জন্মদানের ব্যাথা … জন্মদিনের আনন্দ …

আজ থেকে ২৩ বছর আগে ১৯৯০ সালে , তীব্র প্রসব ব্যাথায় চিৎকার করছে একটি কিশোরী মেয়ে । বয়েস তার তখন সবে মাত্র সতের পেরিয়ে আঠার-র দিকে ধাবমান । এইতো কিছুদিন আগেই তার উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরোল । খুব ভাল রেজাল্ট করেছে । যখন তার বান্ধবীদের সাথে হাসতে হাসতে বেনি দুলিয়ে ভার্সিটিতে যাওয়ার কথা ঠিক তখন কোন খেয়ালের বসে মেয়েটির বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দিল । এক স্কুল মাষ্টার ছেলের সাথে । শর্ত হল মেয়েকে পড়ালেখা করাতে হবে । মাষ্টার সাহেব ও শর্ত মেনে বিয়ে করে ফেললেন । এবং তাকে পুরোপুরি শিক্ষিত করলেন … অবশ্য এতে মেয়েটির অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং আগ্রহই প্রধান ভুমিকা পালন করেছে যদিও …


আজ থেকে ২৩ বছর আগে ১৯৯০ সালে , তীব্র প্রসব ব্যাথায় চিৎকার করছে একটি কিশোরী মেয়ে । বয়েস তার তখন সবে মাত্র সতের পেরিয়ে আঠার-র দিকে ধাবমান । এইতো কিছুদিন আগেই তার উচ্চ মাধ্যমিকের ফল বেরোল । খুব ভাল রেজাল্ট করেছে । যখন তার বান্ধবীদের সাথে হাসতে হাসতে বেনি দুলিয়ে ভার্সিটিতে যাওয়ার কথা ঠিক তখন কোন খেয়ালের বসে মেয়েটির বাবা তাকে বিয়ে দিয়ে দিল । এক স্কুল মাষ্টার ছেলের সাথে । শর্ত হল মেয়েকে পড়ালেখা করাতে হবে । মাষ্টার সাহেব ও শর্ত মেনে বিয়ে করে ফেললেন । এবং তাকে পুরোপুরি শিক্ষিত করলেন … অবশ্য এতে মেয়েটির অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং আগ্রহই প্রধান ভুমিকা পালন করেছে যদিও …

বিয়ের দুই বছরের মাথায় সেই মেয়ে গর্ভবতী । হঠাত একদিন তীব্র প্রসব ব্যাথা । মেয়ের বাবার বাসায় কোনার দিকের একটা ইলিউসিভ আধো আলো আধো অন্ধকার রুমে নিয়ে গিয়ে তাকে শোওয়ানো হল । ধাই খালাও চলে এসেছেন । কিন্তু জন্মদানের মত পবিত্র ব্যাথার মধুর যন্ত্রণা কি আর ধাই খালা কমাতে পারেন !! ক্রমেই বেড়ে চলে মেয়েটির চিৎকার । কিন্তু পাজী শিশুটি পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান মাতৃগর্ভ ছেড়ে কলুষিত পৃথিবীতে আসতে চায় না । সে শুরু করেছে দুষ্টামি । সে আসবে না তো আসবেই না … এদিকে সে কি যুদ্ধ সবার … শিশুটিকে বাইরে বের করতেই হবে …

জন্মের সময়ই শিশুটি বুঝিয়ে দিল সে কতটা দুষ্ট , কতটা অলস , কতটা খেয়ালী … সে বের হয় না তো হয়ই না । সন্ধ্যা পেড়িয়ে ঘরির কাটা ১১ ছুঁই ছুঁই । কিন্তু অলস শিশুর আসার নামগন্ধ নেই । এদিকে সেই মেয়ে তো কষ্ট পেয়েই চলেছে , পেয়েই চলেছে । তখনই মেয়েটার বুঝা উচিত ছিল এই ছেলে সারাজীবন জ্বালাবে , সারাজীবন এমন কষ্ট দিবে … দুষ্টুমি করে , কথা না শুনে …

নইলে দেখুন , বাইরে এত এত মানুষ অপেক্ষায় , অথচ সেই ছেলের জন্মের নাম গন্ধ নেই ! মাতুল বংশের প্রথম সন্তান । বাবা , নানা , নানু , মামা , খালা সবাই অপেক্ষায় … সবাই তার জন্মের জন্য অপেক্ষা করছে । সবাই আনন্দ মেশানো উদ্বেগ নিয়ে তার আগমনের প্রহর গুনছে …

আর সেই অলস ছেলে … বেরোবে কি করে ? সে নাকি জন্মের আগে আগে কিছুক্ষণের জন্য মাতৃগর্ভে ঘুমিয়ে গিয়েছে !! অবশেষে ঘুম ভেঙ্গে হেলতে দুলতে বেরিয়ে এসেছে বাইরে … একদম মাঝরাতে … আহ শান্তি … যাক এইবার সেই কিশোরী মেয়েটার কষ্ট কিছুটা কমবে …

পরে সেই মায়ের কষ্ট তো কমেই নি … উল্টো বেড়েছে … সারাজীবন জ্বালিয়ে যাচ্ছে সেই ছেলে … কথা না শুনে , ঠিক মত পরাশুনা না করে , ঠিক মত না খেয়ে না দেয়ে , সারাদিন বাইরে ঘুরোঘুরি করে … এমনি আরও হাজারো হাজারো অভিযোগ সেই মায়ের …

… আমি তোমাকে এত জ্বালালে কি হবে … আমি তোমাকে সত্যি সত্যিই অনেক অনেক ভালবাসি আম্মু … আর এত এত জ্বালাই কেন জানো ? আসলে আমার শুধু তোমার বকা শুনতে ভাল লাগে … অভিযোগ শুনতে ভাল লাগে … আমি আমি যদি না জ্বালাই তো বকবে না … বকা শুনতেও পারব না … এই জন্যই তো জ্বালাই … এমন করো কেন … একটু জ্বালালে কি হয় … !!!

আজকে সেই ১৯ শে আগস্ট … সেই শিশুটির , মানে আমার জন্মদিন …

আব্বু এবং আম্মু তোমাদের দু জনকেই কোটি কোটি ধন্যবাদ আমাকে জন্মদানের জন্য …
এই পৃথিবীর আলো বাতাস দেখানোর জন্য … এবং এত এত জ্বালা সহ্য করে আমাকে পালবার জন্য … আমি চাই ভবিষ্যতেও তোমরা এইভাবে আমার জ্বালা সহ্য করে আমার মত অপদার্থকে পালো … ইনশাল্লাহ … গাধা একদিন মানুষ হবেই … 😛 😛

আসলে জন্মদিন তো … তাই একটু বেশিই এক্সাইটেড … এই আর কি … ( নইলে গাধা কখনো মানুষ হয় না কি … 😛 😛 )

৭ thoughts on “জন্মদানের ব্যাথা … জন্মদিনের আনন্দ …

  1. শুভ জন্মদিন গা* বাকিটুকু আর
    শুভ জন্মদিন গা* বাকিটুকু আর কইলাম না ভাই 😀

    আমার দোয়া সব সময় আপনার সাথে থাকবে, আপনি একদিন মানুষ হবেনই, হতেই হবে আপনাকে। দেখিয়ে দিন বিশ্বকে, আপনিও পারেন 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *