…একটি বির্তকিত বিষয় নিয়ে এই পোষ্ট…

স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কতটুকু উন্নত তা সবার চোখের সামনে! বাংলাদেশ একটা মিশ্র জাতিগুষ্ঠির দেশ। এই দেশের মেজরিটি মুসলিম এবং হিন্দু। এই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে অনেক জাত পাত বৈষম্য। আশার কথা হলো যার অধিকাংশ আমাদের দেশ থেকে আজ বলতে গেলে উঠে যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্য সবচাইতে নিচু যাত হচ্ছে মেথর আর ঢুমি। এই দুটি জাত সব সম…য় পদ দলিত হয়ে আসছিল। যখন রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই জাত প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কাজ করছিলেন তখন তাদের কৌশলে চুপ করায় তত্‍কালীন ধর্মগুরুরা। যখন ব্রিটিশ ভারতবর্ষে শাসন শুরু করলো তারা সবাইকে অল্প করে হলেও শিক্ষিত করতে চাইলো। কিন্তু এই দুই নিন্ম শ্রেণীর সাথে উচ্চ শ্রেণীর কেউ শিক্ষিত হতে চাইলো না। যার ফলে পদ দলিতরা রয়ে গেল অন্ধকারের অতল গহ্বরে! বিপ্লব শুরু হলো।



স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কতটুকু উন্নত তা সবার চোখের সামনে! বাংলাদেশ একটা মিশ্র জাতিগুষ্ঠির দেশ। এই দেশের মেজরিটি মুসলিম এবং হিন্দু। এই হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে রয়েছে অনেক জাত পাত বৈষম্য। আশার কথা হলো যার অধিকাংশ আমাদের দেশ থেকে আজ বলতে গেলে উঠে যাচ্ছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্য সবচাইতে নিচু যাত হচ্ছে মেথর আর ঢুমি। এই দুটি জাত সব সম…য় পদ দলিত হয়ে আসছিল। যখন রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই জাত প্রথা বিলুপ্ত করার জন্য কাজ করছিলেন তখন তাদের কৌশলে চুপ করায় তত্‍কালীন ধর্মগুরুরা। যখন ব্রিটিশ ভারতবর্ষে শাসন শুরু করলো তারা সবাইকে অল্প করে হলেও শিক্ষিত করতে চাইলো। কিন্তু এই দুই নিন্ম শ্রেণীর সাথে উচ্চ শ্রেণীর কেউ শিক্ষিত হতে চাইলো না। যার ফলে পদ দলিতরা রয়ে গেল অন্ধকারের অতল গহ্বরে! বিপ্লব শুরু হলো। দলে দলে সবাই ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিপ্লব শুরু করলো। তখন এই বিপ্লবের মধ্যে এই নিম্ন জাতের লোকেরাও অংশ নেয় নিজেদের বর্তমান ভবিষ্যত বদলাবার জন্য। স্বাধীন দেশে মাথা উচু করার স্বপ্ন নিয়ে। মাস্টার দা সূর্য সেনের ছাত্র স্কোয়াডে ২ জন দলিত ছিলো। চন্দ্র শেখর আজাদের সাথে বিপ্লবে অংশ নেয় অনেক দলিত তরুণ। ভারতে নিন্ম জাতের লোকদের দলিত বলা হয়। ব্রিটিশদের পাপের কড়া ভরে যাওয়ায় ভারতবর্ষ থেকে বিতারিত হলো। যাওয়ায় আগে দিয়ে গেল দুটি দেশ হিন্দুস্তান আর পাকিস্তান!

হিন্দুস্তান মানে ভারতে ততদিনে গান্ধি হয়ে উঠেছেন পিতার মত। কিন্তু তিনি কতটুকু খাঁটি ছিলেন তা নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে। তার ভাগত সিং সহ অন্য সকল বিপ্লবীদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য কাগজে সই করার পর তাকে কতটুকু নিষ্ঠাবান বলা যায় তা আপনার তার সম্বন্ধে পড়লেই জানতে পারবেন। আমি এই নিয়ে আর কথা বাড়াচ্ছি না। তত্‍কালীন হিন্দুস্তান গড়ে উঠছিলো নিজের শক্তিতে। তখন নেহরু চিন্তা করলেন জাতি প্রথা যদি বিলুপ্ত করা যায় তাহলে দেশ আরো উন্নতি করবে। তিনি গান্ধীকে এটা বললেন। তার উত্তরে গান্ধী বলেছিলেন “এরা যদি শিক্ষিত হয় তাহলে আপনার আমার ল্যাটিন কে পরিষ্কার করবেন??” (দাসমনি কুম্ভ- গান্ধী দা গ্রেইট সোল অব ইন্ডিয়া)…
যার ফলে আজও ভারতে এই দলিত রা পদতলে পরে রয়েছে। শিক্ষা থেকে দূরে চিকিত্‍সা থেকে দূরে।

হিন্দুস্তান থেকে এবার পাকিস্তানে চোখ ফিরানো যাক। যখন ভারত উপমহাদেশ ছিলো তখন হিন্দুরা নিম্ন শ্রেণীদের দেখতে না পারলেও কিছু মুসলিম ছিলো যারা এদের সাথে ভালো আচরণ করত। কিন্তু দেশ বিভাজনের পর যখন পাকিস্তানিদের হাতে ক্ষমতা গেল তখন শুরু হলো সমস্যা। মৌলবাদের চর্চা শুরু হলো। যার ফলে শুধু নিম্ন হিন্দু না হিন্দু সম্পদায়কে ঘৃণার দৃষ্টিতে কেউ কেউ দেখতে শুরু করল। যখন পাকিস্তানের শোষনে পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছে তখন শুরু হল যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে অনেক নিন্ম জাতের পুরুষ, তরুণ, কিশোর শহীদ হলো। অনেক তরুণী হল ধর্ষিত। যুদ্ধ শেষ হলো। কিন্তু নিম্নরা নিম্নেই রয়ে গেল। আমাদের দেশের নেতা মন্ত্রীদের তাদের নিয়ে ভাবার খুব একটা চান্স ছিলো না। কারণ এরা হিন্দু ছিলো আর হিন্দুদের জাত পাত নিয়ে মুসলিম রাষ্ট্র মাথা ঘামাতে চায় না খুব একটা।

৪২ বছর অতিক্রম করল। অনেকের বাড়ীতে এখন উন্নত শৌচাগার তৈরী হয়েছে। যার ফলে এখন আর মেথরদের খুব একটা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু আপনাদের পিতা মাতা বা দাদা নানা দের জিজ্ঞাসা করে দেখেন ৪০ বছর আগে শহরের শৌচ ব্যবস্থা কেমন ছিলো। এবং তখন এদের কাজ কি ছিলো। ৪২ বছরে অনেক এনজিও অনেক হৃদয়বান মানুষের সাহায্য এছাড়া তারা নিজেরা তাদের সন্তানের উন্নত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শিক্ষার আলোতে এসে আজ তারা অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের এই এগিয়ে যাওয়ার পিছনে এই বাঙ্গালী জাতি সত্ত্বা অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে।

ভারতের দিকে খেয়াল করে দেখুন তাদের হিন্দু মৌলবাদীতার কারণে দলিতরা আজো মাথা তুলে দাড়াতে পারেনি। উচু জাতের রোষানলে পরে হারাতে হচ্ছে জীবন।।

আমি বাঙ্গালি হিসাবে গর্বিত কারণ ধর্মীয় মৌলবাদীতা এই দেশের অনেক তরুণের মধ্যে নেই। আমরা ধর্ম, জাত, পাত,বর্ণ, দেখে বন্ধুত্ব করি না। আমরা সবাইকে মানুষ হিসাবে দেখি।

~বিনুদ আমার স্কুল লাইফের এক বন্ধুর নাম। কোন এক কুলগ্নে আমি জানতে পারি সে দলিত। এটা সে বুঝে যায় যে আমি জেনে গেছি। এর ফলে সে আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করে। কিন্তু বন্ধুত্বের কাছে জাত বা ধর্ম টিকলো না। তার বাসায় পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু মাসি মা আমাকে বসার জন্য একটা চেয়ার দিতে পারেনি বল প্রচুর লজ্জা পাচ্ছিলেন। কিন্তু আজ আমার বন্ধু বিনুদ বাংলাদেশ আর্মিতে আছে। আর মাত্র ২ বছর তারপর সে বের হয়ার পর তাকে দেখিয়ে আর কেউ বলবে না যে “ঐ দেখ মেথর হারানের ফুয়া বিনুদ যার”।

অনেক কিছু না পাওয়ার দেশে এই একটা জিনিস আমরা পেয়েছি। জাত প্রথার বিলুপ্তি ঘটাতে…এখনো অনেক বাকি তারপর ও অল্প কিছু তো হতে পেরেছে…

যাদের কাছে “চানাচুর মানাচুর কানাচুর ভারত ভাগ্য গোর বিধাতা” তারা একটু খোঁজ নিয়েন এক বছরে কতজন দলিত মেয়ে ধর্ষিত হয়। আর কয়টা দলিত ছেলে খুন হয় শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার অপরাধে!!

৮ thoughts on “…একটি বির্তকিত বিষয় নিয়ে এই পোষ্ট…

  1. ভাল একটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন
    ভাল একটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন ।সত্যিই আমরা গর্বিত বাঙালী ।আমাদের মাঝে ধনী দরিদ্রের বৈষম্য থাকলেও জাত নিয়ে এই শ্রেনীবিভাগটি তেমন একটা নাই ।

  2. আমাদের মাঝে জাতপ্রথা নেই তেমন
    আমাদের মাঝে জাতপ্রথা নেই তেমন একটা, এটা অবশ্যই খুশীর ও গর্বের বিষয়। তবে যেভাবে দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে তাতে আমি শংকিত। আর একটা ব্যাপার, নিজেদের গৌরব তুলে ধরতে গিয়ে অন্য দেশকে কটাক্ষ করার প্রয়োজন কি? বরং নিজেদের আরও কিভাবে উন্নত করা যায় সেটা নিয়ে লিখুন।

  3. জাত প্রথা না থাকা সত্বেও
    জাত প্রথা না থাকা সত্বেও সাম্প্রদায়িকতা ঠিকই রয়ে গেছে। আশা করি নেক্সট জেনারেশন এইটা নির্মূল করতে পারবে।

  4. ডাঃ আতিক ভাইয়া… আসলে অন্য
    ডাঃ আতিক ভাইয়া… আসলে অন্য দেশকে কটাক্ষ করতে চাই নি। শুধু এটা বুঝাতে চেয়েছি যে তারা এত উন্নত একটা দেশ হওয়া সত্ত্বেও জাতিপ্রথার কারণে কতটুকু হীন আচরণ করতে পারে

  5. আমাদের দেশে জাত প্রথাটা তেমন
    আমাদের দেশে জাত প্রথাটা তেমন একটা লক্ষ্যনীয় নয়। এটা বাংলাদেশের একটা বড় অর্জন। ঠিক একইভাবে সাম্প্রদায়িকতাও এক সময় বিলীন হয়ে যাবে এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *