আমি কেন বঙ্গবন্ধু কে ভালবাসি???(১ম পর্ব)

“একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি।একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙ্গালিদের সাথে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়।এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা ,অক্ষয় ভালোবাসা,যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্ব কে অর্থবহ করে তোলে।”-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান…

“একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি।একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙ্গালিদের সাথে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়।এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা ,অক্ষয় ভালোবাসা,যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্ব কে অর্থবহ করে তোলে।”-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান…
আমার জন্ম এমন একটি পরিবারে যে পরিবারের শিশুরা জন্মের পর ই বাড়ির দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর বিশাল একটা ছবি দেখে এবং বঙ্গবন্ধুকে পরিবারের একজন মনে করে…একটু বড় হলে যখন বুঝতে শিখি তখন আমরা কৌতূহল বশত জিজ্ঞেস করি ছবির এই ব্যক্তিটি কে এবং মোটামুটি জ্ঞান বুদ্ধি হতে হতে শৈশবেই আমরা বঙ্গবন্ধু কে চিনে যাই,তাঁর কথা জেনে যাই।এমন পরিবারে জন্ম নিয়ে নিঃসন্দেহে আমি ভাগ্যবান।
আমার বই পড়ার শখ।শখ না বলে নেশা বলাই ভাল।পড়ার সাথে সংগ্রহের একটা বাতিক থাকায় বাসায় মোটামুটি একটা লাইব্রেরি দাড় করিয়েছি।আমার বাবা নিজে বই না পড়লেও প্রচুর বই কেনেন এবং তা হয় বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে।বই গুলো তিনি আমার জন্যই কেনেন যেন তাঁর ছেলে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠে!বাবার চেষ্টা বৃথা যায়নি।বিশেষজ্ঞ না হলেও কৈশরের পেরোনোর আগেই বঙ্গবন্ধুর যাবতীয় ইতিহাস,তাঁর সকল বক্তৃতা পড়া শেষ…আমার তখন ধারণা ছিল বাংলাদেশের সব মানুষ ই বঙ্গবন্ধুকে সেভাবেই দেখে আমি যেমন টা দেখি।তার কোন বিরোধি বাংলাদেশ এ থাকতে পারে এটা আমি চিন্তাও করিনি।যত বড় হচ্ছি তত আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হল।শুধু যে তাঁর বিরোধী আছে তাই ই না এক দল মানুষ বিশ্বাস ই করেনা তাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে!
যাই হোক আমার বাবা,দাদা,নানা,চাচা,মামা সহ ১৮ গুষ্ঠি আওয়ামি লীগ কট্টোর সাপোর্টার।তবে আমার এই কট্টোর সমর্থন টাই ভাল লাগতো না।বাম রাজনীতি আমাকে ছোট বেলা থেকে টানতো,তাই ঠিক করেই রেখেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করা মাত্রই বাম ধারার রাজনীতি তে যুক্ত হয়ে যাব,হয়েও গেলাম।সেখানেও দেখলাম বঙ্গবন্ধু তাঁর বিশালত্বের সমান মর্যাদা পান না মধুর ক্যান্টিন এর আড্ডায়।এর জন্য কে দায়ি?বিএন পির অপপ্রচার?নাকি বঙ্গবন্ধু কে আওয়ামি লীগের অতি রাজনীতি করন?আমার মনে হয় দুটোই,১ম টার থেকে ২য় টা বরং বেশি দায়ী…
বঙ্গবন্ধু তো আওয়ামি লীগের নেতা নন,তিনি এই দেশের নেতা।যে বঙ্গবন্ধু কে ভালবাসে না তার দেশপ্রেম ফাকা বুলি।কিন্তু আমরা জয় বাংলার পর জয় বঙ্গবন্ধু বললে অনেকে ভ্রু কুচকে তাকায়।মনে করে আমরা ছাত্র লীগ!আগে জয় বাংলা শ্লোগান টাও দেয়া যেতনা,শাহবাগ আন্দোলনের পর এটা আবার সবার মাঝে ফিরে এসেছে।বংগবন্ধু কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করাটাই হল সব থেকে বড় ভুল।
আমার এই অবস্থানের কারণে পরিচিত বাম মহলে আমি “আওয়ামি লীগ এর দালাল” এর খেতাব পাব,অবশ্য তাতে আমার কিছু যায় আসেনা।বাংলাদেশের জন্য যেটা ভাল সেটাই আমি সমর্থন করব।সরকারের কোন সিদ্ধান্ত বা কোন কাজ যদি আমার কাছে খারাপ বা ক্ষতিকর মনে হয় তার বিরূদ্ধে প্রতিবাদ করব যেমন টা করছি রামপাল এবং টিকফা নিয়ে।আবার সরকারের যে কোন ভাল কাজের প্রশংসা করতে আটকাবো কেন?আর বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু এটা আমি অন্ধের মত মানি,মেনে যাব।
কেউ কেউ হয়তো স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা নিয়ে আমায় জ্ঞান দিতে আসবেন।আমি তো বলছি বঙ্গবন্ধুর যাবতীয় ইতিহাস আমার জানা।এখন হয়তো প্রশ্ন আসবে,তুমি বাকশাল সমর্থন কর?আমার উত্তর-না,তবে করতাম।মানে এখন যদি কেউ বাকশাল এর মত কোন কিছু বলে তাহলে তা সমর্থন করার কোন কারণ নাই।কিন্তু বঙ্গবন্ধু যে পরিস্থিতিতে বাকশাল গঠন করেছিলেন সেটা আমি সমর্থন করি…
ধরুন জামাত ইসলাম একটা রাজনৈতিক দল(ছিল)।এখন সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের নিষিদ্ধ করে দিল।তাহলে কি আমরা বলব সরকার গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করল???জানি কিছু মানুষ বলবে,সেই সব নির্বোধরা হিসাবের বাইরে।
তাই স্বাধীনতা পরবর্তী বিধ্বস্ত দেশে অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা ঠিক ই ছিল।তবে বংগবন্ধুর অতি বিশ্বাস করার প্রবনতা,সরলতা,আর আবেগ ছিল তাঁর দুর্বল দিক যার ফল কি হল তা আমরা জানি…
সম্প্রতি পড়লাম ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’…এটা পড়ার পর তাঁর প্রতি ভালবাসা ও শ্রদ্ধার পরিমাণ অনেক বেড়ে গেল।মনে হল স্বয়ং বঙ্গবন্ধু আমাকে তাঁর জীবন কাহিনী বলছেন।
একথা স্বিকার করতে কেন এত দ্বিধা যে বংগবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ ই সৃষ্টি হতনা?যারা এটা স্বীকার করতে কষ্টবোধ করেন তাদের কে বলছি বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস আর বাংলাদেশের ইতিহাস পাশাপাশি রেখে পড়ুন,দেখবেন দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
এটা বাস্তব।যাদের এটা মেনে নিতে কষ্ট হয় তাদের মুখের দেশপ্রেমের কথা জামাতের মুখে জয় বাংলা বলার মতই হাস্যকর!!

এই মাসে আমরা পিতা কে হারিয়েছি।তিনি বেচে থাকলে আজ বাংলাদেশ এশিয়ার সেরা দেশে পরিণত হত।সেটা হলনা…বরং আমরা অভাগারা তাঁর হত্যাকারি দের সব গুলোকে এখনো শাস্তির আওতায় আনতা পারিনি…আমার লেখা ভালনা।যা মাথায় এসেছে মনে হল এগুলো সবাইকে বলার দরকার।বলার দরকার যে জয় বঙ্গবন্ধু বলা মানেই ছাত্র লীগ করা নয়।

৪ thoughts on “আমি কেন বঙ্গবন্ধু কে ভালবাসি???(১ম পর্ব)

  1. [জয় বঙ্গবন্ধু বলা মানেই ছাত্র
    [জয় বঙ্গবন্ধু বলা মানেই ছাত্র লীগ করা নয়।]
    — ঠিক বলেছেন।তবে ছাত্রলীগ মানে কোন শয়তানের গোষ্টি মনে করলে চলবে না।কেননা শুধুমাত্র ছাত্রলীগ নয়, প্রতিটা ছাত্র সংগঠনেরই সুনাম এবং দুর্নাম উভয়ই রয়েছে ।শিবিরের কথা না হয় বাদই দিলাম কিন্তু অন্য যে ছাত্র সংগঠনগুলি আছে তারা কেউই ধোয়া তুলসি পাতা নয়, হয়তো কিছুটা কম আর বেশি।
    সাম্প্রতিক কালে ছাত্রলীগের কিছুটা দুর্নাম থাকলেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পেছনে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের তুলনায় কিন্তু এই ছাত্রলীগের অবদানই ছিল সবচেয়ে বেশি।

    জয় বাংলা ।
    জয় বঙ্গবন্ধু ।

    1. আমার কথাকে ভুল ভাবে নিবেন না
      আমার কথাকে ভুল ভাবে নিবেন না ভাই।আমি মোটেও সেটা বুঝাতে চাইনি।স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ছাত্র লীগের প্রতিষ্ঠাতা।আমি বুঝাতে চেয়েছি যে জয় বাংলার মত জয় বঙ্গবন্ধু ও কোন নির্দিষ্ট দলের শ্লোগান নয়,দল মত নির্বিশেষে সকল বাংলাদেশির শ্লোগান।

  2. আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করে
    আমি আপনাকে উদ্দেশ্য করে বলিনি, যারা ভাবেন ছাত্রলীগ মানেই ভয়ানক কিছু তাদেরই উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলেছি।

  3. শুধু একটা বাক্য বলেই শেষ করতে
    শুধু একটা বাক্য বলেই শেষ করতে চাই, বঙ্গবন্ধুর মত মানুষ পৃথিবীতে প্রতিবছর জন্মায় না..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *