একটি সড়ক,মাইক্রোবাস এবং দুঘর্টনা।

গতকালের রাতটা কেটেছে অন্যরকম।কিছুটা হয়তো ভয়ংকরই বলা চলে।আমার বন্ধু শুভ।গতকাল তার কাকার বিয়ে ছিল।বিয়ে ছিল মানিকগঞ্জের কোনো এক গ্রামে(হয়তো কাটিগ্রাম)।তো শুভ আমরা বন্ধুদের জন্য আলাদা একটা গাড়ি নিয়েছিল।আমরা সবাই হৈ হুল্লোর করতে করতে বিয়েতে যাচ্ছিলাম।মাঝে ড্রাইভার বলল, ‘ব্রেকে একটু সমস্যা দিচ্ছে।কাজ করাতে হবে।’ আমরা গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়লাম আর তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করতে বললাম।কাজ শেষ হলে আমরা আবার রওনা হলাম।এরপর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি কিন্তু মানিকগঞ্জের কাছাকাছি যাবার পর আবার ব্রেকে সমস্যা দেখা দিল।আশেপাশে গ্যারেজ না থাকায় ধীরে ধীরে বিয়ে বাড়ি পৌছালাম।তো বিয়ে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া,একটু শয়তানি ফাজলামি করা ইত্যাদি সব কিছুই হল।আজ হরতাল বলে আমরা বন্ধুরা সবাই রাতেই নিজ বাড়িতে ফিরব এমন কথা ছিল।হিন্দু বিয়ে,নানা রকম রীতিনীতি,একটু সময় লাগে।বিয়ের অর্ধেক সময় পর আমরা গাড়িতে উঠলাম।আমরা তো জানি এটুকু সময়ে ড্রাইভার গাড়ি ঠিক করে ফেলেছে।আমরা খুব ফুর্তি করতে করতে যাচ্ছিলাম।ড্রাইভারও ভালো স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছিল।আমরা তো মনে করেছি গাড়ি ঠিক আছে যেহেতু এখন স্পীডে চলছে তাহলে হয়তো কাজ করিয়ে নিয়েছে ড্রাইভার।আমরা প্রচুর চিল্লাপাল্লা করছিলাম।কিন্তু হঠাত্‍ ধুপ করে একটা শব্দ!!ঝাঁকি খেলাম!!সামনের সীটে বাড়ি খেলাম।সবাই স্তব্ধ।আমার চশমা ছিটকে পড়ে গেল।হাজার পাওয়ারের সেই চশমা ছাড়া আমি অন্ধই বলা চলে।ঝাপসা চোখে তাকিয়ে তেমন কিছু বুঝলাম না।ঘটনাটা এতই আকস্মিক যে আমরা কেউ কিছু বুঝতেই পারছিলাম না।একটু পর আমার পাশের জন চিত্‍কার করে উঠল,’একসিডেন্ট!!নাম্ গাড়ি থেকে সব।তাড়াতাড়ি।’ সামনের সীটে বসা শুভও চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল।আমি ঝাপসা চোখে কিছু দেখছিলাম না।শুধু শুনছিলাম।একটু পর বুঝলাম যে আমার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে।হয়তো ছড়ে গেছে।সবাই ধীরে ধীরে গাড়ি থেকে নামলাম।নেমেই কয়েকজনকে আমার চশমার কথা বললাম।গাড়ির ভেতর থেকে খুঁজে আনতে বললাম।শুভ আমার চশমা এনে দিল।চশমা চোখে দিয়ে দেখি ড্রাইভার নাই।গাড়িটা রাস্তার মাঝে ডিভাইডারের সাথে ধাক্কা লেগে সব কাঁচ টাচ ভেঙে পড়ে আছে।সামনে যে হৃদয় বসেছিল ওকে দেখলাম না।মাথাটা কেমন যেন কাজ করছিল না।আমাদের সামনে আমাদেরই পরিচিত গাড়ি ছিল।তারা গাড়ি থামিয়ে দৌড়ে এল এবং আমাদের সবাই হাসপাতালে নিয়ে গেল।সেখানে দেখলাম হৃদয়কে আগেই নিয়ে আসা হয়েছে।আমাদের তুলনার ওর অবস্থা একটু খারাপ।সামনে ড্রাইভারের পাশে বসেছিল তো তাই কাঁচ ভেঙে ওর অনেক জায়গায় কেটেছে।তো প্রথমে হৃদয়কে ট্রিটমেন্ট করা হল।তারপর আমার ছড়ানো ঠোঁটে দুটি স্টিচ পড়ল।এছাড়া আর কারো তেমন কিছু হয়নি হয়তো সামনের সীটে বাড়ি খেয়ে কারো করো একটু চামড়া ছড়ে গেছে বা হালকা ব্যথা পেয়েছে।শুধু আমার পাশের জনের পায়ে একটু বেশিই লেগছে।হয়তো পা ভেঙে গেছে।কিন্তু আজিব ব্যাপার হল ড্রাইভার তখনো উধাও।এরপর ট্রিটমেন্ট শেষে অন্য একটা গাড়িতে করে আমরা বাড়ি ফিরলাম।কিন্তু এই গাড়ির ড্রাইভারও দেখালাম অসচেতনভাবে গাড়ি চালাচ্ছে।তাকে বলা সত্ত্বেও সে স্পীড কমাচ্ছে না!কারণ আজ সকাল থেকে হরতাল।আর তখন প্রায় ভোর,দুঘন্টা লাগবে বাড়ি ফিরতে।যদি জামাত শিবির গাড়িতে হামলা চালায়?এরকম শঙ্কা নিয়ে ড্রাইভার প্রায় উড়তে পারলে বাঁচে! কী আর করা ঐভাবেই কোনোরকমে বাড়ি ফিরলাম। আচ্ছা আমি তো মরেও যেতে পারতাম।কিন্তু না বেঁচে গেছি।এ অনেক কিছু।যাই হোক এই একসিডেন্টের জন্য দায়ী মুলত কে?অসচেতনতা।কারণ আমরা ছিলাম অসচেতন।গাড়ির মধ্যে হুটোপুটি,চিল্লাচিল্লি লাফালাফি করছিলাম।আর ড্রাইভার,এই নামটা কখনো সচেতন থাকে কিনা সন্দেহ।সে জানতোই গাড়ির ব্রেকে সমস্যা কিন্তু তবু বেপরোয়াভাবে চালাচ্ছিল।এছাড়া আছে অসততা।গ্যারেজে মিস্ত্রী দিয়ে একবার ব্রেক ঠিক করানোর ২ঘণ্টা পরেই কীভাবে ব্রেকে ডিস্টার্ব হয়?সেই মিস্ত্রী মাত্র আধাঘণ্টায় কী না কী করেই ৪০০টাকা নিয়ে নিল।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হলনা।এবার হয়তো বেঁচে গেলাম কিন্তু আগামীতে?সড়ক দূর্ঘটনায় এখন কত মানুষ মারা যায় বিকলাঙ্গ হয়।এটা আজ একটা নিত্য নৈমেত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। এর দায় ভার কার?

৭ thoughts on “একটি সড়ক,মাইক্রোবাস এবং দুঘর্টনা।

  1. মানবতা এখন এমন এক পর্যায়ে আর
    মানবতা এখন এমন এক পর্যায়ে আর কি বলল!
    সবাই নিজ নিজ অবস্থানে অসৎ, কেউ একটু বেশি কেউ একটু কম।

  2. গাড়ীতে ভ্রমণ করুন আর যে কোন
    গাড়ীতে ভ্রমণ করুন আর যে কোন কাজই করুন সচেতনতার সাতে না করলে দূর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সুতরাং প্রত্যেকটি কাজ জেনে-বুঝে করাই ভাল। যাক ভাগ্য ভালো বড় কোন ক্ষতি হয়নি। ভাবিষ্যতের সাবধানতা অলম্বন করে চলাফেরা করার চেষ্টা করুন..

  3. যাত্রী সচেতন হলে ড্রাইবার
    যাত্রী সচেতন হলে ড্রাইবার সচেতন হতে বাধ্য ।আমি কখনো ড্রাইবারকে দোষারোপ করি না ।কেননা গাড়ী চালানো একরকম মৃত্যুর জন্য অপেক্ষায় থাকার মত ।ড্রাইবার যদি নিয়মমত চালিয়েও থাকে তবুও দুর্ঘটনার শঙ্কা যায় না ।কারন ঐ গাড়ীর ড্রাইবার ঠিক থাকলেও অন্য গাড়ী বা প্রানী ভুলবসত দুর্ঘটনার কারন বনে যেতে পারে ।
    যাইহোক,দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই ।এর উপর কারো হাত নেই ।তবে সাবধানতা অবলম্বন করাই শ্রেয় ।

  4. সবাইকে ধন্যবাদ।আসলে বুঝতেই
    সবাইকে ধন্যবাদ।আসলে বুঝতেই পারছেন কতকগুলো বন্ধু একসাথে হলে যা হয়।অনেকটা ডোন্ট কেয়ার ভাব।কিন্তু গতকালের ঘটনা থেকে অনেক কিছুই শিখলাম।সচেতন না হলে সত্যি এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা দুষ্কর।আবারো সবার শুভ কামনা এবং মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  5. মৌজ-মাস্তি, আনন্দ-ফুর্তি যাই
    মৌজ-মাস্তি, আনন্দ-ফুর্তি যাই করুন। সেটা নিরাপদ জায়গা হওয়া বাঞ্চনীয়। বিশেষ করে কোন যানবাহন বা বাসার ছাদ বা রাস্তা-ঘাটে, হাটে-বাজারে, নদীর কীনারায় সর্বোপরি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তা পরিহার করা উচিত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *