Imagination: “কল্পনা”কে ঘিরে কিছু বাস্তবতা

“কল্পনা” শব্দটি দ্বারা কি বোঝায়? মানুষের চিন্তা, ধারণা, উদ্ভাবন, দর্শন, অনুমান, সাপেক্ষতা…… আরও নানা সমার্থক শব্দ বের করা যায় এর।

Wikipediaতে দেয়া তথ্যানুসারে, “Imagination, also called the faculty of imagining, is the ability to form new images and sensations that are not perceived through sight, hearing, or other senses.” অর্থাৎ কল্পনা হলো “যা সরাসরি ইন্দ্রিয় অনুভূতিতে নাই তাকেও জ্বলজ্যান্ত করে তোলার ক্ষমতা।”- ডঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম।


“কল্পনা” শব্দটি দ্বারা কি বোঝায়? মানুষের চিন্তা, ধারণা, উদ্ভাবন, দর্শন, অনুমান, সাপেক্ষতা…… আরও নানা সমার্থক শব্দ বের করা যায় এর।

Wikipediaতে দেয়া তথ্যানুসারে, “Imagination, also called the faculty of imagining, is the ability to form new images and sensations that are not perceived through sight, hearing, or other senses.” অর্থাৎ কল্পনা হলো “যা সরাসরি ইন্দ্রিয় অনুভূতিতে নাই তাকেও জ্বলজ্যান্ত করে তোলার ক্ষমতা।”- ডঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

কিন্তু এই অপরিসীম ক্ষমতার ধারকটি কি? উত্তর একটাই, মস্তিষ্ক। আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের সব চিন্তা-চেতনার আধার। স্তন্যপায়ী প্রাণীদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক বাম ও ডান এই দুটি অর্ধগোলকে ভাগ করা থাকে।

আর প্রত্যেক অর্ধগোলকের মধ্যে একটু আলাদা করে স্পষ্ট চারটি পিন্ড(Lobe) আকৃতির অংশকে চিহ্নিত করা যায়- ফ্রন্টাল, অক্ষিপেটাল, টেম্পোরাল ও পেরিয়েটাল। চিন্তা-চেতনার উচ্চতর কাজগুলোর দিক থেকে মস্তিষ্কের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই চারটি পিন্ড জুড়ে কোঁকড়ানো উপরিভাগ যাকে বলা হয় কোর্টেক্স। এই কোর্টেক্সই হচ্ছে মস্তিষ্কের হেডকোয়ার্টার। এর ফ্রন্টাল অংশটিতে শরীরের নানা অঙ্গের নড়াচড়ার নিয়ন্ত্রণ থাকে যাকে বলা হয় মোটর মেকানিজমের নিয়ন্ত্রণ। এছাড়া আবেগের অনুভূতিকে নিয়ন্ত্রণ, উচ্চতর সৃজনশীল কাজের সূক্ষ বিবেচনা…এগুলোও ফ্রন্টাল অংশের কাজ।

কিন্তু আমাদের এই কল্পনাশক্তি মূলত স্মৃতিনির্ভর। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল সেমেনটিক মেমোরি অর্থাৎ বিশ্ব সম্পর্কে নিজের ধারণাকৃত স্মৃতি বা ধারণা। চারপাশের দুনিয়াটা কি ও কেমন, এর মধ্যে একজন মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থানটা কোথায়- এইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সন্নিহিত থাকে সেমেনটিক মেমোরির ভেতর। আর স্মৃতির সাথে আরেকটি বিষয় ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকে; বুদ্ধিমত্তা। এক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার প্রক্রিয়াটি কিভাবে ঘটে তার একটি সম্ভাব্য তত্ত্ব দেখানো যায়। ডঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীমের ভাষ্যানুসারে, “……এতে অনুধাবনে আসা এক একটি বিষয়ের প্রতিনিধিত্বকারী কোড স্নায়ু প্যাটার্নের আকারে মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয়। তাদের আশেপাশের জায়গাগুলোতে কিছু কিছু জায়গা ছেড়ে তার অনেকগুলো প্রতিলিপি বা ক্লোন মস্তিষ্কে সৃষ্টি হয়। এভাবে বেশ কিছু ক্লোন তৈরী হতে যথেষ্ট সময় লাগে। এসব ক্লোনে নানা বৈচিত্র হতে পারা এবং তাদের মধ্যে একটি সার্থক কোডিং প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই বুদ্ধির বিকাশ ঘটে। তাই অনেক ক্লোন কলোনি গড়ে উঠার জন্য যত বেশি কার্যকর জায়গা মস্তিষ্কে পাওয়া যাবে, বুদ্ধির চর্চায় ততই সুবিধা। এ কাজের জন্য কোর্টেক্সে উন্মুক্ত জায়গা প্রয়োজন।………..মানুষের মস্তিষ্কের কোর্টেক্স অন্য প্রাইমেটের তুলনায় অনেক বড়। দর্শন, শ্রবণ ইত্যাদির জন্য রিজার্ভ করা জায়গাগুলোর বাইরে কোডিং ক্লোন কলোনির জন্য উন্মুক্ত জায়গা সেখানে অনেক বেশি রয়েছে। এটি এত বেশি যে দৈনন্দিন তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মিটিয়ে আমরা মস্তিষ্কের এই জায়গার কিছু বিলাসী ব্যবহারও করতে পারি। যেমন একটি উদাহারণ নেয়া যাক। আমরা ঘোড়াকে চিনি এবং ঘোড়াকে অনুধাবনের স্মৃতি আমাদের মস্তিষ্কে আছে। একই ভাবে বড় নানা পাখির স্মৃতিও আমাদের মস্তিষ্কে আছে। নূতন কোন অনুধাবনে যখন আমাদের মস্তিষ্কে কোডের ক্লোন কলোনি সৃষ্টি হয় তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রাসঙ্গিক স্মৃতির সঙ্গে তা অনুরণিত হতে পারে। আমাদের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ঘোড়া আর পাখির উভয়টির স্মৃতির সঙ্গে অনুরণিত হতে গিয়ে উভয়ের নানা উপাদান মিশিয়ে মস্তিষ্কে ‘পঙ্খীরাজ ঘোড়া’র কোড সৃষ্টি হতে পারে। তখন স্মৃতির সিনাপ্স প্যাটার্নে উভয়টি থেকে এখানে এর এক টুকরো ওর এক টুকরো মিশিয়ে এমন ক্লোন কলোনি সৃষ্টি হতে পারে যা সত্যিকার অনুধাবনেই ছিল না। এসব করার জন্য বেশি জায়গা আমাদের মস্তিষ্কে রয়েছে বলেই আমাদের পক্ষে এটি সম্ভব। এভাবে তৈরী মিশ্র কলোনিও যথারীতি কোডিং প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে পারে এমনকি কলোনিগুলোর ঐকতানে প্রাধান্যও বিস্তার করতে পারে। এর একটি ফলশ্রুতি হলো ঘোড়ার দেহ আর পাখির ডানা দিয়ে উড়ন্ত পঙ্খীরাজ আমাদের বুদ্ধিজাত চিন্তায় বেশ স্থান পেয়ে যেতে পারে-চাই কি নাক দিয়ে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হওয়া সহ। …… এটি একবার করে ফেললে মানুষ যথারীতি একে তার স্বাভাবিক চিন্তা প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে আসতে পারে, এ নিয়ে গল্প তৈরী করে আবেগের প্রকাশ ঘটাতে পারে, এমনকি বিমান ডিজাইনার হিসাবে প্রয়োজন হলে পঙ্খীরাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বাস্তব ক্ষেত্রেও নূতন উদ্ভাবন করতে পারে। কল্পনা শক্তি মানুষের চিন্তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ অনন্যতাটি দিয়ে থাকে। আর তা সম্ভব হয়েছে মূলত তার বৃহত্তর মস্তিষ্কের জন্য।”

এক কথায়, এই কল্পনাশক্তি আমাদের বাস্তব জগতের নিত্যনতুন উদ্ভাবনের প্রধান হাতিয়ার। তবে এই কল্পনা মূলত একটি বিশেষ মুহুর্তের মনের সাধারণ প্রবণতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তাই বাস্তব জীবনে এর মাত্রাতিরিক্ত প্রভাব পড়লে ক্ষেত্রবিশেষে হিতে বিপরীত ঘটে। বিভিন্ন ধরণের মানসিক সমস্যা, কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাসের জন্ম ঘটে এই কল্পনার প্রভাবেই।

তবুও এই সীমাহীন ক্ষমতার জোরেই মানবজাতি অন্যান্য প্রাণী থেকে নিজেকে করেছে পৃথক। সাধে কি আর মহাবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, “Imagination … is more important than knowledge. Knowledge is limited. Imagination encircles the world.”

সূত্রঃ
১। Wikipedia: http://en.wikipedia.org/wiki/Imagination

২। আমরা কীভাবে চিন্তা করি- ডঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম

৩। অন্য জন্ম- তানজিনা হোসেন।

১৪ thoughts on “Imagination: “কল্পনা”কে ঘিরে কিছু বাস্তবতা

  1. নিঃসন্দেহে ভাল একটি পোস্ট
    নিঃসন্দেহে ভাল একটি পোস্ট ।অনেক কিছুই জানলাম ।
    তবে একটা বিষয়ে আপত্তি আছে । আপনি লিখেছেন… [আর প্রত্যেক অর্ধগোলকের মধ্যে একটু আলাদা করে স্পষ্ট চারটি পিন্ড(Lobe) আকৃতির অংশকে চিহ্নিত করা যায়- ফ্রন্টাল, অক্ষিপেটাল, টেম্পোরাল ও পেরিয়েটাল।]
    কিন্তু আমি বইতে পড়েছি, মস্তিষ্কের পাচঁটি ভাগের কথা ।যথাঃ ফ্রন্টাল, প্রিফ্রন্টাল, পেরাইটাল, অক্সিপিটাল ও টেম্পোরাল।

    হয়তো আমারই জানার ভুল থাকতে পারে ।আশা করি ব্যাখ্যা দিবেন ।

    1. মস্তিস্কের বিভাজন এভাবে করা
      মস্তিস্কের বিভাজন এভাবে করা হয় না। ফোর ব্রেইন, মিড ব্রেইন ও হাইন্ড ব্রেইন। ফোর ব্রেইনের চারটি প্রধান লোব- ফ্রন্টাল, প্যারাইটাল, অক্সিপিটাল ও টেম্পোরাল।

    2. ডঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম স্যারের
      ডঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম স্যারের “মহাবিশ্বে মানুষ” সিরিজের চতুর্থ বই “আমরা কীভাবে চিন্তা করি”তে “মানুষের মস্তিষ্কের গড়নঃ কোর্টেক্স অংশ” এ এভাবেই লেখা আছে। সেটাই আমি লিখেছিলাম।
      ভুল হয়ে থাকলে আবার এই ব্যাপারটা দেখে জানাচ্ছি। :মাথানষ্ট:
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। :খুশি:

  2. আতিক ভাই, মিড ব্রেইন ও হাইন্ড
    আতিক ভাই, মিড ব্রেইন ও হাইন্ড ব্রেইন এর কোন উপভাগ আছে কি?
    আমি যে ৫টি ভাগের কথা বলেছি তা মস্তিষ্কের কোন বিভাজনে পড়ে?
    কষ্টকরে একটু বিশদ বলবেন, আমার জানার খুব দরকার।

  3. ভালো লিখেছিসরে পিচ্চি ভাইয়া।
    ভালো লিখেছিসরে পিচ্চি ভাইয়া। একটু আকটু ভুল ত্রুটি হতেই পারে। সমস্যা নাহ। 🙂

  4. “High Hopes” by Pink Floyd…
    “High Hopes” by Pink Floyd...

    Beyond the horizon of the place
    we lived when we were young
    In a world of magnets and miracles
    Our thoughts strayed constantly & without boundary
    The ringing of the division bell had begun

    ভাল লাগল!! অনেক কিছুই জানলাম পোস্ট এবং মন্তব্য থেকে!!

  5. এতো চমৎকার জ্ঞানগর্ভ পোস্ট
    এতো চমৎকার জ্ঞানগর্ভ পোস্ট আমার চোখ এড়ায়ে গেছিল ক্যামনে?? :খাইছে: :আমারকুনোদোষনাই:

    জানতে পারলাম বহুত কিছু… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ফুল: :ফুল: :গোলাপ: তয় সমস্যা হইল আমি কিন্তুক কিছুই মনে রাখতে পারি না… :ভেংচি: 😀 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *