প্রসঙ্গঃ তারেক মাসুদ

তারেক মাসুদ । স্রোতের বিপরীতে হাঁটা এক স্বাপ্নিক যোদ্ধার নাম । অবশ্যই তিনি একজন যোদ্ধা । তবে বাংলা সিনেমাকে বাঁচানোর , জাগানোর যুদ্ধের যোদ্ধা তিনি নন । তিনি বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে বিশ্ববাসীকে বাংলা ছবির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার যোদ্ধা ।

কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ তার নামই জানে না ! প্লিজ আগেই গালি দিবেন না । আমি জেনে শুনেই বলছি । আমার অনেক কাছের শিক্ষিত বন্ধুই তার নাম জানে না এবং মাটির ময়না দেখে বলেছে মজা পায় নাই ! পাবে কই থেকে ? এখানে তো আর হট নায়িকার কোমরের দোলা নেই …


তারেক মাসুদ । স্রোতের বিপরীতে হাঁটা এক স্বাপ্নিক যোদ্ধার নাম । অবশ্যই তিনি একজন যোদ্ধা । তবে বাংলা সিনেমাকে বাঁচানোর , জাগানোর যুদ্ধের যোদ্ধা তিনি নন । তিনি বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে বিশ্ববাসীকে বাংলা ছবির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার যোদ্ধা ।

কষ্টের ব্যাপার হচ্ছে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ তার নামই জানে না ! প্লিজ আগেই গালি দিবেন না । আমি জেনে শুনেই বলছি । আমার অনেক কাছের শিক্ষিত বন্ধুই তার নাম জানে না এবং মাটির ময়না দেখে বলেছে মজা পায় নাই ! পাবে কই থেকে ? এখানে তো আর হট নায়িকার কোমরের দোলা নেই …

এখন কথা হল এই অবস্থার জন্য দায়ী কে ? মূর্খ দর্শক ? যারা টাইটেল পড়ে না তারা ? যারা ছবি বুঝে না তারা ? নাকি তারেক মাসুদ নিজে ? কনফিউজিং কোয়েশ্চেন …

তারেক মাসুদের ছবি গুলোর মধ্যে দুটো আছে ডকুমেন্টারি ফিল্ম । একটা আর্ট ফিল্ম । কিছু শর্ট ফিল্ম । আরেকটা মানে অন্তরযাত্রা কে হাফ ডকুমেন্টারি মনে হয়েছে আমার কাছে । রানওয়ে কে কোন ক্যাটাগরিতে ফেলব তা ঠিক বুঝতে পারছি না । এই যে এতগুলো ছবি তিনি বানিয়েছেন সেগুলার সাথে আসলে ফিল্ম কথাটিই যায় । বাংলায় সিনেমা কথাটি ঠিক যায় না । কেন ?

তারেক মাসুদের দর্শকের কথা চিন্তা করুন । তিনি আসলে শিক্ষিত শ্রেণীর দর্শক ধরতে চেয়েছেন । এই শিক্ষিতের মধ্যে আবার শ্রেণীবিভাগ আছে । শিক্ষিত কিন্তু রুচিশীল , আধুনিক , এবং সত্যিকারের ফিল্ম লাভার , মানে যারা আসলেই ফিল্ম বুঝে এই শ্রেণীর মানুষ হচ্ছে তার ছবির দর্শক । মানে শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না । এখন বলুন মূর্খরা কি ফিল্ম বুঝে নাকি সিনেমা বুঝে ? গণমানুষের জন্য যেই ছবি তাই হচ্ছে সিনেমা আর নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শকের জন্য যেই ছবি তা হল ফিল্ম …

এখন আমার কথা হল , কেন তিনি ফিল্ম বানালেন , সিনেমা বানালেন না ? ওনার মত একজন এত বড় মাপের ডিরেক্টর কি পারতেন না এই দেশের চলচ্চিত্রকে বাঁচানোর জন্য অনেক কিছু করতে ? অনেক অনেক সিনেমা বানাতে ? উনি কি সত্যজিৎ রায়ের থেকেও বড় ডিরেক্টর ? সত্যজিৎ রায় যদি কমার্শিয়াল ফিল্ম বানাতে পারেন তো উনি কেন পারলেন না ? উনি বড় ডিরেক্টর । উনি কি পারতেন না আর্টের সাথে কমারশিয়ালিজম এর সমাবেশ ঘটাতে ? কমার্শিয়াল ফিল্ম বানালে কি জাত যায় ?

না যায় না । উনি পারতেন কমার্শিয়াল ফিল্ম বানাতে । কিন্তু উনি যান নি । কারণ উনার মাথায় অন্য চিন্তা । দেশের ফিল্মকে বিদেশের স্বাদ পাওয়াতে হবে । ভাল ফিল্ম এর একটা সচেতন দর্শক গ্রুপ তৈরি করতে হবে । আমরাও যে পারি এই চিন্তাটা তরুণ নতুন ফিল্ম মেকারদের মাথায় ঢুকাতে হবে । ফিল্ম মেকিং ইজ এন আর্ট নট ফ্যান্টাসি … এই তত্ত্ব সবার মাথায় ঢুকাতে হবে । এই ছিল তার চিন্তা …

তিনি আসলেই অনেক অনেক বুদ্ধিমান একজন মানুষ । কারণ তিনি বুঝেছেন , তিনিও যদি অন্য সবার মতই স্রোতে গা ভাসিয়ে নেমে যেতেন তথাকথিত বাংলা সিনেমা রক্ষার নামে ভন্ডামী করা এফডিসি কেন্দ্রিক বলয়ের ভেতর তবে হয়ত তার আরও কিছু ফিল্মের সংখ্যা বাড়ত বাট বাংলা সিনেমার আজকের মত ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন হয়ত দেখতে পারত না …

আসলে তারেক মাসুদ ইজ নট অনলি আ ফিল্ম ডিরেক্টর বাট অলসো আ টিচার অফ ফিল্ম মেকিং , আ পথ ফাইন্ডার … তিনি যেই দূরদর্শী চিন্তা থেকে ভিন্ন পথে হেঁটেছেন তা আজ শতভাগ সফল । তিনি চেয়েছেন মেধাবী , শিক্ষিত , সচেতন মানুষ ফিল্ম মেকিং এ আসুক । বাকীরা দেখুক ফিল্ম মেকিং এত সস্তা না । তার দেখানো সেই পথে হেঁটে আজকে বাংলাদেশে বিশাল একটা শিক্ষিত সচেতন তরুণ সমাজ ফিল্ম মেকিংকে তাদের প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন । তাদেরকে দেখে এই লাইনে প্রতিনিয়তই আসছে আরো নতুন মুখ । এই সব নতুনদেড় কাজ দেখে আবার ফুল ইন্টারেস্ট নিয়ে কাজ করার জন্য বসে আছে আরো বিশাল একটা অংশ । বিশাল এক সাইক্লিক অর্ডার … প্রতিনিয়তই যা বাড়ছে … আর এর পেছনে মুল কারিগর হলেন তারেক মাসুদ …

তিনি পথ দেখিয়েছেন বলেই আজ অন্যরা সেই পথে হাঁটছে । আর তাদেরকে বেশ আনন্দপূর্ণ ও ভালভাবে সেই পথে হাঁটতে দেখে আমরাও সাহস পাচ্ছি এগিয়ে যাওয়ার … আমাদের দেখা দেখি আসবে আরো …

ধন্যবাদ , স্যার তারেক মাসুদ … আপনার অভাব আমরা কখনো পূরণ করতে পারব না । আপনি ছিলেন আমাদের যুদ্ধের মেইন কমান্ডার । কিন্তু আফসোস আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন প্রকৃতির খেয়ালিপনায় । আমরা এখন যুদ্ধ করছি কমান্ডার ছাড়াই … তবে আপনি আসলেই অনেক অনেক ভাল যোদ্ধা এবং বুদ্ধিমান সুতীক্ষ্ণ রণকৌশলী … আপনার অভাব সত্যিই পূরণ হবার নয় …

প্রার্থনা করি , আপনি স্বর্গবাসী হন … আপনার আত্মা শান্তিতে ঘুমাক …

১৩-ই আগস্ট , ২০১৩

৩ thoughts on “প্রসঙ্গঃ তারেক মাসুদ

  1. তারেক মাসুদের অবদান খুব সহজ
    তারেক মাসুদের অবদান খুব সহজ কিন্তু সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ধন্যবাদ। বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলো যখন ডিজিটাল হচ্ছে ঠিক ওইসময়ে উনার প্রস্থান সত্যিই বেদনাদায়ক।

  2. গণমানুষের জন্য যেই ছবি তাই

    গণমানুষের জন্য যেই ছবি তাই হচ্ছে সিনেমা আর নির্দিষ্ট সংখ্যক দর্শকের জন্য যেই ছবি তা হল ফিল্ম …

    —– আর ইউ সিওর ?

    তারেক মাসুদ ইজ নট অনলি আ ফিল্ম ডিরেক্টর বাট অলসো আ টিচার অফ ফিল্ম মেকিং , আ পথ ফাইন্ডার

    — ভালো বলেছেন ।
    — ভালো পোস্ট । আসলে সিনেমা বা ফিল্ম বা মুভি নিয়ে যে কোন পোস্ট একটু বেশি আগ্রহের দাবী রাখে আমার কাছে ।

  3. আপনি খুবই সহজে অন্যান্য
    আপনি খুবই সহজে অন্যান্য চলচ্ছিত্রকারদের সাথে তারেক মাসুদের পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
    ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *