মনের শক্তি

আমার কোনো ক্রোধ নেই।
টিন সহজে গরম হয়।
আমি টিন নই। আমি আলো।
আলো তাপ বয়ে বেড়ায়।
কিন্তু নিজে উত্তপ্ত হয় না।

আমার প্রচন্ড ক্রোধ আছে।
নিজের লোভকাতরতার প্রতি।
নিজের বিদ্রোহের প্রতি।
নিজের অহংকারের প্রতি।
নিজের স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতার প্রতি।



আমার কোনো ক্রোধ নেই।
টিন সহজে গরম হয়।
আমি টিন নই। আমি আলো।
আলো তাপ বয়ে বেড়ায়।
কিন্তু নিজে উত্তপ্ত হয় না।

আমার প্রচন্ড ক্রোধ আছে।
নিজের লোভকাতরতার প্রতি।
নিজের বিদ্রোহের প্রতি।
নিজের অহংকারের প্রতি।
নিজের স্বার্থপরতা ও সংকীর্ণতার প্রতি।

আমার কোনো লোভ নেই।
বাড়ি তৈরি হয় ইট-বালু-সুড়কি দিয়ে।
আমি ইটের চেয়ে বড়।
মানুষ ধনী হয় টাকার বলে।
আমি কাগজের টুকরোর চেয়ে বড়।
মানুষ নার-নারীর লোভ করে কাঁচা মাংসের লোভে।
আমি মাংস-খন্ডের চেয়ে বড়।
ভালোবাসা আর মাংসের নেশা এক কথা নয়।

আমার প্রচন্ড লোভ আছে।
সমস্ত লোভ ত্যাগ করতে পারলে মনের মধ্যে কী রহস্যময় অবস্থা হতো তা জানার লোভ।
লোভহীন, সুস্থ একটি মন পাবার লোভ।
“আমার কোনো লোভ নেই” এই কথাটি তৃপ্তিভরে বলতে পারার লোভ।

আমার কোনো অহংকার নেই।
যে নিজেকে ছোট মনে করে সে-ই নিজেকে কাল্পনিকভাবে বড় করে দেখানোর জন্য অহংকার করে।
যে বড়ত্ব অন্যের চোখের ওপর নির্ভরশীল, তা আমি পছন্দ করি না। অন্যেরা যদি চোখ বুজে থাকে, তাহলে তার মূল্য কী?
প্রত্যেকে নিজের দিকে তাকায়।
“মানুষ অন্যের দিকে তাকায় কেবল নিজেকে আলাদা করার জন্য। অন্যকে শ্রেণীবিভক্ত করে কেবল নিজেকে উচ্চতর শ্রেণীতে ফেলার জন্য।”
আমি নিজের দিকে তাকালাম। ভেতরের দিকে।

আমার অহংকার আছে।
অহংকারহীনতাই আমার অহংকার।
প্রেমের অহংকার।
ক্ষমার অহংকার।
ধৈর্যের অহংকার।
আমি অন্য সবার থেকে আলাদা।
কারণ আমি অন্য সবাইকে ভালোবাসতে পারি।
অন্যের অহংকারকে শ্রদ্ধা করতে পারি।

আমার কোনো হিংসা নেই।
তা হলো আত্নরক্ষার উপায়।
হিংসা মানে নিজেকে ছোট করা।
হিংসা হলো দারিদ্র্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
মানুষ তার যা আছে তা নিয়ে গর্ব করে। আমি গর্ব করি আমার যা নেই তা নিয়ে।
আমার হিংসা নেই।
লোভ নেই।
হীনমন্যতা নেই।
আমার এই নিঃস্বতাই আমার গর্ব।
আমার যা নেই, তা অনেকেরই আছে। মানুষের মধ্যে অনেকেরই মনের রোগ আছে, আমার নেই।
আমি মনের রোগীদের সাথে ভালো আচরণ করি।

আমার অহংকার আছে।
মানুষ অহংকার করে সে কী হয়েছে তা নিয়ে। আমি অহংকার করি আমি কী হতে পারিনি তা নিয়ে।
আমি ঘুষখোর হতে পারিনি।
আমি প্রতারক হতে পারিনি।
আমি মোনাফেক হতে পারিনি।
আমি পরশ্রীকাতর হতে পারিনি।
আমি লোভী, ভিক্ষুক হতে পারিনি।
আমি ওয়াদা-ভঙ্গকারী হতে পারিনি।

আমার কোনো গাফিলতি নেই।
অলসতা মানে নিজের দেহের মাংসের পূজা করা।
অলসতা মানে কাপুরুষতার নিম্নতম স্তর।
কর্তব্যপালনে পিছ-পা হবার মতো কলাগাছ আমি নই।
আমি যে চেয়ারে বসি তার পায়াগুলোকে ঘুণপোকায় কাটেনি।
ভালোকাজে আমার অলসতা নেই। কারণ আমি মন্দের দলভুক্ত নই। অলসতা মানে নিজেকে ভিক্ষুক মনে করা। আমি পরমুখাপেক্ষী নই।

আমি অত্যন্ত অলস।
আমার দেহ যখন পাপ করতে চায়, তখন আমার ঘুম পায়।
আমি তখন পাপকে বলি—দু’হাজার বছর পর দেখা কর।

৫ thoughts on “মনের শক্তি

  1. বিভাগে লিখেছেন ব্যক্তিগত
    বিভাগে লিখেছেন ব্যক্তিগত কথাকাব্য কিন্তু স্টাইলটা কবিতার —- বোধগম্য হলনা ! :ভাবতেছি: :কনফিউজড:

    1. রাহাত ভাই,
      ঠিক বলেছেন। কবিতা

      রাহাত ভাই,

      ঠিক বলেছেন। কবিতা বললে হয়তো যুতসই হত।
      আসলে আমি ধ্যানে এই কথাগুলি ভাবি। তাই এটকে কবিতা আকারে চিন্তা করি নাই।

      ধন্যবাদ।

  2. ভাই যাই লিখছেন,লিখছেন।কিন্তু
    ভাই যাই লিখছেন,লিখছেন।কিন্তু এত ধাঁধার সৃষ্টি করলেন কেন?আমি ধান্দা খাইয়া গেলাম।মাথা চুলকানি ধরতেছে।

Leave a Reply to জাকির হোসেন জ্যাকি Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *