থাপ্পর

খুব ইচ্ছা করছে সেইদিনটার কথা বলতে।তখন আমি আজকের মত যুক্তিবাদী ছিলাম না।মানুষ যা করত তাই করতে চেষ্টা করতাম।সবার সব কথাকেই সত্য মনে হত।বুঝতাম না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল।আমার আজকের চেতনার মূলে রয়েছে সেই দিনটা।

খুব ইচ্ছা করছে সেইদিনটার কথা বলতে।তখন আমি আজকের মত যুক্তিবাদী ছিলাম না।মানুষ যা করত তাই করতে চেষ্টা করতাম।সবার সব কথাকেই সত্য মনে হত।বুঝতাম না কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল।আমার আজকের চেতনার মূলে রয়েছে সেই দিনটা।
বাবা সিলেট শাহজালাল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর।তিনি বছরের অধিকাংশ সময়ই বাড়িতে থাকত না।সিলেটে থাকত।আমি আর আমার মা দাদু ,দাদীর সাথে থাকতাম ঢাকায়।প্রতিদিন বিকালে খেলতে যেতাম।তাই খেলা দেখার প্রতিও একটা নেশা হচ্ছিল।কিন্তু তখন সেভাবে খেলা বুঝতাম না।বেশ ছোট ছিলাম তখন,বয়স সাত বা আট হবে।ক্রিকেট বলতে তখন অনেকেই পাকিস্তান অথবা ভারত কে সাপোর্ট করে।তাই আমিও নির্বোধের মত সেই দেশগুলাকেই সার্পোট করতাম।ছোটবেলায় আবার আমি আবাল দ্যা গ্রেট ছিলাম।একদিন পাকিস্তান আর নিউজিল্যান্ডের খেলা হচ্ছে,আমি একটু পর পরই নির্বোধের মত পাকিস্তান , পাকিস্তান করে চিৎকার করছি।দাদাজান একটু বিরক্ত হয়ে বলল,দাদু তুই ওদেরকে কেনো সমর্থন করছিস?দীদা একটু প্রতিবাদ করে বলল,আহ বাচ্চা ছেলে ও কি আর বুঝে এত কিছু।তাই আমি আবার খেলা দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম আর একটু পর পর পাকিস্তান,পাকিস্তান করে যাচ্ছি।দাদাজান বিরক্ত হয়ে অন্য ঘরে চলে গেল।আম্মু রান্না করায় ব্যস্ত ছিল , একটু পর এসে বলল,”এই চুপচাপ খেলা দেখ,পাকিস্তানের নাম নিয়ে চিল্লাবি না,নাইলে কিন্তু এমন পিটুনি দিব”আমি বললাম আচ্ছা।কিন্তু আমি একটু পরে আবার চিল্লাতে লাগলাম, পাকিস্তান,পাকিস্তান ।আম্মু এসে এবার আদর করে বুঝিয়ে গেল পাকিস্তান ভাল না,ওরা আমাদের এই দেশের সাথে অনেক খারাপ কাজ করছে।ওদেরকে কেন তুমি সার্পোট করবা।এবার দীদাও আমাকে সার্পোট করল না।তাই আমি একটু মাথা নাড়িয়ে আম্মুর কথায় সায় দিলাম।
আম্মু চলে যাওয়ার একটু পরে আবার শুরু করলাম ,”পাকিস্তান পাকিস্তান”।কারন আমি ছিলাম আবাল দ্যা গ্রেট।
এইবার আম্মু এসে মাইর থেরাপি দিল।ঠাস করে একটা থাপ্পর দিল।আম্মু আমাকে কখনোই মারেনি।তাই অবাক হয়ে তাকালাম।আর ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদতে লাগলাম।দাদাজান এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বোঝাল।দীদা আম্মুকে একটা সূক্ষ্ন ঝারি দিল।আম্মুও কষ্ট পেয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে একটু আদর করে দিল।আর একাত্তর সম্পর্কে অনেক কথা বলল।আমাকে বুঝাল কত কথা।তেমন কিছু অবশ্য বুঝিনাই।মাইরের কি মহিমা … মাইর খাওয়ার একটু পরেই “নিউজিল্যান্ড,নিউজিল্যান্ড” করতে লাগলাম।:P
বিকালে দাদাজান আমাকে বাইরে নিয়ে গেলেন বেড়ানোর জন্য , দুইটা বেলুন আর বাংলাদেশের একটা পতাকা কিনে দিলেন।এখনও মাঠে বাংলাদেশের খেলা দেখতে গেলে দাদাজানের দেওয়া ওই পতাকা মাথায় লাগিয়ে যাই।কখনোই পাকিস্তানের কোন কিছুকেই সার্পোট করিনা।কারন আমার আম্মু আমাকে তা শেখায়নি।আমার বাবা এই দেশের সাথে বেঈমানি করেনি।আমার দাদাজানও করেনি।আমিও করবনা।আমার আম্মু একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।তার কোলে জন্ম নেওয়া আমিও আজ এক তরুন মুক্তিযোদ্ধা।
আম্মুর মাইর থেরাপি ওইদিন খারাপ লাগলেও এখন মনে হয় ঠিকই করছিল।আসলে মাইরের উপ্রে কোনও ওষুধ নাই।এখনও বাংলাদেশে কিছু ভারত আর পাকিস্তানি প্রেমী আছে , দুইটারেই মাইরের উপ্রে রাখতে হবে।
মাইর শেষে সবাইকে একটা করে ভারত , পাকিস্তানের প্লেনের টিকিট ধরাই দিলে আরও ভাল।
এই দেশে কোন ভারত,পাকিস্তানী­ না… শুধু বাঙালী থাকবে , মনে প্রানে দেশকে ভালবাসা বাঙালী।
যখন কেউ বাঙালীর উপর জোড় দিয়ে কথা বলে ,অসম্ভব ভালো লাগে । আমি বাঙালী ।আমরা বাঙালী ।

২৩ thoughts on “থাপ্পর

  1. ইশশ!!! কিছু ছাগলের বাপ-মা যদি
    ইশশ!!! কিছু ছাগলের বাপ-মা যদি ছোটকাল থেকে এগুলারে থাপড়াইতো তাহলে আজ তাঁরা ছাগল থাকত না,তবুও আশা করি ছাগলরা একদিন ছাগুদ্দশা থেকে মুক্তি পাবে :জলদিকর:

  2. মাইর খাওয়ার একটু পরেই

    মাইর খাওয়ার একটু পরেই “নিউজিল্যান্ড,নিউজিল্যান্ড” করতে লাগলাম।

    :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    ভালো লাগছে আপনার মাইর খেয়ে মানুষ হওয়ার কাহিনী পড়ে। আপনার আম্মুকে স্যালুট রইল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আতিক ভাই আসলেই কিন্তু মাইর
      আতিক ভাই আসলেই কিন্তু মাইর খাওয়ার একটু পরেই “নিউজিল্যান্ড,নিউজিল্যান্ড” করে চিল্লাইতাছিলাম। :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:
      আপনার স্যালুট তাকে জানায় দিবনি
      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. আমি বাঙালী ।আমরা
    আমি বাঙালী ।আমরা বাঙালী…
    চমৎকার সরল কথন!! অনেক ভাল লাগল।। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *