‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা পরিচয় সংকটের বাংলাদেশীদের জন্য কিছু কথা

প্রথমে একটা প্রাসঙ্গিক সংজ্ঞা দেই; ‘ইংরেজ’ বা, ‘English’ বলতে আমরা কি বুঝি?
‘ইংরেজ’ বা, English- রা হল একটি জাতি এবং জাতিগত গোষ্ঠী যাদের নেটিভ ভাষা ইংরেজী আর বসবাস করে ইংল্যান্ড। ‘ইংরেজ’-দের প্রাচীন পরিচয় মধ্যযুগীয় হলেও ,তারও আগে ইংরেজরা Anglecynn হিসাবে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ, ইংরেজ বলতে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইংরেজি ভাষা-ভাষীর মানুষদের বুঝায়! অথচ বিশ্বে আজ অনেক দেশ আছে যেখানে ইংরেজি ভাষা-ভাষীর মানুষের আধিক্য। কিন্তু, তাদের আমরা ইংরেজ বলি না। যেমন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক রাষ্ট্র!


প্রথমে একটা প্রাসঙ্গিক সংজ্ঞা দেই; ‘ইংরেজ’ বা, ‘English’ বলতে আমরা কি বুঝি?
‘ইংরেজ’ বা, English- রা হল একটি জাতি এবং জাতিগত গোষ্ঠী যাদের নেটিভ ভাষা ইংরেজী আর বসবাস করে ইংল্যান্ড। ‘ইংরেজ’-দের প্রাচীন পরিচয় মধ্যযুগীয় হলেও ,তারও আগে ইংরেজরা Anglecynn হিসাবে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ, ইংরেজ বলতে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইংরেজি ভাষা-ভাষীর মানুষদের বুঝায়! অথচ বিশ্বে আজ অনেক দেশ আছে যেখানে ইংরেজি ভাষা-ভাষীর মানুষের আধিক্য। কিন্তু, তাদের আমরা ইংরেজ বলি না। যেমন নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক রাষ্ট্র!

অনুরূপে ‘বাঙালি’ একটি জাতি এবং জাতিগত গোষ্ঠী যাদের Native ভাষা বাংলা, আর বসবাস বাংলাদেশে অর্থাৎ ‘বাঙালি’ বলতে কলকাতার বাংলা ভাষাভাষীদের সাথে গুলিয়ে ফেলার কিছু নাই। সংজ্ঞা খুবই পরিষ্কার আর নির্দিষ্ট।

এইবার আসি আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রাসঙ্গিকতার বিচারে। বিভিন্ন টকশো বা ঘরোয়া রাজনৈতিক আড্ডায় একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল ‘বাঙালি’ বললে তো বাংলাদেশের পাহাড়িদের বঞ্চিত বা, নিগৃহীত করা হয়”; এই যুক্তিতে যারা উদ্বেলিত তাদের জন্যে বলছি ঠাণ্ডা মাথায় একটু যাচাই করুন নিন্মের ব্যাখ্যাগুলো।

বাঙালি একসাথে নেটিভ বাংলা ভাষাভাষীদের ও বুজাচ্ছে সাথেসাথে বাংলাদেশে বসবাসকারীদের ও বুজাচ্ছে। সংজ্ঞাটি আবার পড়ুনঃ ‘বাঙালি’ একটি জাতি এবং জাতিগত গোষ্ঠী যাদের Native ভাষা বাংলা, আর বসবাস বাংলাদেশে।” এই নৃতাত্ত্বিক জাতিগোষ্ঠীকে বাঙালি বলার কারণঃ

১) বাংলা বছর, বাংলা উৎসব, পালাপার্বণ, বিয়ের রীতি, জামা-কাপর পরা, সম্পূর্ণ জীবনধারার মিলেই। আর পাহাড়ি বিভিন্ন ভাষাভাষীদের মাঝে বাঙালি উৎসবগুলো আরও তীব্র, আর তাই বাঙালি বললে শুধু বাংলা ভাষাভাষীদের না এই বাংলায় সব ভাষার বাঙালি সংস্কৃতির অধিবাসীদের বুজাচ্ছে।

২) যারা এই প্রশ্নটি তুলেন তাদের বড় অংশই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শে পক্ষপাতদুষ্ট! তাদের জন্যে বলি তাহলে বাংলাদেশ নামটাও পরিবর্তন করতে হয় জনাব! কারণ পাহাড়িরা তো চাইবে চাকমাদেশ, মারমাদেশ, মুরংদেশ! তাই না? তাই উত্তরাধিকারে রাজনৈতিক আদর্শ স্থির করার আগে একটু ভাবুন।

৩) যারা যদি ৮৫% মানুষকে তুষ্ট করতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে ১৫% কে ২য় শ্রেণীর নাগরিক করে দেয়; তাদের মুখে ১% এর কম পাহাড়ি-উপজাতিদের সন্তুষ্ট করতে জাতীয়তা বাঙালি থেকে বাংলাদেশী করা কথাটা কতটা মানায়? সবিনয়ে জবাব দিয়ে যাবেন যারা মুক্তিযুদ্ধার বাংলাদেশের ‘রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম’ আর জাতীয়তা ‘বাংলাদেশী’ বিশ্বাস করেন।

এর সাথে আরেকটি প্রাসঙ্গিক বিতর্কের অবতারণা হয় তাহল আমি আগে মুসলিম না আগে বাঙালি? আমার উত্তর আমি বাঙালি! এইখানে কোন সন্দেহ বা দুবার চিন্তারও অবকাশ নেই কেননা-

১) আমি যেমন জন্মগত ভাবে মানুষ ঠিক তেমনি জন্মগত ভাবেই আমার নৃতাত্ত্বিক আর জাতিগত পরিচয় বাঙ্গালীত্ব পেয়ে যায়। আর শৈশব থেকে কৈশোরে পারিবারিক ধর্মীয় রীতি বা বিশ্বাস থেকে আমার ধর্মীয় পরিচয়টা লাভ করি। তাই সে যেকোন ধর্মের হতে পারে এমন কি আমার প্রাপ্ত বয়সে গিয়ে আমি আমার ধর্মীয় বিশ্বাস অনেক যৌক্তিক কারণেই পরিবর্তন করতে পারি।

২) আমি বাঙালি মুসলমান, আমি বাঙালি হিন্দু, আমি বাঙালি ক্রিস্টিয়ান, আমি বাঙালি বৌদ্ধ যা আমরা ৭১ থেকেই বলে আসছি। এইখান থেকে বাঙালি পরিচয়টা এই বাংলার সবার তাই বুঝা যায় অর্থাৎ আমাদের Common Identity বাঙালি। এর পর যার যার ধর্ম তারতার।

৩) আমি কোন অবস্থাতেই আমার নৃতাত্ত্বিক পরিচয় পরিবর্তন করতে পারব না। কিন্তু স্যামসন এইচ চৌধুরী মুসলিম থেকে ক্রিস্টিয়ান হয়েছেন বা অনেকে অমুসলিম থেকে মুসলিম হয়েছেন আবার কেউ ধর্মহীনও হয়েছেন! কিন্তু কেউ বাঙ্গালী থেকে ইংলিশ হতে পারেন নি। রুসনারা আলী ২য় প্রজন্মে গিয়েও বাঙ্গালী পরিচয় হারাবেন না বা বদলাতে পারবেন না যেমনঃ টি ভি এস নাইপল কে বলে ‘Indo-Trinidadian’ তার পূর্ব পুরুষের পরিচয়ে!

৪) আরেকটি ব্যাপার লক্ষ্য করুন DNA টেস্ট করে নৃতাত্ত্বিক বা জাতিগত পরিচয় বের করা যায় কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় না। এই বাংলার মানুষ কত বছর আগে কোন ভূখণ্ড থেকে এইখানে নিবাস গড়ছে তাও বের করা যায়। তবে ধর্মীয় বা আদর্শিক পরিচয় বের করা যায় না! কেননা কোন অবস্থাতেই আমার নৃতাত্ত্বিক বা জাতিগত পরিচয় পরিবর্তন করার সুযোগ নেই কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় বা বিশ্বাস অথবা সংস্কৃতি পরিবর্তন করা সম্ভব।

অর্থাৎ আমার স্থায়ী ঠিকানাটাই প্রথমে আসবে তাহল আমি ‘বাঙালি’

এর পরও যদি বাংলাদেশে কোন মানুষ তার পরিচয় নিয়ে এমন হীনমন্যতায় ভোগে অথবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশে বিভাজনের সৃষ্টি করে তবে তাদের মত স্বজাতি বিদ্বেষীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হোক শুধু ব্লগ থেকে নয় দেশ থেকেও।।

“তুমি কে? আমি কে?
বাঙালি… বাঙালি…”

নোট: লিখাটি পূর্বে প্রকাশিত এই শিরোনামেঃ
‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা পরিচয়ের সংকটের বাংলাদেশী অতঃপর তাদের সনাক্তকরণ…জনস্বার্থে লিখাটি পুনরায় পোস্ট করলাম।।

৩৭ thoughts on “‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা পরিচয় সংকটের বাংলাদেশীদের জন্য কিছু কথা

  1. হমমম….. সত্যের তলোয়ারের
    হমমম….. সত্যের তলোয়ারের ল্যাদানি বন্ধ করা দরকার. না হলে মুখ সামলে রাখিা কঠিন হয়ে পড়ছে।আইপি সহ ব্যান করলে আরো ভালো।

    1. আইপি সহ বন্ধ করার চিন্তাটা
      আইপি সহ বন্ধ করার চিন্তাটা যৌক্তিক। এরমধ্যেই এই সত্যের তলোয়ারের স্টাইলে লেদানির পরিচয়ের একটা নিক আমি শনাক্ত করেছি।।
      আপনাকে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:

      1. আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জিত
        আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জিত করবেন না আমিও তো ইস্টিশনের একজন যাত্রী নাকি!

        হ্যা আইপি সহ ব্যান করা হোক

  2. অসাধারণ পোস্ট,কিছু অপদার্থের
    অসাধারণ পোস্ট,কিছু অপদার্থের মাথায় যুক্তি ঢোকাতে এই পোস্টটা সাহায্য করবে বলে আশা করছি
    আর সত্যের তলোয়ারকে নিয়ে কথা তো কম হলনা,ইস্টিশন মাস্টার করে টা কি?

    1. ধন্যবাদ…
      ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল:

      ইস্টিশন মাস্টারের কি ঈদের ছুটি শেষ হয় নাই?

  3. খুব সুন্দর একটা পোস্ট।তারিক
    খুব সুন্দর একটা পোস্ট।তারিক ভাই একদম সহজ ও বোধগোম্য যুক্তিগুলোই ব্যবহার করেছেন।এরপরও কেউ না বুঝলে বেচারার মাথায় অবশ্যই গোবর ছাড়া কিছু নাই।ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টি আকর্ষন করছি,সত্যের তলোয়ারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

    1. ধন্যবাদ… আশা করি সবসময় পাশে
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
      ধন্যবাদ… আশা করি সবসময় পাশে পাব!! :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  4. বার বার সর্তক করার পরও ব্লগার
    বার বার সর্তক করার পরও ব্লগার ‘সত্যের তলোয়ার’ বিভিন্ন সময় বাঙালী জাতি এবং বাঙালী সংস্কৃতি, কৃষ্টি-কালচার ইত্যাদিকে নোংরাভাবে আক্রমণ করে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিচ্ছেন। যা ইস্টিশনবিধি’র সু-স্পষ্ট লঙ্গন। মডারেশন প্যানেল দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্লগার সত্যের তলোয়ারকে পর্যবেক্ষনে রেখেছিল। ব্লগের নীতিমালার ভঙ্গ করায় ব্লগার ‘সত্যের তলোয়ার’কে স্থায়ীভাবে ব্যান করা হল।

    1. অফুরন্ত ধন্যবাদ…
      অফুরন্ত ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:
      আবারও প্রমান হল ন্যায় ও সত্যের জয় অনিবার্য…

      “তুমি কে? আমি কে?
      বাঙ্গালী… বাঙ্গালী…”
      “তুমি কে? আমি কে?
      বাঙ্গালী… বাঙ্গালী…”

        1. (No subject)
          :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow:

    2. আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আগে যে
      আপনাকে ধন্যবাদ। কিন্তু আগে যে শত্রু চিহ্নিত ছিল এখন তো সে আবার নতুন আইডি খুলবে। সেটার কি হবে?

      1. আমার তো মনে হয় আইডি সে খুলেই
        আমার তো মনে হয় আইডি সে খুলেই রেখেছে!! তাই আইপি ব্লক করলেই ভাল হত!
        আমি একটা নিক সন্দেহ করি… দেখা যাক কি করে মিথ্যার জানোয়ারটি…
        বেশী না ১ বড় জোড় ২ টি পোস্ট দিলেই চিনে ফেলব আমি!! তার লিখনি আমার কাছে খুব স্পষ্ট… এইসব জানোয়ারদের চিনতে আমার সময় লাগে না!!
        ধন্যবাদ জয় ভাই।। :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

        1. আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জিত
          আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জিত করবেন না আমিও তো ইস্টিশনের একজন যাত্রী নাকি!
          হ্যা আইপি সহ ব্যান করা হোক

    1. ধন্যবাদ কিরণ ভাই…
      ধন্যবাদ কিরণ ভাই… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
      আশাকরি সব সময় সাথে পাব… :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  5. ইস্টিশন মাস্টারকে ধন্যবাদ। এই
    ইস্টিশন মাস্টারকে ধন্যবাদ। এই নিকটি আরো আগেই বন্ধ করা উচিত ছিলো।

    আর তারিক ভাই, আপনি অসাধারন লিখেছেন। আপনাকেও এত্ত গুলা ধন্যবাদ।

    1. আপনাকেও ধইন্যা…
      আপনাকেও ধইন্যা… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:
      :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

  6. অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায়
    অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় যৌক্তিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
    লেখকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ।

    আবারো প্রমানিত হল এদেশের জন্মবিরুধীদের ঠাই কোথাও নাই । ইস্টিশন মাস্টারকে অজস্র ধন্যবাদ ।

    1. (No subject)
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  7. আমার বিশ্বাস যারা ব্লগে বিচরণ
    আমার বিশ্বাস যারা ব্লগে বিচরণ করেন তারা প্রত্যেক ব্লগারদের লেখনি সম্পর্কে ভাল ধারনা রাখেন। লেখার শুরুতেই বুঝা যায়, লেখাটি কোন লেথকের। আমি অন্ততঃ বুঝতে পারি। ব্যান করার পর ঐ ব্লগার অন্য নামে রেজিস্ট্রেশন করলেও আমাদের কাছে ধরা খেয়ে যাবে নিঃসন্দেহে। সুতরাং যখনে ফেক আইডি নিয়ে ফেরত আসবে তখন দেখা যাবে।

    যা হোক অত্যন্ত সুন্দর বিশ্লেষণধর্মী পোস্টের জন্য তারিক ভাইকে ধন্যবাদ জানাই। আশা করি তথাকথিক জ্ঞানীরা এ পোস্ট থেকে শিক্ষা নিতে পারবে, যদি সদিচ্ছা থাকে আরকি….

    তারিক ভাইকে ছোট্ট একটি পরামর্শঃ লেখার কিছু বাক্যে একুট সংশোধন করলে ভাল হয় যেমন- যায় এর স্থলে যাই হয়েছে এ শব্দগুলো আরকি….

    1. আমার এই ভুলটা দেখি মুদ্রাদোষে
      :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
      আমার এই ভুলটা দেখি মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে… :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

  8. লেখক ও ইস্টিশন প্যানেলকে
    লেখক ও ইস্টিশন প্যানেলকে ধন্যবাদ সত্যের তলোয়ারকে ব্যান করায়। বহুদিন জালাইছে এই ইস্টিশনের পরিবেশ।কিন্তু নিক ব্যান করে কি লাভ হল​? আইপি এড্রেসসহ ব্যান করা দরকার।

  9. বরাবরের মতোই একটি লিংকনিও
    বরাবরের মতোই একটি লিংকনিও পোস্ট , যাতে আছে তথ্য, উপাত্ত আর যুক্তির কড়া চাবুক । চমৎকার লেখা । ইষ্টিশনের একজন মহা গুরুত্বপূর্ণ ব্লগার আপনি । আপনাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সালাম … :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

    1. এইটা কি শুনাইলেন?
      এইটা কি শুনাইলেন? :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: 😀 😀 😀 😀 😀 :হাসি: :হাসি: :হাসি: :হাসি:
      অফুরন্ত ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :ভেংচি: :ভেংচি:

  10. বরাবরের মতোই একটি লিংকনিও
    বরাবরের মতোই একটি লিংকনিও পোস্ট :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে: :লইজ্জালাগে:
    :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

    1. লজ্জ্বার কিছু নেই … যাহা
      লজ্জ্বার কিছু নেই … যাহা বলিয়াছি সত্য বলিয়াছি । সত্য বই মিথ্যা বলি নাই …ইয়োর অনার !!!

  11. আমি বাঙালি আর বাংলাদেশি নিয়ে
    আমি বাঙালি আর বাংলাদেশি নিয়ে বেশ চিন্তা করেছি এবং অনেক সময়েই বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। আপনার পোস্টটা পড়ে আবার নতুন করে চিন্তা করছি। সত্যের তলোয়ার কে সেটাই বুঝতে পারছি না। এই পোস্টের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা কি তা আমার কাছে অস্পষ্ট। আমি পোস্টটা নিয়ে কথা বলতে চাই।

    ‘বাঙালি’ একটি জাতি এবং জাতিগত গোষ্ঠী যাদের Native ভাষা বাংলা, আর বসবাস বাংলাদেশে অর্থাৎ ‘বাঙালি’ বলতে কলকাতার বাংলা ভাষাভাষীদের সাথে গুলিয়ে ফেলার কিছু নাই। সংজ্ঞা খুবই পরিষ্কার আর নির্দিষ্ট।

    এখানে গুলিয়ে ফেলা বলতে কি বুঝিয়েছেন আমি ঠিক বুঝিনি। আমরা যখন বলব ‘বাঙালি’ আর পশ্চিম বাঙ্গলার কেউ যখন বলবে ‘বাঙালি’ তখন এ দুটোর ভাবের পেছনে কোন পার্থক্য থাকার কথা না। আর ইংল্যান্ডে বসবাসরত কোন ট্রাইব নেই। গ্রেট ব্রিটেন যখন একটা রাজ্য তখন কিন্তু সেখানে অবস্থানরত সবাই ব্রিটিশ কিন্তু সবাই ইংলিশম্যান না। জাতি অনুসারে তারা আলাদা যেমন ওয়েলস,আইরিশ, স্কটিশ (এখন স্কটিশরা বোধ হয় আলাদা স্বাধীন রাস্ট্র)। … ব্রিটেনের সবাই ব্রিটিশ কিন্তু তারা জাতি হিসেবে কিন্তু আলাদা নামকরণ করেছে। সুতরাং আমাদের দেশের উপজাতিরা বাঙালি হবার প্রশ্নই আসছেনা। আর আমি কোন পাহাড়ি সম্প্রদায়কে দেখিনি বাঙালি সংস্কৃতি পালন করতে। তাদের আলাদা সংস্কৃতি এবং আলাদা সমাজব্যবস্থা এবং স্বতন্ত্র চালচলন।

    যারা যদি ৮৫% মানুষকে তুষ্ট করতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে ১৫% কে ২য় শ্রেণীর নাগরিক করে দেয়; তাদের মুখে ১% এর কম পাহাড়ি-উপজাতিদের সন্তুষ্ট করতে জাতীয়তা বাঙালি থেকে বাংলাদেশী করা কথাটা কতটা মানায়? সবিনয়ে জবাব দিয়ে যাবেন যারা মুক্তিযুদ্ধার বাংলাদেশের ‘রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম’ আর জাতীয়তা ‘বাংলাদেশী’ বিশ্বাস করেন।

    কিছু মনে করবেন না লিংকন ভাই। আমি আমার মতামত সৎ ভাবে উপস্থাপণ করতে ভালবাসি, আপনি নির্মোহভাবে নিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞ রাখবেন দয়া করে। উপরোক্ত কথাটি খুবই অপকৌশলি এবং অসৎ। এটার আদর্শগত কোন ভিত্তি আমি দেখি না। আপনি কি চান সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে রাস্ট্রধর্ম ঠিক করা হোক? যদি না চান তাহলে এটা কেন যুক্তি হিসেবে আসবে? অপরের ভুলকে মানদন্ড ধরে নিজের যুক্তি জাস্টিফাই করা এক ধরণের শঠতা এবং অবৈধ যুক্তিব্যবস্থা। আমাদের বলতে এত দ্বিধা কোথায় যে, এ দেশের নামকরণ করার সময় এ দেশের একটা অংশকে অবহেলা করা হয়েছিল এবং গোণায় ধরা হয় নি ? এটাই হয়েছিল কারণ রাজনীতিতে তাদের প্রভাব উজ্জ্বলভাবে পড়েনি। তারা যদি এটা দাবি করে যে এদেশের নামকরণে তাদের গুরুত্ব দেয়া হয়নি এর পেছনে তাদের যথেষ্ট যুক্তি থাকবে। আমি এখন এই নামের বিরোধিতা করব না এজন্যে যে এটা তারাও মেনে নিয়েছে । আর একটি স্বার্থপর কারণে আমি এর বিরোধিতা করব না; আমার জাতকে এখানে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

    আমি বাঙালি মুসলমান, আমি বাঙালি হিন্দু, আমি বাঙালি ক্রিস্টিয়ান, আমি বাঙালি বৌদ্ধ যা আমরা ৭১ থেকেই বলে আসছি। এইখান থেকে বাঙালি পরিচয়টা এই বাংলার সবার তাই বুঝা যায় অর্থাৎ আমাদের Common Identity বাঙালি। এর পর যার যার ধর্ম তারতার।

    এটা একটা অসাধরণ যুক্তি। এটা আমি প্রায়ই ব্যবহার করব ভবিষ্যতে। আমি সবসময়েই বলে আসি যে আমি আগে বাঙালি। আমার অস্তিত্ব গড়েছে বাঙ্গলা। এখন খুব সুন্দর একটা যুক্তি পেয়ে গেলাম।

    সর্বোপরি আমার নিজস্ব একটা মতামত আছে বাঙালি আর বাংলাদেশি এই ব্যপারে। আমি নিজেকে বাঙালি পরিচয় দিতে অনেক বেশি ভালবাসি এবং স্বাচ্ছন্দবোধ করি। আমি নিজেকে বাঙালি বললেই যে আমি জাতিগত একটা সাম্প্রদায়িকতা তৈরী করলাম তা না। পাহাড়ি বা আদিবাসীরা স্বতন্ত্র, আমরাও স্বতন্ত্র। এবং আমরা এদেশটা উপভোগ করব সমানভাবে। এটা কিন্তু বর্ণবৈষম্যের মত কোন ব্যপার নয়। স্বতন্ত্রতা মেনে নেয়াই সত্যিকারের সাম্যবাদ। শোষকরা স্বতন্ত্রতাকে বৈষম্য বানিয়ে বিভাজন সৃষ্টি করে তারপর দূর্বল করে। আর সাম্যবাদ স্বতন্ত্রতাকে শ্রদ্ধা করে এবং মেনে নেয়। সাদা এবং কালো তারা আলাদা আলাদাভাবে স্বতন্ত্র কিন্তু তারা সবাই সমান এবং একই অধিকার প্রাপ্ত আমাদের দেশে কারণ এই স্বতন্ত্রতা আমরা মেনে নিয়েছি এবং এটাকে ব্যবহারিক বিষয়ের মানদন্ড করি নি। তেমনি হবে পাহাড়ি এবং বাঙালি। তাদের শিকড় থেকে উচ্ছেদ করে বাঙালি বানানো খুব একটা ন্যায়সঙ্গত হবে না। তারা স্বতন্ত্র কিন্তু তারা আমাদের ভাই, তারা আমাদের দেশী।

    1. আপনার প্রথম ব্যাখ্যায় কেন
      আপনার প্রথম ব্যাখ্যায় কেন গুলিয়ে ফেলা বলেছে তা না বুঝার কথা না…
      ২য় ব্যাখ্যায় আমি আপনার কথায় বুঝাতে চেয়েছি যে % দিয়ে যারা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করেছে তারা যখন % দিয়ে কিছু পাহাড়ি আদিবাসী বাঙালীকে বিভক্ত করল তা চরম আদর্শিক হঠকারিতা… আমিও একই জিনিস বুঝিয়েছি, কিন্তু আপনি আমাকে বুঝেন নি!!
      ৩য় ব্যাখ্যায় আপনি আমার সাথে উচ্ছাসের সাথে সহমত পোষণ করেছেন :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ:
      আপনি পাহাড়ে বা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কতটা ঘুরেছেন জানি না। আমি স্পষ্টতই বলেছি বাঙালীত্ব কিন্তু শুধু ভাষাগত কোন বিষয় না, এইটা অঞ্চলভিত্তিক দিনপঞ্জি থেকে শুরু করে উৎসব-পালা-পার্বণ সবকিছু মিলিয়ে একটি সংস্কৃতিক চেতনা। এইখানে অনেক সময় ভাষার গণ্ডি ছাড়িয়েও নৃতাত্ত্বিক সংস্কৃতি প্রাধান্য পেয়েছে তাই সঙ্গত কারণে আমিও নিজেকে বাঙালী পরিচয় দিতে পছন্দ করি… অফুরন্ত ধইন্যা গাজি ভাই :গোলাপ: :গোলাপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *