তথ্যের ব্যবসা : মানবাধিকারের নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের অধিকার ।

তথ্য হওয়া চাই বস্তুনিষ্ঠ , পর্যাপ্ত উপাত্ত বা রেফারেন্স সহকারে । একটি রিপোর্ট যতই সুন্দর ও মার্জিত বা তথ্যবহুল হোক না কেনো , পর্যাপ্ত রেফারেন্স না থাকলে তার কোনো ভিত্তি বা গ্রহণযোগ্যতা থাকেনা । সেটাকে দুর্বল বা অগ্রহণযোগ্য রিপোর্ট হিসেবে ধরা হবে । একটি সংস্থা যখন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করবে তা গ্রহণযোগ্যতা পাবে তখনি যদি তা তথ্যবহুল , পর্যাপ্ত সূত্র , উপাত্তের গভীরতা এবং মার্জিত ও প্রয়োজনীয় শব্দ থাকে । যেনতেন প্রতিবেদন আর অর্থের বিনিময়ে করা কোনো প্রতিবেদন কখনই সত্যকে তুলে ধরতে পারেনা । কিছু এনজিও বিদেশী অর্থ পাবার আশায় কিংবা বিদেশী অর্থে তাদের খেয়াল খুশি মত প্রতিবেদন প্রকাশ করে । মানবাধিকার নিয়েও কিছু এনজিও গুলো ব্যবসা করে শুধু বিদেশী টাকার লোভে নয় বরং কোনো দল বা গোষ্ঠির পা চাটা কুকুর হয়ে । এই কিছু মানবাধিকার সংস্থা গুলো নিজেদের ফেরেস্তা মনে করে , অবস্থা এমন যে ওরা যা বলছে বা করছে তাই সত্যি আর বাকি সব মিথ্যা । তারা জানে তাদের আটক করা হলে কতিপয় সুশীলের চিত্কার আর বিদেশী কুটনৈতিকদের আবেগ নিয়ে দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে যাবে । হাতেগোনা কিছু ভালো সংস্থার পাশে নৈতিকতা বিসর্জন দেয়া কিছু মানুষ এখন আবেগী সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে ।

এডভোকেট আদিলুর রহমান খান (সুভ্র) , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন । ছাত্র থাকাকালীন সময়ে জাসদ করতেন , পরবর্তিতে যুক্ত হন বিএনপির সাথে এবং বিগত জামাত-বিএনপির আমলে ডেপুটি এটর্নী জেনারেল হন । তার বিতর্কিত মানবাধিকার সংগঠনটির নাম “অধিকার”, এই প্রতিষ্ঠানের সাথে তার যুক্ত হাওয়ার ঘটনাও বিতর্কিত । জনাব খায়রুজ্জামান কামাল , সিনিয়র রিপোর্টার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর লিখা থেকে তুলে ধরি , ” ১৯৯৭ সালের কোন এক শীতের বিকেলে মাসুদ হাসান সিদ্দীকি সমমনা মানবাধিকার কর্মীদের এক সভা ডাকেন ধানমন্ডিস্থ ৮ নম্বর রোডের পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) অফিসে। বেলার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান প্রয়াত ব্যারিষ্টার ড. মহিউদ্দীন ফারুক ছিলেন সে সভার হোস্ট। মাদারীপুর লিগ্যাল এইড এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মো. ফজলুল হক সে সভায় সভাপতিত্ব করেন। পরপর ২/৩ টি সভা বেলাতে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গঠিত হয় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য প্রায় ১৫ জনের মতো। পরে আরো কয়েকজনকে কো-অপ্ট করা হয়।

ইতিমধ্যে “অধিকারের” রেজিস্ট্রেশন করতে কার্যালয় এর প্রয়োজন দেখা দিলে রিক এর নির্বাহী পরিচালক আবুল হাসিব খান তার অফিসের একটি কক্ষ ছেড়ে দেন। সমাজসেবা ও এনজিও ব্যুরোর রেজিস্ট্রেশন পায় অধিকার। এডভোকেট মো. ফজলুল হক-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সদস্য সচিব/নির্বাহী পরিচালক মাসুদ হাসান সিদ্দীকি। তখন সাধারন সম্পাদকের কোন পদ সংস্থার গঠনতন্ত্রে ছিল না।

দাতাসংস্থার কাছ থেকে ফান্ড ম্যানেজ করে কিছু কর্মকান্ড পরিচালনা করেন মাসুদ হাসান সিদ্দীকি। এর এক পর্যায়ে আদিলুর রহমান খান অধিকারের একজন সদস্য হিসাবে বিভক্তি রেখা টানেন। তার পাশে পান এডভোকেট হাসান আরিফকে। বিনা কারণে ও বিনা নোটিশে আদিল ও হাসান আরিফরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল করে নিজেদের অনুগত কতিপয় লোকদের নিয়ে অধিকারের নতুন পকেট কমিটি গঠন করে। এর ফলে অধিকারের অনেক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিরব হয়ে যান কর্মকান্ড থেকে। অনেক সদস্যকে আদিল গ্রুপ সাধার সভায় ডাকে নি। এক পর্যায়ে মাসুদ কে অধিকার থেকে বাদ দেওয়া হয়। কুক্ষিগত করা হয় অধিকারকে।

আদিল ২০০১ সালের পর কক্ষচ্যুত হয়ে বিএনপি ও জামায়াতের আদর্শ গ্রহণ করে এবং তাদের সরকারের ৫ বছরে অধিকারের কর্মকান্ড নিরবে-নি:শব্দে পরিচালনা করে। কারণ অধিকারের সভাপতি হাসান আরিফ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের এর্টনি জেনারেল ও আদিল ডেপুটি এর্টনি জেনারেল হিসাবে কাটায়।”

আলোচিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মিথ্যাচারের কিছু বিষয় উল্লেখ করি ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকায় আসার পথে হেফাজত কর্মীদের উপর আইন শৃংখলা বাহিনী হামলা চালিয়েছে এবং তাদের সাথে ছিল সরকার সমর্থিতরা । অধিকার বলেছে, গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে পুলিশের সহায়তায় সরকার ও আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের সশস্ত্র হামলায় কয়েক`শ হেফাজত কর্মী আহত এবং ৩ জন নিহত হয়েছে । এই তথ্যের কোন উৎস উল্লেখ করেনি অধিকার । এখানে আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতিরোধকে হামলা বললেও হেফাজত কর্মীদের নাশকতা এবং তথ্যের উৎস সম্পর্কে কিছুই বলা হয়না ।

অধিকার বলছে, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশ হেফাজত কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি করে । গুলিতে সাতজন হেফাজত কর্মী মারা যায় । এই তথ্যের উৎস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রত্যক্ষদর্শীকে ।

প্রতিবেদনে পরিস্কার বলা হয়েছে ৬১ জন নিহত হয়েছে । কিন্তু কোনো লিস্ট বা পর্যাপ্ত তথ্য দেয়া হয়নি । ওই ঘটনার পরদিন সকালে জামাত-হেফাজত-বিএনপির নিহেতের সংখ্যা ছিলো ২৪০০ এবং আরো বলেছিলো ৯ ট্রাক লাশ সরানো হয়েছে । যার কোনো ভিক্তি আজও তাদের কেউ দিতে পারেনি ।

প্রতিবেদনে, যৌথবাহিনীর দশ হাজার সদস্য অংশ নিয়েছে বলা হয়েছে । অথচ দেশের প্রায় সব গণমাধ্যম বলেছে এই সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার । নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বেশি উল্লেখ করলেও তথ্যের উৎস দেয়নি অধিকার ।

রাতে আইন-শৃংখলা বাহিনী তৎপরতা শুরুর আগে মতিঝিল ছাড়তে হেফাজত কর্মীদের যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেটা কোথাও উল্লেখ নেই । বরং বলা হচ্ছে, যৌথবাহিনী নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত হেফাজত কর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে ।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের অসংগতি :

১) বিভিন্ন জায়গায় বলা হয়েছে “একজন প্রত্যক্ষদর্শী” এবং নাম ও উল্লেখ নেই । একটি মানবাধিকার সংস্থার তদন্ত রিপোর্টে নাম না জানা প্রত্যক্ষদর্শী উক্তি তথ্যের নির্ভরতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ।

২) পুলিশ ঘুমন্ত মানুষের উপর ঝাপিয়ে পরেছে … এই ধরনের কথা বলবে ভিকটিম , কোনো মানবাধিকার সংস্থা নয় ।

৩) ৬১ জনের কথা বললেও মাত্র তিনজন নিহতের নাম ও পরিচয় দিতে পরেছে এই এনজিওটি ।

৪) মামলার ক্ষেত্রে ‘আনুমানিক’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে । অনুসন্ধানী প্রতিবেদন-ই যদি হয়, তবে কি তা আনুমানিক হবার বা ভাবার কোনো সুযোগ কি থাকে ?

৫) ঘটনার জবানবন্দি দেওয়া হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্সদের তথ্য উৎস হিসেবে ব্যবহার করলেও, তাদের নাম বা পরিচয় প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি ।

৬) অধিকারের Human Rights Monitoring Report, May 1-31, 2013 সংখ্যায় ২৭ জন নিহত উল্লেখ করেছিল । যা পরে বেড়ে ৬১ জন হয় । দুই সময় দুই ধরনের বক্তব্য ।

৭) প্রতিবেদনে ব্যবহার করা ছবিগুলোতে `বাংলার চোখ` নামে অনলাইনে ভিত্তিক একটি সংবাদ ও ফটো এজেন্সির বরাত দেওয়া হয়েছে। এই প্রঠিস্তানের গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ ।

৮) নার্স , ওয়ার্ড বয় কে রেফারেন্স হিসেবে দেখালেও হাসপাতালের নাম ঠিকানা উল্লেখ নাই ।

৯) হাজার হাজার আহত বললেও মাত্র ৬৯ জনের চিকিত্সা নেবার কথা উল্লেখ করেছে যার মধ্যে ২২ জন প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়ে চলে গেছে ।

১০) সরাসরি বুলেটের কথা বলা হয়েছে , কিন্তু আদতে সেদিন রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছে ।

ইচ্ছাকৃত ভাবে বা জেনেশুনে কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছে , যেমন :

১) হেফাজত ইসলামের প্রবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানোর কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ।

২) প্রবিত্র মসজিদে আগুন দেয়া ও মাজার ভাংচুরের বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ।

৩) এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি , অফিস ভাংচুর , অসংখ্য গাড়ি পোড়ানো , ব্যাংক-এ হামলা, ফুটপাথের দোকান পুড়িয়ে দেয়া, বই এর দোকান জ্বালিয়ে দেয়া, স্বর্নের দোকান লুট করা, গাছ উপড়ে ফেলা সম্পর্কে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ।

৪) হেফাজতের জঙ্গি কর্মীদের দ্বারা নারী সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ।

৫) তথ্যানুসন্ধানের উদ্দেশ্য বা ব্যবহার করা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে কোন ধারণা দেয়নি `অধিকার`, বিষয়টি সম্পর্কে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে ।

৬) ওই রাতের ঘটনার পর সরকার এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক প্রেস রিলিজ দেয়ার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়া হয় ।

আদিলের মতো পা চাটা কুকুররা সবসময় মিথ্যার আশ্রয় নেয় কোনো দল বা মতের পক্ষে । মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ‘অধিকার’ তাদের প্রেস রিলিজে ‘ট্রাকে করে লাশ গুম করা হয়েছে’ বলে তথ্য প্রকাশ করেছে । এর আগে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় পরবর্তী সহিংসতাকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছিল ‘অধিকার’। অ-মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হেফাজত কর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি করা হয়েছিল। কিন্তু ডিএমপি কমিশনার বেনজির আহমেদ অপারেশন সম্পর্কে বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের উচ্ছেদ অভিযানে কোনো প্রাণঘাতি বিস্ফোরক ব্যাবহার করা হয়নি । ফলে এখানে শত শত মানুষ মারা যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না । যারা বলেছে তারা মিথ্যাচার করেছে ।’ তিনি আরো বলেন, “আমরা এই ওয়াটার ক্যানন , সাউন্ট গ্রেনেড, স্মোক গ্রেনেড–সব নন-লেথাল অস্ত্র । ওয়ার্ল্ড ক্লাস লজিটিক্স ব্যবহার করেছি । আমাদের লক্ষ্য ছিল জিরো ক্যাজুয়াল্টি ।”

সরকারের গ্রেপ্তার কর্মকান্ডে আরো কৌসলি হওয়া উচিত ছিলো । প্রয়োজন ছিলো গ্রেপ্তার না করে আগে আদালতের মাধ্যমে তথ্য জমা দিতে বলা এবং ব্যর্থ হলে গ্রেপ্তার করা । একই সাথে প্রেস রিলিজ বা প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে অনুসন্ধানী রিপোর্টের অসংগতি গুলো জনসম্মুখে বিস্তারিত তুলে ধরা । তাতে জনগণ বুঝতে পারত কতটা অনৈতিক পন্থায়, কতটা ন্যাক্কর জনক পথে মানবাধিকার নামের এনজিও ব্যবসা করেন এই আদিল । ক্ষমতা আর অর্থ লোভ এদের কতটা নিচে নামিয়েছে রিপোর্টটি তারই বহিঃপ্রকাশ । এখনো সরকারের হাতে সেই সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি ।

সাধারণ ব্যাখ্যায় বাক-স্বাধীনতা হচ্ছে কারো ভাবনা ও মতামত প্রকাশের রাজনৈতিক অধিকার । কখনো কখনো এর সঙ্গে সমার্থক ভাবে অভিব্যক্তির স্বাধীনতা শব্দটি প্রযুক্ত হয় । এতে অবশ্য কোনো তথ্য খোজা , তথ্য প্রাপ্পতা এবং প্রচারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত হয় । বাক-স্বাধীনতা কোনো দেশেই পরম বা ধ্রুব কোনো বিষয় নয় । প্রত্যেক সমাজ বা দেশের আদর্শ ও নৈতিক চরিত্রের মানদণ্ড অনুযায়ী বাক-স্বাধীনতার সুনির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এ ব্যাপারে চরম বা লাগামহীন স্বাধীনতার কোনো সুযোগ নেই। সব দেশেই বাক-স্বাধীনতা যৌক্তিক ভাবেই সীমাবদ্ধ বা খর্ব করা হয় । যেমন :
a) Libel – কাউকে নিয়ে বানোয়াট খবর পরিবেশন করা ।
b) Slander – কারো সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশে তার নামে মিথ্যা খবর পরিবেশন করা ।
c) Obscenity Sedition – ক্ষমতা দখলের উদ্দেশে উগ্র-মতবাদ বা তথ্য পরিবেশন করা ।
d) Copyright Violation – সত্ত্বাধিকার লংঘন ।

দেখা যাচ্ছে উপরে কয়েকটি বিষয় “অধিকার” নামক আবেগী সংস্থা লংঘন করেছে । মানবাধিকার ঘোষণার চতুর্থ অনুচ্ছেদে আছে, স্বাধীনতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে: “স্বাধীনতার অর্থ হল এমন সব কিছু করার ক্ষমতা যা অন্য কারো ওপর আঘাত হানে না বা অন্য কারো ক্ষতি করে না।” কিন্তু বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছা তাই বলা । ফ্রান্সের মানবাধিকার ঘোষণায়ও স্বাধীনতার আইনগত সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। ১৯৬৯ সালের নভেম্বর মাসে গৃহীত মানবাধিকার কনভেনশনের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বাক ও চিন্তার স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি এও বলা হয়েছে যে, বাকী-স্বাধীনতা নিঃশর্ত বা চূড়ান্ত নয়। বাক-স্বাধীনতা ব্যক্তির মর্যাদা, জনগণের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার প্রতি আক্রমণাত্মক হতে পারবে না বলে ওই অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এটা স্পষ্ট আন্তর্জাতিক আইনেও বলা হয়েছে যে বাক স্বাধীনতা সীমিত এবং এর নামে যে কোনো সীমারেখা লঙ্ঘন করা যাবে না।

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে মিথ্যা বা মিথ্যাচার একটি চারিত্রিক ও মানসিক ব্যাধি । যার মধ্যে মনুষ্য রুচিবোধ কিংবা সুস্থ প্রকৃতি বিদ্যমান সে কোনক্রমেই এর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করতে পারে না । এটাই হচ্ছে স্বাভাবিক মনুষ্য ধর্ম । পৃথিবীর সকল ধর্মেই এর প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে । নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্র ব্যতীত মিথ্যা বলার কোনরূপ অবকাশ নেই । এ মিথ্যার মাধ্যমে কারো অধিকার হরণ করা যাবে না, কাউকে হত্যা করা যাবে না এবং কারো ইজ্জম সম্মানে আঘাত হানা যাবে না। বরং কাউকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কিংবা দু’জনের মধ্যে ছিন্ন সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করার জন্য অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মিল-মহব্বত তৈরি করার জন্য এ মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে, অন্যথায় নয় । প্রবিত্র কোরআন-এ উল্লেখ আছে ,
১. আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মিথ্যা তো তারাই বানায় যারা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের ওপর ঈমান রাখে না। বস্তুত তারাই মিথ্যুক।’ (সূরা নাহাল : ১০৫)
২. আবুহুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, ‘মুনাফেকদের নিদর্শন তিনটি : কথা বলার সময় মিথ্যা বলা, ওয়াদা করে ভঙ্গ করা এবং আমানতের মধ্যে খেয়ানত করা।’ (বুখারি : ৩৩, মুসলিম : ৫৯)

সরকারের উচিত অধিকারে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রত্যেকটি অংশ বিশ্লেষণ করে জনসম্মুখে প্রকাশ করা । সত্য , মিথ্যা এবং অসংগতি গুলো তুলে ধরা । সাধারণ মানুষ সবসময় সত্য জানতেই সাচ্ছন্দবোধ করে । যদি আদিল গং কোনরূপ মিথ্যাচার অথবা প্রপগন্ডার আশ্রয় নেয় তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হোক ।

*অধিকারের প্রতিবেদনটি আমি পরেছি, বিশদ বিশ্লেষণে না গিয়ে চৌম্বক অংশগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । এই লিখা সামগ্রিক বিষয়কে তুলে ধরেনা । এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ । পুর্নাজ্ঞ বিশ্লেষণের জন্য অভিজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ কাম্য ।

**আমি বাক স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি । বাক স্বাধীনতা মানে সত্য বলার অধিকার এবং বাক স্বাধীনতা মানে মিথ্যাচার নয়। আমি আরও বিশ্বাস করি যে, বাক স্বাধীনতা মানেই যা ইচ্ছা তা-ই বলা নয়।

৭ thoughts on “তথ্যের ব্যবসা : মানবাধিকারের নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের অধিকার ।

  1. ৬১জন মারা গেছে। তারা সবাই জীন
    ৬১জন মারা গেছে। তারা সবাই জীন পরি ছিল। তাই কোন নাম পরিচয় নাই!
    আর বাঙলার মানুষও বড্ড বোকা। তথ্য প্রমাণহীন বক্তব্য বিশ্বাস করে।
    আর এটা খুব ভালো করেই শুভ্র মহাশয় জানে যে ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে কিছু একটা হাবিজাবি প্রতিবেদন লিখে দিলে বোকা বাঙালি খুব দ্রুত বিশ্বাস করবে! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  2. আমি অধিকারের দেয়া তথ্য
    আমি অধিকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৬১ জন হেফাজত কর্মীর মৃত্যুর কথা বিশ্বাস করবো বা মেনে নিব যদি…

    #বিএনপি এই বলে বিবৃতি দেয় যে, আমরা ‘২৫০০ হেফাজতির মৃত্যু’ কথাটি গুজব হিসেবে রটিয়েছিলাম যাতে সরকার বেকায়দায় পড়ে।আমরা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এমন মিথ্যাচারিতা করেছি।আমরা আমাদের ভুল স্বীকার করে অধিকারের দেয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬১ জন হেফাজতি মৃত্যুর তথ্যকে সত্য ধরে নিয়ে এর সুষ্টু ও আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ তদন্ত দাবী করছি ।

    #হেফাজত এই বলে বিবৃতি দেয় যে, আমরা প্রকৃতপক্ষে মিথ্যাবাদীর গোষ্টি ।আমাদের নেতা আল্লামা শফি একজন মিথ্যুক ।আমরা দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা হিসেবে এমন মিথ্যাকে সমর্থন জানিয়ে বলেছিলাম শাপলা চত্বরে আমাদের ২৫০০ হেফাজতি কর্মী শহীদ হয়েছে।এখন আমরা ভুল বুঝতে পেরেছি ও অধিকারের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য জেনেছি যে, ঐ দিন আমাদের মাত্র ৬১ জন কর্মী শহীদ হয়েছিল।আমরা এই ৬১ জন কর্মী হত্যার বিচার চাই।

    #জামাত এই বলে বিবৃতি দেয় যে, ৫ তারিখে শাপলা চত্বরে পুলিশি একশনের ব্যাপারে এই পর্যন্ত যত বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছি তা সম্পুর্ন মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য মুলক।আমরা অতীতে দেয়া সব বক্তৃতা বিবৃতি প্রত্যাহার করে বর্তমানে অধিকারের দেয়া প্রতিবেদনের উপর পুর্ন সমর্থন ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ৬১ জন জিহাদী হত্যার ন্যায়বিচার দাবী করছি।

  3. ক্ষমতার পালা বদলের শেষ বছর
    ক্ষমতার পালা বদলের শেষ বছর এটি । এ সময় ঘাপটি মেরে থাকা চক্রান্তকারী গ্রুপ ব্যাপক সক্রিয় হবে । সরকারের উচিৎ পুরো বিষয়টা জনগনের সামনে তুলে ধরা । আপনার তথ্য বহুল পোস্টের জন্য ধন্যবাদ !

  4. আর মাত্র একটা টার্ম যদি
    আর মাত্র একটা টার্ম যদি আওয়ামীলীগ থেকে যায় তবে সব ভেজাল জঞ্জাল একেবারে না হলেও মোটামুটি পরিস্কার হয়ে যাবে ।আমাদের শক্তিশালী অবস্থানই সে দিকটা নিশ্চিতে ভুমিকা পালন করতে পারে ।

  5. শহিদ ভাই দুটি মন্তব্যের সাথে
    শহিদ ভাই দুটি মন্তব্যের সাথে আমি শতভাগ একমত পোষণ করছি, আর কিছু বলার আছে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে না।

  6. মজার ব্যাপার হচ্ছে পাবলিক
    মজার ব্যাপার হচ্ছে পাবলিক জামাত শিবিরের ছড়ানো গুজব ভালোই খায়। কিন্তু জামাত শিবির নিয়ে সামান্য গুজব ছড়ালেই পাবলিকের মানুবাধিকার চেগিয়ে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *