বাংলাদেশে মানবাধিকার এবং বাক-স্বাধীনতা

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জন্ম।

জন্মের পর পরই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট দেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা। তখন এই দেশে মানবাধিকার এর কথা উঠে নাই। কেউ তখন বলে নাই ক্যান শিশু রাসেল কে হত্যা করা হল!! কেউ তখন বলে নাই মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হইছে। এমন মানবাধিকার কোন কামের যেইটা একজনের বেলায় ঢাল আর আরেক জনের বেলায় বাতাস হইয়া যায়??


বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জন্ম।

জন্মের পর পরই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট দেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে হত্যা। তখন এই দেশে মানবাধিকার এর কথা উঠে নাই। কেউ তখন বলে নাই ক্যান শিশু রাসেল কে হত্যা করা হল!! কেউ তখন বলে নাই মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হইছে। এমন মানবাধিকার কোন কামের যেইটা একজনের বেলায় ঢাল আর আরেক জনের বেলায় বাতাস হইয়া যায়??

তারপর দেশে চালু হয় সামরিক শাসন। যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যার জন্য দায়ী তারাই ক্ষমতায় বসেন। বিভিন্ন উথান পতনের পর সর্বশেষ স্বৈরশাসক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ এর পতন এবং দেশে গনতন্ত্র চালু!!! ৯১এ বিএনপি , ৯৫এ আওয়ামীলীগ, ২০০১এ বিএনপি সহ চারদলীয় ঐক্যজোট তারপর ৩ বছর এর হাইব্রিড তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং ২০০৯ সালে আবার আওয়ামীলীগ সহ মহাজোট । স্বাধীনতার ৪২ বছর । আমাদের প্রাপ্তির হিসাব এখনও শূন্যের কোঠায়!! ২০১০ সালে আওয়ামীলীগ সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুসারে যুদ্ধঅপরাধীদের বিচার শুরু করে। স্বাধীনতার ৪০বছরের মাথায় নিজামী, গোলাম আযম, কাদের মোল্লা, সাকা চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সহ আর অনেক রাজাকারদের বিচার শুরু হয়। অতঃপর বিচারের রায়ও ঘোষণা শুরু হয়। কাদের মোল্লার রায় ঘোষণা করা হয় যাবতজীবন কারাদণ্ড। তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ৪৫৫ জনের হত্যা এবং কিছু ধর্ষণ ও লুটপাটের অভিযোগে আনা হয় এবং প্রমাণিতও হয় তবুও তার শাস্তি যাবতজীবন !!!?? এ ঘটনায় তরুণ সমাজ এর কিছু ব্লগার এবং সাধারন মানুষ ৫ই ফেব্রুয়ারী, ২০১৩ শাহবাগ চত্বরে এই রায়ের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতে শুরু হয় আন্দোলন । তখনই আবার দেশে আসে বাক- স্বাধীনতার ভুত। জনৈক মাহমুদুর রহমানে পত্রিকা “আমার দেশ” তার বাক-স্বাধীনতার ঠ্যালায় জোর গলায় ঘোষণা কইরা দেয় ‘ শাহবাগে গাঞ্জা খাওয়া হয়, পার্টি হয়, হয় অসামাজিক কার্যকলাপ, ইসলামের বিরুদ্ধে কথা হয়!!” কোন প্রমান নাই কিচ্ছু নাই কিন্তু বাক-স্বাধীনতা আছে!! আমার যা ইচ্ছা আমি তাই কইতে পারি, লিখতে পারি। “আমার দেশ”রে ব্যবহার কইরা শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর এর নামে কত বাক-স্বাধীনতাই না ব্যবহার করল মাহমুদুর রহমান।

১২ই ফেব্রুয়ারী ব্লগার থাবা বাবা ওরফে আহমেদ রাজীব হায়দার কে নৃশংস ভাবে জবাই করে হত্যা। তার অপরাধ সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, তার অপরাধ সে রাজাকাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তার অপরাধ সে ব্লগে রাজাকাদের চামচামি করে নাই। কিন্তু সে ভুলে গেছিল তার তো বাক-স্বাধীনতা নাই!! বাক-স্বাধীনতা মাহমুদুর রহমানের বাপ দাদার সম্পত্তি। উনি ছাড়া কিছু ছাগল গোত্রীয় প্রাণীর বাক-স্বাধীনতা আছে। তুমি তো “থাবা বাবা” তোমার তো বাক-স্বাধীনতা নাই। তুমি ক্যান বাক-স্বাধীনতা ব্যবহার করবা?? তুমি যেদিন মারা গেছো ঐদিন মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার”-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান কোন ভাবেই মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হইছে এইটা দ্যাখেন নাই। উনি আবার মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার” এর নামে খালি জামাতের ছাগলের পালের অধিকার রক্ষণাবেক্ষণ করেন। “থাবা বাবা”রে নৃশংস হত্যায়ও মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয় না!! বড়ই কঠিন চিড়িয়া বাংলাদেশের মানবাধিকার!!!

অতঃপর “দেইল্লা রাজাকার” ওরফে সাঈদীর ফাঁসির রায় ২৮শে ফেব্রুয়ারী। শাহবাগে তখন আনন্দ মিছিল । কিন্তু ততদিনে আমাদের মাহমুদুর রহমানের ” আমার দেশ” দেশে আস্তিক নাস্তিক যুদ্ধ লাগাইয়া দিছে!! ব্লগার মানেই নাস্তিক। “আমার দেশ” কোন এক ওয়েব সাইট খুইজা বের করছে যেখানে “থাবা বাবা” মহানবীকে নিয়া কটুউক্তি করছে!! তাই তাকে নৃশংস ভাবে জবাই করে হত্যা করায় কোন পাপ হয় নাই!! উলটা আল্লাহর পথে জিহাদ হইছে!! শুরু হইল আস্তিক নাস্তিক যুদ্ধ। বাক-স্বাধীনতা খালি মাহমুদুর রহমানের আমরা সবাই গাঙের জলে ভাইসা আইছি আমাগো আবার কিসের বাক-স্বাধীনতা?? আমরা সাঈদীরে নিয়া কিছু কইলেই আমরা নাস্তিক!! “বাশের কেল্লা” নামে ফেসবুকের এক পেজের কথা বার্তা শুনলে তো মনে হইত সাঈদী হইল বাংলাদেশের সকল মুসলমানদের রক্ষাকর্তা!!! তারে কিছু কইলেই আমি নাস্তিক মুনাফের কাফির হইয়া গেলাম!!! সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে ১৮ দলীয় ঐক্যজোট টানা হরতাল দেয়া শুরু করল!!! সেখানে ইচ্ছা মত ছাগলের পাল অকাতরে কুরবানি হইতে লাগলো “অধিকার” আদিলুর রহমানের পাছায় তখন কিরমি !! সে মানবাধিকার চুইদ্দা ফেনা বের কইরা দেশে-বিদেশে ফেনা ফেনা কইরা ফেলল!!! কিন্তু হঠাৎই রাইতের আঁধারে ছাগলদের মাথায় শিং গজাইয়া উঠলো!! তারা পুলিশ মারা শুরু করল !!! তত দিনে মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার” এর আদিল সাবের কিরমি ঠাণ্ডা হইছে কারন তার ছাগলের পাল এখন মরে নাই!! তিনি যথারীতি ৪পেগ হুইস্কি মাইরা নাকে তেল দিয়া ঘুম।

এতো কিছুর মধ্যে বিএনপি এবং জামাত [বিশেষ কইরা জামাত] এর খুবই খারাপ লাগতাছিল। আওয়ামীলীগ শাহবাগে এতো বড় একটা চত্বর বানাইল ঘটনা ঘটাইল [“আমার দেশ” এর মতে “নাটক” ] আর তারা কিনা বইসা বইসা বাল ফালাইল!!! অতঃপর ডাকা হইল “কপটার শফি”রে তারে আল্লামা টাইটেল দিয়া ” হেফাজতে জামাতে ইসলাম” [জামাত সাইলেন্ট] চালু কইরা ফেলল!!! অবশেষে আইল ৫ই মে !!! রাইতের অন্ধকারে “কপটার শফি” তার “হেফাজতে জামাতে ইসলাম”[জামাত সাইলেন্ট] এর পিচ্চি পিচ্চি পোলাপান গুলারে গুয়া মাইরা পেলেনে করা পাছা দেখাইয়া উল্টা দৌড় দিল!! পুলিশ সংঘর্ষ এরাইতে গরম পানি, টিয়ার গ্যাস , রাবার বুলেট মাইরা ২৫০০ মানুষ [আসলে ছাগল] মারছে জামাত এর পেজ “বাঁশের কেল্লা” এই চাপা মাইরা মরা কান্দা শুরু কইরা দিল । এতো বড় চাপা ঢাকতে তারা কিছু সুমালীয় ছবি খাইয়া দিয়া বাংলাদেশের নাম দিয়া ছাইরা দিল [বুদ্ধিটা পাইছে মাহমুদুর রহমানের কাছে। সে পবিত্র কাবা শরীফের গিলাপ টানানোর অনুষ্ঠানরে সাঈদীর মুক্তির দাবি কইয়া চালাইয়া দিছে ]। এদিকে বিএনপির কেউ তো আর এতো খবর রাখে না তারা কইয়া বইল ৩৫০০ হাজার নিহত!! আবার বাক-স্বাধীনতা নিয়া শুরু হইল !!!

এখন এতো লোক সেলেব্রিটি হইয়া গেলো তাই মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার”-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান চিন্তা করল আমিও একটু হিট হই!! তাই সে অনেক চিন্তা ভাবনা কইরা খা-ল্যাদা আন্টির বয়সের সাথে মিল রাইখা ৬১ জন ৫ই মে হেফাজতের মিছিলে নিহত ঘোষণা করল!! এখন অনেকই জিগাইতে পারে খা-ল্যাদার তো 69 বছর হইছে সে ক্যান ৬১ কইতে গেলো?? ভাই কি করব কন খা-ল্যাদা আন্টির জন্ম তো আর এক দিনে হয় নাই উনি ৪টা ভিন্ন ভিন্ন তারিখে সব মিলাইয়া ৩টা ভিন্ন ভিন্ন সালে ৫ বার জন্মাইছেন। তাই আদিলুর রহমান একটু কনফিউজ হইয়া গেছিল আর কি!! তা যাই হোক মানবাধিকার সংস্থা “অধিকার”-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান বাংলাদেশের মানবাধিকার এবং বাক-স্বাধীনতার মোক্ষম ব্যবহার কইরা ঘোষণা দিলেন যে না মরছে ৬১ জন। এখন তুমি এলাকায় ঢাকঢোল পিটাইয়া কইবা বিয়া করতাছি আর এলাকার লোকজন তোমারে জিগাইব না , কারে বিয়া করলা , বউ কই?? তা তো হইব না!! তেমনি কইলা ৬১ জন মরছে কই তাদের পরিচয়?? সরকার জিগাইল!! পরিচয় দাও!!!
এই প্রশ্নের জবাবে “অধিকার”-এর সেক্রেটারি আদিলুর রহমান কইল, ” না তোমারে কমু না!!”
সরকার কইল, “আমারে কইবা না ক্যান??”
আদিলুর কইল, ”আমার ইচ্ছা!! আমার কি বাক-স্বাধীনতা নাই?? মানবাধিকার নাই?? ”
তার ঐ এক কথায় দুনিয়া কাইপা উঠলো । আমেচিকা থুক্কু আমেরিকা, কানাডা [আসলেই কানা!!] ফাল দিল মানবাধিকার রেপ হইছে!! জলদি তারে অক্সিজেন দেও মানে আদিলুর চুদির ভাইরে ছাইরা দেও। মানবাধিকার বইলা কথা!!

এখন যে দেশের জাতির পিতার হত্যায় মানবাধিকার লংঘন হইছে কেউ কয় না, যে দেশে ভুল বিচারের প্রতিবাদ জানাইতে গিয়া, ব্লগে লেখতে গিয়া নৃশংস ভাবে হত্যা হইতে হয়, যে দেশে সমানে ধর্মের নামে যা তা কারীদের গ্রেফতার করলে বাক-স্বাধীনতার গলা রুদ্ধ হয়, যে দেশে মিথ্যা তথ্য দিয়া ধরা খাইলে তারে কিছু জিগাইতে গেলে মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়!! সেই দেশের so called মানবাধিকার আর বাক-স্বাধীনতার গুষ্টি চুদি!!!

৫ thoughts on “বাংলাদেশে মানবাধিকার এবং বাক-স্বাধীনতা

  1. উনি যেহেতু সুনির্দিষ্ট করে
    উনি যেহেতু সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন ৬১ জন মারা গেছে , তাহলে নিশ্চয়ই ওনার কাছে তথ্য, প্রমাণ আছে । তথ্য – প্রমাণ ছাড়া একজন দায়িত্বশীল মানুষ এমন অর্বাচীন কথা বার্তা বলতে পারেন না । কিন্তু আমারা জানতে পেরেছি উনি কোন ধরণের তথ্য – প্রমাণ সরবারহ করতে পারেন নি । এক্ষেত্রে সরকার তার জবাবদিহিতা চাইতেই পারে । তার জন্য বাক স্বাধীনতা, মানবাধিকার ইত্যাদির দোহাই তুলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলাটা কতোটা আইন সম্মত ? প্রশ্ন থেকেই যায় ।

  2. একতরফা মানবাধিকারের গোষ্টি
    একতরফা মানবাধিকারের গোষ্টি কিলাই…

    .
    .
    বিষয়বস্তু ভালোই ছিল কিন্তু পুরো লিখাটায় কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে দিয়েছেন ।সাজিয়ে লিখলে আরো সুন্দর দেখাতো ।
    হয়তো তাড়াহুড়া ও প্রবল ক্রোধ থেকে এমনটি হয়েছে ।যাইহোক, আরো ভাল লিখা প্রত্যাশা করি ।ধন্যবাদ ।

  3. এখন যে দেশের জাতির পিতার

    এখন যে দেশের জাতির পিতার হত্যায় মানবাধিকার লংঘন হইছে কেউ কয় না, যে দেশে ভুল বিচারের প্রতিবাদ জানাইতে গিয়া, ব্লগে লেখতে গিয়া নৃশংস ভাবে হত্যা হইতে হয়, যে দেশে সমানে ধর্মের নামে যা তা কারীদের গ্রেফতার করলে বাক-স্বাধীনতার গলা রুদ্ধ হয়, যে দেশে মিথ্যা তথ্য দিয়া ধরা খাইলে তারে কিছু জিগাইতে গেলে মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হয়!! সেই দেশের so called মানবাধিকার আর বাক-স্বাধীনতার গুষ্টি চুদি!!!

    সাব হিউম্যান স্পিসিজ সাবরে :bow: :bow: :bow: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া:

    এইগুলারে ধইরা সকালবিকাল টিকটিকি দিয়া চু…নি উচিৎ। নিজেদের দেশে সামান্য বা… ফালানির সামর্থ্য নাই, আসছে অন্যদেশে নোংরা নাকটা গলাইতে… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

  4. আপনার বিষয়বস্তু ভালো।সত্যি
    আপনার বিষয়বস্তু ভালো।সত্যি বলতে আমাদের দেশে মানবাধিকার কারে কয় তা বলা দুস্কর।আর বাক স্বাধীনতা সে তো পরের কথা।কিন্তু লিখাটিতে একটু ভাষাগত দিকটা ঠিক রাখলে আরো ভালো লাগতো।বুঝতে পারছি অনেক রাগ ক্ষোভ থেকে এমনটা লিখছেন তবু আমাদের ভাষাগত দিকটা ঠিক রাখা প্রয়োজন।

  5. তথাকথিত আমাদের দেশের
    তথাকথিত আমাদের দেশের মানবাধীকার কর্মী চুতিয়ারা শুধু বড় বড় ক্রিমিনাল আর দেশবিরোধী চুতিয়াদের ক্ষেত্রে মানিবাধিকার চোদায় ! অথচ সাধারণ পাবলিকের বেলায় মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে ! এসব চুতিয়াদের আগে ক্রস ফায়ার দেয়া উচিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *