শূন্য থেকে আজকের এই বাংলাদেশ…

ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে ভারতবর্ষ তারপর ভারতবর্ষ থেকে আলাদা হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান আর পশ্চিম পাকিস্তান অতপর ৭১’র এ ৩০ লক্ষ শহীদের জীবন ও ৩ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমহানীর বিনিময়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এখন আমাদের এই বাংলাদেশ।ভারতবর্ষে থাকাকালে কেও হয়তো কখনো কল্পনাই করতে পারেনি যে কখনো বাংলাদেশ নামে একটা স্বাধীন দেশ হবে।আর ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে যখন ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সম্পূর্ণ আলাদা দেশ এর জন্ম হয় তখন পূর্ব পাকিস্তান নামের দেশটির উন্নতির খাতা প্রায় শূন্য বলা যায়।অর্থনৈতিক খাতে,সামরিক খাতে,উন্নয়নের খাতে সব ক্ষেত্রেই পশ্চিম পাকিস্তান নামক দেশটি এগিয়ে।পাকিস্তানের একটা অঙ্গ রাজ্য হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান শুধু নামে মাত্র ছিল।যখন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের মনের ভিতর ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমে উঠতে থাকে ঠিক তখনি এই মানুষদের মুখের ভাষা “বাংলা” যে ভাষাতে কিনা পূর্ব পাকিস্তানের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কথা বলে সেই বাংলা ভাষা কেরে নেয়ার চেষ্টা করা হয় যার পরিই সব ক্ষোভ আন্দলনে বদল হয়ে ধীরে ধীরে আসতে থাকে একের পর এক প্রতিবাদের আন্দোলন নিজের ন্যায্য মূল্য আদায়ের আন্দোলন।আসতে থাকে ৫২’র ভাষা আন্দোলন,৬৯’র এর গণ অভুত্তান,৭০’র এর প্রাদেশিক নির্বাচন ও পরিশেষে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম ১৯৭১’র এর রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ যার ফলাফল আজকে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ।একটি দেশকে সর্বপরি স্বাধীন হিসেবে ভাবাটা যেমন সুখের তেমন যুদ্ধবিধস্ত এক স্বাধীন দেশ এর তড়িৎ উন্নয়ন এর কথা চিন্তা করা বা উন্নয়ন সাধন করা অত্যন্ত কষ্টকর ও কল্পনার বাইরে।বাংলাদেশ তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান এর থেকে আলাদা হবার পূর্বেই অর্থনৈতিক,সামরিক,সামাজিক তথা সর্বপুরি পিছিয়ে ছিল তার উপর যুদ্ধের সময় পশ্চিম পাকিস্তান এই দেশেকে আরও একশ বছর এর পিছানোর বেবস্থা করেছিলো।ভবিষ্যতে যেন এই দেশ মেধাশূন্য থাকে তাই তারা ১৯৭১ সালের ডিসাম্বারের ১৪ তারিখ রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে চোখ বেধে এই দেশের মেধাবি সূর্যসন্তানদের নির্মম ভাবে হত্যা করে আর তাদের সাথে নির্লজ্জ ভাবে তাদের সব কু-কর্মের সাহায্য করে আমাদের এই দেশের কত জন নির্লজ্জ মানুষ রাজাকার,আল-শামস,আল বদর বলে জানি।পুরাটা যুদ্ধেই এই নির্লজ্জ মানুষগুলা সবপপ্রকার কুকর্ম হত্যা,লুণ্ঠন,খুন,ধর্ষণ এর মতো জঘন্য কাজে পাকিস্তানী আর্মির সহযোগিতা করে।তারপরও বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে তার মাথা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চেষ্টা করে।এই দেশের কয়েকজন নেতা যারাকিনা ভাবতেন দেশকে কেমনে উন্নয়ন এর পথে নেয়া যায়।হয়তো এই উন্নয়ন সম্ভভও ছিল কিন্তু এই নেতাদেরি হত্যা করা হয় পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয় একের পর এক প্রথমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭৫’র এর ১৫’ই আগস্ট স্ব-পরিবারে হত্যা করা হয় তাকে ভাগ্যক্রমে বাঁচেন তার দুই কন্যা শেখ রেহানা ও শেখ হাসিনা।তারপর,ইতিহাসের কলঙ্ককময় আরেকটি দিন পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয় স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা ৯৫’র এর ৩ নভেম্বর হত্যা করা হয় মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরম্নল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, মন্ত্রী এম. মনসুর আলী ও এএইচএম কামারম্নজ্জামানকে দেশকে ১০০ বছর পিছানোর পথ ষোল আনা পূর্ণ করা হয়।তারপরও ধীরে ধীরে বাংলাদেশ বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয় এবং ৪২ বছর পর এখনকার এই আমাদের বাংলাদেশ।উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার জন্য বাংলাদেশ কে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আসতে হয় রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে।রাজনৈতিক অস্থিরতা এই দেশের আজীবন এর সঙ্গী কোন রাজনৈতিক দল যদি ক্ষমতায় থাকে তাহলে বিরোধী দল থাকে রাস্তায় বছরের অর্ধেক সময় হরতাল এর মতন বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড দিয়ে দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজানো হয়।এই দেশে সুস্থ রাজনীতির চেয়ে রাজনৈতিক দল বেশী।তবুও ৪২ বছর পর এই বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে তার মাথা উঁচু করে দারাবার চেষ্টা করছে।এই বাংলাদেশি এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাঝে একটি বড় উদাহারন।বিভিন্ন ক্ষেত্র ও বিদেশ থেকে প্রেরন করা বৈদেশিক মুদ্রা এই বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা কে সচল রেখেছে প্রতিনিয়ত,এই বাংলাদেশের জিডিপির হার এখন ৬ এর কোঠায়।সুখী দেশের দিক থেকে এই বাংলাদেশ এখন ১১তম।উন্নত কাচামাল না থাকা ও বিভিন্ন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা সত্তেও এই বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে পোশাক শিল্প খাতে একটি বড় উদাহারন গার্মেন্টস শিল্পে ২য়।বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষার কাজে নিয়োজিত সবচেয়ে বেশী সংখ্যক শান্তিরক্ষাকারি সেনা এই বাংলাদেশের।কোন উন্নত ডক-ইয়ার্ড নেই ২ বছর হয়নি আমাদের আধুনিক জাহাজ বানানো শিখার তবুও এই বাংলাদেশ এখন বিশ্বে জাহাজ নির্মাণকারী দেশ হিসেবে ১৭তম।আমাদের বাংলাদেশ আজ খাদ্যে ৯৩% স্বয়ংসম্পূর্ণ।১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের সময় হেনরি কিসিঞ্জার এর তলাকা বিহীন বাংলাদেশ এর প্রবিদ্ধির হার এখন দ্রুতগতিদে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।আমাদের দেশের মানুষকে আজ না খেয়ে মরতে হয় না।বাংলাদেশ এখন তার নিজের জন্য মাঝারি আকারর যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করতে পারি হয়তো কোন একদিন আমাদের এই বাংলাদেশে তৈরি হবে উন্নত সাব-মেরিন।এই বাংলাদেশে উন্নত কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেশন জট আর রাজনৈতিক ঝামেলার জন্য হয়ত শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় বাধাপ্রাপ্ত হয় তবুও এই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যখন পৃথিবীর কোন এক উন্নত দেশে পড়াশুনার জন্য যায় তখন সে সবার মাঝ থেকে নিমিষেই সামনে এগিয়ে যায়,আবুল বারাকাতের মত অর্থনীতিবিদ এখানেই জন্মায় যাকে নিয়ে সারা দুনিয়া টানাহ্যাচড়া করে।শান্তি প্রতিষ্ঠায় নোবেল অর্জন করে এই বাংলাদেশেরি একজন সাধারণ মানুষ মুহাম্মদ উইনুস।সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্রি সৈকত কক্সবাজার এই বাংলাদেশেরই সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট হিসেবে খ্যাত সুন্দরবন এর সবচেয়ে বেশী সংখ্যক অংশ এই বাংলাদেশের মধ্যেই পরে।স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এই বাংলাদেশ এর মানুষই সবচেয়ে বেশী রক্ত দিয়েছে।সারাবিশ্বের ভাষাভাষী মানুষদের দিকদিয়ে “বাংলা” ভাষা সারা বিশ্বে ৬তম আর এই বাংলাদেশের মানুষ যে তাদের মুখের ভাষা রক্ষা করার জন্য ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ তাদের জীবন দান করেছেন এটা হয়তো কাউকে আলাদা করে বুঝিয়ে বলতে হবে না কারণ সারা দুনিয়াতে একমাত্র বাংলাদেশি একটি দেশ যে দেশের সাধারণ মানুষ তার মুখের ভাষা রক্ষা করার জন্য তার নিজের মহা মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করতেও দ্বিধা-বোধ করেনি।শূন্য থেকে ধীরে ধীরে উন্নতি করে আজকে আমাদের এই বাংলাদেশ,সারা পৃথিবীর মানুষ আজ আমাদের এই বাংলাদেশ কে চেনে আমিও আজ মাথা তুলে বলতে পারি আমি বাংলাদেশি বাংলাদেশ এর একজন নাগরিক।আয়তনে ছোট হোক আর যাই হোক এটা আমাদের সোনার বাংলাদেশ,আমাদের অহংকার।

৪ thoughts on “শূন্য থেকে আজকের এই বাংলাদেশ…

  1. গতানুগতিক!
    শহীদের সংখ্যাটা

    গতানুগতিক!

    শহীদের সংখ্যাটা ভুল লিখেছেন ।আসলে ৩০কোটি নয়, ৩০লক্ষ বা ৩মিলিয়ন হবে ।সম্পাদন করার অনুরোধ থাকলো ।

  2. খুব একটা নতুনত্ব পেলাম না। ৭৯
    খুব একটা নতুনত্ব পেলাম না। ৭৯ দিন পর বলে ৯৫’এর কথা লিখেছেন। ভুলগুলো সম্পাদনা করে দিয়েন

  3. ইতিহাস নির্ভূলভাবে লেখা উচিত।
    ইতিহাস নির্ভূলভাবে লেখা উচিত। অনেকগুলি ভূল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। দয়া করে সম্পাদন করে দিয়েন….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *