কাঁচঘর-নৈপ্রির গল্প

নৈপ্রির গল্প-বেদনার্ত স্বপ্ন ১ম পর্ব

কিছুই ভালো লাগে না আর।মন চায় না যে বেঁচে থাকি,কেবল বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকা একেবারেই অর্থহীন।সময় থেমে থাকে না,আমি কেন থাকব?ফোনে রিং হচ্ছে কিন্তু একেবারেই ইচ্ছে করছে না ধরতে।কোন ছেলে হয়ত ক্লাসের নোট নেবার নাম করে বকবক করার জন্য ফোন দিয়েছে।নাহ এভাবে আর হয় না,সত্যি হয় না।

“মাআআআ…কই রে তুই”(বাবা ডাকছে,আমি কি সত্যি তার মা?তবু কেন মা বলে ডাকে?)
“আসছি বাবা,এক মিনিট”
“তুই কি আমার উপর রাগ করেছিস?”
“না তো বাবা,হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
“তুই এই মাসে আমার কাছ থেকে মাত্র তিন হাজার টাকা নিয়েছিস।অন্য মাসে তো তা হয় না।”

নৈপ্রির গল্প-বেদনার্ত স্বপ্ন ১ম পর্ব

কিছুই ভালো লাগে না আর।মন চায় না যে বেঁচে থাকি,কেবল বেঁচে থাকার জন্য বেঁচে থাকা একেবারেই অর্থহীন।সময় থেমে থাকে না,আমি কেন থাকব?ফোনে রিং হচ্ছে কিন্তু একেবারেই ইচ্ছে করছে না ধরতে।কোন ছেলে হয়ত ক্লাসের নোট নেবার নাম করে বকবক করার জন্য ফোন দিয়েছে।নাহ এভাবে আর হয় না,সত্যি হয় না।

“মাআআআ…কই রে তুই”(বাবা ডাকছে,আমি কি সত্যি তার মা?তবু কেন মা বলে ডাকে?)
“আসছি বাবা,এক মিনিট”
“তুই কি আমার উপর রাগ করেছিস?”
“না তো বাবা,হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
“তুই এই মাসে আমার কাছ থেকে মাত্র তিন হাজার টাকা নিয়েছিস।অন্য মাসে তো তা হয় না।”
দীর্ঘশ্বাস গোপন করলাম,এত টাকা দিয়ে কি হয় বাবা?শপিং?হাজারটা অকাজে খরচ?নাকি সুখ কেনা যায়?কিছুই তো হয় না।কেবল ছোটাছুটি……
কিন্তু এসব নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে না,যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সরে যেতে হবে।

“এমনি বাবা, পড়াশোনার চাপ একটু বেড়েছে তো।তাই বাইরে যাওয়া হয় না।”
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।কিছু না বলে নিজের ঘরে চলে গেল।এখন মার ছবির সামনে গিয়ে কাঁদবে।মার কথা আমার মনে নেই বললেই চলে।কেমন অবয়ব কিংবা কেমন চেহারা কিছুই মনে নেই।সাদাকালো ছবিতে সবাইকে প্রায় এক রকম লাগে,আমার স্মৃতিতে থাকা মাকে দেখে একেবারেই মনে হয় না আলাদা কেউ।

ঘরে চলে আসলাম,সবকিছু যেমন আস্তে আস্তে তার নিয়তির দিকে যায় তেমনি আমিও যাচ্ছি।আমি জানি না কেন যাচ্ছি জানি না।ফোন হাতে নিয়ে দেখি সাতটা মিসড কল।একটাই নাম্বার,মেঘের।
রিং ব্যাক করতেই ধরে ফেললো,
“বলো নিপু”(ও আমায় কখনও নৈপ্রি বলে ডাকে নাকেন ডাকে না তা জানতেও ইচ্ছা করে না)
“কিভাবে বুঝলা যে আমি?আমার নাম্বার নাকি সেভ করা নাই।আর এত তাড়াতাড়ি কিভাবে রিসিভ করো”
“জানি না তো”
“আমি কিন্তু রাগ করবো!”
“বাদ দাও,তোমার খবর বল”-মেঘ খুব ভালো করেই জানে যে আমি কখনই ওর উপর রাগ করতে পারবো না
“আমি ভালই আছি”-চুপ হয়ে যায় দুইপক্ষ।আমি কথা খুঁজে পাই না।প্রতিবার এমনটা হয়।একটু পরেই কথার ঝড় উঠবে।হাজারটা কথা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বো একজন আরেকজনের উপর,তারপর ভোর না হতেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়বো।

ঘুম থেকে উঠে দেখি সকাল দশটা।প্রথম ক্লাসটা মিস হবেই,এটা জানা কথা।কিন্তু আমি রাস্তায় যেতে যেতে ভাবলাম হাজারটা এলোমেলো ভাবনা।কিছুটা তিথিকে নিয়ে।আচ্ছা আমার নিজেকে নিয়ে ভাবার এত কিছু থাকতে কেন আমি অন্য কাউকে নিয়ে ভাববো? গাড়ীর গ্লাস নামিয়ে দিলাম,আমার খুব হিমু হতে মন চায়।কিন্তু লেখকদের লেখা কেবল ছেলেদের নিয়েই,ছেলেরাই নায়ক,ছেলেরাই সব।মেয়েদের নিয়ে এত কম লেখা কেন?
কেন একটা মেয়ে হলুদ শাড়ি পরে খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটতে পারে না?মানুষের সাথে কথা বলতে পারে না প্রাণ খুলে?কান্না চেপে রাখতে পারে না?নাহ,তা তো হবে না।মেয়েরা ঘরে থাকবে রুপা হয়ে,কাঁদবে পানির কল ছেড়ে দিয়ে।

কলেজের গেটে নামতেই তিথিকে দেখলাম।ঘন কালো চুল ছেড়ে দিয়ে বালিকা শিমুল গাছটার কাছে যাচ্ছে হেঁটে।

আমি যেয়ে পেছন থেকে ডাকলাম,শুনে ও ফিরে তাকাল।
“কি রে প্রাচ্য কই?”-ও কেবল একটা ম্লান হাসি দিলো।বুঝে গেলাম কি হয়েছে।ফোন বের করে প্রাচ্যকে ফোন দিলাম।
রিং হচ্ছে,ধরল কিছুক্ষণ পর………
“হুম নপু বল”
“এই বেহায়া,বেলাজ,নাবাবজাদা,কই তুই??”
“কেন?কি হয়েছে?-(ও এমনভাবে বলল যেন কিছুই হইনি,আরও রাগ উঠে গেলো মাথায়)
“এমনভাবে বলছিস যেন কিছুই হইনি,তাড়াতাড়ি কলেজে আয়।নইলে তোকে খুন করে ফেলবো!”

শিমুল গাছের নিচে এসে বসে পড়লো তিথি,এখানে এত ময়লা। আমিও বসে পড়লাম,লাগুক ময়লা জামায়।এখান থেকে নিউ ডিগ্রি কলেজটা পুরো দেখা যায়।
রাজশাহী শহরটা আর কতইবা বড়?অথচ আমার বাবা এখানে,এই শহরের চেয়ে বড় ব্যবসায়ী মানুষ।ভাবতে কেমন যেন লাগে।বিত্ত আসলে বড় অদ্ভুত একটা জিনিস।টুনটুন করে মেসেজ টোন বেজে উঠলো,প্রাচ্য!আমি জানতাম ওই মেসেজ দিবে,কি দিবে তাও জানি।ও আসবে না,এটাই কেবল “আপনি” সম্বোধন পদ দিয়ে জানাবে।
“সাবিয়া সাবেরিন নৈপ্রি,আমি এখন কলেজে আসতে পারবো না।বিকালে প্রাইভেটে দেখা হবে।”-তিথি উবু হয়ে দেখছিল।আমি ওর চোখে চোখ রাখতেই আমার মনে হল আমি যেন এই তিথিকে চিনি না।আমি চোখ সরিয়ে নিলাম,আমার চোখ লাল হয়ে আছে জানি।কাল সারারাত মেঘ আমাকে তার স্বর্গে নিয়ে গিয়েছিল,হাজার হাজার বর্ণে বর্ণে তাকে খুঁজে খুঁজে জোড়া লাগিয়েছি।আমার মাথা ঠিক মত চিন্তা করতে পারে না মেঘকে নিয়ে।ও আসলে আমি নাই হয়ে যাই।

“তুই মেঘকে ভালবাসিস?”-আমি আকুল হয়ে তিথিকে মনে মনে বলছি,দয়া কর আমাকে।যে প্রশ্নের উত্তর আমি নিজেই জানি না,তার উত্তর তোকে কেমন করে দেই?
যে শিমুলফুল ঝরে যাবে সে কেন ফোটে? শিউলি তো দুপুর দেখে না তবু তো সে ফোটে।মানলাম মেঘ আর আমার মাঝে হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরত্ব।তবু থাক না এসব,আমার জীবনে না হয় মেঘ কেবল বকুলের সুবাস হয়ে থাকলো।তবু তিথি চুপ করে না,বলে চলে আমার উত্তর না শুনেই-“দেখ নপু,যেখানে কোন ভবিষ্যৎ নেই সেখানে কেন তুই কষ্ট পেতে পড়ে থাকবি? ”

ও ঠিক বলেছে,আমি ওকে পাবো না-এটা জানার পরও তার সাথে কোন অসঃঙ্গায়িত সম্পর্ক চালিয়ে নিয়ে যাওয়া আসলেই কষ্টের।তিথি হঠাৎ করেই কাঁদতে শুরু করলো, আমি ওকে কাছে টেনে নিলাম,আমার কাঁধে মাথা রেখে ও কাঁদতে থাকে।আমার চোখেও পানি চলে এসেছে।আমি প্রাণপণ চেষ্টা করছি কিভাবে পানি না পড়তে দেওয়া যায়।আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি।সৃষ্টিকর্তা বলে কি কেউ আছে?যদি থেকেই থাকে তাহলে সে কেন নারী সৃষ্টি করলো?করলেও এত দুর্বলতা কেন দিলো?নারী আসলে কি নিজেকে নিজে দুর্বল করে রেখেছে?এই আমি আকাশের দিকে চেয়ে আছি,আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে না।কত সহজেই আমরা চোখের পানি আটকে রাখতে পারি।

প্রাইভেটে নোট তুলছি মনযোগ দিয়ে,এমন সময় প্রাচ্য ঢুকল।স্যার বেশ ভালোমত অপমান করল।তারপর সে হাসি মুখে আমার পাশে এসে বসল।লজ্জা জিনিসটা আসলেই এই ছেলের মধ্যে নাই।আমি সামান্য পেছনে সরে গেলাম।তিথি আমার বামপাশে আর গাধাটা আমার ডান পাশে।

তিথি ওর দিকে তাঁকালো না দেখে আমি আবার সামনে ঝুঁকে নোট তুলতে লাগলাম। ক্লাস শেষ হতেই সবার সাথে চেঁচামেচি করে বের হয়ে আসলাম।কেন জানি না খুব হাসছি আমি।নাহ,এত হাসা ভালো না।যত বেশি হাসতে হয় তত বেশি কাঁদতে হয়।

রিহান নামের ছেলেটা খুব বেশি হাসত,শেষমেশ কাঁদতে কাঁদতে তার দিন গেছে।কুমিল্লায় থাকা দিনগুলির স্মৃতি আমাকে খুব এলোমেলো করে দিয়ে যায় মাঝে মাঝে।রিহান নামের ছেলেটাকে ভালবাসতাম কিনা জানি না,খুব ভালো লাগত তার সাথে সময় কাটাতে।কিন্তু কিভাবে কিভাবে সব বদলে গেলো,রিহানের বাবা-মা ছিল না।হলদে দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়া দেখতে দেখতে রিহান আমাকে অনেক কথা বলত।আমি হা করে তাকিয়ে থাকতাম ওর দিকে,এসব ও কিভাবে জানলো?আমি জানতাম না ও ঠিক বলছে কিনা, কিন্তু ঠিকই বুঝতাম ও যা বলছে সেসব ভালো না।কখনও ভালো হতে পারে না।আস্তে আস্তে কেউ না দেখে রাখায় ছেলেটা গেলো খারাপ হয়ে।জীবনের সবচেয়ে কাছের বন্ধু,এই আমাকে সে অতিসহজে ভুলে গেলো মাদকের জন্য।আমার খুব কান্না পাচ্ছিলো ওর ঘোলাটে দুই চোখ দেখে।মুখ দিয়ে ফেনা তুলতে তুলতে আমাকে হাজারটা কথা বলতে লাগলো রিহান।জার কোন আগামাথা ছিল না।

আমি রাজশাহীতে বাবার কাছে চলে এলাম মামা-মামিকে ছেড়ে।যে বাবার উপর ছিল পর্বতপ্রমাণ অভিমান সেই বাবাই হয়ে গেলো বন্ধু।বিরক্তিকর বন্ধু।

(……………চলবে)

১২ thoughts on “কাঁচঘর-নৈপ্রির গল্প

  1. লেখার মাঝে যতি ও ছেদ চিহ্ন,
    লেখার মাঝে যতি ও ছেদ চিহ্ন, স্পেসিং এবং কাহিনি বর্ণনার ‘পুরুষ’ মাঝে মাঝে ভুল হয়ে গেছে। এগুলোর ব্যাপারে একটু সচেতন হলে চমৎকার লেখনি ও রচনাশৈলী আপনাকে অনেকদূর নিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস…

    ক্যারি অন!
    :ফুল:

  2. এখন মার ছবির সামনে গিয়ে

    এখন মার ছবির সামনে গিয়ে কাঁদবে।মার কথা আমার মনে নেই বললেই চলে।কেমন অবয়ব কিংবা কেমন চেহারা কিছুই মনে নেই।

    বাসায় ছবি থাকতে চেহারা মনে থাকে না কিভাবে। যাই হোক, পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  3. কেন একটা মেয়ে হলুদ শাড়ি পরে

    কেন একটা মেয়ে হলুদ শাড়ি পরে খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটতে পারে না?মানুষের সাথে কথা বলতে পারে না প্রাণ খুলে?কান্না চেপে রাখতে পারে না?নাহ,তা তো হবে না।মেয়েরা ঘরে থাকবে রুপা হয়ে,কাঁদবে পানির কল ছেড়ে দিয়ে।

    —- প্রশ্নটা আমারও । আপনার উত্তর জানা আছে কি ?

    যে শিমুলফুল ঝরে যাবে সে কেন ফোটে? শিউলি তো দুপুর দেখে না তবু তো সে ফোটে

    —- আপনার লেখার এই জায়গাটা পড়ে গুণের মুঠোফোনের কাব্য’ র একটা লাইনের কথা মনে পড়ে গেল – ” যে ছবি ছিঁড়তে হবে সে ছবি আঁকিস কেন ? ”
    — লেখাটি খুব বেশি আমাকে এখনো টানে নি । দেখা যাক পরের পর্বে অবস্থার পরিবর্তন হয় কিনা ।

  4. -আমার উত্তর জানা নাই
    -আসলে

    -আমার উত্তর জানা নাই

    -আসলে লেখা মাথায় নাই,কবে আবার লিখতে পারবো কে জানে!এই পোস্টটা ডিলিট করতে চাচ্ছি।কিভাবে করা যায়?

  5. অনেকগুলো চরিত্র ঢুকিয়ে
    অনেকগুলো চরিত্র ঢুকিয়ে ফেলেছেন। পর্বের গল্পে এতো চরিত্র থাকলে মনে থাকবে না।
    আর ঘটনার বর্ণনা ক্রমান্বয়ে আসে নি। কিছুটা এলোমেলো।
    নতুন করে শুরু করেন আবার… :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *