শাহবাগের ক্যানভাস

“পরীক্ষার হলের তিনঘন্টা আজ বড় দীর্ঘ ছিল।কাটছিলইনা।পরীক্ষাটা তেমন গুরত্বপূর্ন না।তবুও দিচ্ছি,ভাল একটা পজিশন ধরে রাখার জন্য।জিন্সের ভেতরে চোখ পরতেই দেখি আলো জ্বলে আছে।কেউ একজন মিসড দিয়েছে।
–স্যার একটু টয়লেটে যাব।আর্জেন্ট।
-যাও।
বাইরে যেয়ে দেখি শামীম ভাই।ফোন ব্যক করতেই,
-ওই হালা,খবর জানস?
–কি খবর?
-কসাই কাদেরের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন হইতাছে শাহবাগে।পোলাপাইন রাস্তা ঘেরাও করে আন্দোলনে নামছে।আমি আছি তুই ও আয়।
–কন কি?কারা শুরু করল?কেমনে শুরু করল?

“পরীক্ষার হলের তিনঘন্টা আজ বড় দীর্ঘ ছিল।কাটছিলইনা।পরীক্ষাটা তেমন গুরত্বপূর্ন না।তবুও দিচ্ছি,ভাল একটা পজিশন ধরে রাখার জন্য।জিন্সের ভেতরে চোখ পরতেই দেখি আলো জ্বলে আছে।কেউ একজন মিসড দিয়েছে।
–স্যার একটু টয়লেটে যাব।আর্জেন্ট।
-যাও।
বাইরে যেয়ে দেখি শামীম ভাই।ফোন ব্যক করতেই,
-ওই হালা,খবর জানস?
–কি খবর?
-কসাই কাদেরের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন হইতাছে শাহবাগে।পোলাপাইন রাস্তা ঘেরাও করে আন্দোলনে নামছে।আমি আছি তুই ও আয়।
–কন কি?কারা শুরু করল?কেমনে শুরু করল?
-জানিনা তয় তোগো ভার্সিটির ছাত্র ইউনিয়নের আপুটারে দেখলাম।লাকি আপা মনে হয়।হেব্বি স্লোগান দিতাছে।মারুফ মামারেও দেখলাম।হলুদ কাপড় মাথায় বাইন্দা সব দিকে খেয়াল রাখতাছে।আর কাউরে
চিনিনা।তবে প্রায় লোকেরেই মাথায় দেখতাছি হলুদ কাপড় বান্দা।তুই পারলে হলুদ ব্যান্ড কিনে আনিস।আমাদেরও তো লাগবে।
এই বলে ফোন রেখে দিল।।
আমি আরো অনেককে ফোন করে বললাম।সবাই বলে
হে আমরা আসতাছি।ততক্ষনে পরীক্ষা শেষ।আমি ফেল করেছি জেনেও কোন বোধ শক্তি কাজ করছিল না।ব্যাগ কাধে নিয়ে হাঁটা শুরু করলাম।
গেটে দাঁড়িয়ে শাহবাগের ডাকে ফিরে যাবার পথে ভেবেছিলাম একা যাবো। সহাপাঠীরা সহযোদ্ধা হয়ে উঠবে কে জানতো! আমরামিশে গেলাম জনতার মিছিলে। তীব্র রোদ উপেক্ষা করে বান্ধবীদের অবিরত স্লোগান দিতে শুনেছি, আমি অবাক চোখে দেখলাম রূপ সচেতনতা ছাড়াও বাংলার নারীরা সচেতন হতে জানে, যুদ্ধ করতে জানে।যেই মেয়েকে কখনো পড়াশোনা ছাড়া কিছু করতে দেখিনি সেই মেয়েও আজ এখানে।শামীম ভাই ক্ষ্যাপা যোদ্ধা হয়ে উঠেছিল।সে যখন জানল হলুদ ব্যাজ সবার জন্য না,সামান্য মনক্ষুন্ন হলেও পরমূর্হুতেই সে স্লোগানমুখর। বন্ধু রেজা,অরন্য,দুর্জয় নরসিংদী,ভোলাও কুষ্টিয়া থেকে ছুটে এসেছে যোগ দিতে। এখন উত্তাল জনস্রোতে কী এক টানে ডুবে গেছে! শুনলাম- আজ ও বাড়ি ফিরবেনা কেউ।আমি মাকে ফোন করে বললাম
–বাড়ি ফিরতে পারবনা।আজকে এখানেই থাকব।
মা বলল,তুই না ফের কিন্তু তোর বাবাকে আসতে বল।তার কি এখন সেই শরীর আছে।
আমি হাসতে হাসতে ফোন রেখে দিলাম।
তারপর অনেক কষ্টে বাবাকে বাড়ির পথে রিকশার তুলে দিলাম।বাবা আমার হাতে ১০০ টা টাকা দিয়ে বলল,
–কালকে বেতন পেয়ে তোকে কিছু টাকা দিবনি।আজ হাত একদম খালি।জানি তুই মুখ ফুটে কিছুই বলবিনা।কিছু খেয়ে নিস।তোদের জন্য কিছু করতে পারছিনা টাকার অভাবে।তুই কিছু মনে করিসনা বাবা।
রিকশা চলতে শুরু করল।আর আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরে পরছে,বুড়া মানুষটার কথা ভেবে।
-কি হয়েছে রাইয়ান?কাদছিস কেন?হঠাত্‍ পাশে ফিরে দেখলাম নাদিয়া।
–কিছু না চোখে কিছু গেছে।তুই এখনও আছিস?
-হ্যা।আজ তোদের সাথে থাকব।চল কিছু খেয়ে,তারপর যাই।
আমিও ওর হাত ধরে হাটতে লাগলাম।

আমার কোন ক্যামেরা নেই।গ্যাজেট বলতে মোবাইল আর ল্যাপটপ।মোবাইল এর ক্যামেরা ভিউ থাকার চেয়ে না থাকাই উত্তম।তাই আমি চোখ দিয়ে এমন এক অবোধ শিশুর ছবি তুলে রেখেছি যে -তুই রাজাকার! তুই রাজাকার! বুলিতে ছোট ছোট হাত-পা নিয়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। আমি এমন এক চা বিক্রেতার ছবি তুলেছি যে জানে লাখ লাখ জনতাকে চা এর সেবা বিলিয়ে যাবার ক্ষণেও ভুলে যায়নি বলতে- জামাত শিবিরের রাজনীতি বন্ধ হোক! আমি এমন এক বৃদ্ধের ছবি তুলেছি যে- শারীরিক দূর্বলতা ছাপিয়ে তরুণদেরও পরাজিত করে ফেলেছে।
প্রাণের টানে নিজেদের অবস্থান প্রকাশের শত শত দলিল-প্রমাণের তোয়াক্কা না করেও অনেকে এসেছে, আসছে, আসবে। আমি তাদের দলে আছি। তাদের কোন ব্যানার নেই, তাদের কোনপ্রচার নেই, তাদের কোন শো-অফ লোভ নেই।তাদের মাথায় হলুদ ব্যান্ড নেই, ভালোবাসা নামক জিনিসটা আকড়েধরে রেখে সংগ্রাম চলছে, চলবে। জয় হোক ভালোবাসার, জয় হোক দেশপ্রেমের, জয় হোক জনতার, জয় বাংলা!!

২৬ thoughts on “শাহবাগের ক্যানভাস

  1. চমৎকার…
    আমাদের

    চমৎকার… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:
    আমাদের আবেগ আর সুশীলদের বিবেক কখনই একসাথে কথা বলবে না?
    তবে কি আমাদের রাত-দিনের এমন নিরলস পরিশ্রমের আন্দোলনের কোনই মুল্যায়ন আমজনতা করবে না? রাইয়ান ভাই আমার চমৎকার লেগেছে… স্পিরিট দারুণ গাঁথুনি যায় হোক না কেন!!
    শুরুর ঐ লাইন কয়েকটা না লিখলেও চলত…

  2. কিছু বলার নাই – শুধু আপনার
    কিছু বলার নাই – শুধু আপনার সুরেই বলব –

    জয় হোক ভালোবাসার, জয় হোক দেশপ্রেমের, জয় হোক জনতার, জয় বাংলা!!

  3. আমারা মিলিত হয়েছি হব ,গর্জে
    আমারা মিলিত হয়েছি হব ,গর্জে উঠেছি উঠব কিন্তু তা যেন দেরি না হয় পুনরায় গর্জে উঠবার সময় এসেছে, সেই কসাই কাদের এর কি হল? কবে তাকে ফাসির দড়িতে ঝোলানো হবে।

    ভাই সাথে আছি থাকব। সহযোদ্ধা হয়ে সব সময় সাথে থাকার অঙ্গিকার করলাম।

  4. আবেগের কথা .…কিন্তু আবেগ আর
    আবেগের কথা .…কিন্তু আবেগ আর বাস্তবতা এক না.…স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট প্রকাশ করতে গেলে শব্দ-ও কম পরে যায়…

    জয় বাংলা! ! জয় জনতা! !
    বিপ্লব চলছে ,চলবে…

  5. শাহবাগের সেই আন্দোলণ এমন একটা
    শাহবাগের সেই আন্দোলণ এমন একটা ধারণার জন্ম দিয়েছে এখন কোন বিপ্লবই এদেশে পূণরায় সেইই মাত্রা পাবে কিনা সন্দেহ তবে প্রহসনের জবাব আমরা এই প্প্রজন্মে দিয়ে যাব আশা রাখি

  6. আসলে আপনারা জানান কিনা জানি
    আসলে আপনারা জানান কিনা জানি না…. শাহবাগে দ্বিতীয় মহা বিস্ফোরণের ঠিক আগ মূহুর্তে আছি…. ইনশাআল্লাহ আবার গর্জে উঠব……৫ ফেব্রুয়ারি এর কথাটা আবার প্রযোজ্য-” গেলে কিছু হবে কিনা জানি না,কিন্তু না গেলে যে কিছুই হবেনা সেটা আমি sure……….
    http://m.facebook.com/events/138988546305116?ref=stream

  7. এই আবেগ আর ভালোবাসার কোন
    এই আবেগ আর ভালোবাসার কোন তুলনা হয় না। শাহবাগের কথা মনে হলেই আমার কেবল সেই ছবিটার কথা মনে পড়ে। জাতীয় সংগীত গাইতে গিয়ে মধ্যবয়স্ক এক লোকের চোখে জল। এইরকম আবেগ আর ভালোবাসায় দেশের জন্য কাউকে কাঁদতে দেখিনি। এই মানুষগুলো হয়ত খুব সাধারণ। ফেসবুক-ব্লগের সেলিব্রেটি কেউ না। কিন্তু তাঁদের দেশের জন্য ভালোবাসা নিখাদ। অথচ যাদের ডাকে এরকম লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে এসেছিলেন, সেই আমরাই হলুদ-সাদা নানার ব্যান্ডের মোহে পুরো আন্দোলনকে ভুল পথে চালিত করেছি। এখন সেই ব্যান্ড ওয়ালারাই দোষ দেয় শাহবাগের কারনেই নাকি আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে মেয়র নির্বাচনে। নব্য মীরজাফর এরা। এদের জাতি কখনই ক্ষমা করবে না। তবে আমি হতাশ নই। কারন একটা কথা মন থেকে বিশ্বাস করি, নিখাদ ভালোবাসা কখনও ফুরিয়ে যায় না, বা মরে যায় না। দেশের প্রতি ভালোবাসার টানে যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ শাহবাগে ছুটে এসেছিলেন তাঁদের ভালোবাসা অটুট আছে, আর অটুট আছে আমাদের চেতনা। একদিন সেই ভালোবাসা আর চেতনার জয় হবেই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু…

    1. ভাই খুব সুন্দর মন্তব্য।আর আমি
      ভাই খুব সুন্দর মন্তব্য।আর আমি যেই হলুদ ব্যান্ডের কথা বলছি তার কাহিনীটা হল.সে ভেবেছিল এই আন্দোলনে সবার হলুদ ব্যান্ড লাগবে।শামীম ভাই কিন্চিত বোকা মানুষ।আর আমি আজো বিশ্বাস শাহবাগ কোন রাজনৈতিক প্লাটর্ফম না।ওটা প্রজন্মের হাতিয়ার

  8. কিছু অতুলনীয় স্মৃতির কথা
    কিছু অতুলনীয় স্মৃতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন। দুঃখ শুধু সেখানে চেতনার যে বিস্ফোরণ হয়েছে তা সফল হবে কিনা !!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *