বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমান

১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে কতটুকু লাভ হয়েছে, ছোট্ট রাসেলকে হত্যা করার মধ্যে মানব সভ্যতার কতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে? জাতি তা জানতে চায়॥

বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাধারণ জনগণের প্রাণ প্রিয় নেতা,উনি কখনওই প্রাচীর সুরক্ষিত বাড়িতে থাকেননি, সেনাবেষ্টিত হয়েও থাকেননি, উনি সারা দেশের গ্রাম বাংলায়, পথে-প্রান্তরে হেঁটেছেন আর দশজন সাধারণ মানুষের মত॥
১৫ই আগস্ট সকালে সকলের ঘুম ভেঙ্গেছিল মেজর ডালিমের কন্ঠস্বরে॥ বাংলাদেশ বেতার থেকে মেজর ডালিম অনর্গল সদর্পে ঘোষণা দিয়ে চলেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কথা॥

১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে কতটুকু লাভ হয়েছে, ছোট্ট রাসেলকে হত্যা করার মধ্যে মানব সভ্যতার কতটুকু অগ্রগতি সাধিত হয়েছে? জাতি তা জানতে চায়॥

বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাধারণ জনগণের প্রাণ প্রিয় নেতা,উনি কখনওই প্রাচীর সুরক্ষিত বাড়িতে থাকেননি, সেনাবেষ্টিত হয়েও থাকেননি, উনি সারা দেশের গ্রাম বাংলায়, পথে-প্রান্তরে হেঁটেছেন আর দশজন সাধারণ মানুষের মত॥
১৫ই আগস্ট সকালে সকলের ঘুম ভেঙ্গেছিল মেজর ডালিমের কন্ঠস্বরে॥ বাংলাদেশ বেতার থেকে মেজর ডালিম অনর্গল সদর্পে ঘোষণা দিয়ে চলেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কথা॥
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পেছনে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থাকতে পারে বুঝেছি, বেগম মুজিবকে না হয় বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী হিসেবে হত্যা করেছে, শেখ কামাল এবং শেখ জামাল কে ধরা যায় বঙ্গবন্ধুর সাবালক পুত্র হিসেবে হত্যা করেছে, কিন্তু ছোট্ট রাসেলকে কেন হত্যা করা হলো এপ্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাইনি জাতি॥ কারণ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে সামরিক শাসন শুরু হয়েছে॥ তখন মানুষ বঙ্গবন্ধুর নামও মুখে আনতে পারত না॥
কিন্তু তারপরো প্রশ্ন মানুষের মাথায় থেকেই গিয়েছিল॥ সর্ব প্রথম প্রশ্নটি করেছিল সাত বছর বয়সী কন্যা ঋত্বিকা, প্রশ্নটি ও রেখে এসেছিল বঙ্গবন্ধুর৩২ নাম্বার ধানমন্ডির বাড়ীর লগবুকে॥ দরজার কাছে রাখা লগবুক, সাত বছরের ঋত্বিকা স্পষ্টভাবে লিখেছিল,
“শেখ রাসেলতো ছোট ছিল, ওকে মারলো কেন?”
এই ছোট্ট কিন্তু অতি তীব্র প্রশ্ন সূচক বাক্যটি পরের দিন দৈনিক ‘আজকের কাগজে’ শিরোণাম হয়েছিল, ছোট্ট ঋত্বিকার প্রশ্ন হিসেবে॥ এভাবেই দিনে দিনে১৫ই আগস্টের বর্বর হত্যাকান্ড সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মের মনে প্রশ্ন জেগেছে॥ সেই প্রশ্ন বোধ আমাদের প্রজন্মকে প্রশ্নের কারণ খুঁজে বের করতে অনুসন্ধিৎসু করে তুলেছে॥ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বর্তমান প্রজন্মের উৎসাহ,বঙ্গবন্ধুকে জানার যে তীব্র আকাংক্ষা এবং নিরলস অনুসন্ধান, তা দেখে আমরা আশান্বিত হয়েই সত্য উন্মোচন হয়েছে॥

সত্যতা মানুষের সামনে আনতে দেশবরেণ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট, কালজয়ী একুশেরসঙ্গীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী”র রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী নির্মান করেছেন চলচ্চিত্র
“পলাশী থেকে ধানমন্ডি”॥
‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ ছবিটি একটি ঐতিহাসিক দলিল॥
জিয়াউর রহমানের যারা পূজা করেন তারা‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ ছবিটি দেখে হজম করতে পারবেন না, কারণ এই ছবিতে ‘কালো চশমার আড়ালে’র মানুষটির মুখোশ উন্মোচিত করে দিয়েছে॥

মোশতাক খন্দকার নামটি বাঙ্গালীর বুকে গভীরতম ক্ষত, কাঁধে পাপের বিশাল বোঝা॥ পলাশীর যুদ্ধের মীরজাফরের সাথে ভীষণ মিল! এমনকি এই দুইপাপিষ্ঠের মৃত্যুতারিখ ‘৫’॥ বাংলার প্রথম মীরজাফর মরেছে ৫ই ফেব্রুয়ারী, কুষ্ঠরোগে পচে গলে একাকী প্রকোষ্ঠে॥ আর দ্বিতীয় মীরজাফর মরেছে ৫ই মার্চ,একাকী অন্ধকার ঘরে, আত্মীয়-বান্ধব বিবর্জিত হয়ে॥

খন্দকার মোশতাক! যার জন্মই আজন্ম পাপ, জীবনের সবচেয়ে বড় পাপটি করেছিল বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে॥ নিজ হাতে হত্যা করেনি, হত্যা সে করিয়েছিল॥ পাশে পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর স্নেহভাজন সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে॥
বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ এখন জানে, জিয়াউর রহমান প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং সহযোগীতা পেয়েই মেজর ফারুক, মেজর রশিদ, মেজর ডালিমদের মত কিছু পাকিস্তানপ্রেমী কুলাঙ্গার বঙ্গবন্ধুকে তাঁর সহপরিবারে হত্যা করেছিল॥ বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্তরালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা যে ছিল এবং এটা সৃষ্টির মুল কারিগর যে মোশতাক খন্দকার নামের বিশ্বাসঘাতক তা খুবসহজে জানতে হলে, আবদুল গাফফার চৌধুরীর
‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ ছবিটি দেখতে হবে। মাত্র দুই ঘন্টার ছবিতে উনি বঙ্গবন্ধু হত্যার সম্মুখ এবং অন্তরালের কুশীলবদের স্বরূপ উন্মোচন করে দিয়েছেন॥
শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি মোশতাক, তার নির্দেশে ’৭৫ এর ৩রা নভেম্বার জেলে অন্তরীণ অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে জাতীয় চার নেতা
তাজউদ্দিন আহমেদ,
সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুরআলী এবং মোহাম্মদ কামরুজ্জামকে॥ তার প্রেসিডেন্ট হবার বাসনা ছিল॥ যা পূর্ণ হয়ছে ১৫আগষ্ট থেকে ৬নভেম্বর মাত্র আড়াই মাসের জন্যে প্রেসিডেন্ট হয়ে॥ ৬নভেম্বর কারাবন্দী হবার আগে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকারীদের বাঁচাতে নডেমটিনি অধ্যাদেশ জারি করে তাদেরকে বিচারের আওতা মুক্ত করে দিয়ে যান॥

এক বিশ্বাসঘাতক মোশতাক পাশে পেয়েছে আরেক বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমানকে॥
মুক্তিযুদ্ধে জিয়ার ভূমিকা নিয়ে ওনার অনেক সহযোদ্ধা ভিন্নমত পোষণ করেছে॥
বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য জিয়া শেষ পর্যন্ত হাত মিলিয়েছে বঙ্গবন্ধুর বিশ্বত্ব মোশতাকের সাথে॥ তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় বাঙালীর স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের সহ সকলের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে॥
জিয়াউর রহমানের ভাগ্য ভাল ওনি কাল চশমায় ওনার লোভ আডাল করতে পেরেছে যা মোশতাক জিন্নাহ টুপি দিয়ে পারেন নি॥
মোশতাককে ৬নভেম্বর কারাবন্দীর পর ৭নভেম্বর কর্ণেল তাহেরের সহযোগীতায় জিয়াউর রহমান হ্মমতায় আসে॥
জিয়া ছিলেন পুরোদমে আর্মি অফিসার, তার মায়াদয়া বলতে কিছু ছিল না॥ বঙ্গবন্ধুর হত্যার মদদ দিতেও বুক কাঁপে নি॥ জিয়াউর রহমান তার উপকারী বন্ধু কর্ণেল তাহেরকেও ফাঁসিতে ঝুলাতে দেরি করে নি॥
বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর দেশবাসি যখন হতবিহবল তখন জেনারেলগণ সাময়িক আইন জারি করে দেশে জনগনের মুখে তালা মেরে দিয়েছিল॥

কথায় আছে ‘পাপ তার বাপকেও ছাড়ে না ॥’ ৫মার্চ বিশ্বাসঘাতক মোশতাক একাকি মারা গেছে॥
আর আরেক বিশ্বাসঘাতক জিয়া, তাকে তারই মত হ্মমতালোভী আরেকদল জেনারেলগণ গুলি করে তার শরীর ঝাঝরা করে দিয়েছে॥ তার পরিবার তার মুখটাও পর্যন্ত দেখতে পারে নি॥ পাপ ওনাকেও হ্মমা করেনি॥

বঙ্গবন্ধুকে হত্যারপর স্বাধীন বাংলাদেশে মিলিটারী শাসণ কায়েম হয়েছিল, বন্দুকের নলের খোঁচায় বাহাত্তরের সংবিধান এফোড ওফোড করা হয়েছে, সংবিধান থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতা মুছে গিয়েছিল॥ নিষিদ্ধ জামায়াতকে দেশে ফিরিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিছিল এই জিয়া॥

জিয়াউর রহমান শুধু বঙ্গবন্ধুর সাথে না পুরো জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে॥

৭ thoughts on “বিশ্বাসঘাতক জিয়াউর রহমান

  1. কপি পেস্ট না করার পরামর্শ
    কপি পেস্ট না করার পরামর্শ দিচ্ছি ভাই। লেখাটা আমারব্লগ ব্লগে প্রকাশিত। পোষ্টটা এখনো স্টিকি করা আমারব্লগে।

    মুল লিন্ক

    http://amarblog.com/Rita-Roy-Mithu/posts/172361

    যা লেখা তা আপনি মুল লেখা থেকে শুধু কিছু কাট ছাট করছেন।

  2. কপি পেস্টের যুগটা এসে বিপদই
    কপি পেস্টের যুগটা এসে বিপদই হয়েছে মনে হয়!!কোনো কিছুতেই শান্তি নাই।আর ঐ পলাশী থেকে ধানমন্ডীর লিঙ্কটা দিলে কৃতার্থ হতাম।

  3. ইনিই সেই লিখক যিনি ‘পরকীয়ার
    ইনিই সেই লিখক যিনি ‘পরকীয়ার কিছু কথা‘ এই লিখায় নারী অবমাননা করেছেন স্পষ্টভাবে!!
    কীভাবে ঐখানেই আমি দেখিয়েছিলাম!! এমন লোকের কাছে এমন কপি পেস্ট পোস্ট সম্ভব!!
    প্রথমে পড়ে একটু টাস্কিত হয়েছিলাম কেননা আমার প্রোফাইল পিকচার আর নাম মনে আছে…
    সত্যের তলোয়ার, সবুজ কি যেন আর এই ভদ্রলোক আগের প্রশ্নগুলোর উত্তর না দিলে ভুল স্বীকার না করলে কোন পোস্টেই আমি ছাড় দিব না…
    সত্যের জয় অবধারিতভাবেই প্রত্যাসন্ন…

  4. এই ছোট্ট কিন্তু অতি তীব্র

    এই ছোট্ট কিন্তু অতি তীব্র প্রশ্ন সূচক বাক্যটি পরের দিন দৈনিক ‘আজকের কাগজে’ শিরোণাম হয়েছিল, ছোট্ট ঋত্বিকার প্রশ্ন হিসেবে॥ এভাবেই দিনে দিনে১৫ই আগস্টের বর্বর হত্যাকান্ড সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মের মনে প্রশ্ন জেগেছে॥

    কেমনে করে কি হয়? আমার জানা মতে ‘আজকের কাগজে’ প্রকাশনা শুরু হয়েছে নব্বই দশকের প্রথম দিকে। হয় একানব্বই নয় বিরানব্বই সালে। তো বিরানব্বইয়ের কমপক্ষে আট বছর আগে আমার এক বন্ধুর নাম ছিল রাসেল। বাসায় ওকে ডাকতো বাবু বলে। একদিন জানতে চাইলাম তোকে রাসেল কেন ডাকেনা। তখন সে উত্তর দিয়েছিল যে, শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলেটার নাম যে রাসেল ছিল। ওকে গুলি করে মেরে ফেলছে। তাই আম্মা আমাকে আর ঐ নামে ডাকে না। আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। …………… এছাড়াও, আমার জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই তো এই প্রশ্ন আমারও। তাই ‘আজকের কাগজে’ এর ঐ প্রসঙ্গটা কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয়, কেন বুঝেন না ভাই, তাঁর আগে ল্যিগাসী অফ ব্লাড এর অনুবাদ আমাদের পড়া হয়ে গেছে। সাপ্তাহিক বিচিত্রা ও সাপ্তাহিক রোববার পত্রিকায় অনেকবার এই সম্পর্কে ফিচার লেখা হেয়ছে আশির দশকেই। ……………… আর একটা কথা, কপি করলে সেখানে মূল পোষ্টের লিংক না দেন সামান্য কার্টেসীটা তো দেয়া উচিৎ। ধন্যবাদ।

Leave a Reply to উত্তর বাংলা Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *