সংলাপ – ৩

-হ্যা … হ্যালো রুদ্র । তুমি শুনছো ?

-বলো

-কি হয়েছে তোমার ? দুইদিন ধরে ক্রমাগত ফোন করে যাচ্ছি । তোমার বন্ধুরাও তোমার কোনো খবর দিতে পারেনি । আচ্ছা, ফোন কেন বন্ধ করে রেখেছিলে ?………. তুমি কিছু শুনছো ?

-আহ ! শুনছিতো বলো ।

-এতক্ষন কী বললাম !!! রাগ করেছো আমার উপর ?



-হ্যা … হ্যালো রুদ্র । তুমি শুনছো ?

-বলো

-কি হয়েছে তোমার ? দুইদিন ধরে ক্রমাগত ফোন করে যাচ্ছি । তোমার বন্ধুরাও তোমার কোনো খবর দিতে পারেনি । আচ্ছা, ফোন কেন বন্ধ করে রেখেছিলে ?………. তুমি কিছু শুনছো ?

-আহ ! শুনছিতো বলো ।

-এতক্ষন কী বললাম !!! রাগ করেছো আমার উপর ?

– রাগ বা অভিমান হয় এমন কিছুতো তুমি করোনি নীলা

– তবে কেন এমন নীলকণ্ঠ পাখি হয়ে আছো ?

– উম নীলকণ্ঠ ! তুমি ঠিকই বলেছো নীলা । ত্রিশ লক্ষ আত্মার অভিশাপের বিষ বুকে নিয়ে নীলকণ্ঠ হয়ে গেছি …

– বুঝেছি । আমার মনটাও ভালো নেই । কিন্তু …

– জানো, একটি হায়েনার মৃত্যুদৃশ্য প্রত্যক্ষ করবো বলে সেই কবে থেকে চেতনায় বারুদ জমিয়েছি । কথা ছিলো অগ্নি মশাল জ্বালিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করার । অথচ সেই বারুদের স্তুপে আততায়ী এসে জ্বলন্ত দেয়াশলাই কাঠি ছুঁড়ে দিয়ে গেছে । দাউ দাউ আগুণ বুকে জ্বলছি অনুক্ষণ । আমাকে বলো তুমি, যাকে নব্বই বার ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিলেও মনে হবে ওর অপরাধের বিচারে কিছুমাত্র শাস্তি দেওয়া হলোনা এখনো, সেই তাকে ৯০ বছরের জন্য জীবনদান !!! এ কেমন প্রসন ! আমি কী জবাব দেবো ইতিহাসের অবিকৃত হিরণ্ময় পৃষ্ঠাদেরকে ! আমি কীভাবে দাঁড়াবো জননীর অতন্দ্র প্রহরী দৃষ্টির সামনে ! আমাকে তুমি বলো, চার লক্ষ বোনের, মায়ের লজ্জ্বার বেদীতে দিতে কী অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়াবো !

– আমাদের সম্মিলিত ইচ্ছে এবং আবেগের ঠিকাদারি নিয়েছিলো ওরা ইশতেহার বানিয়ে । এখনো গভীর করে তাকালে দেখতে পাই বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে দস্তখতের নীল চিহ্ন । দু’বেলা দু’মুঠো ভাত আর স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা চেয়েছিলাম । অথচ আমাদের ভাগে জুটলো রাশি রাশি শুন্য শুন্য আর আবেগের বিকিকিনি অতঃপর করুণ মৃত্যু !

– তোমাকেই বলি নীলা শোন, নিরাবেগ বুকে থাকে শুধুই আগুণ । পোড়ে এবং পোড়াতেও জানে ।

২৩ thoughts on “সংলাপ – ৩

  1. ফোনকলের দু প্রান্তের কথামালা
    ফোনকলের দু প্রান্তের কথামালা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে কবিতায় রূপ দিয়েছেন ।ভাল লাগলো।

    1. এইটা তো কমার মতো কোন ক্ষোভ
      এইটা তো কমার মতো কোন ক্ষোভ না, বুইরা না মরা পর্যন্ত ক্ষোভ থাকবেই, বরং ক্ষোভ আরও দিনকে দিন বারতাছে

  2. একটি হায়েনার মৃত্যুদৃশ্য

    একটি হায়েনার মৃত্যুদৃশ্য প্রত্যক্ষ করবো বলে সেই কবে থেকে চেতনায় বারুদ জমিয়েছি । কথা ছিলো অগ্নি মশাল জ্বালিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করার । অথচ সেই বারুদের স্তুপে আততায়ী এসে জ্বলন্ত দেয়াশলাই কাঠি ছুঁড়ে দিয়ে গেছে । দাউ দাউ আগুণ বুকে জ্বলছি অনুক্ষণ । আমাকে বলো তুমি, যাকে নব্বই বার ফাঁসি কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিলেও মনে হবে ওর অপরাধের বিচারে কিছুমাত্র শাস্তি দেওয়া হলোনা এখনো, সেই তাকে ৯০ বছরের জন্য জীবনদান !!!


    অনবদ্য শুধুই :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:

  3. আমি কী জবাব দেবো ইতিহাসের

    আমি কী জবাব দেবো ইতিহাসের অবিকৃত হিরণ্ময় পৃষ্ঠাদেরকে ! আমি কীভাবে দাঁড়াবো জননীর অতন্দ্র প্রহরী দৃষ্টির সামনে ! আমাকে তুমি বলো, চার লক্ষ বোনের, মায়ের লজ্জ্বার বেদীতে দিতে কী অর্ঘ্য নিয়ে দাঁড়াবো !

    আমাদের আবেগ নিয়ে খেলা হয়েছে, ঘৃণ্য খেলা।

    1. অবাস্তব স্বপ্নচারী,
      তাই …?

      অবাস্তব স্বপ্নচারী,
      তাই …? তথাপি ধন্যবাদ !
      ( অন্য কোথাও হইলে কিছু যুক্তি প্রদর্শন করিতাম, এখানে দিলে নিজের ঢোল পেটানো হয়ে যাবে )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *