ক্যামেরার ফ্ল্যাশ

মিজান ভাইয়ের চায়ের দোকানে বসে সিগারেট ফুঁকছিল হঠাত একটা রিকশা এসে থামল দোকানের সামনে। রিকশা থেকে একটা মেয়ে নেমে এলো। রাজীবের মনে হলো রিকশা থেকে একটা পরী নেমে এসেছে।

-এই, তুমি আবার সিগারেট খাচ্ছো? তোমাকে না একদম নিষেধ করেছি সিগারেট ধরতে!!

মুগ্ধ হয়ে সাইফা’র মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে রাজীব। এদিকে সাইফা কতকিছু বলে চলেছে কিন্তু কিচ্ছু কানে ঢুকছেনা রাজীবের। রাজীব শুধু ভাবছে, রাগলে মেয়েটাকে এত সুন্দর লাগে, সেই সৌন্দর্য যেন তার ভিতরটাকে ছিড়ে ফেলছে মায়ার আঘাত করে। রাজীব মনে মনে ভাবে এই মেয়েটিকে মাঝে মাঝেই রাগিয়ে দিতে হবে কারণে কারণে…

মিজান ভাইয়ের চায়ের দোকানে বসে সিগারেট ফুঁকছিল হঠাত একটা রিকশা এসে থামল দোকানের সামনে। রিকশা থেকে একটা মেয়ে নেমে এলো। রাজীবের মনে হলো রিকশা থেকে একটা পরী নেমে এসেছে।

-এই, তুমি আবার সিগারেট খাচ্ছো? তোমাকে না একদম নিষেধ করেছি সিগারেট ধরতে!!

মুগ্ধ হয়ে সাইফা’র মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে রাজীব। এদিকে সাইফা কতকিছু বলে চলেছে কিন্তু কিচ্ছু কানে ঢুকছেনা রাজীবের। রাজীব শুধু ভাবছে, রাগলে মেয়েটাকে এত সুন্দর লাগে, সেই সৌন্দর্য যেন তার ভিতরটাকে ছিড়ে ফেলছে মায়ার আঘাত করে। রাজীব মনে মনে ভাবে এই মেয়েটিকে মাঝে মাঝেই রাগিয়ে দিতে হবে কারণে কারণে…

-সরি সরি, দেখো; সারাদিনে আজকে এই প্রথম সিগারেট। আর ছাড়বো বললেই কি ছাড়া যায়? তুমি এভাবে টর্চার করলে অবশ্যই ছেড়ে দেব, বলে দাত কেলিয়ে হাসতে থাকে আর সাইফাকে আরো রাগিয়ে দিতে থাকে।

সাইফা’র সাথে রাজীবের প্রথম দেখা একটা কমিউনিটি সেন্টারে। রাজীব কুঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল হঠাত কোত্থেকে এসে একগাদা ফুলের মালা তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে দিল একটা মেয়ে, কিছু বলারও সুযোগ পেলোনা। পরে অবশ্য তাদের পরিচয় করিয়ে দেয় সাইফা’র খালাতো ভাই রিফাদ। রাজীব যখন শুনতে পায় রিফাদ এর খালাতো বোন সাইফা তখন প্রচন্ড এক ধাক্কা খায় রাজীব। কারন, প্রথম দেখাতেই মেয়েটির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো রাজীব, আর রাজীব হিন্দু কিন্তু মেয়েটি মুসলিম।
তবুও রাজীবের সাথে সাইফা’র কথা হতো ফোনে। এভাবে ওরা খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায় একসময়। কিন্তু রাজীব কখনোই সাইফা’কে তার মনের কথাটি বলেনি।

-এই উঠোতো একটু শপিঙে যাব।
-কোথায়?
-আরে বাবা, চলোই না।
-ওকে চলো।

মার্কেট যাওয়ার পর শাড়ীর দোকানগুলো ঘুরতে থাকে সাইফা আর রাজীব। সাইফা রাজীব কে একটা গায়ে হলুদের শাড়ি পছন্দ করে দিতে বলে। রাজীব জিজ্ঞেস করে-
-গায়ে হলুদ কার?
-আমার এক আত্মীয়ের।
-ওহ।

গায়ে হলুদের শাড়ি আর কিছু প্রসাধনী সামগ্রী কিনে তারা রওনা হ্য আড়ং এর উদ্দেশ্যে। সেখানে গিয়ে সাইফা রাজীবকে জোর করে পাঞ্জাবী কিনে দেয়। হিমু পাঞ্জাবী টাইপ। সারাদিনের ক্লান্তি এবং ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে তারা একটা রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হয়। খাবার অর্ডার করে সাইফা রাজীব কে বলে-
-একটা সারপ্রাইজ আছে…
-কি সারপ্রাইজ?
-নেক্সট উইক এ আমার বিয়ে। তোমাকে সারপ্রাইজ দেব বলে কিছু বলিনি এতদিন। পাত্র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। দেখতে শুনতেও ভাল, ভাল বংশ। পাত্রের ছোটভাই ঢাবি তে ফিজিক্স পড়ে।
রাজীব এর সারা পৃথিবী হঠাত স্তব্ধ হয়ে যায়, সবকিছু যেন অসাড় হয়ে আসছে। মস্তিষ্ক কিছু চিন্তা করতে পারছেনা। অস্ফুট স্বরে শুধু বলে-
-হ্যাঁ, খুব ভাল। বলে মুখে একটা কৃত্রিম হাসি ঝুলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে।
-তুমি খুশি হওনি? অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে সাইফা।
-কি যে বল, খুশি হবনা কেন? আমি অনেক খুশি। অনেক মজা করব তোমার বিয়েতে। আচ্ছা তুমি একুটু বস, আমি ওয়াশ রুম থেকে আসি।

আজ সাইফা’র গায়ে হলুদ। সাইফা’র কিনে দেয়া হলুদ পাঞ্জাবী পরে আছে রাজীব। চারিদিকে এত উজ্জ্বল আলো চোখ ধাধিয়ে দিচ্ছে। একের পর এক ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলসে উঠছে, বন্দী করে রাখছে নারীর জীবনের অনেক আকাঙ্খিত এক ঘটনার…আর অপরদিকে রাজীবের মনের ভেতর নীরবে বয়ে যাওয়া ঝর কোনো ক্যামেরাই বন্দী করে রাখলোনা। রাখা সম্ভবও না, এই অনুভুতি ক্যামেরায় বন্দী করা সম্ভব নয়। অকস্মাৎ কি যেন হয় রাজীবের…দৌড়াতে দৌড়াতে বাসার ছাদে উঠে সে। চিলেকোঠার দরজাটা লাগিয়ে দেয়, তারপর রেলিঙ্গের উপর বসে বাচ্চাদের মত কাঁদতে শুরু করে…আর বির বির করতে থাকে, আই লাভ ইউ সাইফা, আই লাভ ইউ এ লট।

১৩ thoughts on “ক্যামেরার ফ্ল্যাশ

      1. মান-টান বুঝি না, এইটা কোন
        মান-টান বুঝি না, এইটা কোন অভিজ্ঞতা নাকি নিছকই একটা গল্প?
        :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চোখমারা: :চোখমারা: :চোখমারা: :চোখমারা:

  1. সপ্নচারী ভাইয়ের সাথে একমত।
    সপ্নচারী ভাইয়ের সাথে একমত। কবিরা যদি গল্প লিখে কিভাবে হবে বলেন?
    প্লিজ মন খারাপ করবেন না, আপ্নার কবিতা ভাল লেগে দেখেই চক্ষুলজ্জা ভুলে মতামত বলেই ফেললাম!

    1. হা হা হা…ব্যাপার না। আমার
      হা হা হা…ব্যাপার না। আমার এই গল্প টা খারাপ হয়েছে জানি। আমার অন্য গল্প গুলো পড়ে মন্তব্য করার অনুরোধ রইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *