বাংলার জন্মমানবি!!! বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনসমূহ

আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি আপোষহীনভাবে জন্ম নিয়েছেন ৪ বার। অবশ্য এখানে তার কিছুই করার নাই। জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এই তিনটা জিনিস সম্পূর্ণ ওপরওয়ালার হাতে। তিনি যদি ৪ বার জন্ম দেয়ান তো এইখানে ম্যাডাম খালেদা জিয়া কিই বা করতে পারেন। তার জন্মের ওপর তো আর তার নিজের কোন হাত নেই। ৪ বার জন্ম নেয়াতে খালেদা জিয়াকে অবশ্য খুশিই মনে হয়। কারন এই নিয়ে তার মদ্ধে কখনো কোন হতাশা কাজ করেছে বলে শুনি নাই। যাই হোক, চলেন ম্যাডাম এর জন্ম দিন নিয়া একটু আলোচনা করি।

আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি আপোষহীনভাবে জন্ম নিয়েছেন ৪ বার। অবশ্য এখানে তার কিছুই করার নাই। জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এই তিনটা জিনিস সম্পূর্ণ ওপরওয়ালার হাতে। তিনি যদি ৪ বার জন্ম দেয়ান তো এইখানে ম্যাডাম খালেদা জিয়া কিই বা করতে পারেন। তার জন্মের ওপর তো আর তার নিজের কোন হাত নেই। ৪ বার জন্ম নেয়াতে খালেদা জিয়াকে অবশ্য খুশিই মনে হয়। কারন এই নিয়ে তার মদ্ধে কখনো কোন হতাশা কাজ করেছে বলে শুনি নাই। যাই হোক, চলেন ম্যাডাম এর জন্ম দিন নিয়া একটু আলোচনা করি।

অনেকেই বলেন তিনি ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করে অত্যন্ত সফলতার সহিত পাশ করেছেন। কিন্তু আসলে কথা পুরাই ভুয়া। উনি ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেন এবং অত্যন্ত সফলতার সহিত অকৃতকার্য হন। তিনি যেই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরিক্ষায় অংশগ্রহন করেন অর্থাৎ দিনাজপুর সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায় খালেদা জিয়া সার্টিফিকেটে যার নাম খালেদা খানম, পিতা মোহাম্মদ এস্কান্দার এর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। তার পরীক্ষার রোল নম্বর ছিল দিন-এফ-৭৯২। পরীক্ষার নম্বরপত্র থেকে দেখা যায়, তিনি ওই পরীক্ষায় ইংরেজি প্রথমপত্রে ২৬, দ্বিতীয়পত্রে ১৫, বাংলা প্রথমপত্রে ৩৮, দ্বিতীয়পত্রে ৩২, গণিতে ৫০, ইতিহাসে ১০, ভূগোলে ২০, ধর্মে ৪২ এবং ঐচ্ছিক বিষয়ে ১৩ নম্বর পান। নম্বরপত্রের ফলাফলের ঘরে স্পষ্টাক্ষরে ‘অকৃতকার্য’ উল্লেখ করা হয়েছে।

খালেদা খানম বিয়ে করেন এক মেজর যার নাম ছিল জিয়াউর রহমান। তো সেই মেজরকে বিয়ে করে স্বামীর টাইটেল লাগিয়ে হন খালেদা জিয়া। মেজর জিয়াকে বিয়ে করে তিনি সুখে শান্তিতে ঘর করা শুরু করেন এবং তাদের ঘরে ২!!! পুত্রের জন্ম হয়। বড় পুত্রের নাম তারেক রহমান এবং ছোট পুত্রের নাম আরাফাত রহমান। যাই হোক এখন দেখি বিয়ের কাবিননামা কি বলে। উনার কাবিন নামা বলে উনার জন্ম ৯ই আগস্ট ১৯৪৪

এরপর ১৯৯১ নামক এক সালের ২০শে মার্চ বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা থেকে পাঠানো খালেদা জিয়ার জীবনী ছাপা হয় দৈনিক বাংলা নামক এক পত্রিকায় যেখানে উল্লেখ করা হয় উনার গর্ভ ধারিণী উনাকে ১৯৪৫ সালের ১৯শে আগস্ট এই ধরায় প্রসব করেন।

২০০১ সালে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন নামে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি এই নির্বাচনে অংশগ্রহনের পূর্বে ২০০০ সালের ভোটারের তথ্য বিবরণী ফরমে উল্লেখ করেন তার জন্ম ১৫ই আগস্ট ১৯৪৬ এবং তিনি এও দাবি করেন যে তিনি নাকি ইন্টারমিডিয়েট পাশ যদিও আমরা তার ম্যাট্রিক এর খবর আগেই পেয়েছি।

১৫ই আগস্ট, বাঙালিদের জন্যে একটি কাল দিন। এই দিনে হত্যা করা হয় বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে, যিনি না থাকলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, যিনি না থাকলে ফিরে পেতেন না স্বামীর সংসার, যিনি না থাকলে ফালু সাহেবকে নিয়া ওমরা করতে যেতে পারতেন না, যিনি না থাকলে ১৫ই আগস্ট নামক একটা জন্মদিনের উদ্ভব হয়তো হতো না। বেগম খালেদা জিয়া বোধহয় বিএনপির প্রধান নয়, তিনি মনে হয় আওয়ামী বিরোধী দলের প্রধান, আওয়ামী বিদ্বেষী দলের প্রধান। তাই হয়তো আওয়ামীলীগকে খাটো করতে তার প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যু দিবসে নিজের জন্মদিন পালন করে আসছেন। দৈনিক ডেইলি স্টার নামক এক পত্রিকার রিপোর্টেও আমার মতো সন্দেহ পোষণ করে বলা হয়ঃ

It appears from the media reports that Begum Zia had mentioned 5th Sept. and then 19th August as her birthday in her school and in her bio-data during elections in 1991 respectively. Obviously, none of these dates can be confused with the 15th August!
Sometimes people use to change their birthday in order to facilitate their entry into government service for which there is a fixed age limit, but in Begum Zia’s case no such compulsion was there.
Now the valid question is what made a sensible person like her to change the birth date to 15th Aug. Is it to belittle the tragic day on which the father of the nation Sheikh Mujib and his family were most brutally killed? We cannot find any rational explanation of this quite irrational behaviour.
This appears to be a kind of endorsement of the heinous crimes committed on that very day! What a pity!

ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস নামক এক পত্রিকায় ২০ আগস্ট ১৯৯৭ সালে বলা হয়

DHAKA, Aug 19: The birth date of Opposition leader Khaleda Zia has become a major controversy in Bangladesh, with the education board on Tuesday saying she was born on September 5 and not August 15 as she has claimed.
Bangladesh since 1996 has been marking August 15 as the national mourning day to commemorate the 1975 assassination of the country’s founder Sheikh Mujibur Rahman, the father of current Prime Minister Sheikh Hasina Wajed. Zia has drawn criticism for celebrating her birthday on the day of mourning.
Sheikh Mujibur was killed along with most of his family in a coup on August 15, 1975 which also toppled his Awami League government. After the killing, Zia’s husband Ziaur Rahman, the then Army Chief, emerged as the strongman of Bangladesh and eventually became the country’s President. He was killed in another coup in 1981. The Independent newspaper on Tuesday quoted an education board letter to the Information Ministry which said, “According to our records, the Bangladesh Nationalist Party chief was born on September 5, 1946, and she appeared in the school final examination in 1961.”
A third possible date of birth, August 19, was cited by the official BSS news agency in 1991 and the official biography released after she became the Prime Minister.

১৫ই আগস্ট ২০১০ সালে দৈনিক যুগান্তরে সাবেক হুইপ জামালের পরামর্শে শুরু হয় ১৫ই আগস্ট জন্মদিন পালন শিরোনামে প্রকাশ করা হয় একটি প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয় বরিশাল-২ আসনের সাবেক এমপি চারদলীয় জোট শাসনামলের হুইপ শহিদুল হক জামালের পরামর্শে ১৯৯১ সাল থেকে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে জন্মদিন পালন শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে কখনোই তার জন্মদিন কিংবা তা পালন নিয়ে কোনরকম উৎসব আয়োজন হয়নি। চাঞ্চল্যকর এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপিরই সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান।

এরপর ১৯৯৭ সালের ২২শে আগস্ট ও ১৯শে আগস্ট যথাক্রমে দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদে প্রকাশ করা হয় ম্যাডাম বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে প্রতিবেদন।

একজন মানুষ কি করে এত বড় অকৃতজ্ঞ হতে পারে তা আমার এই ছোট মাথা বুঝতে পারে না। যেই মানুষটা দেশের কথা দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে গেছেন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, এমনকি যিনি না বললে তিনি হয়তো তার স্বামীর ঘরে আবার উঠতে পারতো না কোন দিন সেই মহান মানুষটার মৃত্যু দিবসে কি করে নিজের মিথ্যা জন্মদিন পালন করে আমি বুঝি না। অচিরেই তার শুভ বুদ্ধির উদয় হোক এই কামনাই করি।

১৮ thoughts on “বাংলার জন্মমানবি!!! বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনসমূহ

  1. এই মহিলার শুভবুদ্ধির উদয় কোন
    এই মহিলার শুভবুদ্ধির উদয় কোন দিনও হবে না।
    এই মহিলার উদ্দ্যশ্যে ধিক্কার আর ছিঃ ছিঃ ছাড়া বলার কিছু নেই ।

  2. এভাবেই সত্য প্রকাশ করে
    এভাবেই সত্য প্রকাশ করে মিথ্যাকে বিস্মৃত করতে হবে ।যুক্তি প্রমান সহ অনবদ্য একটি লিখার জন্য লেখককে অজস্র ধন্যবাদ ।

    প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে লিখাটি স্টিকি করার জন্য ইস্টিশন মাস্টারের কাছে অনুরোধ জানাই ।

  3. তথ্যগুলো খন্ড খন্ডভাবে সকলেই
    তথ্যগুলো খন্ড খন্ডভাবে সকলেই জানে। সবগুলি তথ্য একত্র করে লেখা পোস্টটির নাম

    এক নজরে খালেদা ওরফে গোলাবী ম্যাডাম

    নামকরণ করলে মন্দ হয় না।
    উনি যে নির্বাচনী হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে স্বশিক্ষিত লিপিবদ্ধ করেন তা উল্লেখযোগ্য আরও একটি তথ্য।
    যাই হোক পোস্টের জন্য আপনাকে ধন্যৎবাদ

  4. তথ্যবহুল পোস্ট। ওনার আসল জন্ম
    তথ্যবহুল পোস্ট। ওনার আসল জন্ম তারিখ কোনটা তা আদালত রুল জারী করে ঠিক করে দিলে ভাল হত বলে আমার কাছে মনে হয়।

    1. আপনারা সাথে থাকলে অবশ্যই
      আপনারা সাথে থাকলে অবশ্যই চেষ্টা করে যাব তারিক ভাই।
      আর একটা পারসোনাল কথা ভাই 😛 আমারে বিল্ডিং বানানি শিখাইতে হইব, আমিও আপনের লাইনের, ভার্সিটিতে কি পড়ায় কিছুই বুঝি না :/

  5. অসাধারণ…
    অসাধারণ… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :bow:
    গুরুত্বের বিবেচনায় এইটা একটা অনবদ্য পোস্ট!! সৌরভ ভাই :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল: :ফুল: :ফুল:
    এইবভাবেই ভণ্ড আর প্রতারকদের মুখোশ খুলে দেয়া উচিৎ!!

  6. কবি আহসান হাবীবের “ধন্যবাদ”
    কবি আহসান হাবীবের “ধন্যবাদ” কবিতাটার কথা মনে পড়ে গেল…
    আজ ডলির(কুকুর ছানা) জন্মদিন!

    কুকুর ছানার নামটি প্রমান করে কুকুর ছানাটি একটা মাদি কুকুর ছিল ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *