গোধুলীর আলেয়া

১.
– এই যে শুনছো? কোথায় তুমি?
– এই তো সোনা আমি চলে এসেছি। আর ২ টা মিনিট ওয়েট করো প্লিজ!
– ঠিক আছে। আর মাত্র ২ মিনিট। এর মধ্যে না আসলে আমি চলে যাবো কিন্তু।
– ওকে বাবা ওকে। আসছি।

ঠিক ১৫ মিনিট পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসলো আবীর। ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে গেছে। এসেই সবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তিথীর জন্য আনা গোলাপ ফুলটা সেই পুরানো স্টাইলে বাড়িয়ে দিল তার দিকে। তিথীর মন ভালো হয়ে গেলেও আবীরের উপর কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বললো, “এতক্ষণ কেন লাগলো তোমার?”
আবীর মুখ ভেংচিয়ে বললো, “কেন আবার? তোমার জন্য গোলাপ খুঁজতে খুঁজতে!”


১.
– এই যে শুনছো? কোথায় তুমি?
– এই তো সোনা আমি চলে এসেছি। আর ২ টা মিনিট ওয়েট করো প্লিজ!
– ঠিক আছে। আর মাত্র ২ মিনিট। এর মধ্যে না আসলে আমি চলে যাবো কিন্তু।
– ওকে বাবা ওকে। আসছি।

ঠিক ১৫ মিনিট পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসলো আবীর। ঘেমেনেয়ে একাকার হয়ে গেছে। এসেই সবার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তিথীর জন্য আনা গোলাপ ফুলটা সেই পুরানো স্টাইলে বাড়িয়ে দিল তার দিকে। তিথীর মন ভালো হয়ে গেলেও আবীরের উপর কৃত্রিম রাগ দেখিয়ে বললো, “এতক্ষণ কেন লাগলো তোমার?”
আবীর মুখ ভেংচিয়ে বললো, “কেন আবার? তোমার জন্য গোলাপ খুঁজতে খুঁজতে!”

তিথী আর আবীর, দুইজন দুইজনকে খুব ভালোবাসে। তিথী নামকরা এক ভার্সিটিতে অধ্যয়নরত। আবীরও একই ভার্সিটিতে, তবে এক বছর উপরে। ভার্সিটিতে এমন কোন মানুষ নাই যে তাদের এই জুটি দেখে মনে মনে একবার হলেও বলেনাই যে, তাদের জুটিটা খুব সুন্দর। লেখাপড়ার দিক দিয়ে কেউ কাউকে ফেলবার পাত্র নয়। ২ জনই মারাত্মক ব্রিলিয়ান্ট। ভালবাসা কি জিনিস তা ওদের দেখেই বোঝা যায়।

২.
আজ আবীর লন্ডন যাচ্ছে সাত বছরের জন্য। ভার্সিটি থেকে স্কলারশীপ নিয়ে সাত বছরের জন্য যেতে হচ্ছে। আবীরকে এয়ারপোর্টে বিদায় জানাতে এসেছে তিথি। দুজনেই কাঁদছে। একজন একজনের সাথে প্রতিদিনে একবার হলেও দেখা করতো। সেই জায়্গায় আজ সাত বছরের জন্য চলে যাচ্ছে। সামনাসামনি হয়্তো দেখা হবে না। কিন্তু ভার্চ্যুয়ালি কথা হবে।

লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছে দুইজনই। কিন্তু কেউ কাউকে প্রকাশ করেনি।

আবীর চলে গেল। এরপর কেটে গেল কয়েকটা মাস। প্রতিদিন তাদের মাঝে কথা হয় ফেসবুকে অথবা স্কাইপিতে। কেউ কাউকে কারো অভাব বুঝতে দিতে চায়্না। এভাবেই কেটে গেল দুটো বছর।

অনেকদিন তিথির কোন খবর ছিলনা। মোবাইল বন্ধ, ফেসবুক আর স্কাইপিতেও তাকে পাওয়া যেত না। এদিকে আবীর তিথির অনুপস্থিতির কারণে অস্থির হয়ে উঠল। প্রতিদিন তার অপেক্ষায় থাকতো আবীর। কিন্তু না, তিথির কোন খবর নেই।

একদিন তিথিকে চ্যাটে দেখা গেল। আবীরকে মেসেজ দিয়েছে। আবীর সাথে সাথে রিপ্লাই দিল। তিথি শুধু একটা কথা বললো, “আবীর যেন তাকে ভুলে যায়। সে আবীরকে না, ভালবাসে অন্য আরেকজনকে।” আবীর সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিল। খুব কেঁদেছিল সেদিন।

৩.
আজ আবীর দেশে এসেছে। সাতটা বছর পরে দেশে ফিরলো। প্রথম উদ্দেশ্য তিথিকে খোঁজা। ওর সাথে কথা আছে।

এসেই বেরিয়ে গেল আবীর। তিথিদের বাসায় গেল। কিন্তু পেল না। তিথিরা অনেক বছর আগেই বাসা ছেড়ে দিয়েছে। তিথির গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় গিয়ে দেখলো তিথির বাবা, মা, বোন সবাই আছে। শুধু তিথি নেই। নিজেকে তিথির বন্ধু হিসেবে পরিচয় দেয় আবীর। তিথির পরিবার তাকে খুব আপ্যায়ন করলো। তিথির বাবা মাকে তিথির কথা জানতে চাইলে তারা বলেন তিথির বিয়ে হয়ে গেছে। তার সাথে যোগাযোগ উপায় চাইলে কেউ তাকে কিছু জানায়্নি। সেদিনকার মত ফিরে আসে আবির। কিন্তু নিজের মনকে বুঝাতে না পেরে কয়েকদিন পর আবার সেখানে যায়। তিথির ফোন নাম্বার বা ঠিকানা জানতে তিথির বাবা মা কেউ তাকে দিতে রাজি হননি। শেষে ব্যর্থ হয়ে কান্নাভরা মন নিয়ে ফিরে আসছিল আবীর। “না, তিথি অন্যকাউকে বিয়ে করতে পারেনা। ও বলেছিল, ও শুধু আমাকেই ভালবাসে।” চোখ মুছে মুছে ফিরে আসার সময় হঠাৎ কে যেন তাকে থামায়। তিথির বোন। হাতে চিঠির মত একটা দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। চিঠিটা অনেক পুরানো। ৪-৫ বছর হবেই। কাগজের উপর ময়্লা পড়ে কাগজের রং বদলে গেছে। চিঠিটা খুলেই সে পড়তে লাগলো।

আবীর,
তুমি যখন এই চিঠিটা পড়বে, তখন আমি তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে। হয়্তো তোমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। জানি তোমায় এতদিনে অনেক কষ্ট দিয়েছি। এজন্য তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও।

তুমি যাওয়ার দুই বছর পর একদিন আমার খুব অসুখ হলো। অনেকদিন হসপিটালে ছিলাম। জানতে পারলাম আমার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। আর বড়জোর তিন মাস বাঁচবো আমি। স্বপ্ন দেখেছিলাম, তোমায় নিয়ে ঘর বাঁধবো। পারলাম না। তোমায় যতটুকু না কষ্ট দিয়েছি তার চাইতে বেশি কষ্ট পেয়েছি আমি। যাওয়ার আগে তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে। তোমাকে বলেছিলাম না? আমাদের খুব ছোট্ট একটা বেবী হবে। আমি সারাদিন ওকে দেখবো আর তুমি অফিস থেকে ওকে ঘুম পাড়াবে। আমাদের খুব ছোট্ট, সুন্দর একটা ঘর হবে। কিন্তু দেখ, কিছুই হল না। নিয়তিটা বড় নিষ্ঠুর। নিষ্ঠুর এই পৃথিবীটাও। তোমার কাছ থেকে আমাকে আলাদা করে দিল। তোমায় অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর আমার জন্য নিজের জীবনকে থামিয়ে দিও না। আমি তোমার আছি, তোমারই থাকবো। তোমার ভালবাসা হয়েই বেঁচে থাকবো।

ইতি
তোমার তিথি”

৪.
চোখ বেয়ে পানি গড়াচ্ছে আবীরের। চিঠিটা বন্ধ করে দূরে তাকালো। গোধুলীর আলোয় আকাশটাকে খুব সুন্দর লাগছে। তিথি এই সময়টাকে খুব পছন্দ করতো। চোখ মুছে দূরের গ্রামটার দিকে তাকালো আবীর। মনে হচ্ছে ওখানে দাড়িয়ে আবীরকে ডাকছে তিথি। সামনে হাঁটা শুরু করলো আবীর। তিথির জন্যেই সে বাঁচবে। আজ সে বাঁচবে তার ভালবাসার জন্যে। বাঁচবে তার তিথিকে বাঁচিয়ে রাখতে।

১১ thoughts on “গোধুলীর আলেয়া

  1. ধুর ভাই বিকেলটাই নষ্ট করে
    ধুর ভাই বিকেলটাই নষ্ট করে দিলেন । এমন আবেগী লেখা ক্যান যে লেখেন !!! ওদের জীবনের ট্র্যাজিক পরিণতি ভীষণ মন খারপ করে দিলো । কবি আবুল হাসানের শেষ দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে ।

  2. আহ!! এমন লিখা পড়লে ভয় লাগে
    আহ!! এমন লিখা পড়লে ভয় লাগে ভাই। এখন নতুন অবস্থা আমার এখনই ভয় লাগায় দেন যে কেন???
    আমাদের কবিরা কোথায় দুই একটা সফলাতার কবিতা দেন পড়ে উদ্দীপনা পাই।

    আর ভাই লেখাটা হার্ট টাচিং। কিন্তু পড়েই বুঝতে পেরেছি। এটা কিছু দিন আগে ফেসবুকে পড়েছি সেম স্টোরি,কিছুটা পরিবর্তীত। তবে সেটা মূল লেখার পরিবর্তন হয়নি। বিশেষ করে দ্বিতীয় প্যরা

  3. হতে পারে আপনারা পড়েছেন। আমি
    হতে পারে আপনারা পড়েছেন। আমি কিন্তু পড়িনি। আর দুইটা মানুষের চিন্তা ধারা একই হতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তবে ভাই, কারো থেকে কপি মারিনি বা মুলভাব নেইনি।

  4. অত্যন্ত কমন একটা গল্প।
    তিথি

    অত্যন্ত কমন একটা গল্প।
    তিথি যোগাযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছে , এতেই বুঝা শেষ কি হবে। গতানুগতিক ভাবে তার অসুখ, অতঃপর মৃত্যু।
    লেখায় , থিমে ভিন্নতা আনেন। এমন গল্প তো হাজারটা আছে। :বিস্ময়:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *