তিলা কুটিকুড়ালি- ছোট্ট এক কাঠঠোকরা


তিলা কুটিকুড়ালি
আমার ভ্যাগাবন্ড (সোজা বাংলায় এর অর্থ অনেক- ছন্নছাড়া, গৃহহারা, বাউন্ডুলে, ভবঘুরে, যাযাবর আর বাসার ভাষায় বাপ বলে বোহেমিয়ান আর মা বলে জংলি) জীবনের অনেকখানি জুড়েই এখন সুন্দরবনের অবস্থান। এই সুন্দরবন ঘুরে ঘুরেই আমার পাখি দেখার শখটা রীতিমত নেশায় পরিণত হয়েছে। এই সুন্দরবনেই আমি অসাধারণ কিছু পাখির দেখা পেয়েছি, যা হয়তো পুরো বাংলাদেশ ঘুরেও আমার দেখা সম্ভব হতো না। সুন্দরবনেই এক বিকেলে দেখা পেলাম অসাধারণ ছোট্ট এক পাখির-



তিলা কুটিকুড়ালি
আমার ভ্যাগাবন্ড (সোজা বাংলায় এর অর্থ অনেক- ছন্নছাড়া, গৃহহারা, বাউন্ডুলে, ভবঘুরে, যাযাবর আর বাসার ভাষায় বাপ বলে বোহেমিয়ান আর মা বলে জংলি) জীবনের অনেকখানি জুড়েই এখন সুন্দরবনের অবস্থান। এই সুন্দরবন ঘুরে ঘুরেই আমার পাখি দেখার শখটা রীতিমত নেশায় পরিণত হয়েছে। এই সুন্দরবনেই আমি অসাধারণ কিছু পাখির দেখা পেয়েছি, যা হয়তো পুরো বাংলাদেশ ঘুরেও আমার দেখা সম্ভব হতো না। সুন্দরবনেই এক বিকেলে দেখা পেলাম অসাধারণ ছোট্ট এক পাখির-

বৈদ্যমারি ফরেস্ট ক্যাম্পের পেছনেই শুরু হয়েছে শুক্কুর আলীর বাগান। বৈদ্যমারি ফরেস্ট ক্যাম্পে শ্রমিকের কাজ করে সে। আর এই বাগান রক্ষার দায়িত্ব নিজেই কাঁধে তুলে নিয়েছেন। বাগানে উড লটের গাছের সাথে এখনও রয়েছে সুন্দরবনের ঐতিহ্য বহন করে এমন সব গাছ। এই গাছগুলোর বংশবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে তার এই দায়িত্ব। তার ভাষ্যমতে, “এককালে এইখানে জঙ্গল ছিল, ‘মামা’ও ঘুরত। ২০০০ সালের দিকে ফরেস্ট এইখানে জঙ্গলের গাছপালা কেটে রেইনট্রি বাগান তৈরি করে। আগে কত পাখি ছিল এই জঙ্গলে, কত পশু ছিল, এখন আর আগের মত নাই। জঙ্গলের পশুপাখি যাতে আবারও ফিরে আসে তাই এই বাগানে জঙ্গলের গাছ বড় হইতে দিতেসি”।

যাই হোক, জয়মনির গোলে কাজ করার সময় মোটামুটি অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেলো- প্রতিদিন বিকেলে তার বাগানে যাওয়া। একদিন ভরদুপুরে হাঁটছি। পাশের একটি কাঁটা ঝোপ থেকে –ঠক- ঠক- ঠক আওয়াজ আসতে লাগলো। শব্দটা তেমন জোরালো নয়- তবে মন দিয়ে শুনলে মনে হয়- কাঠঠোকরা ঠোঁট দিয়ে গাছের গুড়িতে পোকার সন্ধান করছে- এমন শব্দ। দাঁড়িয়ে গেলাম। বেশ সাবধানে এগুতে লাগলাম কাঁটাঝোপ বরাবর। শব্দের উৎস বরাবর তাকাতেই দেখলাম ছোট্ট একটি পাখিকে। টুনটুনির চেয়েও ছোট পাখিটা কাঁটা ঝোপের ডালে ডালে কাঠঠোকরার মতই কাঠ ঠুঁকে চলেছে। এই পাখিটি আমার কাছে একদম আনকোরা নতুন। পিঠের রঙ হলদে সবুজ আর দেহের নিচটা সাদাটে। বগলে ছোট দাগ আর বগলের পিছনের দিকের খাড়া তীলাগুলো ডোরায় রূপ নিয়েছে। চোখের উপরে ও নিচে দুটি মোটা সাদা দাগ, তার মধ্যে জলপাই রঙের একটি মোটা দাগ আছে। চোখের নিচের সাদা দাগের তলে কালচে ডোরা আছে। চোখটাও কেমন যেন লালচে ধরণের বাদামি। ঠোঁট স্লেট কালো, পায়ের রঙ অনুজ্জ্বল ফিকে রঙ্গা।

বিকেলে বোটে (সুন্দরবনে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছোট্ট ট্রলারেই, খাওয়া দাওয়াও ট্রলারেই সারতে হয়) ফিরে ক্যামেরা থেকে ছবি ল্যাপটপ এ নামিয়ে সালিম আলীর বার্ডস অফ ইন্ডিয়া নিয়ে বসলাম। মিলিয়ে দেখলাম বইয়ের সাথে। পাখির নাম speckled piculet. বৈজ্ঞানিক নাম picumnus innominatus (ফ্রেঞ্চ শব্দ picumme অর্থ কাঠঠোকরা ল্যাটিন শব্দ innominatus অর্থ নামহীন)। বাংলা নাম তিলা কুটিকুড়ালি। এর ৩টি উপপ্রজাতির মধ্যে p.i. malayorum ই কেবল বাংলাদেশে রয়েছে।

আরো একটা মজার তথ্য দিয়ে দেই- Picumnus, Picidae এই দুই গোত্রের কাঠঠোকরার পায়েই কেবল চার আঙুল দেখা যায়। অন্য সব কাঠঠোকরার পায়ে তিনটি করে আঙুল থাকে।


তিলা কুটিকুড়ালি দেশের বিরল আবাসিক পাখি। সুন্দরবন ছাড়াও সিলেটের চিরসবুজ বনে পাওয়া যায়। একা বা জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। গাছের চিকন শাখা আঁকড়ে ধরে এবং চারদিকে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে। তিলা কুটিকুড়ালি পুরো পৃথিবীতেই বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত।

কবে যে এমন একখানা ছবি পাব এই পাখিটার। এই ছবিটা ওরিয়েন্টাল বার্ড ইমেজেস এর সৌজন্যে।

১৪ thoughts on “তিলা কুটিকুড়ালি- ছোট্ট এক কাঠঠোকরা

  1. আপনার দ্বিতীয় ছবিটা তো খুব
    আপনার দ্বিতীয় ছবিটা তো খুব সুন্দর হয়েছে। তবে আরেকটু ক্লোজ শট নিতে পারলে দারুন হতো। এই পাখি সম্পর্কে জানা ছিলোনা। ধন্যবাদ পোস্টের জন্য। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ভাই, কাটা ঝোপের ভিতরে বসে ৩০০
      ভাই, কাটা ঝোপের ভিতরে বসে ৩০০ এমএম লেন্সে এর বেশি আইলো না (তাও ছবিটা কিন্তু ক্রপ করা)। আর কাছে যাওয়ার মুল সমস্যা ছিল কাটা ঝোপটাই- নড়লেই পাখিটা টের পাচ্ছিল। তাই…… :কানতেছি:

    1. সাথে থাকুন- চোখ কান খোলা
      সাথে থাকুন- চোখ কান খোলা রাখুন- আমরা ঢাকা শহরেই এখনো এমন কিছু পাখির দেখা পেয়ে যাই- যার কথা কোনওদিন চিন্তাও করিনি।

  2. কাঠঠোকরা অনেক দেখলেও এই বিরল
    কাঠঠোকরা অনেক দেখলেও এই বিরল প্রজাতির কাঠঠোকরা পাখিটা সম্পর্কে এই প্রথম কিছু জানালাম ।ধন্যবাদ আপনাকে ।

  3. চমৎকার হইছে আর্কিওপ্টেরিক্স
    চমৎকার হইছে আর্কিওপ্টেরিক্স :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: … একটা ভালো জিনিস জানতে পারলাম… ধইন্নাসহ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: শুভকামনা লন… :ফুল: :ফুল: :ফুল: আর চালায়া যান… :গোলাপ: :গোলাপ:

  4. পাখিটা তো মারাত্মক কিউট! দেখে
    পাখিটা তো মারাত্মক কিউট! দেখে তো কাঠ ঠোকরা বলে মনে হচ্ছে না।
    তিলা কুটিকুড়ালি নামটাও পছন্দ হয় নাই। এর নাম রাখা উচিত ছিল টুনটুনি ঠোকরা। হা হা হা!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *