন্তান মোগু বেবাক ভাইস্যা গেছে গো স্যার। মোরা খাইতে পারি না। স্বামীর অসুখের চিকৎসা করাইতে পারি না।

স্যার গো কয়ডা টেহা দ্যান…’

হাতটা হাসানের সামনে বাড়িয়ে কথাগুলো বারবার বলতে থাকে হাসান। তার কেমন যেন ঘোরের মত লাগে। মহীলার কথার আওয়াজ তার কানে আসে ঠিকই কিন্তু সে বুঝতে পারে না মহীলা তার দিকে হাত বাড়িয়ে রেখেছে। সে মহীলার দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকে নানা কথা।

সে ভাবছে, কী অদ্ভুত মানুষের বসবাস এই পৃথিবীতে। এই শহরে কত টাকাওয়ালা স্বামী আছে স্ত্রীর ভালবাসা পায় না। সব কিছু থাকার পরও সুখ নেই, ভালবাসা নেই তাদের সংসারে। অনেকে ঠুনকো বিষয় নিয়ে ডিভোর্সও দিচ্ছেন-নিচ্ছেন। জড়াচ্ছেন পরকীয়ার মত সম্পর্কে। অথচ এই পঙ্গু স্বামীর কী ভাগ্য! তার সুস্থ সুন্দরী স্ত্রী হাত পাতছে মানুষের কাছে। তাকে নিয়েই বেঁচে থাকবে বলে। তাকে নিয়েই আবার সব কিছু নতুন করে শুরু করবে বলে। মহীলা কি পারতেন না তার স্বামীকে ফেলে চলে যেতে।

কত হবে বয়স? ২৭ কিংবা ৩০। এই বয়স তো নারীর পূর্ণতার বয়স। ভরা যৌবন নিয়ে খুব কি কষ্ট হত এই মহীলার বেঁচে থাকার একটা নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে নিতে?

তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়াচ্ছে। স্রোতধারায়। ভালবাসা বুঝি এমনই। সুন্দর, নিঃস্বার্থ, মজবুত, বিশ্বাসী আর পবিত্র। নীতুও কী এই মহীলার মত তার স্বামীকে ভালবাসে? আজ যদি হাসান পঙ্গু হয়ে যেত তবে নীতু কী এই মহীলার মত হুইল চেয়ারে তাকে বসিয়ে ভিক্ষে করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখত? নাকি তাকে ছেড়ে যেত?

না। হাসান জানে নীতু কোনদিন তাকে ছেড়ে যেত না।

হাসান হঠাৎ নীতুর প্রতি তীব্র টান অনুভব করে। বুঝতে পারে নীতুকে ছাড়া তার বেঁচে থাকা অসম্ভব। আনমনেই সে পথের দিক বদলায়। মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় নিউ মার্কেট যাবার। নীতুকে সে মরতে দিবে না। কিছুতেই না। যেভাবেই হোক বাঁচিয়ে তুলতে হবে। টাকার কাছে ভালবাসার মৃত্যু ঘটতে পারে না।

দুই

সালমান সাহেব তার মেয়ে নাবিলাকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছেন। ঘুরতে বললে ভুল হবে। আসলে তিনি বের হয়েছেন তার মেয়ের একটি মনের ইচ্ছে পূরণ করতে। নাবিলার আজ মাস্টার্সের রেজাল্ট দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে পদার্থ বিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছে। শুধু তাই নয়, তার ফল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। এই আনন্দে সালমান সাহেব আজ আত্মহারা। তিনি তার মা মরা মেয়েকে কথা দিয়েছেন, তার মনের যে কোন একটা ইচ্ছে পূরণ করে দিবেন তিনি। সেই ইচ্ছে হতে হবে সুন্দর আর ভালবাসার নিদর্শনস্বরুপ।

ব্যস নাবিলাও সুযোগ পেল বাবার সাথে রাতের শহরে ঘুরে বেড়ানোর। বাবা জানেন এই কাজটা নাবিলার ভীষন পছন্দ। তাই রিক্সা নিয়ে বাবা-মেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাবার এত্তগুলো নামি-দামি গাড়ী থাকতেও নাবিলার রিক্সা খুব পছন্দ। বিশেষ করে সে যখন বাবার সাথে বেড়াতে বের হয় তখন রিক্সা ছাড়া কোন গাড়ীতেই উঠতে চায় না। রিক্সায় চড়ে যে মজা তা অন্য কিছুতে মিলে না। খোলামেলা, চারপাশটাকে মন ভরে দেখা যায়। আর রিক্সার সবচাইতে ভাল গুণ এখানে এক জনের বেশি হলেই যাত্রীকে বসতে হয় গায়ে গা লাগিয়ে। এই ব্যপারাটা নাবিলার ভাল লাগে। শত্রুকে নিয়ে রিক্সায় উঠার কোন সুযোগ নেই। কারণ শত্রুর সাথে গায়ে গা লাগিয়ে বসা যায় না। এমন কোন ঘটনা কোথাও শুনতে পাওয়া যায়নি, রিকশার এক যাত্রী অন্য যাত্রীকে কিংবা আহত করেছে। কিন্তু প্রাইভেটকারের এমন অনেক সংবাদ আছে। নাবিলার মনে হয় সাথে কারও ঝগড়া থাকলে তাদের যদি এক রিক্সায় উঠিয়ে কিছুটা পথ ঘুরতে পাঠানো হয়, দেখা যাবে ফিরে আসার পর তারা ভাল বন্ধু হয়ে গেছে। গায়ের উপর গা লেগে থাকলে ঝগড়া করা যায় না। মানুষ এত খারাপ নয়। রিক্সা নিয়ে নাবিলার যুক্তি শুনে হাসেন সালমান সাহেব।

রিক্সা চলছে। ধানমন্ডি, কলাবাগান, সাইন্স ল্যাব, কাটাবন। নাবিলা রিক্সায় বসে আছে বাবার গায়ে গা লাগিয়ে।

বাবার সাথে নাবিলা শহর দেখছে আর খুঁজছে এমন কিছু যা চেয়ে বাবাকে শান্ত করা যায়। কারণ সে জানে তাকে কিছু না দেয়া পর্যন্ত শান্ত হবেন না বাবা।

নাবিলা খুব নজর দিয়ে শহর দেখছে।

তিন

শাহবাগ থানার সামনে একটা হুইল চেয়ারের পিছনে ঠেলছে হাসান। তার হাতে একটা সবুজ রঙের থালা। চেয়ারে অচেতন হয়ে বসে আছে নীতু। তার গলায় একটা লেমিনেটিং করা কাগজ ঝুলছে। সেখানে লেখা-

‘অদ্ভুত সুন্দর নিষ্পাপ এই মেয়েটির নাম নীতু। আমি তাকে সাত বছর ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম। সে আজ জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত। মাত্র ৩ লাখ টাকায় তাকে সুস্থ করা সম্ভব। আপনারা সাহায্য করলে আমার স্ত্রী সুস্থ হয়ে উঠবে। আমি আবার তাকে ভালবাসতে পারব। ভালবাসা ইশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ। নয় কি?’

রাত সাড়ে এগারোটা বাজে। ক্ষুদায় পেট জ্বালা করছে। খেতে হবে। নীতুরও অষুধ খাবার সময় হয়েছে। হুইল চেয়ারটাকে ঠেলতে ঠেলতে যাদুঘরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে হাসান। এমন সময় একটা রিক্সা এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়। হাসান দেখতে পায় দুইজন মানুষ রিক্সায় বসে আছে। তারা তাকিয়ে আছে তার দিকে। মনে হয় স্বামী-স্ত্রী। আজকাল কি যে হয়েছে হাসানের, একসাথে নারী-পুরুষ দেখলেই মনে হয় স্বামী স্ত্রী।

অনেক রাত। রাস্তায় গাড়ী কমে গেছে। জ্যাম লেগে যাবার ভয় নেই। মাঝপথেই রিক্সা থামিয়ে নামেন সালমান সাহেব ও নাবিলা। তারা এসে হাসানের সামনে দাঁড়ায়। সালমান সাহেব নাবিলার দিকে তাকালেন। নাবিলা কাঁদছে। সম্ভবত সে হুইল চেয়ারে বসা মহীলার গলায় ঝুলানো নোটিশ পড়েছে। সালমান সাহেব খুব অবাক হলেন। তার নিজেরও কান্না আসছে। কী অদ্ভুত! কী চমৎকার ভালবাসা!

‘বাবা।’

মেয়ের ডাকে ভাবনায় ছেদ পড়ে সালমান সাহেবের।

‘বাবা। এর চাইতে সুন্দর আর কোন ভালবাসার কথা আমি তোমাকে বলতে পারব না। তুমি কি জান?

মেয়ের প্রশ্নের জবাবে ‘না’ সুচক মাথা নাড়েন সালমান সাহেব।

‘এটা সাহয্যের আবেদন নয় বাবা। এটা প্রশ্ন। বিবেকের কাছে। ঈশ্বরের অস্থিত্ব নিয়ে। লোকটা জানতে চেয়েছে ভালবাসা ইশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ কিনা। উত্তর দেবে না বাবা?’

মেয়ের কথা ফুরানোর আগেই মাথা ঝাকানো শুরু করেন সালমান সাহেব।

‘হু। উত্তর আমাদের দিতেই হবে। ভালবাসাই ইশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ।’

বাবার কাঁধে মাথা রাখে নাবিলা। তার চোখের জল ল্যাম্পোস্টের আলোতে ঝিক্মিক করছে। নাবিলা বলে যায়-‘তোমার কাছে এটাই আমার জীবনের সেরা ইচ্ছে হোক বাবা। ভালবাসাই ইশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ। টাকার কাছে ভালবাসাকে হারতে দেয়া যায় না।’

সালমান সাহেব এক হাতে মেয়ের মাথা নিজের কাঁধে চেপে ধরেন। আরেক হাতে মোবাইল ফোনটা বের করলেন। ম্যানেজার শফিককে ফোন দিতে হবে। জরায়ু ক্যান্সারের অপারেশন কোন হাসপাতালে ভাল হয় তা জানা নেই সালমান সাহেবের।

৫ thoughts on “একটি সাহায্যের আবেদন এবং ভালবাসা

  1. হ্যা, ভালবাসাই ইশ্বরের
    হ্যা, ভালবাসাই ইশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ।নীতুরা বাচুক সাথে জয় হোক ভালবাসার ।
    জয় ভালবাসা ।

    অসাধারন লিখেছেন ।ভাল লাগলো ভাই।

  2. লেখায় হুমায়ূন আহমেদের
    লেখায় হুমায়ূন আহমেদের স্টাইলের ছোঁয়া থাকলেও চমৎকার লাগল। আর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ফিকশন লেখকের ছোঁয়া থাকাটা দোষের কিছু না। চমৎকার লিখেছেন। থিমটা খুব ভালো লাগলো। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *