ক্ষমতার পঞ্চম বছর– ‘পারসেপশান’ এর খেলা কিন্তু চলছে

গনতন্ত্রের সবচেয়ে মজার অংশ হচ্ছে ‘পারসেপশান’। আপনি কি করছেন কিংবা করেছেন তাঁর চেয়ে জরুরী হচ্ছে আপনার সম্পর্কে লোকে কি ভাবছে। ভোট পাবেন এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে। জনগণ জানতে পারবে না এমন কাজ করার ক্ষেত্রে তেমন কোন বাঁধা নেই। যা খুশী তাই করতে পারেন। জনগণ জেনে যেতে পারে এমন কাজ করতেই যত বাঁধা। তাই কোন কাজ করার আগে প্রথমে লক্ষ্য রাখবেন তথ্যটা জনগণ জানতে পারবে কি না। না পারলে যত খুশী নাক ডুবিয়ে ঘুষ খান, সমস্যা নেই। তবে লোকে জানতে পারে এমন কিছু করতে গেলে প্রথমেই ভেবে নিতে হবে ‘লোকে কি ভাববে’ কিংবা ‘জনগণ কিভাবে নেবে’।

গনতন্ত্রের সবচেয়ে মজার অংশ হচ্ছে ‘পারসেপশান’। আপনি কি করছেন কিংবা করেছেন তাঁর চেয়ে জরুরী হচ্ছে আপনার সম্পর্কে লোকে কি ভাবছে। ভোট পাবেন এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে। জনগণ জানতে পারবে না এমন কাজ করার ক্ষেত্রে তেমন কোন বাঁধা নেই। যা খুশী তাই করতে পারেন। জনগণ জেনে যেতে পারে এমন কাজ করতেই যত বাঁধা। তাই কোন কাজ করার আগে প্রথমে লক্ষ্য রাখবেন তথ্যটা জনগণ জানতে পারবে কি না। না পারলে যত খুশী নাক ডুবিয়ে ঘুষ খান, সমস্যা নেই। তবে লোকে জানতে পারে এমন কিছু করতে গেলে প্রথমেই ভেবে নিতে হবে ‘লোকে কি ভাববে’ কিংবা ‘জনগণ কিভাবে নেবে’।
ভালো ভাবে নিলে তো কোন সমস্যা নেই। খারাপ ভাবে নিলে কিংবা কাজটাই যদি ভুল বা অন্যায় হয়? তখন দুটো ফর্মুলা আছে। গোঁয়ার্তুমি। যে যা ভাবুক, আমার কিছু যায় আসে না। আমি ঠিক কাজই করেছি, এই কাজ করবই করব। সাধারণতঃ মেয়াদের প্রথম চার বছর এই ফর্মুলা চলে। বিরোধী দল ঘ্যানঘ্যান করলেই কি আর না করলেই কি? কুইক রেন্টাল থেকে শুরু করে টিকফা, রামপাল কোন কাজেই কোন ভ্রুক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। পুরো প্রক্রিয়া নিজ গতিতে এগিয়ে গিয়েছে। পদ্মা সেতুতে কি হয়েছে, জনগণকে তা জানানোর প্রয়োজনও কেউ বোধ করে নি। তবে শেষ বছরটা একটু আলাদা। এসময়ের কাজগুলো যদি জনগণের মনে থেকে যায় কিংবা ভোটের দিন মনে পরে যায়, তাই একটু সাবধানে পা ফেলতে হয়।
সব সময় যে এতো সাবধানে চলাচল হয়, তা কিন্তু না। গত চার বছরের চলার স্টাইল রাতারাতি পাল্টানো খুব সহজ কাজ না। তাই গোঁয়ার্তুমি টাইপ কথাবার্তা কিংবা কাজ মনের অজান্তেই করে ফেলে। তবে এই পঞ্চম বছরের সুবিধা এই যে খুব দ্রুত তা বুঝতে পারে। গণ্ডারের চামড়া কিছুদিনের জন্য মানুষের চামড়ায় পরিবর্তন হয়। যুবলীগ কিংবা ছাত্রলীগের গত চার বছরের তাণ্ডবের দিকে তাকানোর কোন প্রয়োজন এই সরকার কখনোই বোধ করে নি। বরং এই মহান কর্মী বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাঁর ওপর খড়গ নেমে আসতো, বদলী হত কোন প্রত্যন্ত জেলায়। তবে পঞ্চম বছরের খেলা আলাদা। তাই চট্টগ্রামের ঘটনার পরে সোনার ছেলেদের গ্রেফতার করা হল। পারসেপশানের খেলা—‘আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। আইন সবার জন্য সমান’।
বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলার ঘটনাও সেই ‘পঞ্চম বর্ষ’ সিনড্রোম। প্রথমটায় বেশ ঢাক ঢোল পিটিয়ে লাগানো হল। তবে দুই কুল খোলা রাখা হয়েছিল। খুব বেশী সমালোচনা হলে বলা হবে, আমরা করিনি। আর না হলে, এই অভিনব আইডিয়ার জন্য হয়তো এর বুদ্ধিদাতা বিশাল পুরস্কার পেত। বুদ্ধিদাতা যে ভুলটি করেছিলেন তা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় অনুমুতি নেন নি। যাদেরকে বিলবোর্ড গুলো লীজ দেয়া আছে, তাঁদের কাছ থেকে তিন মাস কিংবা এক সপ্তাহ যে মেয়াদের ই হোক একটা অনুমুতি নেয়ার কাজ সেরে রাখলে, আইডিয়াটা মাঠে মারা যেত না। আসলে মাথায় এখনও প্রথম চার বছরের অহংকার কাজ করছে। ‘আমার ইচ্ছাই সব’।
হয়তো সেই গোঁয়ার্তুমি চালিয়েই যেত। অন্ততঃ এক সপ্তাহ সেভাবেই চেষ্টা করল। খুব সুবিধা হল না, তাঁর ওপর এখন পঞ্চম বর্ষ। তাই যখন দেখা গেল সমালোচনার ঝড় উঠেছে, ‘আমরা করিনি’ ফর্মুলা গ্রহণ করা হল। তথ্য মন্ত্রণালয় জানালো তারা জানে না কে করেছে, তাই বিলবোর্ড লীজ নেয়া প্রতিষ্ঠানকে কোন অর্থ তারা দেবে না। কাজটা কে করেছে তাই এখন এক মজার ধাঁধা। বিজ্ঞাপন গুলো তৈরি করতে কোট খরচ হল, কে করল তা কেউই বলতে পারছে না। কাজটা করা হয়েছিল, সরকারের জন্য ‘উন্নয়নের রূপকার’ টাইপ একটা পারসেপশান তৈরি করতে। হিতে বিপরীত হয়ে এখন ‘বিলবোর্ড ছিনতাই কারীর’ পারসেপশান সরাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে।
সম্প্রতি আরও একটা মহৎ কাজ করেছে সরকার। ‘অধিকার’ গ্রেফতার করে। আইনের চোখে কাজটি ঠিক হয়েছে কি হয় নি তাঁর চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজটা করার পরে সরকার সম্পর্কে জনগণের মনে কি পারসেপশান তৈরি হল। আওয়ামী থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করছে, ‘অধিকার’ মিথ্যে তথ্য দিয়েছিল। কিংবা যা তথ্য দিয়েছিল তা প্রমাণ করতে পারে নি। অসৎ উদ্দেশ্যে, উস্কানি দেয়ার জন্য এইসব মিথ্য রটনা। কেউ মারা গিয়ে থাকলে তাঁর স্বজনরা কই? কেন কেউ এখনও সর্বসমক্ষে আসছে না? পরিবারের লোকজন না আসুক, পাড়া প্রতিবেশী কিংবা বন্ধু বান্ধব তারাই বা কোথায়? কিংবা সেই মাদ্রাসাগুলোই বা কেন এগিয়ে আসছে না খোঁজ নিতে?
বিদেশী মাধ্যম কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যাপারটা খুব ভালো ভাবে নেয় নি। ‘মানবাধিকার’ তাঁদের অন্যতম হাতিয়ার। কোন দেশে নাক গলানোর ব্যাপারে। ফলে এই প্রশ্নে তারা সরকারকে বিরোধিতা করবে, তা প্রায় অবধারিত ছিল। এবং তাই হল। ‘সরকার বাক স্বাধীনতার বিপক্ষে’ এই তকমা লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা শুরু হয়ে গেছে। ওদিকে ‘অধিকার’ জাতিসঙ্ঘকে তালিকা দিয়ে সরকারকে আরেক সমস্যায় ফেলে দিয়েছে। সময়টাও আবার পঞ্চম বর্ষ। যা পারসেপশান তৈরি হবে তা থেকে যাবে ভোট পর্যন্ত।
‘তত্ত্বাবধায়ক’ থেকে শুরু করে টিকফা, ছাত্রলীগ, বিলবোর্ড কিংবা ‘অধিকার’ প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সরকারকে খুব গোঁয়ার মনে হয়েছে। জনগণের ‘গোল্ড ফিশ’ মেমরির কারণে প্রথম চার বছর যা খুশী গোঁয়ার্তুমি করাই যায়। একবারের জন্য না ভাবলেও চলে ‘পাবলিক পারসেপশান’ কি হচ্ছে। তবে পঞ্চম বর্ষের কথা আলাদা। কাজটা ঠিক না বেঠিক তাঁর চেয়ে জরুরী হচ্ছে কাজটা জনগণ কিভাবে নিচ্ছে। যদি জনগণকে বোঝানো যায় ‘অধিকার’ এর ব্যাপারে সরকার যা করেছে তা জনগণের ভালোর জন্য, তবে পাড় পেয়ে যেতে পারে। শুধু অধিকার কেন যেকোনো অন্যায় কাজই মাথা উঁচু করে করা যায়। তবে উল্টোটা করতে যাওয়া বেজায় ঝুঁকিপূর্ণ। ঠিক কাজও যদি ভুল ‘পারসেপশান’ তৈরি করে? গনেশ উল্টাতে সময় লাগবে না। এক ‘হাওয়া ভবন’ এর পারসেপশানের মাশুল গুনছে বিরোধী দল। জনগণ এই সরকারকেও ছাড় দিবে না।

৫ thoughts on “ক্ষমতার পঞ্চম বছর– ‘পারসেপশান’ এর খেলা কিন্তু চলছে

  1. হে হে হে হে…
    ভালোই বলেছেন

    হে হে হে হে…
    ভালোই বলেছেন ।যে দেশে ছেলের জন্মদিনে মায়ের রান্নাটাও হয়ে ওঠে রাজনৈতিক, যে দেশে চান্দী দর্শনেরে জেরে লোকে প্রান দেয়, যে দেশে রেশমা হয় নাটক, যে দেশের দলীয় প্রধান দেশের অনিষ্ট চেয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের আহবান জানায়, যে দেশের জনকের মৃত্যুদিনে আনন্দ উৎসব হয়…,,,,! সে দেশের ভাগ্য উন্নয়নে জনগনের ভাষার বুঝার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু তা নিয়ে ভাববার ও অবকাশ আছে।

  2. আমাদের দেশের ভোটারদের
    আমাদের দেশের ভোটারদের পারসেপশান চিন্তা করে যদি ভোটের হিসাব করেন, তাহলে আপনি এখনও বোকার স্বর্গে আছেন ! পারসেপশান কি ? কিভাবে পারসেপশান তৈরী হয় সেটাই আমাদের অধিকাংশ ভোটারদের হিসাব করার ক্ষমতা আছে কি ?

    আমাদের দেশের অধিকাংশ ভোটারের পারসেপশান হলো একটি দল যত ভাল কাজই করুক বা মন্দ করুক না কেন দ্বিতীয় বার তাদের আর নির্বাচিত করা যাবে না…..

Leave a Reply to সৈয়দ গোলাম শহিদ শাহিন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *