ভালবাসা আজকাল (২০১৩)


এই পোস্টের কোন অংশই বাংলা সিনামাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বলা না। কিন্তু যেইখানে আমাদের আরো ভাল ভাল সিনামা আসছে সেইখানে এইধরণের জিনিষ নির্মাণ কতটুকু পজিটিভ ইফেক্ট ধরেরাখতে পারবে দর্শকের কে জানে। আমি একলাই তো দর্শক নই। আমার যা মনেহইলো তাই বললাম। বাকীটা যারা দেখবেন তাদের বিবেচনা।




এই পোস্টের কোন অংশই বাংলা সিনামাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বলা না। কিন্তু যেইখানে আমাদের আরো ভাল ভাল সিনামা আসছে সেইখানে এইধরণের জিনিষ নির্মাণ কতটুকু পজিটিভ ইফেক্ট ধরেরাখতে পারবে দর্শকের কে জানে। আমি একলাই তো দর্শক নই। আমার যা মনেহইলো তাই বললাম। বাকীটা যারা দেখবেন তাদের বিবেচনা।

গতবাধা বাংলা সিনামার উন্নতি দেখতে “ভালবাসা আজকাল” দেখার সাজেশন দিয়েছিল অনেকেই। মেকিং ভাল ব্লা ব্লা। অনেক ভাল কথা শুইনা হয়তো মনে এক্সপেক্টেশনের জন্ম হইছিল যেইটা সাধারণত সিনামা দেখার আগে আমি বাক্সবন্দী কইরা রাখি। এইটা মনেহচ্ছে প্রধাণ কারণ সিনামাটা ভাল না লাগাইতে পারার। উন্নতির দিক থেকে শুধু পরিস্কার প্রিন্টের ঝকঝকা প্রিন্ট। এছাড়া আর কিছুই চোখে পরলো না। কাহিনী গতবাধা। মেকিং গতবাধা।


মাহীয়া মাহীর ডায়লগ কেউ যদি চোখ বন্ধ কইরা শোনে তাইলে যে কারোই অন্য (কিছু) চলতেছে বইলা মনে হবে। চেহারা ভাল হইলেই যে অভিনয় ভাল না, মেহজাবিনের পরে মাহী আরেকটা উদাহরণ। মেহজাবিনের মাঝে এতটা ন্যাকামি আছিলনা, যেইটা মাহীর মাঝে মহামারীর মতন আছে। একই ধরণের কাহিনী ছাড়া ভিন্ন কাহিনী নিয়া সিনামা হইলেই মানুষ সেইটারে সিনামা হয় নাই, নাটকের বড় ভার্সন বইলা ত্রাহি ত্রাহি রব উঠায়। কিন্তু এই এক ধরণের কাহিনীর সিনামা দেখতে দেখতে মানুষের বিরক্তির কথা তখন তাদের মনে থাকে না। “ভালবাসা আজকাল” একই ধরণের কাহিনীর সিনামা গুলার মধ্যেই। মেকাপ সহ বেশ কিছু জিনিষের প্রতি আরো জোর দিতে হবে কলাকুশলীদের। সিনামা দেইখা যদি শর্টফিল্মের ভুল গুলা চোখে পরে তাইলেই বুঝা যায় কাজের প্রতি তাদের অবহেলা কতটুকু ছিল। সবারই কিছু কিছু জায়গায় ওভার এক্টিং ছিল। সাকিব খানের দুই বগলের নীচে বেশ কিছু সমস্যা আছে বইলা মনেহইলো। কারণ দৌড়ানোর সময় সহ হাটাচলার সময় হাত শরীরের সাথে কিছুটা দূরত্ব মেন্টেইন কইরা চলাচল করে।

বাংলা কাতুকুতু নাটক গুলোর মতন কাতুকুতু টাইপের হাসানোর চেষ্টা বেশ কিছু জায়গায়। সাথে দুর্বল VFX এর কাজ। পৃথিবীর কোন দেশ মনেহয় দেখানোর বাকী রাখে নাই।



এই ব্যাপারটা সকল দেশের সিনামাতেই থাকে কিন্তু তাদের লাইটিং এর মানানসই দিক গুলোর কারণে চোখে লাগে না তেমন। কিন্তু এই সিনামাতে বেশিই চোখে লাগছে।
ছোট কাল থেকেই বাংলা সিনামাতে দেখতে দেখতে আসতেছি বৃষ্টি পানি দিয়াই দেখানো হয়। এইখানেও পানির ব্যাবস্তা ছিল, তারপরেও কেন যে বৃষ্টির শুরু তে দৃষ্টিকটু ভাবে বৃষ্টির ব্যাপারটা দেখানো হইলো বোধগম্য হয় নাই। এক জায়গায় বাইক নিয়া চেজিং এর এক পার্টে নায়ক শুরু করে APACHE RTR দিয়া আর শেষে নামে YAMAHA FAZER থেইক্কা।ডিরেক্টরের কি মনেহয় মানুষ গাঞ্জা খাইয়া সিনামা দেখতে গেছে যে বাইক চিনবো না???
এছাড়াও বাইক চেজিং এর ক্ষেত্রে কারো কোন উত্তেজনা নাই, মনেহইতেছে পিকনিকে যাইতেছে সকলে মিল্লা বাইকে চইরা। আর ফাইটিং দৃশ্য আরো উন্নত হওয়া উচিৎ ছিল। এটলিস্ট আগের সিনামাগুলার ফাইটিং এরচেয়ে ভাল ছিল মনেহয়। আমার দেখা সাকিব খানের প্রথম সিনামা এইটা। আর এক জায়গায় দেখলাম জোনাকী পোকা ধরতে গেল নায়ক। প্রথমে ঠিকই ছিল কিন্তু হাতে ধইরা আনার পরে জোনাকীর আলো মনেহইতাছে টর্চ লাইটকেও হার মানাইতেছিল। একসময়ে চিন্তা হইছিল এইরকমের বেশ কিছু জোনাকী ধইরা একটা কাচের বোতলে রাইখা দিলে মন্দ হইতো না, এটলিস্ট ইলেক্ট্রিসিটি বিল কিছু কম আইতো। আর নায়কের বাপ কবিরাজ ছিল সাথে তার স্বপ্ন ছিল পোলারেও কবিরাজ বানাইবো এইটা যেমন হাস্যকর যুক্তি এখনকার সময়ে, তেমনি নায়ক জীবনে কোনদিন কবরাজি না কইরা হঠাৎ কি এক গাছের থেইক্কা লতাপাতা নিয়া আইসা চিকিৎসা করতেছে এইটাও সেই একই পর্যায়ের হাস্যকর ব্যাপার। তারপরে হঠাৎ কইত্থে আইসা দৌড়াইতে দৌড়াইতে বান্দরবান থেইক্কা নিজের বাসায় গেলগা কিছুই বুঝলাম না। মা মইরা গেছে দাফন কইরা আবার হঠাৎ চইলা আসলো আগের জায়গায়, কেম্নে কি?? আর শেষে তো আছেই পুলিশ আইসা বলবে আইনের হাত অঅঅঅঅনেক লম্বা।

যারা আগে নিঃস্বার্থ ভালবাসা দেইখা আসছে সবারই মতামত ছিল এর তুলনায় হাস্যকর হইলেও বেশ ভাল ছিল। আর পোড়ামন শতগুণে ভাল ছিল। শুধু নেগেটিভ দিক বইলা যাইতেছি। আসলে পজিটিভ খুব বেশি কিছু চোখে পরে নাই। তবে মিশা সওদাগর তার বাচন ভঙ্গী সহ অভিনয়েও বিশাল পরিবর্তন আনছে। এইটা ভাললাগছে। কথা বার্তার স্টাইল পুরাই বদলাইয়া গেছে।

আবারো বলছি এই পোস্টের কোন অংশই বাংলা সিনামাকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বলা না। কিন্তু যেইখানে আমাদের আরো ভাল ভাল সিনামা আসছে সেইখানে এইধরণের জিনিষ নির্মাণ কতটুকু পজিটিভ ইফেক্ট ধরেরাখতে পারবে দর্শকের কে জানে। আমি একলাই তো দর্শক নই। আমার যা মনেহইলো তাই বললাম। বাকীটা যারা দেখবেন তাদের বিবেচনা।

রেটিং করলেঃ ৫/১০ এর বেশি দিতে পারতেছি না

অফটপিকঃ মাহীর রান আমার রানের কাছাকাছি প্রায়

বিভাগঃ কমেডি, রোমান্টিক
পরিচালকঃ পি এ কাজল
প্রযোজনাঃ জাজ মাল্টিমিডিয়া
পরিবেশকঃ জাজ মাল্টিমিডিয়া
অভিনয়েঃ সাকিব খান, মাহী, কাবিলা, মিশা সওদাগর, আলীরাজ

২১ thoughts on “ভালবাসা আজকাল (২০১৩)

  1. ট্রেইলার দেখছিলাম। মাহীর
    ট্রেইলার দেখছিলাম। মাহীর অভিনয় দেইখা মনে হইতেছিল হাত পা ছুইড়া কান্দি। :মানেকি:

    1. আমার মন্রহইছে সানি লিওনের
      :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: আমার মন্রহইছে সানি লিওনের চেয়েও ভাল এক্সপ্রেশন দিতাছিল (চোখ বন্ধ কইরা) :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  2. এই সিন তো মনে হয় গজিনী থেকে

    এই সিন তো মনে হয় গজিনী থেকে মাইরা দিছে। এরা পাবলিকরে কি বলদ ভাবে? :মাথাঠুকি:
    কোরিওগ্রাফারের এতোই অভাব এই দেশের ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রিতে? :মাথানষ্ট:

    1. ধন্যবাদ মজা পাওনের জন্যে
      ধন্যবাদ মজা পাওনের জন্যে :মাথাঠুকি: কিন্তু বহুত কষ্টে লিখছিলাম কথা গুলি :মাথাঠুকি:

  3. সাকিব খানের দুই বগলের নীচে

    সাকিব খানের দুই বগলের নীচে বেশ কিছু সমস্যা আছে বইলা মনেহইলো। কারণ দৌড়ানোর সময় সহ হাটাচলার সময় হাত শরীরের সাথে কিছুটা দূরত্ব মেন্টেইন কইরা চলাচল করে।

    —- দারুণ বলেছেন ।

    এক জায়গায় বাইক নিয়া চেজিং এর এক পার্টে নায়ক শুরু করে APACHE RTR দিয়া আর শেষে নামে YAMAHA FAZER থেইক্কা।ডিরেক্টরের কি মনেহয় মানুষ গাঞ্জা খাইয়া সিনামা দেখতে গেছে যে বাইক চিনবো না???

    —- ভালো পর্যবেক্ষণ ।
    ছবিটি দেখিনি । তবে মনে হচ্ছে প্রিন্ট অনেক ভালো হয়েছে । আপনার রিভিউ’র জন্য ধন্যবাদ !

    1. ভাই এমন না যে আমি শুধু ভুল
      :মাথাঠুকি: ভাই এমন না যে আমি শুধু ভুল খুইজ্জা বাইর করতে গেছিলাম সিনামা দেখতে। কিন্তু এই সব সাধারণ দর্শকের মাথায় খুব সহজেই আসবে। :মাথাঠুকি:

      ধন্যবাদ কষ্ট কইরা পড়ার জন্যে 🙁

      1. মাথায় বাড়ি খাওয়া বা মন খারাপ
        মাথায় বাড়ি খাওয়া বা মন খারাপ করার কোন কারণ নেই । আপনি আপনার লেখায় এবং কমেন্টে বারবার একই কথা বলে যাচ্ছেন, কারণটা কি বলবেন ? আপনি ভুল খুঁজতে গেছেন আমি সেই কথা একবারও বলেছি ?

        কিন্তু এই সব সাধারণ দর্শকের মাথায় খুব সহজেই আসবে।

        — সাধারণ দর্শকের মনস্তত্ত্ব আপনি বুঝে ফেলেছেন ? তা বেশ তো । তাহলে দেশের ভালো সিনেমার জয় জয়কার শুরু হয়ে গেল, কি বলেন ?
        — আর কষ্ট করে পড়েছি না আনন্দ নিয়ে পড়েছি, আপনি কি করে জানেন ? আত্মবিশ্বাস লেভেল এতো কম থাকলে কেমনে চলবে ব্রাদার ?

        1. আত্মবিশ্বাস বেশি না থাকাই
          আত্মবিশ্বাস বেশি না থাকাই ভাল, তাহলে অল্পতেই খুশি থাকা ভাল। 😀 আর মাথায় বাড়ি খাইতাছিলাম কারণ এর চেয়ে অনেক ভাল সিনামা আসে এখন দেশে। সেই খানে এই জিনিষ মাথায় বাড়ি খাওনের মতই।

          কিন্তু এই সব সাধারণ দর্শকের মাথায় খুব সহজেই আসবে।

          এইকথাটা বলার কারণ আশাকরি আবার এক্সপ্লেইন করতে হবে না। পোস্টের প্রিথমেই বলছি, শেষেও বলছি আবার।

          ভাল থাকবেন 🙂

  4. মাহিরে ভালো লাগে ,
    এই

    মাহিরে ভালো লাগে , :ভালুবাশি:

    এই মুভি নাকি ভালো ব্যাবসা করছে ইতিমধ্যে :-B
    দেখার ইচ্ছা আছে :জলদিকর:

  5. মাহিডা আবার আইল কবে? এই ঈদে
    মাহিডা আবার আইল কবে? এই ঈদে কি ছাকিবের অপু বিশ্বাসের কোন ছবি নাই, নাকি বাংলার মানুষ বিশ্বাস হারিয়ে অপুরে নষ্ট কইরা দিছে(বিশ্বাসের কথা বলছি কেবলমাত্র অন্যকিছু ভাবলে আমি দায়ী না)

  6. একসময়ে চিন্তা হইছিল এইরকমের

    একসময়ে চিন্তা হইছিল এইরকমের বেশ কিছু জোনাকী ধইরা একটা কাচের বোতলে রাইখা দিলে মন্দ হইতো না, এটলিস্ট ইলেক্ট্রিসিটি বিল কিছু কম আইতো।

    হাসতে হাসতে মারা গেলাম ভাই… :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: 😀

    আশা যে খুব বেশী ছিল , তা না… কিন্তু শাকিবের প্রথমবারের মত “” চৌধুরী সাহেব”” টাইপের অভিনয় থেকে বের হয়ে আসার ইঙ্গিত ছিল বলে হলে চলে গিয়েছিলাম মুভিটা দেখতে… শাকিবের অভিনয় যথেষ্ট ভালো ছিল :তালিয়া: , কিন্তু মাহি ন্যাকামি দেইখা বারবার মুন চাইছে গাড়ির তলে ঝাঁপ দিয়া আত্মহত্যা করি… :দেখুমনা: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :আমারকুনোদোষনাই: :মাথাঠুকি: সবমিলিয়ে বাঙলা মুভি হিসাবে মোটামুটি ভালোই করেছে… তবে কাটকপির অভ্যাসটা ছাড়তে না পারলে ভালো কিছু বানানো অসম্ভব… :মাথাঠুকি: :ক্ষেপছি: :কেউরেকইসনা: :অপেক্ষায়আছি:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *