নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবী-যারা বেঁচে থাকলে বাংলা আজ অন্যরকম হতে পারতো (ফটুব্লগ)




লক্ষ্য প্রানের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলা। ৩০ লক্ষ্য তাজা প্রান আর আড়াই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি প্রানের স্বাধীনতা। এই ৩০ লাখ তাজা প্রান আর আড়াই লাখ মা বোনের ভেতর এমন কিছু মানুষ ছিলেন যারা বেঁচে থাকলে এই দেশটা হয়তো একটু অন্যরকম হতে পারতো। হয়তো না, অন্যরকমই হতো। অনেক গুনি লেখক সাংবাদিক অধ্যাপক চলে গেছেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। আসলে তারা কেউ যেতে চান নি, থাকতে চেয়েছিলেন এই সবুজ বাংলায় কিন্তু তাদেরকে জোর করে পৃথিবী থেকে বিদায় করা হয়েছে, পাকি জারজ হানাদার ও তাদের দোসররা থাকতে দেয় নি, বাচতে দেয় নি তাদের প্রানের স্বাধীন দেশটাতে।


আ ন ম গোলাম মোস্তফাকে

১১ই ডিসেম্বর ১৯৭১। সুবহে সাদেকের সময় কান্নারত ছেলে অভিকে কোলে নিয়ে বারান্দায় হাঁটছেন তিনি। এমন সময় ১০/১২ জন ইউনিফর্ম পড়া লোক এসে বলল যে তারা “পুর্বদেশ” অফিসে নিয়ে গিয়ে তার পরিচয়পত্রটা যাচাই করবে। তিনি বললেন তার পরিচয় পত্র সাথেই আছে। তারপরেও তাকে অফিসে যেতে হবে। বাচ্চাকে বাসায় রেখে পরনে যে পাজামা পাঞ্জাবি ছিল তা পরেই তিনি বের হয়ে গেলেন। ছোট ভাই ‘পূর্বদেশ’ অফিসে গেলেন তাঁর খোঁজে। গিয়ে জানতে পারলেন, না ওখানে তাকে নিয়ে যায়নি কেউ। অফিসে তার সহকর্মীরা তখনো সবাই আসেনি। কিন্তু যারাই এসেছে তারা অন্য সহকর্মীদেরও কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দেয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে গেল। কিন্তু কেউ বলতে পারল না কোথায় নিয়ে যাওয়া হতে পারে তাকে। এরই মধ্যে দশটা বাজার সাথে সাথে কার্ফু জারি হয়ে গেল। ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত এভাবে প্রতিদিন দু’ঘন্টা বিরতি দিয়ে এক নাগাড়ে কার্ফ্যু চলল। কিন্তু যথাসাধ্য খোঁজাখুঁজির পরও আর পাওয়া গেল না সাংবাদিক আ ন ম গোলাম মোস্তফাকে। মোস্তফা নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর এক বন্ধু জানান, আসলে মোস্তফার পরের দিনই ঢাকা ছেড়ে চলে যাবার কথা ছিল। কিন্তু ঘাতকরা তাঁকে আর সে সুযোগ দেয়নি।


আনোয়ার পাশা

স্বাধীনতা আসবো আসবো করছে। প্রতিক্ষায় আছে সবাই স্বাধীন দেশে বুক ভরে শ্বাস নেয়ার। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বরের সেই দিনে সবার মতো আনোয়ার পাশাও সেই প্রহরটির জন্য অপেক্ষা করছেন অধীর আগ্রহে। অথচ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী, ধর্মান্ধ দালাল, আলবদরের সদস্যরা তখনও হত্যাযজ্ঞে মেতে ছিল মাঠে। একসময় এরা ঢুকে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায়। সকাল ৯টার দিকে লাল রঙের একটি গাড়ি আনোয়ার পাশার বাসার সামনে এসে থামে। আর সেই গাড়ি থেকে অস্ত্রসহ নেমে আসে আলবদর বাহিনীর কয়েকজন সদস্য। এরপর তারা বাসায় ঢুকে প্রথমেই তাঁর গায়ের চাদরটি দিয়েই তাঁর চোখ বেঁধে ফেলে; পরে তাঁকে ধরে নিয়ে চলে যায় মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের দিকে। সেখানেই আরও অনেক প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে নির্মমভাবে আনোয়ার পাশার জীবনপ্রদীপও দেয়া হয় নিভিয়ে।


আবদুল ওয়াহাব তালুকদার

৭ আগস্ট আবদুল ওয়াহাব তালুকদার সকাল ৯ টায় যাচ্ছিলেন তার কর্মস্থল বামনহাটায়। বামনহাট থেকে কয়েকজন সহকর্মী আবুল কাশেম মাস্টার, ডা. মুজিবর রহমান, ভারতের আব্দুল হামিদ পঞ্চায়েতসহ সিংঝাড় গ্রামে ভারত-বাংলাদেশ সামান্তে অবস্থিত বগনী-ব্রীজে অবস্থানরত একদল মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে যুদ্ধের বিভিন্ন কলাকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। সময় তখন বিকেল। হঠাত হানাদার বাহিনী আক্রমন করে বসে। হঠাত আক্রমনে সবাই ছত্রভঙ্গ হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। এমন সময় একটি গুলি এসে লাগে তার পায়ে। তিনি একটি জঙ্গলে আহত অবস্থায় আত্মগোপন করেন। তার গোঙানির শব্দ পেয়ে হানাদাররা তাকে ঘিরে ফেলে এবং বেয়নেটের খোঁচায় খোঁচায় তার বুক ঝাঁজরা করে দেন।


আলতাফ মাহমুদ

৩০ আগস্ট ভোরবেলা আর্মিরা প্রথমে আলতাফ মাহমুদের পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর কয়েকজন ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে, ‘আলতাফ মাহমুদ কৌন হ্যায়?’ আলতাফ মাহমুদ জবাব দিলেন, ‘আমি’। এরপর আর্মিরা তাঁকে দিয়ে মাটি খুঁড়ে কাঁঠাল গাছের নিচে লুকিয়ে রাখা গোলাবারুদের ট্রাঙ্ক দুটি বের করে নেওয়ার পর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেল। প্রথমে তাঁকে ধরে নিয়ে যেয়ে রাখা হয় রমনা থানায়। সেই সময় রমনা থানা থেকে ফিরে আসা একজন বন্দীর কাছ থেকে জানা যায় তাঁকে বন্দী অবস্থায় প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয় এবং ৩ সেপ্টেম্বর চোখ বেঁধে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তিনি জানেন না কোথায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যসহ কেউ আর তাঁর খোঁজ পাননি।


এ এফ এম আবদুল আলীম চৌধুরী

১৫ই ডিসেম্বর, বাসার বারান্দায় বসে আছেন স্ত্রি আর শাশুরিকে নিয়ে। বসে বসে আকাশে ভারতীয় বিমানের আনাগোনা দেখছেন আর আনন্দে উল্লসিত হচ্ছেন। তিনি তার এই আনন্দ গোপনও রাখছেন না। ভাগাভাগি করছেন স্ত্রী আর শাশুড়ির সাথে। এমন সময় একটা কাদামাখা সাদা মাইক্রবাস এসে থামল বাড়ির সামনে। নিচে থাকতেন মান্নান। রাজাকার মান্নান যাকে আশ্রয় দিয়েছিলেন আব্দুল আলীম নিজেই। সেই মান্নানের সাথে কথা বলে হানাদাররা প্রায় ৪৫ মিনিট পর আসলেন আলিমের খোঁজে। তারা আব্দুল আলিমকে ধরে নিয়ে মাইক্রবাসে উঠল এবং শেষ করে দিল বাংলার বুক থেকে এক নক্ষত্রকে।

এ.এন.এম মুনীরউজ্জামান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আবাসিক এলাকা। ৩৪ নম্বর ভবনের মূল গেইটের কাছে এলোমেলো পড়ে আছে চারটি মৃতদেহ। সমস্ত ভয়, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব উপেক্ষা করে এই চারটি মৃতদেহের পাহারাদার হয়ে ভবনের সিঁড়িতে বসে আছে বার বছরের একটি বালক। যেন তার আর কিছু করার নেই। বাবা-ভাই-চাচার মৃত্যুতে কাঁদতে নেই। এই চারজনের কাতারে তারও থাকার কথা ছিল। কারণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই কাল রাতে পাকসেনারা বাবা-ভাই-চাচার সাথে তাকেও ধরে এনেছিল হত্যা করার জন্য। কিন্তু চারজনকে হত্যার পর যখন শেষে তার পালা আসে, তাকেও গুলি করা হবে, তখন একজন পাকসেনা ছোট বলে তাকে ছেড়ে দেয়। সে প্রথমবারের মতো বেঁচে যায়। ২৬ মার্চ সকালে সৈন্যরা চারটি মৃতদেহসহ তাকে সঙ্গে নিয়ে জগন্নাথ হলের মাঠের দিকে যায়। জগন্নাথ হলে আটকে রাখা ১৫/২০ জন ছাত্রকে দিয়েই সব মৃতদেহ টানানো হয়। তাদেরকে দিয়েই কবর খোঁড়ানো হয়। মৃতদেহগুলোকে একসাথে কবর দেয়ার পর যারা কবর খুঁড়েছিল তাদেরকে আবার লাইনে দাঁড় করানো হয়। এবার এদেরকেও হত্যা করা হবে। তারপর যথারীতি এক এক করে সবাইকে ব্রাশফায়ার করা হয়। গুলি খাওয়ার পরও সেই কাতার থেকে প্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে পেরেছিলেন তিনজন। এই লাইনেও সেই বার বছরের ছেলেটি ছিলো। কিন্তু ছোট বলে এবারো পাকসেনারা তাঁকে ছেড়ে দেয়, বেঁচে যায় সে। এই বার বছরের ছেলেটি হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এ.এন.এম মুনীরউজ্জামানের ছোট ছেলে জাকারিয়া মাসুদ। যাঁর চোখের সামনেই বাবা মুনীরউজ্জামান, দুই ভাই ও চাচাকে হত্যা করা হয়।


ডাঃ ফজলে রাব্বি

১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর। কলিংবেল বেজে উঠল ডা. ফজলে রাব্বির বাসায়। বাবুর্চি ঘরে ঢুকে ফিসফিস করে তাঁকে বলল, ‘সাহেব বাড়ি ঘিরে ফেলেছে।’ তিনি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালেন। দেখলেন একটা সাদা কাদা মাখানো মাইক্রোবাস আর একটি জিপ দাঁড়িয়ে আছে তাঁর বাসার সামনে। নিচু গলায় পেছন না ফিরে তিনি বললেন, ‘টিঙ্কুর আম্মা, ওরা আমাকে নিতে এসেছে।’ তিনি দারোয়ান ইদ্রিসকে ডেকে সদর দরজা ও সিঁড়ির দরজা খুলে দিতে বললেন। দারোয়ান দরজা খুলে দিল। পাঁচ-সাত জন সশস্ত্র সৈন্য চারপাশ দিয়ে তাঁকে ঘিরে ফেলল। তিনি ওদের সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেন। স্ত্রী জাহানারা বাধা দিতে চেষ্টা করলেন। ওদের মধ্যে থেকে দুজন এগিয়ে এসে জাহানারার বুকে বন্দুক চেপে ধরল। জাহানারা স্থানুর মতো স্থির দাঁড়িয়ে গেলেন। ডা. ফজলে রাব্বি মাথা নিচু করে গাড়িতে উঠে গেলেন। গাড়িটা আস্তে আস্তে চলতে শুরু করার পর হায়েনারা জাহানারার বুকের ওপর থেকে বন্দুক নামানোর সাথে সাথে জাহানারা চেতনা লুপ্ত হয়ে ঢলে পড়েন।
জ্ঞান ফেরার পর জাহানারা অধীর হয়ে অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বামীর খবরের জন্য। কলিংবেলের শব্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসছেন দরজার কাছে এই বুঝি তাঁর স্বামীর খবর নিয়ে কেউ এল। কিন্তু বারবার তিনি হতাশ হচ্ছেন কারণ কেউ তাঁর স্বামীর খবর বলতে পারছে না। ঠিক সেই সময়ে এল মর্মান্তিক এক খবর। রায়েরবাজারের কাটাসুরে ও মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে আবিষ্কৃত হয়েছে মানব সভ্যতার নৃশংসতম বধ্যভূমি।


মুনীর চৌধুরী

১৯৭১ সালের ১৫ই আগস্ট। মা ছেলের জন্য ভাত বেড়েছেন। গরম ভাত থেকে ধোঁয়া উড়ছে। চুল না আঁচড়িয়েই খেতে বসতে যাবেন মুনীর চৌধুরী। ঠিক এই সময় একটা জিপ বাসার গেটে এসে থামল। জিপের আরোহীদের সবারই কালো কাপড় দিয়ে মাথা ও মুখ ঢাকা, চোখ দুটো কেবল দেখা যায়, চিনবার কোনো উপায় নেই। কয়েকজন জিপ থেকে নেমে অনুমতির অপেক্ষা ছাড়াই বাসায় ঢুকে সরাসরি তাঁর কাছে গিয়ে একজন বলল, ‘আপনাকে আমাদের সাথে যেতে হবে, আমাদের কমান্ডার আপনাকে যেতে বলেছেন।’ কথা শুনে মুহূর্তেই একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল পরিবারের সবার মাঝে। মুখঢাকা মানুষগুলোর কথা শুনে মা আগলে দাঁড়ালেন পথ। কিছুতেই যেতে দিবেন না ছেলেকে। ওদের একজন তখন বলল, ‘আপনারা শুধু শুধু ভয় পাচ্ছেন, আমাদের কমান্ডারের সাথে দেখা করে এখুনি তিনি ফিরে আসবেন। আমরাই তো দিয়ে যাব।’ লুঙ্গি ও গেঞ্জি পরা ছিল তাঁর। পাজামা-পাঞ্জাবি পরতে ঘরের ভেতরে যেতে চাইলে সাথে সাথেই মুখঢাকা একজন বলে উঠল, ‘আর কিছুই গায়ে দিতে হবে না স্যার। আপনি কেবল যাবেন আর আসবেন।’ এক মুহূর্ত ভাবলেন তারপর বললেন, ‘ঠিক আছে চলুন।’ বেরিয়ে গেলেন কালো কাপড় দিয়ে মুখঢাকা ওদের সাথে, যারা তাঁকে একেবারে নিয়ে যেতে এসেছিল। পেছনে রেখে গেলেন মায়ের বাড়া গরম ভাত, মা, ভাইবোন, বিশ্ববিদ্যালয়, সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী, স্ত্রী আর প্রিয় উত্তরাধিকার। আর ফিরে এলেন না তিনি। খুঁজেও পাওয়া যায়নি মুনীর চৌধুরীকে আর কোনোদিন।


রনদাপ্রসাদ সাহা

১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল লাট ভবনে পুত্র রবি ও রণদাপ্রসাদকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আটক করে। ৫ মে ছাড়া পেয়ে পিতাপুত্র নারায়ণগঞ্জে ফিরে যান। পরিবারের লোকজনও তাঁদের ফিরে পেয়ে দারুণ খুশি। সবাই ভেবেছিল, বিপদের ঝুঁকি বুঝি কেটে গেছে, কিন্তু দুই দিন পরই শুরু হয় আসল তাণ্ডব। ৭ মে দুপুরের দিকে মির্জাপুরের শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ওদুদ মাওলানা টাঙ্গাইল থেকে পাকবাহিনী নিয়ে আসে। হানাদাররা মির্জাপুরে আগুন, লুটতরাজ ও নরহত্যার বর্বর উল্লাস শুরু করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে তাদের এই নারকীয় উল্লাস। একই দিনে অর্থ্যাত্‍ ১৯৭১ সালের ৭ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে হানাদার বাহিনীর দোসররা রণদাপ্রসাদ ও ভবানীপ্রসাদকে ধরে নিয়ে যায়। ৫ মে ঘাতকদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার ঘটনায় সবাই আশা করেছিল এবারও হয়ত ফিরে আসবেন তাঁরা। আশায় আশায় বহু দিন গেছে। তাঁরা আর ফিরে আসেননি এবং তাঁদের কোনো খোঁজও মেলেনি।
১০
শহীদুল্লাহ কায়সার

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত থেকে পাকিস্তানী বাহিনী বাঙালী নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠে। শহীদুল্লা কায়সার এই সময়ে ঢাকাতেই আত্মগোপন করে ছিলেন। তিনি অনেককে ভারতে চলে যেতে সাহায্য করেছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করার জন্য নিজে দেশ ত্যাগ করেননি। তাঁর দেশ ত্যাগ না করার আরও একটি কারণ মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ চিত্র নিজে প্রত্যক্ষ করে তা ইতিহাসে বিধৃত করতে চেয়েছেন।
১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা। পুরান ঢাকার কায়েতটুলির বাসায় শহীদুল্লাহ কায়সার মোমবাতি জ্বালিয়ে বিবিসি শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে তিনিভাবলেন মুক্তিযোদ্ধারা এসেছে। তিনি আলমারি খুলে টাকা বের করলেন মুক্তিযোদ্ধাদেরকে দেওয়ার জন্য। কিন্তু দেখলেন কারা যেন মুখ লাল কাপরে বন্ধ করে ঘরে ঢুকল। তারা ঘরে ঢুকেই জিজ্ঞাসা করল, ‘শহীদুল্লা কায়সার কে?’ শহীদুল্লাহ কায়সার এগিয়ে এসে বললেন, ‘আমিই শহীদুল্লা শহীদুল্লা কায়সার যাবার সময় স্ত্রী ও বোনের দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে বলেছিলেন, ‘ভাল থেকো’। কারফিউ-এর অন্ধকারে তিনি চিরকালের জন্য হারিয়ে গেলেন। তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর মৃতদেহও পাওয়া যায়নি। হ কায়সার।’ এরপর তারা তাকে নিয়ে যেতে চাইলে পরিবারের লোকজনের হাজার বাঁধা দিয়েও আটকাতে পারেন নি তার যাওয়া।
১১
সেলিনা পারভিন

১৩ই ডিসেম্বর, ছেলেকে গোসল করিয়ে রান্না করছেন সেলিনা পারভিন। এমন সময় বাসার সামনে একটা মাইক্রবাস থামল, তা থেকে কিছু লোক নেমে কলাপ্সিপল গেট এর কড়া নারলে পাশের ফ্লাট এর এক লোক দরজা খুলে দেন। তার কাছে সেলিনা পারভিনের ফ্লাট কোনটা জানতে চাইলে তিনি তা দেখিয়ে দেন। সেই লোক গুলো বাসায় এসে সেলিনা পারভিনকে তাদের সাথে যেতে বলে। বাসার গেটেই তার হাত চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তার লাশ পাওয়া যায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে।

৩৪ thoughts on “নিহত শহীদ বুদ্ধিজীবী-যারা বেঁচে থাকলে বাংলা আজ অন্যরকম হতে পারতো (ফটুব্লগ)

  1. একটা চরম কাজ করেছেন সৌরভ
    একটা চরম কাজ করেছেন সৌরভ সাহেব… :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: এখন থেকে যেই মুহূর্তে পাকি প্রেতাত্মাগুলো বলবে ৭১রে গণ্ডগোল হয়েছিল আর তাদের বাপেরা হল ধোয়া তুলসিপাতা, আপনার এই লেখাটা সরাসরি ওদের মুখে ছুড়ে দেব… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে আপনাকে ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: :ফুল:

    1. ছি ভাই, আপনি এত বড় আলেমদের
      ছি ভাই, আপনি এত বড় আলেমদের নিয়ে এইভাবে কটূক্তি করতাছেন। 😛 তারা তো নিষ্পাপ 😛 ইসলামকে রক্ষা করতে চাইছিল তারা, খারাপ কিছু তো না 😛

      এইটা হইব পাকি জারজগুলার উত্তর

  2. উনাদের রক্তের ঋন কোনদিন শোধ
    উনাদের রক্তের ঋন কোনদিন শোধ হবার নয় ।

    উনাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঝাপন করছি ।

  3. অসাধারণ…
    অসাধারণ… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :bow: :bow: :bow: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: সোজা প্রিয়তে!!
    দরকার পরলেই সব তথ্য কাজে লাগবে…

  4. কষ্ট লাগে যখন দেখি এই সব
    কষ্ট লাগে যখন দেখি এই সব বীরদের বুকের উপর দিয়ে রাজাকাররা লাল সবুজ পতাকা শোভিত গাড়ী নিয়ে দম্ভ করে ছুটে বেড়ায়।কষ্ট লাগে যখন দেখি বেঈমানেরা এদের স্মৃতির প্রতি লোক দেখানো শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ বেদীতে পা রাখে ।কষ্ট লাগে….

    আমরা বড়ই অকৃতজ্ঞ জাতি ।বড়ই অকৃতজ্ঞ ।

    1. ভাই, এই সব অকৃতজ্ঞদের ভিড়ে
      ভাই, এই সব অকৃতজ্ঞদের ভিড়ে ২/১ জন কৃতজ্ঞ মানুষ আছে বলেই এখনও তাদের নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়।

  5. গা শিউরে উঠে এমন পোস্ট দেখলে।
    গা শিউরে উঠে এমন পোস্ট দেখলে। মুখে একগাদা থুথু চলে আসে সেই রাজাকার আলবদর ও পাকিস্তানিদের জন্য। কিন্তু কাউকে পাই না ।

    এই শহীদদের জন্য বলল আমরা তোমাদের ভুলবো না। আজ চল্লিশ বছর পরও তোমাদের শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি আমরা। আরোও চল্লিশ বছর অন্তত তোমাদের মনে রাখব, অন্তত আমি যত দিন বেচে থাকব।

    সৌরভ সাহেব আপনাকে ধন্যবাদ এমন পোস্ট উপহার দেবার জন্য। আসুন সবাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঘরে ঘরে প্রকাশ করি। আর এই পিশাচদের বিরুদ্ধে জন মত গড়ে তুলি। অন্তত অনলাইন জগতে।

    1. ধুর ভাই, বাদ দেন তো, ৪২ বছর
      ধুর ভাই, বাদ দেন তো, ৪২ বছর আগের কাহিনী নিয়া ঘাঁটাঘাঁটি কইরা লাভ আছে কোন? হেরা মরছে তো আমাগো কি। নিজে বাঁচলে বাপের নাম।

  6. অনেক ভাল এবং কষ্টের একটা কাজ
    অনেক ভাল এবং কষ্টের একটা কাজ করেছেন। :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

  7. তোমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান,
    তোমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, আমরা তোমাদের ভুলবো না। শশ্রদ্ধ অভিবাদন। ……………… ধন্যবাদ সৌরভ, দারুণ একটা বিষয়ে লেখার জন্য।

  8. প্রয়োজনীয় পোস্ট, চালিয়ে
    প্রয়োজনীয় পোস্ট, চালিয়ে যান…. আশা করছি ভাল একটা ধারাবাহিক পাবো আপনার কাছ থেকে।

  9. অসাধারণ একটা পোস্ট।পড়তে পড়তে
    অসাধারণ একটা পোস্ট।পড়তে পড়তে মনটা যেন কেমন করে উঠল।হাতটা নিশপিশ করে উঠল।আমি গর্বিত।এমন সব সূর্যসন্তান আমাদের মাটিতে জন্ম নিয়েছিল যাদের কথা ভাবলেই বুকটা ফুলে উঠে।ভাই আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটা পোস্ট দেবার জন্য।

    1. ভাই উনাদের কথা ভাব্লে বুকটা
      ভাই উনাদের কথা ভাব্লে বুকটা ফুইলা উঠে ঠিকই, কিন্তু যখন মনে হয় তারা আরও অনেক কিছুই দিতে পারতো কিন্তু কিছু জারজ এর জন্যে দিতে পারে নাই তখন ভাই খুব কষ্ট লাগে 🙁

  10. কেবল মনে করেছি জহির রায়হানের
    কেবল মনে করেছি জহির রায়হানের কথা।আর রাফসান ভাই সেই কথা বলে দিল।আশা করি পরের পোস্টে জহির রায়হান সহ আরো অনেকের কথা জানতে পারবো।

  11. দুঃখে বুকটা আবার জ্বলে গেলো।
    দুঃখে বুকটা আবার জ্বলে গেলো। মুক্তিযুদ্ধ বা আমাদের দেশের এই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে কোন লেখা যতবারই পড়ি, ততবারই আমার একটা কথাই মনে হয়ঃ

    এই শুয়োরের বাচ্চা পাকিস্তানিদের কি লজ্জা বা মনুষ্যত্ব বলে কিছু নেই? আমরা লজ্জার মাথা খেয়ে, ওদের একবার প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে ওরা যেন আনুষ্ঠানিক ভাবে আমাদের কাছে ক্ষমা চায়। কিসের কি? ওরা সেসব কথা কানেই তুলে নাই। আসলে জানোয়ারের সামনে গান গেয়ে লাভ নেই। ওদের দরকার পাছায় লাথি। গু খেয়ে যার অভ্যাস, তাকে পায়েস খেতে বলে লাভ নেই।

    এক সময় পাকিস্তান দলের ডাইহার্ড ফ্যান ছিলাম। সেকথা ভাবলে এখন আমার লজ্জা লাগে। ওরা কিন্তু নিজেদের অবস্থান ঠিকই ধরে রেখেছে। আমরাই সত্য-মিথ্যা গুলিয়ে ফেলেছি। লজ্জা লজ্জা লজ্জা!!!

    @সৌ রভঃ সংক্ষেপে লিখেছেন বলে পড়তে ভালো লেগেছে। আরও লিখেন। কোনো বইয়ের রেফারেন্স নিচ্ছেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *