মুখোশের অন্তরালে

অর্থ বিত্তের মোহ ত্যাগ করতে পারো চায়ের কাপে,নৈতিকতার জন্য নীতি কথা বলে কাপ ভরে ফেলো থুথুতে। সেই তুমিই অর্থের মোহে, স্বার্থের জন্য ভাঙ্গন লাগা নদীর পানির মতো পাক খাও দুর্নীতিবাজ আমলার পা’য়ের চারপাশে। স্বার্থের জন্য মুখোশ পড়ে যেমন মানুষ সাজো ঠিক তেমনি কামে, হিংসায়, ভোগে, লালসায় লকলকে লম্বা আগুন জিহ্বা বেড় করে প্যাচিয়ে নেও অজগর হয়ে। টাকার লোভে মেয়ে পাড়ায় বিকিয়ে আসো। তাবু দিয়ে ঢাকতে চাও ভোগের বস্তু নারী দেহ। কাম ভাবনায় নামাজের দোয়া ভুলে যাও। নারী দেহ পিপাসু চোখের অস্থিতিশীলতায় পুজার মন্ত্র ভেবে বিড়বিড় করো রতি ক্রিয়ার মন্ত্র। ট্যারা চোখে খুঁজতে থাকো উদ্দাম বুক; শাস্তি দেও ভালবেসে হাত ধরলে। মদের চিন্তায় ঘুম হয় না; গেলাসের পর গেলাস খাও আর তওবা করো পাপের ভয়ে। হায়রে মানুষ গোত্রের পুরুষ মানুষ! করুণা হয় তোমাদের জন্য মাঝে মাঝে বাকিটা সময় ঘৃণা। অন্যকে চোর অপবাদ দিয়ে তার দিকে আঙ্গুল তুলে নিজেকে ভালো প্রমান করা কেনো? চলে আসা ধারায় চললে ভাল না চললে মন্দ- না ভেবে, একবার ভেবে দেখো প্রয়োজনেই ভাল মন্দের সম্পূরক। মনের আগল খুলে ভাবনাকে মুক্তি দেও। শুধু একবার নিজের সামনে নিজে দাঁড়াও পারলে।

কাজের মেয়ে গর্ভবতী হলে তাকে খাঙ্কি বলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বেড় করে দেও। খুব বজ্জাত মহিলা হলে বরকে দুই একবার লুচ্চা বলে গাইল দেও। দয়ালু হলে ফার্মেসী থেকে ওষুধ এনে খাওয়া বা পাড়ার ঘুপচি ক্লিনিকে নিয়ে আব্যারশন করায়ে দেও। মন শক্ত করে কি সিংহ দুয়ার দিয়ে বেড় হয়ে চলে আসতে পেরেছো?পারো না তো? ভাবো কই যাবো? কি করবো? হায়রে মেয়ে মানুষ! স্বামী নামক আহ্মমকের ঘরে ঘানীর বলদ হয়ে যে তেল তুমি দিচ্ছো এইটা নিজের জন্য করো। বিনা বেতনে সকাল থেকে রাত; রাত থেকে সকাল সব করো শুধু খাওয়া পড়ার জন্য! ধর্ষিত মেয়েটার কুৎসা গাইতে হারমনিকা নিয়ে রাস্তায় নামো অথচ নিজের আত্মসম্মানে জন্য এক পা ফেলো না। রাতে মাতাল স্বামীর মার খেয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বমি পরিষ্কার করো। যতটা গলার স্বর উচ্চাতায় নিয়ে যাও বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি’কে আশ্রয়হীন করতে; ততটা লুচ্চামির জন্য করেছো কখনো? এক সময়ের গৃহকর্তা কে অন্ন-বস্ত্র হীন করতে যতটা দৃঢ় চিত্তে অগ্নিগিরির লাভার মতো ভাষার প্রয়োগ করো, তার সিকি ভাগ কি করেছো ধর্ষিতা মেয়েটার জন্য। দেবর-ননদ কে চোখের আগুনে ভস্ম করায় অটল থাকো ঠিক ততটা কঠিন, অটল হতে পারো না কেনো অন্যায় কে না বলতে? মান সম্মানের প্রতি বড়ো সম্মান তোমাদের। একবার তাকে ছুয়ে দেখেছো কেমন তার তাপমাত্রা, কেমন তার উচ্চতা, আকার আয়তন। বেকার বস্তুর নামে বলি হও। যার ভার তোমার না সেটা তুমি বয়ে নেও ওদিকে পড়ে পড়ে মার খায় নিজের সর্বস্ব। মনের বিরুদ্ধে যাওয়াই অসম্মানের। আত্মমর্যাদা নিজের কাছে নিজের। যে পুরুষ লুচ্চা তাকে ভালাবাসি বলে ছেড়ে আসতে পারবো না ভেবে চোখের পানি না ফেলে ওকে ছুড়ে ফেলো ডাস্টবিনে। নিজের সামনে দাঁড়াও একবার শুধু একবার।

মুখোশের আড়ালে থাকা তোমার মুখটা একবার কি চেয়ে দেখেছো? মুখোশ খুলে; আয়নায় নিজেকে নিজে? দেখনি তো! দেখলে বুঝতা কি কাঁদাকর বিশ্রী। ঘৃণায় শরীরের প্রতিটা লোমকূপ দাঁড়ায়ে যেতো। বমিতে বুকের কাছে জমাট ব্যথা হয়ে থাকতো। মানুষ হতে না পারার যন্ত্রণায় জবাই করা মুরগির মতো ছটফট করতে।

নিজের মনের বিস্তৃতি দেখাতে মুক্ত মনা সেজে বলি ইমদাদুল হক মিলন চটি লেখক আবার তার অটোগ্রাফের জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকি, সব বই ঠুঠস্ত থাকে, আড্ডা ডিজার্ভ করি। যে মেয়ে ভালবাসা গুনাহ মনে করে অথচ তার পতিত বাপ তার কাছে আইডল থাকে, যার বরের লুচ্চামিতে কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয় সেই মহিলা প্রেমিকার ঠোঁটে চুমু খাওয়ার অপরাধের শুকনা মরিচ বাটা মেখে শাস্তি দেয় বিচারপতি হয়ে। ধর্মের কথা বলে সুদের টাকা পকেটে রাখে। চুরি ডাকাতি হালাল হয়ে যায় মসজিদ মাদ্রাসায় দানে। নীতির কথা বলে দুর্নীতি সিন্দুক খুলে বসি।

কেনো? নিজের সামনে নিজে দাঁড়াবার সাহস টুকু দেখাতে পারি না। নিজের ভীতরে নিজে কুঁকড়ে যাই। শীতে কাতর কুকুরের মতো গুটায়ে নিতে নিতে পশ্চাৎ মুখ এক হয়ে যায়। নিজেকে বাদুড় মনে হয় তখন। যে মুখে খাই সেই মুখে মল ত্যাগ করি। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয়ে কপূরের মতো শুন্যে মিলিয়ে যাই। শুন্যে মিলিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে শুধু শুন্যে ঢেউ তুলে হারায়ে যায়। মনের কালো জলে নোংরা পোকার কিলবিলের অস্থিরতা ঢেকে মুখে মুখোশ এঁটে সাদা পোষাকে মোড়া নীতি বাক্যের খোলস হয়ে পড়ে রই সোডিয়াম আলোর নিচে।

১৪ thoughts on “মুখোশের অন্তরালে

  1. কঠিন কিছু সত্য তুলে ধরেছেন।
    কঠিন কিছু সত্য তুলে ধরেছেন। পুরুষ ও নারীর ভেতরে যেই হিপক্রেসি তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু শক্ত দৃষ্টান্ত।

    1. আমি আসলে প্রতিমন্তব্য করতে
      আমি আসলে প্রতিমন্তব্য করতে পারি না। প্রশংসা থাকলে তো আরও হারায়ে যাই। সমালোচনা হলে অংশ গ্রহণ করি। ফুল দেওয়া শুভেচ্ছা জানানো ছাড়া কি -ই বা বলার আছে। শুভকামনা রইল। আমার লেখা সব সময় আপনাদের মন জয় করুক সেইটা মনে প্রাণে চাই। আপনাদের ভাল লাগা, রাগ বহির প্রকাশ, ঘৃণায় থুথু, ক্ষোভে ঝাড়ি লেখার সার্থকতা। লেখাটায় কিছু একটা আছে সেটা যে যে ভাবে নিক। কেননা একই বিষয় এক একজন এক এক ভাববে এইটাই স্বাভাবিক। নাড়া দিয়েছে এই অনেক। আশা করি লেখা পড়ে মনে যা আসবে সহজ স্বীকার উক্তি হয়ে আসবে সেটা মন্তব্যে।

  2. প্রথম অনুচ্ছেদে পুরুষ জাতিকে
    প্রথম অনুচ্ছেদে পুরুষ জাতিকে যেভাবে জেনারালাইজ করে ফেলেছেন তাতে বোধ হচ্ছে আপনি নিজের অজান্তেই অন্তরে পুরুষবিদ্বেষ লালন করেন। পোস্টের বাকি অংশে চরম কিছু সত্য তুলে ধরেছেন। তবে লেখার স্টাইল এবং ভাষাশৈলী অত্যন্ত ইমপ্রেসিভ এটা স্বীকার করতেই হবে।

    1. উনি তো শুধু পুরুষ জাতি নিয়ে
      উনি তো শুধু পুরুষ জাতি নিয়ে লেখেননি। বরং বেশীর ভাগ অংশে নারীদের নিয়ে লিখেছেন। নিজে পুরুষ বলে প্রথম অংশ খারাপ লাগল, আর বাকী অংশ চরম সত্য মনে হলো। বাহ… ভালো তো, ভালো না?

      1. নিজের গায়ে লাগলে তখন অনুভব হয়
        নিজের গায়ে লাগলে তখন অনুভব হয় তার আগে কেউ দেখে না। এইটাই সত্যি এমনকি আমার নিজের ব্যাপারেও। :মনখারাপ:

    2. আমি নিজের অজান্তে না জেনে
      আমি নিজের অজান্তে না জেনে শুনেই ঘৃণা করি এবং যতটা ঘৃণা করি তার কঞ্চিত ও যদি প্রকাশ করতে পারতাম অনেক ভাল লাগতো। আমি শুধু পুরুষকে না; ঘৃণা করি সমাজকে, ভাল সেজে থাকা ভাল’কে আরও অনেক কিছু’কে যার লিস্ট দিলে অনেক বড় হয়ে যাবে, সবচেয়ে বেশী ঘৃণা করি নিজেকে। পড়া এবং আমার ঘৃণা অনুভব করার জন্য কৃতজ্ঞতা।

    1. নারে ভেজা খড় আমি যতটা ধারন
      নারে ভেজা খড় আমি যতটা ধারন করি ক্ষোভ ঘৃণা তার কণা পরিমাণ উগরাতে পারি নেই। যেদিন পারব সেদিন আমি ধ্যন হয়ে যাব নিজের কাছে নিজে।

  3. এখানে আপনি বাস্তব তেতো সত্যই
    এখানে আপনি বাস্তব তেতো সত্যই তুলে ধরেছেন। চমৎকার…।
    কিন্তু আফসুস… কেউ একজন কইল

    পুরুষ জাতিকে যেভাবে জেনারালাইজ করে ফেলেছেন

    :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *