‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ অতঃপর দেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর সমাধান (১ম পর্ব)

মূলধারার পত্রপত্রিকায় এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায়ও আমরা সবসময় সমাজ ব্যবস্থার বা রাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার অথবা সরকারদলীয়দের কাজের প্রচুর সমালোচনা হতে দেখি। খুব কমই উদ্যোগ বা সমাধানের কথা আসে পত্রিকায় এমনকি অনেক মৌলিক কাজ আছে যা বিশ্ববাসীকে চমকে দেয় অথচ আমাদের দেশের মূলধারার মিডিয়ার চোখ এড়িয়ে যায় আর কিছু যদি মিডিয়ার চোখে পরে তবুও সরকারের অবহেলার শিকার হয়ে অঙ্কুরেই বিনিষ্ঠ হয়ে যায় অথবা বহির্বিশ্বে মেধাটি পাচার হয়ে যায় [যেমন ২০০৫/৬ সালের আমাদের ভার্সিটির (চুয়েট-CUET) রাজীব ভাইয়ের উড়ুক্কু গাড়ির আবিষ্কার, এখন দেখি ‘টিএফ-এক্স’ নামে নতুন আরেকটি উড়ুক্কু গাড়ির নকশা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেরাফুগিয়া।অথচ রাজীব ভাইকে তখন ঐ কম্পিটিশনের ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করতে ইউএসএ যেতে দেয় নি সরকার, আজ তিনি যতদূর জানি বাইরে থাকেন…]; তবে এইক্ষেত্রে ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়া হতে পারে দেশের সমস্যা সমাধানে মৌলিক ভাবনার একটা আদর্শ মাধ্যম কেননা এইখানে কারও একান্ত ব্যক্তিগত কোন উদ্যোগ বা আবিষ্কার অথবা ভাবনা পাঠকের মতামতে এবং যুক্তি-তর্কে যাচাইয়ের পর দুর্বলতা থাকলেও তা কাটিয়ে হয়ে উঠতে পারে সার্থক একটা ভাল উদ্যোগে।

দেশে অনেক তরুণ ব্লগার আছে যাদের প্রায় সবার মাঝেই একটা ইউটোপিয়ান স্বপ্ন রাজ্যের কল্পনা কাজ করে। “Basically if you’re not a Utopianist, you’re a schmuck” বলেছেন Jonathan Feldman!বেশীরভাগ বা অনেক ব্লগারই নিজেদের মনের মত একটা স্বপ্ন রাষ্ট্রের কল্পনা করে বলে আমার ধারণা। তাই কোন বিষয়ের সমালোচনা বা বিরুদ্ধাচার অথবা কঠোর সমালোচনা কোন সমাধান নয় মাথায় রেখেই আসুন আমরা এমন কিছু করি যা হয়তো জীর্ণ-শীর্ণ এই সমাজকে পাল্টে দিতে সক্ষম হবে অথবা অন্তত পাল্টে দিতে স্বপ্ন দেখাবে। আজ সবাই রাজনীতিকদের কঠোর সমালোচনা করি আমারতো মনেহয় তাও একই উদ্দেশ্যে। তেমন ঘৃণায় আর সমালোচনায় কি কোন পরিবর্তন এনেছে এই সমাজের? তাই আমাদের সবাইকেই উদ্যোগী হতে হবে এই দেশটির (এই পৃথিবীটির জন্যেও…) জন্যে কাজ করতে হবে। আমরা যদি তথাকথিত সুশীল সেজে সমালোচনার ঝর বইয়ে দেই তবে দেশের কোন লাভ হবে না, তারচে আপনার-আমার একটা উদ্যোগ একটা আবিষ্কার বা আইডিয়া হয়তো দেশটিকে সামনে এগুতে বহুলাংশেই সাহায্য করবে অথবা সরকারকে বা জনগনকে নতুন করে ভাবতে শিখাবে বা স্বপ্ন দেখাবে (কাজ না হলেও ক্ষতি নেই কেননা কারও সমালোচনায় ও তো কাজ হচ্ছে না, আমি না হয় ভিন্নভাবে চেষ্টা করে দেখলাম)।

আমি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রস্তাব করেছি গত ব্লগে আজ সেই ফাউন্ডেশনের একজন হয়েই প্রথমে কিছু প্রস্তাবনা বা আইডিয়া তুলে ধরতে চাই। হয়তো সবগুলোই নিতান্ত ছেলেমানুষিপূর্ণ স্বপ্নবিলাস অথবা যথেচ্ছাচার কিংবা প্রগালাপ কিন্তু আমার কাছে সমালোচনা থেকে এমন কিছুই বেশী পছন্দের। কেননা তথাকথিত সুশীলবাজী নৈতিকতার বুলি কপচানো বা গতানুগতিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ বিদ্বেষমূলক লিখা আমার কাছে নির্ভেজাল হঠকারিতা ছাড়া আর কিছুই নয় কেননা তা অনেকটা আবর্জনার মধ্য থেকে বের না হওয়ার প্ল্যান করে আবর্জনা ছুড়াছুড়ি করার মত দেখায়। এইবার ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’-এর প্রস্তাবকর্তা হিসেবে একান্ত নিজের কিছু গবেষণালব্ধ (হতে পারে তা অনেকের কাছেই হাস্যকর…) ফলাফল আপনাদের কাছে কয়েকটি পর্বে উপস্থাপন করব। যার জন্য ব্যক্তিগত গবেষণার প্রথমে সমসাময়িক আর্থসামাজিক সমস্যাবলীর একটা তালিকা করেই তার উপর কাজ করেছি। সমস্যাবলীর দিকে একনজর চোখ বুলিয়ে নিই-
১) সর্বগ্রাসী দুর্নীতি
২) পদ্মা সেতুর নিজস্ব (দেশীয়…)অর্থায়ন
৩) তীব্র যানজট (বিভাগীয় বা কিছু কিছু জেলা সদরগুলোতে…)
৪) বেকারত্ব
৫) দারিদ্রতা
৬) জনসংখ্যা সমস্যা
৭) সন্ত্রাস এবং বিপথগামী ছাত্র ও যুব রাজনীতি

চলমান পোস্টটিতে আমি ১ম সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করব এবং ক্রমান্বয়ে আগামীতে বাকি ৬ টি মূল (এই তালিকাটি কোনপ্রকার গুরুত্বের ক্রমে সাজানো হয়নি আমার পোস্ট দেয়ার ধারাবাহিকতায় সাজানো হয়েছে…আমার কাছে কোনটার গুরুত্ব কম নয়!!) রাষ্ট্রীয় সমস্যার ব্যক্তিগত গবেষণায় প্রাপ্ত সমাধান দেয়ার চেষ্টা করব। আশাকরি পাঠকেরা আমার লিখার গঠনমূলক সমালোচনা করে আমার ক্ষুদ্র স্বপ্নবিলাসীতাগুলোকে জনকল্যানকর একটি কাজে পরিণত করতে সাহায্য করবেন।

১) সর্বগ্রাসী দুর্নীতিঃ

দুর্নীতি কি বা কেমন সমস্যা? সেই আলোচনা করে আপনাদের মুল্যবান সময় নষ্ট করব না সরাসরি আমার প্রস্তাব বা ভাবনায় যাব কেননা এই সর্বনাশা সর্বগ্রাসী সমস্যাটি নিয়ে আজ দেশ সবচে বেশী ভুগছে বলে আমার ধারনা তাই সবাই অনেক জানেন ব্যাপারটা সম্পর্কে। এইবার দেখি তাবৎ দুনিয়া জুড়ে দুর্নীতির বিরদ্ধে রাষ্ট্রীয় হাতিয়ারগুলোর দিকে; দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন) বা একই ধারনার কোন দুর্নীতি দমন মুলক প্রতিষ্ঠান (Anti Crime Organization/Commossion) এবং অতঃপর মূলধারার অথবা বিকল্পধারার কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আলাদা বা সমন্বিত কোন আলাদা বাহিনীর কার্যকলাপই এমনসব সমস্যার মুকাবিলা করে থাকে। সকল ধরনের মূলধারার (পুলিশ বা সিভিল প্রশাসন…) বা বিকল্পধারার (ডিফেন্স সার্ভিস বা স্পেশাল বাহিনী…) কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুলত তাদের আইন প্রয়োগ করে ১০-১২% কোন কোন ক্ষেত্রে ১৫% অথবা ২০% (উন্নত বিশ্বে…) দুষ্কৃতিকারীদের নিয়ন্ত্রন করতে নিয়োগ করা হয় কিন্তু আমাদের সমাজের দিকে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই? আমাদের সমাজের কর্মক্ষম মোট জনগণের বেশীরভাগ মানুষই প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত, এই পরিমাণটা আসলেই সঠিকভাবে নিরূপণ করা কষ্টসাধ্য না প্রায় অসম্ভবের মত। তাহলে কি আমাদের মত দরিদ্র দেশের অপ্রতুল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের সীমিত সম্পদে এই বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীর এমন সমস্যার কোন সমাধান করতে পারবে না? ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়। এইবার আমি আমার আইডিয়াটা ব্যাখ্যা করব। একটাই স্লোগান আশাকরি তা শুধু বাংলাদেশের না তাবৎ দুনিয়ার সকলপ্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচে বড় হাতিয়ার হবে। আর তাহলঃ

“দুদক হবে ঘরে ঘরে
দুর্নীতির নির্মূল চিরতরে”

কীভাবে, কেন কাজ হবে?
আইডিয়াটির মুল শক্তিই দেশের তরুন সমাজ যারা আজ ফেসবুকে অনলাইনে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেন দুর্নীতি সন্ত্রাস চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে। তারাই হবে এই দুর্নীতি বিরোধী যুদ্ধের মুল শক্তি বা যুদ্ধা। তারা কয়েকজন মিলে (হতে পারে চাচাতো-ফুফাতো-মামাতো-খালাতো ভাইবোনদের সমন্বয়ের একেকটা দল…হতে পারে পাড়া ভিত্তিক বন্ধুদের সমন্বয়ে বা অন্য যেকোন উপায়ে ) অণু বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুদক গড়ে তুলবে সমাজের ক্ষুদ্রতম একক পরিবারে পরিবারে যারা নিজেদের পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে বাধ্য করবেঃ
ক) সবরকম দুর্নীতি বা অনৈতিক উপার্জন থেকে দূরে থাকতে বলবে
খ) সরকারকে কর দিতেও বাধ্য করবে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে যদি আওতায় আসে
গ) মাসিক আয় ব্যায়ের হিসাব দিতে হবে সন্তানদের বা পরিবারের বাকিদের কাছে
ঘ) আভিজাত্য নয় ন্যায়বান ও সততাপরায়ন উপার্জন মুখ্য বলতে হবে।

দলের সদস্যরা নিজেরা যা যা করবেঃ
ক) আয় ব্যায়ের হিসেবে নিজেদের চাহিদা (জামা-কাপড়-গাড়ি-গহনা-বিলাস পন্য ইত্যাদি…) জানাবে
খ) এমন কোন কিছু উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর চাপায় দেয়া যাবে না যা তিনি ন্যায়সঙ্গত আয় দিয়ে করতে পারবেন না
গ) অন্যকোন ব্যক্তির সাথে তুলনা করে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না
ঘ) মনে রাখতে হবে নিজের পরিবারকে ন্যায়বান রাখতে ব্যর্থ কেউ অনলাইনে গলাবাজি করাটা নৈতিক স্বেচ্ছাচারিতা।

আর এজন্যে মাদকতা বিরোধী কনসার্টের মত করে জেলা জেলায় অনুষ্ঠান আয়োজন করে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এরুপ দল গঠনে প্রচারণা করতে হবে। কোন মা-বাবা-চাচা-ফুফু-খালা-মামা বা নিকটাত্মীয়রা এমনটা নিজের সন্তানদের কাছে শুনে লজ্জায় উপেক্ষা করতে পারবে না। আর যারা গৃহিণী তারাও হতে পারে এমন দলের সদস্য অথবা উপদেষ্টা বা পরামর্শক। গবেষণা মতে নারীরা কর্মস্থলে কমদুর্নীতিগ্রস্থ এবং অধিক মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন কেননা সন্তান মানুষ করতে গিয়ে তাদের ত্যাগ ও পরিশ্রম এমন মানবীয় গুণাবলী লাভ করে। মায়েরাও তাদের সন্তানদের সাথে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন সামাজিক আন্দোলনই পারে দুনিয়াটিকে পরিবর্তন করতে অন্যথায় কোন আইন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে এই ব্যাধিকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব না। এর আরেকটা বড় সুবিধা হচ্ছে এইসব সন্তানেরা যখন কর্মক্ষেত্রে যাবে তখন আর চক্ষুলজ্জায় বা নিজের বিবেকের বাধায় দুর্নীতির দিকে ঝুঁকবে না। একটা অপ্রিয় সত্য ঘটনা আমাদের সমাজের-

আমাদের সমাজের সবাই মুরব্বিদের সামনে ধূমপান করে না, প্রেমিকাকে আদর করে না, মদ্যপান করে না কিন্তু ঠিকই খোলা সত্যের মত ঘুষের টাকা তুলে দেয় ছেলে বাবার হাতে, জামায় বউয়ের হাতে, বউ জামায়ের হাতে, বাবা সন্তানের হাতে বা ভাই বোনের হাতে অথবা বোন ভাইয়ের হাতে। রিকশায় কোন প্রেমিক-প্রেমিকা যুগলকে চুম্বনরত দেখলে সবার রাগে-ক্ষোভে গায়ে আগুন লেগে যায় কিন্তু পুলিশ থেকে বাসের হেল্পার, রাস্তার ঠিকাদার থেকে হাসপাতালের ডাক্তার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে আদালত পাড়ার উকিলসাব সবাই সবার মত করে দুর্নীতি করে যাচ্ছে। কারও ভ্রূক্ষেপ নেই, এই যেন স্বাভাবিক অথচ এই শিক্ষক-চিকিৎসক-প্রকৌশলী-ঠিকাদার-উকিল-ব্যাংকার সবাই বাসায় আড্ডায় রাজনীতিকদের দুর্নীতির জন্য কোন গালমন্দ করতে বাদ দেন না। আমি নিজে যদি শিক্ষক হয়েও দুর্নীতি করি তবে বাসায় সন্তানের সামনে সাধু সেজে রাজনীতিবিদদের গালমন্দ কতটা বিবেচনাপ্রসূত? এমন পরিস্থিতি সবার ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান।

তাই ধূমপান, মদ্যপান, প্রকাশ্যে চুম্বন থেকে দুর্নীতিকে অধিক অনৈতিক জ্ঞান করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া এই বিষবৃক্ষ থেকে সমাজকে মুক্ত করা অসম্ভব বলেই মনে হচ্ছে। ফেসবুকে -ব্লগে নীতি কথা বলে বা নৈতিকতার পক্ষে কথা বলে এমন মানুষের সংখ্যা ১০ লক্ষাধিক (এইখানে উল্লেখ্য বাংলাদেশের ফেসবুক একাউন্ট আছে এমন মানুষের সংখ্যা ৩৪ লক্ষ তাও ৪/৫ মাস আগের কথা!) এছাড়াও জাফর ইকবাল স্যারের গনিত অলম্পিয়াডের কয়েক লক্ষাধিক ছাত্র ছাত্রি আছে, অন্যদিকে আবু সাইয়িদ স্যারের আলোকিত মানুষ চাই পাঠাগারের পাঠকও আছে অনেক এদের মধ্যে অনেক কমন তরুনও আছে তারপরও মোট সংখ্যাটা ৫০ লক্ষাধিক হবে। এমন বিশাল জনগোষ্ঠী সমাজ থেকে ঘৃণাভরে দুর্নীতিকে বিদায় বলতে পারবে না আমি বিশ্বাস করি না।

“দুদক হবে ঘরে ঘরে
দুর্নীতির নির্মূল চিরতরে”

-এমন স্লোগানই যেন হয় এই এমন সর্বনাশা সর্বগ্রাসী সমস্যাটির সমাধান।

নোটঃ আগামী পর্বে ২) পদ্মা সেতুর নিজস্ব (দেশীয়…)অর্থায়ন এবং ৩) তীব্র যানজট (বিভাগীয় বা কিছু কিছু জেলা সদরগুলোতে…); সমস্যাদ্বয় নিয়ে একান্ত নিজের কিছু প্রস্তাব বা ভাবনা তুলে ধরব। এইসবই ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ নামের প্রস্তাবিত বা কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানটির হয়ে কিছু গবেষণার ফসল আর এমন প্রতিষ্ঠানটির ভাবনা এবং গবেষণার শুরু জুন’১৩ এর মাঝামাঝি থেকে। আপনাদের সবার সহযোগিতা ,উপদেশ বা পরামর্শ হয়তো এমন উদ্যোগটিকে সফলতার মুখ দেখাতে পারে। সবার সহায়তা কাম্য…

প্রাসঙ্গিক পূর্বের পোস্টটিঃ
“বঙ্গবন্ধুর ইউটোপিয়া ‘বাংলাদেশ’ গঠনে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের অনিবার্যতা”-একটি প্রস্তাব ও সম্ভাবনা”

২৫ thoughts on “‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ অতঃপর দেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলীর সমাধান (১ম পর্ব)

  1. ধন্যবাদ লিংকন ভাই। একটা
    ধন্যবাদ লিংকন ভাই। একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করতে চাই। ইচ্ছা হলে জানাবেন নাহলেও সমস্যা নাই। সেটা হচ্ছে আপনার সাবজেক্ট কি? বা কি ছিল? ইকোনমিক্স!! :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি:

    1. “যেমন ২০০৫/৬ সালের আমাদের
      “যেমন ২০০৫/৬ সালের আমাদের ভার্সিটির (চুয়েট-CUET) রাজীব ভাইয়ের উড়ুক্কু গাড়ির আবিষ্কার”— এই কথাটা পোস্টে ছিল!! আমি কি বুঝে নেন 😉
      আপনাকেও ধন্যবাদ— একটা গঠনমূলক সমালোচনা আশা করছিলাম!! 🙁 :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  2. যতদূর জানি আপনে ইঞ্জিনিয়ারিং
    যতদূর জানি আপনে ইঞ্জিনিয়ারিং জগতের মানুষ, কিন্তু প্রতিভার যে কোন বাধাধরা ক্ষেত্র থাকে না, :খাইছে: :খাইছে: সেইটা আপনে আবার প্রমান করলেন তারিক ভাই… :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :মুগ্ধৈছি: :রকঅন: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: … ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না, আপনাকে শুধুই :bow: :bow: :bow: :bow: চালিয়ে যান জনাব… জাতি আপনার কাছ থেকে আরও আইডিয়া চায়… :salute:

    1. রাআদ ভাই, আপনার মন্তব্য দেখে
      রাআদ ভাই, আপনার মন্তব্য দেখে খুব উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম যে আসলেই ভাল কিছু করতে পেরেছি, কিন্তু পাঠকের রেসপন্স দেখে হতাশ… কেউ কি পছন্দ করল না?
      নাকি শহিদ ভাইয়ের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সবাই চুপ করে গেল? জানিনা…
      আমার ভাবনায় দুর্বলতা থাকতেই পারে কিন্তু সবাই তো এগিয়ে আসবে 🙁

      আপনাকে অফুরন্ত ধন্যবাদ এমন দুর্দিনেও পাশে থাকার জন্য…
      মনে আছে আপনার একটা ফেসবুক ইনবক্সে ইস্টিশনে ফিরেছিলাম তাই আপনার প্রেরণায় অনেক অনেক বড় কিছু আমার কাছে… ধন্যবাদ!!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আমার যুদ্ধ চলবে…
      জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

  3. ঘৃণায় আর সমালোচনায় কি কোন
    ঘৃণায় আর সমালোচনায় কি কোন পরিবর্তন এনেছে এই সমাজের?– এই প্রশ্নটির আলোকে আপনার আইডিয়া যতেষ্ট গূরুত্বের দাবী রাখে বা বর্তমানে এই ধরনের পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে ।কিন্তু আপনার আইডিয়াটি বেশ কয়েকটি প্রশ্নের জন্ম দেয়, আইডিয়াটা কতটুকু বাস্তবায়ন যোগ্য?
    আমরা প্রত্যেকে যখন নিয়মিত দারিদ্রের সাথে লড়াই করে বাচার চেষ্টা করছি তখন রাষ্ট্রের কাজের দায়িত্বটি নিজেদের কাধে নিতে আমরা কতটা প্রস্তুত?
    দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসার, মন্ত্রী, এমপিদের উপর নিজ সন্তানের কতৃত্ব কতটুকু?
    দুর্নীতি রোধকল্পে সন্তানের সাথে পিতা মাতার যে বিবাদ বা দুরত্বের সৃষ্টি হবে তা মিটানোর দায়িত্বটা নেবে কে?

    1. “ঘৃণায় আর সমালোচনায় কি কোন
      “ঘৃণায় আর সমালোচনায় কি কোন পরিবর্তন এনেছে এই সমাজের?– এই প্রশ্নটির আলোকে আপনার আইডিয়া যতেষ্ট গূরুত্বের দাবী রাখে বা বর্তমানে এই ধরনের পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে “—ধন্যবাদ শহীদ ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আপনিই চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন; এখনই সবার সাহায্য চাই।। কীভাবে কাজটাকে মঙ্গলময় করে তোলা যায়, আপনার পরামর্শ আর সাহায্যই কাম্য…
      ১) “আইডিয়াটা কতটুকু বাস্তবায়ন যোগ্য?”—আলোকিত মানুষ চাই, আধুনিক (আমরা ধূমপান করি না), পরিবেশ আন্দোলন বা মাদকতা বিরোধী আন্দোলনই বা কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে?
      বাস্তবায়নে ঝুঁকি থাকবে বা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাই বলে কি ভাল কাজের উদ্যোগ আমরা নিব না?
      ২) “আমরা প্রত্যেকে যখন নিয়মিত দারিদ্রের সাথে লড়াই করে বাচার চেষ্টা করছি তখন রাষ্ট্রের কাজের দায়িত্বটি নিজেদের কাধে নিতে আমরা কতটা প্রস্তুত?’
      — আলোচ্য বিষয়ের সাথে এই ব্যাপার ঠিক কীভাবে কীভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে? একটু খোলাসা করে বলেন…
      ৩) “দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসার, মন্ত্রী, এমপিদের উপর নিজ সন্তানের কতৃত্ব কতটুকু?
      — ১ম উত্তরের মতই এই উত্তর! ভাল কাজে বাধা আসবেই এমন প্রতিবন্ধকতাকে কাটিয়ে উঠতে হবেই। এর জন্যে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। উত্তরণের পথ সবাই মিলে বের করতে হবে।
      ৪) “দুর্নীতি রোধকল্পে সন্তানের সাথে পিতা মাতার যে বিবাদ বা দুরত্বের সৃষ্টি হবে তা মিটানোর দায়িত্বটা নেবে কে?”
      — যদি এই প্রশ্নটা সত্যিই বাস্তবধর্মী হয় তবে করনীয় কি? চুপ করে বসে থাকা? তাহলে তো চোরের ছেলে ডাকাত আর ডাকাতের ঘরে খুনি-সন্ত্রাসী জন্ম নিবে। এইটা কোন বিবেচনাযোগ্য সমস্যা নয় বলে মনে হচ্ছে?

  4. বলার আছে অনেক কিছু। আইডিয়াটা
    বলার আছে অনেক কিছু। আইডিয়াটা চমৎকার। তবে এই আইডিয়াটা সফল করা খুব কঠিন হবে। ভাল মানুষের বড্ড অভাব। দায়িত্ববোধের খুব অভাব মানুষের মাঝে। এখনো কিছু চোখে স্বপ্ন দেখি…আপনার পয়েন্টগুলোর সাথে আরো কিছু এড করতে হবে, কিছু কাটছাট করতে হবে, কিছু বর্ধিত করতে হবে। ঘুম পাচ্ছে অনেক, নাহলে চিন্তা করতাম। একটা কথা বলি-

    যতদিন না বাদামের খোসাটা ডাস্টবিনে ফেলার মনমানসিকতা তৈরী হবে মানুষের মাঝে, ততদিন সোনার বাংলা গড়া সম্ভব হবেনা

    1. “.আপনার পয়েন্টগুলোর সাথে আরো

      “.আপনার পয়েন্টগুলোর সাথে আরো কিছু এড করতে হবে, কিছু কাটছাট করতে হবে, কিছু বর্ধিত করতে হবে। “

      ঘুম কি ভাঙল? অপেক্ষায় আছি!! কাজটাকে চূড়ান্ত করতে সবার গঠনমূলক সমালোচনা দরকার… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  5. চিন্তার শুরুটা করতে পেরেছেন
    চিন্তার শুরুটা করতে পেরেছেন এটাও একধাপ এগিয়ে যাওয়া। বাস্তবায়ন হবে হয়ত একদিন।

    1. আতিক ভাই… ধন্যবাদ
      আতিক ভাই… ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আশাকরি কিছু পরামর্শ আর দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করবেন…
      :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  6. হবে ।এরকম কিছু একটা নিশ্চয় ই
    হবে ।এরকম কিছু একটা নিশ্চয় ই হবে।আপনি শুরু করলেন আমরা সবাই মিলে এই কাজটা শেষ করব

    1. সবার পরামর্শে প্রথমে একটা
      সবার পরামর্শে প্রথমে একটা সার্থক উদ্যোগে পরিণত করতে হবে প্রথমে?
      পারলে সবাই মিলে গথমুলক সমালোচনা করে লিখাটিকে সার্থক করুন…
      ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: সাজেশনের জন্যে :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  7. আমার প্রশ্নগুলি আপনার
    আমার প্রশ্নগুলি আপনার উদ্যেগকে বাধা দানের উদ্দেশ্যে করিনি, বরং খুঁত বিহীন একটা আইডিয়ার সফল রুপান্তরের উদ্দেশ্যেই প্রশ্নগুলো করেছি।আপনি মোটামুটি তাৎক্ষনিক সমাধানও করে দিয়েছেন ।আশা করবো আইডিয়ার সাথে এর নেতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরে আগে এগুলোর সমাধানের রাস্তাটিও উল্লেখ করবেন ।যদি কোন কোন দিক আপনার ধারনা থেকে বাদ পড়ে যায় তবে আমরা তো আছিই ।

    আপনি বলেছেন… বাস্তবায়নে ঝুঁকি থাকবে বা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে তাই বলে কি ভাল কাজের উদ্যোগ আমরা নিব না?
    হ্যা নিব ।তবে সব উদ্যেগ যেখানে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে সেখানে ব্যর্থতার ঝুকি নিয়ে কোন উদ্যেগে আগানোর আগে ভেবে নেয়াটা ভাল ।আমি চাই আপনার আইডিয়াটি এমন পর্যায়ের হোক যেখানে ব্যর্থতার ঝুকি থাকবে একেবারে নিম্নের কোটায় ।
    ধন্যবাদ ।

    1. আমি জানি শহিদ ভাই আপনি আমার
      আমি জানি শহিদ ভাই আপনি আমার সাথেই আছেন সবসময় পাব :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:
      আমি আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছি এই জন্যেই যে আপনি যেন আপনি প্রশ্ন না করে পরামর্শ বা দিকনির্দেশনা দিয়ে অথবা দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে উদ্যোগটিকে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করেন!! আশাকরি ভাল কোন পরামর্শ আসবে আপনার কাছ থেকে… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  8. আপনার পোস্ট পড়ে ভাল লাগল।
    আপনার পোস্ট পড়ে ভাল লাগল। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন গড়ার স্বপ্ন খুবই ইতিবাচক একটি পদক্ষেপ। তবে আপনার পোস্টটের কথাগুলোর সাথে পুরোপুরি একমত না। প্রথমত আমার মনে হয়েছে আপনি ব্যক্তি পর্যায়ে দূর্নীতিরোধের কথা বলছেন। এটা স্পষ্টত পরিস্কার যে মানুষ ব্যক্তিপর্যায়ে দূর্নীতিগ্রস্থ বলেই দূর্নীতি এত বেশি, তার উপর ব্যক্তি ইচ্ছার সাথে জড়িয়ে আছে প্রশাসনিক অবকাঠামো। আমরা প্রায় প্রত্যেকেই জানি দূর্নীতি করা উচিত নয়। তার পরও দূর্নীতির সাথে জড়িয়ে আছে বিশাল জনগোষ্ঠী। আপনার কথাগুলো অনেকটা চিরন্তন সত্য উপদেশ ধরনের। আপনার লেখার মধ্যে ‘
    পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে নিম্নোক্ত কাজগুলো করতে বাধ্য করবেঃ
    গ) মাসিক আয় ব্যায়ের হিসাব দিতে হবে সন্তানদের বা পরিবারের বাকিদের কাছে
    ঘ) আভিজাত্য নয় ন্যায়বান ও সততাপরায়ন উপার্জন মুখ্য বলতে হবে।
    দলের সদস্যরা নিজেরা যা যা করবেঃ
    খ) এমন কোন কিছু উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর চাপায় দেয়া যাবে না যা তিনি ন্যায়সঙ্গত আয় দিয়ে করতে পারবেন না
    গ) অন্যকোন ব্যক্তির সাথে তুলনা করে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা যাবে না ’
    অংশগুলো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আমি প্রথমেই বলে রাখি আমাদের দেশের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা সাধারণত স্বেচ্ছাচারী প্রকৃতির হয় (অধিকাংশ)। পরিবারের সদস্য যারা নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে তার উপর নির্ভরশীল তারাই অনেকটা বাধ্য তারা কিভাবে তাকে বাধ্য করবে? গুটিকয়েকের পক্ষে তা সম্ভব। যাদের পক্ষে সম্ভব তারা অনেকে নিজেরা দূর্নীতিকে মেনে নিয়েছে, জীবনের অংশ হিসেবে নিয়েছে দূর্নীতিকে। যাদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেনি তাদের একটি অংশ চেষ্টা করে দূর্নীতি থেকে দূরে থাকতে এবং অন্যকে দূরে রাখতে, আরেক অংশ কেবল নিজেরা দূরা থাকে। আপনার উপদেশগুলো কেবল অপর অংশের জন্য হয়েছে বলে আমার মনে হল। যাদের নিজেদের নৈতিক মুল্যবোধ নেই তারা দূর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যক্তিপর্যায়ে সচেতন হবে কি?
    আমি আপনার পোস্টকে একক্ষেত্রে সমর্থন করি যে, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে কিভাবে খুব সাধারণভাবে দূর্নীতিরোধ করতে পারি তার উপায় এটি হতে পারে। কিন্তু যদি উদ্বোগের প্রশ্ন আসে তাহলে আমাদের প্রশাসনিক অবকাঠামোগত কিছু পরিবর্তনের কথা আনতে হবে। কারণ আমাদের দেশে দূর্নীতিগুলো গঠছেই এসব অবকাঠামোগত ত্রুটির ফাঁক-ফোকর দিয়ে। যেমন- আমাদের দেশে ডাক্তাররা কখনো রোগীকে তার রোগ সম্পর্কে সরলভাবে ব্যাখ্যা করে না। উন্নত দেশগুলোতে যেকোন রোগীকে তার রোগ কিসের আক্রমণে কিভাবে হল এগুলো সম্পর্কে সাধারণভাবে জানানো হয়। আমাদের দেশে ডাক্তারদের জবাবদিহিতার অংশটিও সুক্ষ্ম। এসবের কারণে ডাক্তাররা খুব স্বাভাবিক আচরণের মধ্য দিয়ে বড়ো বড়ো দুর্নীতি করতে পারছে। শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কোচিং ব্যবসা কখনো কখনো দূর্নীতির অংশ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক গুরুত্ব দিয়ে পড়ায় না। সেই পড়াই তার কোচিং-এ গেলে সুন্দর করে বুঝিয়ে দেয়। শিক্ষকদের এই আচরণে ছাত্র-ছাত্রী বাধ্য হয় কোচিং-এ পড়তে। আবার কেউ এর প্রতিবাদ করলে তাকে রোষানলে পড়তে হয়। এখন ব্যক্তি পর্যায়ে কেউ তার পরিবারের কর্মক্ষম ব্যক্তিদের দূর্নীতি থেকে দূরে থাকতে বললেও এরকম কাজগুলো থেকে দূরে থাকবে না তারা। কারণ এই ব্যাপারগুলো আমাদের সমাজের অবকাঠামোতে এমনভাবেই ঢুকে গেছে যে এগুলো আমাদের কাছে স্বাভাবিক লাগে। পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাই উদ্বোগ নিতে হবে অবকাঠামোগত। উদ্বোগের ব্যাপার এমন হতে পারে- ডাক্তারের পেশায় জবাবদিহিতার অংশকে বিস্তৃত করতে হবে, সরকারকে রোগীর ভিসিট বাবদ একটি মূল্য নির্দিষ্ট করা যেতে পারে, শিক্ষকের পেশায় নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী না পড়াতে পারার যে আইন করা হয়েছিল তা মনিটরিং-এর কঠোর ব্যবস্থা রাখতে হবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস পর্যবেক্ষনে মাসে দু’বার মনিটরিং-এর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এরকম প্রতিটা পেশায়ই কাঠামোগত প্রশাসনিক পরিবর্তন না আনা হলে ‘দূর্নীতি’-কে দূর্নীতি বলে আখ্যাই দেওয়া যাবে না। সেখানে কিভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যাবে? দূর্নীতি ব্যক্তি পর্যায়ে পরিবর্তিত হবে না। কেননা আমাদের নষ্ট সমাজের মূল্যবোধ অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে।

    তবে আমি আপনার পোস্ট সমর্থন করছি। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এটুকু পরিবর্তন হয়ত কিছুটা আশার আলো দেখাবে।
    [আমি আমার ব্যক্তিগত ধারনা থেকে কথাগুলো বলেছি। এসব বিষয়ে আমার জানার গভীরতা বেশ কম।]

    1. আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ… এই
      আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ… এই প্রথম আজ পোস্টটিতে কেউ একটু গভীরে গিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করল। আপনাকে তাই শুরুতেই অফুরন্ত ধইন্যা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      ক) “পরিবারের সদস্য যারা নিজেরা অর্থনৈতিকভাবে তার উপর নির্ভরশীল তারাই অনেকটা বাধ্য তারা কিভাবে তাকে বাধ্য করবে?”—
      পরিবারের যারা অর্থনৈতিকভাবে উপার্জনক্ষম ব্যক্তির উপরে নির্ভরশীল তারাই কিন্তু ঐ ব্যক্তিকে (উপার্জনক্ষম…) অসৎ উপায়ে বা অনৈতিকভাবে বিশাল বিত্তশালী হতে প্ররোচিত করে যেমনঃ i) সবার গাড়ি-বাড়ি-বা অনেক অর্থ আছে আমাদের বা তোমার নেই কেন?
      ii) পাশের বাড়ির ভাবি-আন্টি অনেক টাকার শাড়ি কিনেছে বা এইবার ঈদে ৫ টা দামী শাড়ি অথবা গহনা কিনেছে তোমার নাই কেন? তুমি পার না কেন?
      এমন নানান কথা বলে প্ররোচিত করে অসৎ আয় করতে বা অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করতে!!
      তাহলে, যে খারাপ কাজ করতে বাধ্য করতে পারে সে কি ভাল কাজে করতে পারবে না? আমি বিশ্বাস করি না। পারা উচিৎ আমরা মানুষ বলেই তা করা উচিৎ…

      খ) আপনি চিকিৎসক, শিক্ষকদের কিছু অনৈতিক কাজের কথা বলেছেন। আমি এইসবকে সরাসরি দুর্নীতি বলতে নারাজ কেননা একটা বাচ্চা যতদিন বুঝবে না অন্যকে থুতু মারা অভদ্রতা ততদিন সে খেলার ছলেই তা করবে… তাদের দুর্নীতির প্যাটার্নটা একটু দেখি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষম ব্যক্তি সুস্থ শরীরে সাপ্তাহিক ৮*৫=৪০ ঘণ্টা কাজ করতে পারে। সকল শিক্ষক(এক্ষেত্রে আরও কম), প্রকৌশলী, ডাক্তার অথবা অন্য যেকোন পেশার কর্মজীবীদের এমনটাই ডিউটি দেয়া হয়ে থাকে অনেক সময় দেশে চিকিৎসকের অভাবে অধিক সময়ও দায়িত্বে কর্তব্যরত থাকতে হয়। এর জন্যে তাকে একটা সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সম্মানী দেয়। আন্তর্জাতিক শ্রম আইনেও তাই বলা আছে সাধারনত কায়িক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে ওভারটাইম বা অধিকাল ভাতা দেয়া হয়… তাহলেঃ
      i) চিকিৎসকঃ এখন একজন ডাক্তার যদি অফিস শেষে বাইরে ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করে তবে তার জন্যে যে মানসিক পরিশ্রম হবে সে জন্যে পরদিন তার চাকুরীর যে পেশাগত গুনগত মান খারাপ হবে তার জন্যে কে দায়ি? তাহলে রাতের ক্লিনিকে বসে অর্থ উপার্জন কি তার চাকুরীর আচরনবিধির পরিপন্থী নয়? আর তার এমন উপার্জন?
      ii) শিক্ষকের ক্ষেত্রেও তাই। রাতে-বিকালে-সকালে ব্যাচ পরিয়ে যখন তিনি তার কর্মস্থলে ঘুমুবেন বা ক্লান্ত থাকবেন অথবা মাথা ব্যাথা নিয়ে অপর্যাপ্ত সময় বা মানে ক্লাস নিবেন তখন কি তার টিউশনি বা ব্যাচে উপার্জিত অর্থ অনৈতিক হয়ে যাচ্ছে না?
      iii) প্রকৌশলী, আইনজীবী, অন্যযেকোন পেশার ক্ষেত্রেও তাই… এই জন্যে কিন্তু বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে এমন অডিট বা ইনভেস্টিগেশন টিমও থাকে যারা তাদের কর্মচারীদের বাকি সময়ের কার্যক্রমের উপর নজর রাখে। কেননা সে যে বেতনে তার কোম্পানিতে চাকুরি করছে তার মান যেন সে পাই…

      গ) এখন অনেক প্রতিষ্ঠানেই অন্যায় উপার্জন অনেকটা নিয়মের মত। নিয়মটা কে করেছে? ব্যক্তিরাই… আর সকল মানুষই কোন না কোন পরিবারে বসবাস করে তাই সে যদি তার পরিবারের কাছে দুদকের মত করে নিজের আয়-ব্যয়ের হিসেব দেয় তবে সকল প্রকার দুর্নীতির মুল উৎপাটন হবে বলেই আমার ধারণা…
      আর তাই আপনার শেষ লাইনটাই যথার্থ হয়েছে-
      ‘তবে আমি আপনার পোস্ট সমর্থন করছি। নিজ নিজ অবস্থান থেকে এটুকু পরিবর্তন হয়ত কিছুটা আশার আলো দেখাবে।’— :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. পয়েন্টগুলো ভাল ধরেছেন।
        ক-

        পয়েন্টগুলো ভাল ধরেছেন।
        ক- অনেকসময়। কিন্তু দারিদ্রের এই দেশে এইরকম মানুষের সংখ্যা গুটি কয়েক, যদিও এই গুটি কয়েকের মুঠোতেই সম্পদ বন্দি। তবে যারা এমন করে তাদের জন্য আপনার পয়েন্টগুলো যৌক্তিক।
        খ- আমি ভাতা নিয়ে দ্বিমত করিনি। তা নির্দিষ্ট হওয়া উচিত সেটা বলেছিলাম। ডাক্তার নিয়ে আমি বিতর্কে যাচ্ছি না আর কারণ তার কাজ সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা কম। কিন্তু শিক্ষকের ক্ষেত্রে আপনি যেটা বললেন তা মানতে পারলাম না। একজন শিক্ষক তার রধান কর্মস্থলে সময়-পরিশ্রম ঠিক মত ব্যয় না করে ব্যাচে পড়িয়ে বারতি আয় করাটা কি অনৈতিক নয়? শিক্ষক যদি তার কর্মস্থলে ব্যাচের পরিশ্রম দিত তবে তার উপর ব্যাচ পড়ানোর চাপ এত পরত না। শিক্ষকের উদাহরণ দিয়েই বলি, নিজ কর্মস্থানে কিছুটা বারতি আয়ের জন্য খাটনি করাটা আমাদের কাছে নৈতিক হয়ে গেছে। এভাবে বললে সরকারী কর্মচারীরা যখন সত্যায়িত করার বদলে কিছু অর্থ নেয় তাও তো নৈতিক, কারণ সে পরিশ্রম করেই সেটা নিচ্ছে, সচিবালয়ে প্রবেশে পাশ দিতে যে টাকা নেয় তাও নৈতিক বলতে হয়। – কিন্তু আসলেই কি এগুলো নৈতিক? এগুলো কি দূর্নীতি নয়?
        গ- সমাজে এভাবেই দূর্নীতি ঢুকে গেছে নীতি হিসেবে। ব্যক্তি যত না তৈরি করেছে তার চেয়ে বেশি আমরা সমর্থন দিয়েছি। আমাদের কি সেই সমর্থন বন্ধ করা উচিত নয়?

        আমি আপনার কথাগুলোকে ধ্রুব সত্য হিসেবে মেনে নিয়েছি। কিন্তু এগুলোকে খুব উপকারী উদ্বোগ মনে হয়নি। কেননা দেশের মানুষের মুল্যবোধ নেই তারা আপনার কথা কতটুকু লালন করবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে আমার ।

        1. আমরা সবাই ধূমপানের বিরুদ্ধে
          আমরা সবাই ধূমপানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ (রোগাক্রান্ত হওয়ার…) ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেই কিন্তু কয়জনে তা মানি বা মানে? কিন্তু দুর্নীতি যে তার থেকেও বেশী ক্ষতিকর রাষ্ট্র এবং সমাজের জন্য তা বলারতো কেউ নেই…
          তাই আমার এক উদ্যোগ!! আর শিক্ষক সম্পর্কে আপনি যা বলেছেন আমিও মনে হয় তাই বলতে চেয়েছি শুধু শেষ অংশ ছাড়া দুর্নীতি সমাজে নিয়ম হয়ে গেছে তাই আমরা সবাই তাই করব অথবা মেনে নিব, এমনটা কোন ভাল যুক্তি হতে পারে না!! অন্যায় আর দুর্নীতি সর্বদায় পরিত্যাজ্য যদি দেশের ৯৫% মানুষও করে যদি দুনিয়ার সবাই অন্যায় করে তবুও কখনও অন্যায় ন্যায় হবে না… জনপ্রিয়তা বা % কখনও ন্যায়-নীতির মাপকাঠি নয়…

          সন্দেহ সব সময় থাকবে দুনিয়ার মানুষ সম্পর্কে… তাই “সমাজে এভাবেই দূর্নীতি ঢুকে গেছে নীতি হিসেবে” এমন কথা ক্রোধের বা আক্ষেপের কথা হতে পারে বাস্তব সম্মত বা ন্যায়সঙ্গত নয়!!

          সহজ হিসাব যদি একজন ২৫-৩০ হাজার টাকা কামায় এমন ব্যক্তি কয়জন সন্তানকে মানুষ করার অর্থনৈতিক যোগ্যতা রাখে? ১/২ জন (শহরে…)! বাকিদের কি হবে? আমাদের সমাজের দুর্নীতির মুলেই জনসংখ্যার আধিক্য ভাবছিলাম কথাটা কেউ বলে লিখাটার গঠনমুলক সমালোচনা করবে…

          আর আপনি বাকি যেইসব বিষয় উল্লেখ করেছেন সবই অনৈতিক উপার্জন আর তাই দুর্নীতি!! ব্যাখ্যা দিয়ে কোন দুর্নীতিকে জাস্টিফাই করার সুযোগ নাই… “কিন্তু এগুলোকে খুব উপকারী উদ্বোগ মনে হয়নি”– সবই ঠিক ছিল কিন্তু এইটা মানতে পারলাম না। আমাদেরকে ছাত্র জীবন থেকে এমন মূল্যবোধের শিক্ষা না দিলে আর অন্যায়ের বিরুদ্ধাচার করতে না শিখালে বড় হয়ে অবধারিতভাবেই সে তাই করবে ভবিষ্যতে!! তাই এমন উদ্যোগ আজ অনেকাংশে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে বহুলাংশেই কার্যকর আর সফল হবে বলে আমার আশাবাদ…

          1. আপনি কি আমার মন্তব্য বুঝতে
            আপনি কি আমার মন্তব্য বুঝতে পেরেছিলেন? আপনি যে বলেছিলেন সরাসরি দূর্নীতি বলতে রাজি। আমি তার প্রতিবাদেই বলেছিলাম আমাদের এরকম না বলার কারণে আমাদের সমর্থনেই তা নীতি হিসেবে ঢুকে যাচ্ছে সমাজে। দূর্নীতিকে আমি জাস্টিফাই করিনি। বরং নষ্ট নীতিগুলোকে সরাসরি দূর্নীতি বলেছি
            আর হয়তবা আপনার পদক্ষেপগুলো কার্যকরী। কার্যকরী হলেও ভাল। এমন প্রত্যাশা আমিও করি। মেনে নিলাম আপনার শেষ কথাগুলো। সময় বলে দিবে

  9. অথচ রাজীব ভাইকে তখন ঐ

    অথচ রাজীব ভাইকে তখন ঐ কম্পিটিশনের ফাইনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করতে ইউএসএ যেতে দেয় নি সরকার

    এটা জেনে খুব কষ্ট পেলাম।

    আপানর লেখা টা ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছি একবারে মাথায় নিলে বুঝতে পারব না।

        1. মন খারাপ করেন কেন?
          মন খারাপ করেন কেন? :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ভালাপাইছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *