পশ্চিমবঙ্গের ভবিতব্য

এটাই কি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের নমুনা! এ কেমন উন্নয়ন যেখানে চাকরি প্রার্থীরা নিজেদের ন্যায্য দাবি দাওয়ার জন্য পুলিশের কাছে গ্রেফতার হতে হয়? এ কেমন উন্নয়ন যেখানে শিক্ষিত যোগ্য বেকার যুবক যুবতীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে হয়? যেখানে চাকরি প্রার্থীরা নিজেদের অধিকারের জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়? এটা কি বাংলার লজ্জা নয়?

যেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে এবং প্রায় প্রতিদিনই দুনীর্তির অভিযোগে হাইকোর্টে রাজ্য সরকারের মুখ পুড়ছে, এটাই কি মমতা ব্যানার্জির মা, মাটি, মানুষের সরকারের উন্নয়নের নমুনা? যেখানে চরম বেকারত্ব সেখানে শুধুমাত্র লক্ষীর ভান্ডারের মতো প্রকল্পের দ্বারা রাজ্যের মানুষকে কার্যত ভিক্ষুকে পরিণত করে, রাজ্যের কি উন্নয়ন হচ্ছে?

একদিকে পশ্চিমবঙ্গে যেখানে চাকরিই নেই সেখানে পশ্চিমবঙ্গে চাকরি পেতে গেলে ‘বাংলা ভাষায়, লেখা ও পড়া বাধ্যতামূলক’ মুখ্যমন্ত্রীর এরূপ মন্তব্য কতটা যৌক্তিক? বস্তুত এই রকম প্রাদেশিকতার রাজনীতির ফলে দেশের ঐক্য কি বিনষ্ট হয় না? ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকার, ‘ভারতীয় নাগরিকদের ভারতের যে কোন স্থানে কর্মের অধিকার’ তা কি বিনষ্ট হয় না? এরফলে আগামী দিনে বাংলার বাইরে বাংলার ছেলেমেয়েদের চাকরি পেতে কি আরও সমস্যা হবে না?

বলাইবাহুল্য, এখন যেখানে কাজের সন্ধানে বাংলার বেকার যুবক যুবতীদের এক বিরাট সংখ্যা পরিযায়ী শ্রমিকে পরিণত হয়েছে সেখানে এরূপ মন্তব্য কতটা কাম্য? আগামী দিনে যিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তাঁর এই ধরণের বিভাজনের রাজনীতি কতটা যৌক্তিক? তিনি যে বিভাজনের রাজনীতির মডেলে বঙ্গে সফল, সেই বিভাজনের রাজনীতিই কি গোটা দেশে ছড়াতে চান?

পশ্চিমবঙ্গের এই যদি আর্থসামাজিক অবস্থা হয় তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়ে লাভ কি? বস্তুত তিনি নাকি গণতন্ত্রের অগ্রণী সৈনিক, তা প্রশ্ন হল যিনি নিজে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমকে সরকারি বিজ্ঞাপন পেতে হলে সরকারের পক্ষে লিখতে হবে এবং তাঁর কপি পুলিশের কাছে পাঠাতে হবে!’ তিনি কিভাবে গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা হতে পারেন?

বস্তুত পশ্চিমবঙ্গে এখন অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে এবং এখানে মিডিয়ার কন্ঠরোধের প্রচেষ্টা চলছে সেইসঙ্গে পুলিশকে দলদাসে পরিণত করা হয়েছে! পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র আজ মৃতপ্রায়! এই যদি পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের নমুনা হয় তাহলে পশ্চিমবঙ্গের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কি? পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের আগামী দিনে কি হবে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন!

মেধার এমন অপচয় ভারতের আর কোথাও দেখা যায় কি? চপ শিল্প, ঢপ শিল্প, তোলাবাজি শিল্প, সিন্ডিকেট, মদ শিল্প এগুলিই কি বাংলার যুব সমাজের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ? সরকারের যেখানে মেলা, খেলা, মোচ্ছব করতে টাকার অভাব হয় না সেখানে স্থায়ী চাকরি নিয়োগ করতে এত অনীহা কেন? ভোটে জেতা মানেই কি লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক যুবতীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করার অধিকার কি কোন গণতান্ত্রিক সরকারের হতে পারে?

বলাইবাহুল্য ভোটে নির্বাচিত হওয়া মানেই কি সব অনৈতিক কর্মকান্ড, নৈতিক হয়ে যায়? ইতিহাস সাক্ষী ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা এমন ভাবেই চলে কিন্তু তাঁর বিনাশ হয় ভয়ংকর ভাবেই! প্রশ্ন হল পশ্চিমবঙ্গের এই ফ্যাসিস্ট শাসন ব্যবস্থা কি এভাবেই চলতে থাকবে? পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক যুবতীদের ভবিষ্যৎ কি এভাবেই অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবে? এর থেকে পরিত্রাণের কি কোন পথ নেই? বাংলার ভবিষ্যৎ ও ভাবি প্রজন্মের আশা, আকাঙ্ক্ষার কি হবে?

তথ্যসূত্র:-

1) Zee 24 ghanta.

https://fb.watch/9OO3bteoHQ/

2) CN News.

https://fb.watch/9P1uAtzWqf/

3) Abp news.

https://bengali.abplive.com/news/kolkata/tet-agitation-saltlake-police-and-protester-clash-852025

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *