আমার পরী-০৫

বিতর্কের জোরে যখন সে হার মানে তখন আমার বড়ই ভাল লাগে !! কারন অই সময় তার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হয় না । অন্য বিষয়ে পরে কথা বলতে গেলেও সমস্যা হয় । অই দিন একটা বিষয় নিয়ে তর্ক হচ্ছিলো । কিন্তু হটাত তর্কের মধ্য খানে যেনো আর কোনো কথা খোঁজে পেলো না সে ।
এক পর্যায়ে আমি বললাম
-কি হল উত্তর দাও !
অগ্নিচোখে আমার দিকে চেয়ে আছে কিন্তু কোনো কথা বলতে পারল না । তারপর ও তাকে জিততে হবে
বলে উঠল
-বেয়্য্য্য্য্য্য্য্য

বিতর্কের জোরে যখন সে হার মানে তখন আমার বড়ই ভাল লাগে !! কারন অই সময় তার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হয় না । অন্য বিষয়ে পরে কথা বলতে গেলেও সমস্যা হয় । অই দিন একটা বিষয় নিয়ে তর্ক হচ্ছিলো । কিন্তু হটাত তর্কের মধ্য খানে যেনো আর কোনো কথা খোঁজে পেলো না সে ।
এক পর্যায়ে আমি বললাম
-কি হল উত্তর দাও !
অগ্নিচোখে আমার দিকে চেয়ে আছে কিন্তু কোনো কথা বলতে পারল না । তারপর ও তাকে জিততে হবে
বলে উঠল
-বেয়্য্য্য্য্য্য্য্য
এর মানে হল আমাকে সে কোনো কেয়ার ই করে না । এইরকম অবস্থা তে একটা জিনিস তাকে চরম ভাবে রাগিয়ে দেয় আর অই জিনিসটাই আমি করলাম , জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার চেষ্টা করলাম । কিন্তু আমার বুকে একটা ঠেলা দিয়ে দূরে ঠেলে দিলো ! আমি মুটেই অবাক হলাম না । কেননা আজ পর্যন্ত আমি এই জিনিস এ সফল হতে পারিনি ।
যাইহোক ফ্রেস হয়ে তার সামনে এলে আবার সব কিছু ভুলেও যায় । এই পন্থাই আমি অবলম্বন করলাম ।বের হয়ে দেখি বৌ পুরাই সু-সজ্জিত! আমি বললাম
-কি আজকে কোথাও পার্টি নাকি ?
-না ত !
-তাইলে ?
এই প্রশ্ন টা আমার এখন করা ঠিক হয়নি কেননা এই প্রশ্নের সাথে সাথেই তার মুখ গোমড়া হয়ে গেলো ! আমি বুঝে গেলাম যে শুধু কি পার্টিতে যাওয়ার জন্যই সাজগোজ করে মেয়েরা ? না । তারা ত নিজ স্বামী কে খুশি করার জন্যও করতে পারে !!!
আসলে দোষ টা আমার না । কারন সে আমায় এত দূরে দূরে সরিয়ে রাখে যে আমি আজ তার এই সাজগোজ দেখে প্রশ্ন টা করলাম !
সাজগোজ বলতেও সাজগোজ না !! কেননা সে তেমন সাজেই না । সে শুধু তার তার শুকনো ঠুটে একটু গাড় লাল কালারের লিপস্টিক এবং চুল টা ভালো ভাবে বেঁধেছে । আর কিছু না । কিন্তু আমার কাছে এটাই অনেক সাজ লাগছে । আমি তার পাশে গেলাম সে আয়নার দিকে না চেয়েই নিজের চুল খুলতে শুরু করেছে । আমি তার হাতে ধরলাম ।
-ছাড়ো !
-ছাড়ব তবে !
-কি ?
-চুলে হাত দিতে পারবা না !
আমার দিকে ভালো করে তাকালো , বলল
-কোন পার্টিতে ত যাচ্ছি না ।
আমি বললাম
-তবুও থাক ।
-আমার ভাল্লাগে না !
-আমার লাগে ।
সে অনুরুধের সুরে বলল
-কোথাও যাচ্ছি না ত , তাইলে এমন সাজগোজ করে থাকা ঠিক হবে না।
আমি একটু খুশি হয়েই বললাম
-আমরা যাচ্ছি
সে একটু অবাক হয়েই বলল
-কোথায় ?
আমি উত্তর দিলাম না । কারন আমি চাই সে আরোও বার দুয়েক আমাকে জিজ্ঞেস করুক ।
করলও । আমি বললাম
-গেলে দেখবা । এখন চলো ।
আসলে আমার মাথায় কোনো নিদ্রিষ্ট যায়গা নেই চিন্তা করতেছি কোথায় যাওয়া যায় । পার্ক গুলা তার ভাল্লাগেনা । কেননা তার মতে এই সকল জায়গায় নাকি অসামাজিক কার্যকলাপ হয় । আর আমিও নাকি এই সকল জায়গায় গেলে অসভ্য হয়ে উঠি । তার মানে একটা জিনিস ই তার প্রিয় -রিকশা !!!
রিকশায় উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরা তার খুব প্রিয় একটা শখ । এটা শুধু তার না আমার ও । সো আমরা একটা রিকশা নিলাম । রিকশায় উঠেই বুঝলাম এই ডিসিসন টা কত ভালো ছিলো !!! তাকে খুব খুশি লাগছে । এই মেয়ে কে বুঝা বড় মুশকিল হলেও ইদানিং আমি খুব বেশি বুঝতে পারছি । ইদানিং তার মন মতই সব কাজ করার চেষ্টা করছি এবং আমি সফল ও হচ্ছি ।
খুশিই লাগে যখন সে খুশি হয়ে আমার দিকে তাকায় ! তার খুশিটাকে আমার নিজের করে নিয়েছি এ জন্য সব কিছু ভাল লাগে । তার হাসি,সামান্য ছোঁয়া, রাগ , সব । রিকশা চলছে উদ্দেশ্যহীন ভাবে আর আমি ও উদ্দেশ্যহীন শুখের ভেলায় ভাসছি । রিকশায় যখন ই দুজন বসি তখনই আমার ইচ্ছা করে তাকে এক হাত দিয়ে কোমরে জড়িয়ে ধরতে কিন্তু সে সুযোগ দেয় না । যতবার ই এমন চেষ্টা করেছি ততবার ই ব্যর্থ হয়েছি । সে অনেক চিকন । তাই এভাবে ধরতে ও অনেক ভাল লাগে । একবার ই মাত্র এই রকম ধরেছিলাম যখন সে মোবাইল নিয়ে ব্যাস্থ ছিলো , আর আমি তাকে জড়িয়ে ধরি সে চেষ্টা করেও আমাকে ছুটাতে পারেনি । ফোন শেষ করে বলেছিলো
-এই এভাবে অসভ্যের মত ধরছিলা কেনো !
আমি উত্তরে বলেছিলাম
-জানি না ।
সে রাগ করে বলল
-সেগেন্ড টাইম যেনো না হয় ।
আমি একটু একটু মুচকি হাসছিলাম
-গাদার মত হাসবা না !
-তাহলে কিসের মত হাসব ?
আমার এমন প্রশ্ন শুনে তার রাগ চুড়ান্ত হলো । বলল
-তুমি আমার সাথে আর কোনো দিন একসাথে রিকশায় উঠবা না । আমি বললাম
-ওকে আর ধরব না ।
-না তুমি উঠবাই না ।
আমি কিছু বললাম না ।
একটু পর রিকশাওলা কে বলে রিকশা দাড় করালাম । সে রিকশায় বসে আছে কিন্তু আমি নেমে গেলাম । আরেক রিকশা ঠিক করলাম তারপর তার রকশা কে বললাম আগে আগে যেতে আর আমি যে নতুন রিকশা নিছি তাকে বললাম পিছন পিছন যেতে । সে এক রকশায় আর আমি আরেক টায় , তার মুখের দিকে তাকিয়ে ই বুঝেছিলাম আমার কান্ড দেখে সে খুব ই অবাক !
আমাকে ডাক তে গিয়ে ও পারল না । আমার ফোনে কল দিলো । আমি ধরেই বললাম
-হ্যালো কি খবর !
-খবর তুমার মাথা !
-কেনো ?
-কি হচ্ছে এসব ?
-কোথায় ?
-তুমি অন্য রিকশায় কেনো ?
আমি তার উত্তরে বললাম
-দেখো তুমি ই বলছো একসাথে এক রিকশায় না উঠতে তাই আমিও উঠলাম না ,
সে গম্ভির ভাবে বলল
-ফাজলামি ছাড়ো এখানে আসো ।
-না আসব না ।
-ভাল হবে না কিন্তু !!
এই রকম হুমকি আমি সচরাচর শুনে থাকি । এই রকম পরিস্থিতি তে ভয় পেতে নেই । ভয় কে জয় করতে হয় । তাই আমি উল্টো বললাম
-তুমার পাশে বসলে তুমাকে আমার জড়িয়ে ধরতেই হবে ।
মনে মনে ভাবছি এই না হল সাহসি দের কথা !!! কিন্তু তার উত্তর শুনে বুঝলাম যে অনেক বড় ভুল করে ফেলছি । সে বলল
-ওকে থাকো তাইলে অইটায় ।
এই টা শুনে পরাজিত সৈনিকের মত আমি দৌড় দিয়ে তার রিকশাকে থামালাম
-দাড়াও আমি ও যাবো
বলেই রিকশায় উঠলাম । সে সরে একটু জায়গা করে দিলো । নিজেকে চুড়ান্ত লজ্জিত মনে হচ্ছে কারন যে কাজ করলাম সফল হলাম না । এই মেয়েটির হ্মেত্রে আমি কোনো দিন ই সফল হতে পারি নি । যাই হোক রিকশায় তার পাশে বসেও যেনো অনেক ভালো লাগতেছে । আমি তার দিকে চেয়ে বললাম চুল গুলো একটু খুলে দাও , সে একটু অবাক ভাবেই প্রশ্ন করল
-কেনো ??
-না এমনি ।
-এম্নি এম্নি আমি কোনো কাজ করি না ।
-আরে এখানে কাজ কে করতে বলল !
-যাও খুলব না চুল ।
-প্লিজ
-নাহ ।
-আমি খুলে দেই ?
সে অনেকটা বাচ্চাদের মত করে প্রশ্ন করল
-কেনো ????
-বাতাস হচ্ছে দেখছ না?
-বাতাস হচ্ছে ত কি হলো ? বাতাস ত সবসময় ই হয় ।
-কিন্তু সব সময় তুমার মত পরী আমার পাশে থাকে না ।
সে একটু রেগেই বলল
-কত দিন বলছি আমাকে পরী বলবে না।
-তাইলে কি বলব ?
-পেত্নী বলবা ।
আমি আর কোনো কথা না বলেই পেত্নীর চুলের খোপার বাধন খুলে দিলাম । সে ঝট করে আমার দিকে ফিরল , আর তখন ই খুব বাতাস শুরু হলো ফলে তার বাম পাশের অনেক চুল মুখের উপর চলে আসল ।সে তার হাত দেয়ার আগেই আমি তার মুখ থেকে আঙ্গুল দিয়ে কয়েক গুচ্ছ চুল সরালাম , সে কোনো বাধা দিচ্ছে না । বাম গাল থেকে সব চুল সরিয়ে তাতে হাত রাখলাম ব্রন ওলা উষ্ণ লাগে , সে চেয়ে আছে আমার দিকে স-পলক , । একবার চোখ বুঝল শুধু আর তাতেই লবনাক্ত একফোটা জল আমার আঙ্গুলে এসে পড়ল । মেয়েদের এসব বুঝা বড় মুশকিল তাই আমি ও হাত সরিয়ে নিলাম ।
ভাবছি এ জল কিসের ??? কষ্টের নাকি সুখের ???
এই চিন্তা সরে যাওয়ার ব্রিথা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্চি অবিরত ।

১ thought on “আমার পরী-০৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *