গুজব আইলো!!!!!…………………পালান!!!!!

গুজবে কান দিবেন না, এ কথাটি কে না জানে । এতে কী গুজবের চর্চা কমেছে নাকি কদর কমেছে । আসলে জাতিগত ভাবে আমরা গুজব শুনতে বলতে ও ছড়াতে পছন্দ করি । আমাদের রাজনীতিতে গুজবের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের, রাজনীতির যে কোন প্রেক্ষাপটে যখন একাধিক সম্ভাবনা থাকবে তখন গুজব ছড়াবে না, এটা ভাবাই কষ্টকর । রাজনৈতিক ক্রাইসীস বা নির্বাচনের সময় চায়ের দোকান থেকে ড্রয়িং রুম পর্যন্ত সরগরম থাকে গুজব নিয়ে । গুজব নিয়ে যে জমজমাট ম্যারাথন আড্ডা হয় তা নয়, পাশাপাশি উল্টোচিত্রও আছে, দেখা যায় গুজবের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তিতর্ক, অযৌক্তিক উত্তেজনা, অতঃপর গালাগালি ও হাতাহাতি । তারপরও আমরা কী গুজব ছেড়েছি নাকি গুজব আমাদের ছেড়েছে । বিশেষ করে আন্দোলনের মাঝ পথে সুবিধা নিয়ে কেটে পড়ার গুজব, নির্বাচনে কোন দল কোন জোটে যাচ্ছে বা জোট ভেঙ্গে অন্য জোটে যাচ্ছে বা নতুন জোট গঠন করছে এ ধরনের গুজব আমরা হরহামেশা শুনে থাকি । তবে আমরা পছন্দের দলকে সুবিধাজনক অবস্থায় রেখে গুজব তৈরী করতে ও বলতে পছন্দ করি, তা শুনতে যতই আজগুবী মনে হোক না কেন । গুজব যে শুধুই গুজব, এটা কিন্তু নয়, মাঝে মধ্যে গুজবই সত্য হয়ে যায় । রাজনীতির ঘোলাটে অবস্থায় গুজব ক্ষেত্র বিশেষ টনিকের মত কাজ করে । যাহোক, বর্তমান সময়ের রাজনীতি ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে কিছু গুজব বলব । আপনি বিশ্বাস করুন আর নাইবা করুন, আমি বলবই । আর বিশ্বাসইবা কিভাবে করবেন, আমাদের সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সকালে একটা বললে বিকালে আরেকটা বলেন । তাই গুজবে কান দিবেন না, না বলে কেউ যদি বলেন- এরশাদে কান দিবেন না । খুব বেশী ভুল বলা হবে কী ? যেখানে তৃতীয় প্রধান দলটির প্রধান ব্যক্তিটির এই অবস্থা সেখানে আমার গুজবের যে বিশ্বাস যোগ্যতা শূন্যের কোটায় থাকবে, তা হলফ করে বলতে পারি, তারপরও বলব । আগামী চার/পাঁচ মাসের মধ্যেই বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে । বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পদ্ধতিটি বাতিল করায় বিভিন্ন গুজবের ডালপালা ছড়াচ্ছে । মহাজোট সরকার কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে নাকি নেহায়েত আদালতের রায়কে সন্মান জানাতে এ পরিবর্তন । বিএনপি জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনে আন্দোলন করছে । দাবী আদায়ে ব্যর্থ হলে বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে কী ? এরশাদ সর্বশেষ কোন জোটে অবস্থান নিবে ? ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারকে সরকার জামাত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করছে কী ? এ নিয়ে যে গুজব গুলি চায়ের কাপে ঝড় তুলছে, তার দু-চারটি তুলে ধরব । এটাও ঠিক, যে গুজবের অনুকূলে শক্তিশালী যুক্তি থাকে, সে গুজব ব্যাপক মানুষ বিশ্বাস করে এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্ক চলতে থাকে । যাহোক, আসুন গুজবে কানপাতি । গুজব নং এক) ১৮ দলীয় জোট ছেড়ে জামাত একক ভাবে নির্বাচন করবেঃ কথাটি অবিশ্বাস্য মনে হবে কারন এতকিছুর পরও আওয়ামীলীগের ইচ্ছা পূরণের পথে হাঁটবে জামাত ! এতে জামাতের লাভটা কী ? আওয়ামীলীগের কারনে জামাতের প্রথম সারীর প্রায় সব নেতাই মৃত্যুদন্ডের মুখোমুখি এবং দলের নিবন্ধনও বাতিল হচ্ছে প্রায় । এরপরও জামাত আওয়ামীলীগের সুবিধার জন্য এককভাবে নির্বাচনে যাবে, এটা কী সুস্থ্য মস্তিষ্কের কোন মানুষ বিশ্বাস করবে ! বিশ্বাস না করলেও শুনুন । সুযোগ পেলে আওয়ামীলীগ জামাতের ক্ষতি করবে, এটা জামাতের নেতা-কর্মীরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে । কিন্তু বিএনপি জোটে থাকার পরও দলের দুর্দিনে বিএনপি জামাতকে রক্ষা করতে না পারলে বিএনপির সাথে সম্পর্ক রেখে লাভটা কী ? শত্রুর শত্রুতা থেকে বন্ধু যদি রক্ষাই করতে না পারে, এমন বন্ধু থাকা আর না থাকা একই কথা । জোটগত আন্দোলনের কর্মসূচী ও নির্বাচনী রেজাল্ট জামাত-শিবির কর্মীরা জান-মালের বিনিময়ে সফল করবে আর বিএনপি সরকার গঠন করে লুটপাট ও দুর্নীতি করবে এবং এই দুর্ণামের দায়ভারও জামাতকে নিতে হবে, এর কি কোন যুক্তি আছে ? বিএনপির জোটে জামাত অবস্থান করায় বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয় আর এই কারনে আওয়ামীলীগ ক্ষুব্ধ হয়ে জামাতের ওপর স্ট্রীমরোলার চালায় । জামাত ভুলে গেছে কী ? বিএনপি-জামাত জোট সরকারে থাকার সময়কালেও বিভিন্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্মীদের হাতে শিবির কর্মীদের জীবন দিতে হয়, এর সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয় । তাজাড়া বর্তমানে জামাতের নিবন্ধন বাতিলের প্রেক্ষাপট বিএনপিকে লাভবান করবে, এই ভাবনা ও বিশ্বাসে বিএনপি উদাসীন ভাব নিয়ে কালক্ষেপণ করছে । তাহলে প্রশ্ন ওঠতেই পারে, জামাত কেন বিএনপি জোটে থেকে সংগঠনকে সর্বদা ঝুঁকিতে রাখবে ? বলতে পারেন তাহলে এতদিন জামাত কেন বিএনপির সাথে আন্দোলন ও নির্বাচনী জোটে থেকেছে এবং আওয়ামীলীগের সাথে তত্ত্বাবধায়কের ইস্যুতে যুগপৎ আন্দোলন করেছিল । এটাও ঠিক, জামাত শুধু যে বিএনপি আওয়ামীলীগের ঘরে ফসল তুলে দিয়েছে তাও নয়, এতে জামাতেরও ফায়দা ছিল, তা হচ্ছে-দল দুইটিকে জামাতের বিরুদ্ধে কথা বলার নৈতিক স্পেইস কমিয়ে দেয়া । এতে জামাতের সফলতাও আছে । তাই আওয়ামীলীগ বিএনপি উভয় দল পরষ্পরকে বলে ও ছবি দেখায় তোমরা জামাতকে সাথে নিয়ে এ করেছো সে করেছো ইত্যাদি ইত্যাদি । আর নিরপেক্ষ সুশীলরাও বলেন জামাতকে কমবেশী বড় দুই দলই সুবিধা ও স্বীকৃতি দিয়েছে । এছাড়াও বর্তমান সরকার কর্তৃক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার ও শাস্তিদান জামাতকে একাত্তর কেন্দ্রিক দুর্ণামের দায়মুক্তি দিবে । পরবর্তীতে একাত্তর নিয়ে জামাতকে কোনঠাসা করার সুযোগও থাকবে না । অন্যদিকে এবারকার আন্দোলনে জামাত তার নিজস্ব শক্তি সম্পর্কে জাতিকে জানান দিতে সক্ষম হয়েছে এবং নিজ কর্মীদের মনোবল বেড়েছে । এখন জামাত যদি বিএনপিকে ত্যাগ করে ক্ষতিটা কার হবে ? বিএনপি কী পারবে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে দাবী আদায়ের মত আন্দোলন গড়ে তুলতে নাকি নির্বাচনী রাজনীতিতে সুবিধা নিতে ? জোটে থাকার পরও বিএনপি যেহেতু কোন উপকারেই আসেনি, বরং আওয়ামীলীগের রোষানলে পড়তে হয়েছে । এখন জামাত একলা চলার কৌশল অবলম্বন করলে আওয়ামী শত্রুতাও কমবে এবং ভবিষ্যতে একক শক্তির জন্য সংগঠন তৈরীতেও সহায়ক হবে । এ্যান্টি আওয়ামীলীগ মানুষিকতা সম্পন্ন নাগরিকরা বর্তমানে বিএনপিকে বেছে নেয়, যা জামাতকে অর্জন করতেই হবে । আর তা করার জন্য কোন না কোন এক সময় জামাতকে এককভাবে চলতেই হবে । আর তা শুরু এ নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হলে খুব বেশী অবাক হবেন কি ? নাকি তা নিছক গুজব, যার কোন বাস্তব ভিত্তি নাই । জামাত বিএনপি জোট থেকে বের হয়ে একক ভাবে নির্বাচন করার আরেকটি গুজব ইতিমধ্যে পত্র-পত্রিকায় এসেছে । যাহোক, গুজবটি তুলে ধরার পূর্বে জামাতের অভ্যন্তরে সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের অবস্থান সম্পর্কে একটু আলোকপাত করা দরকার । জামাতকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে থিন্ক ট্যাংক হিসেবে অধ্যাপক গোলাম আযমের অভিজ্ঞতা, দূরদর্শীতা ও বিচক্ষণতা অতুলনীয় । তাই দেখা যায় ৭৯ সালে জামাত রাজনীতি করার সুযোগ পেলেও গোলাম আযম দেশে ডুকতে না পারা এবং নাগরিকত্ব ফিরে না পাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে আব্বাস আলী ৯১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন । কমবেশী সবাই জানেন পর্দার অন্তরালে আমীর ছিল অধ্যাপক গোলাম আযমই । অধ্যাপক গোলাম আযমের আমৃত্যু দিক নির্দেশনা পাওয়ার আশায় জামাত ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাকের মাধ্যমে সরকারের উপদেষ্টা গওহর রিজভীর সাথে বৈঠক করেন এবং গোলাম আযমের ফাঁসী না দিয়ে কারাদন্ডের ব্যবস্থা করান, বিনিময়ে জামাত কৌশলে বিএনপি থেকে বের হয়ে একক ভাবে নির্বাচনে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন । ফলে কারাগার থেকে অধ্যাপক গোলাম আযম দলকে বুদ্ধিপরামর্শ দিবেন এবং দলকে বাহ্যিক নেতৃত্ব দিবে ব্যারিষ্টার আবদুর রাজ্জাক সহ অন্যরা, যাদের রাজাকারের দু্র্ণাম নেই, ফলে দুর্ণামমুক্ত জামাত অল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের কাছাকাছি যেতে পারবে । ও হ্যাঁ, আগেও বলেছি এখনও বলছি- গুজবে কান দিবেন না । তবে গুজব ছড়াতে কিন্তু নিষেধ নেই । তাই পক্ষে গেলে আরো রং মেখে ছড়িয়ে দিন, আর বিপক্ষে গেলে চেপে যান ও পরবর্তী গুজবটিতে চোখ বুলান, দেখেন যদি কিছু পাওয়া যায় ।

৮ thoughts on “গুজব আইলো!!!!!…………………পালান!!!!!

  1. ভালো লিখেছেন। কিন্তু লেখায়
    ভালো লিখেছেন। কিন্তু লেখায় প্যারা নেই বলে পড়তে ও দেখতে খারাপ লাগছে। প্যারা করে করে লিখলে সুবিধা হয়।

  2. আমার বিশ্বাস এটা আপনার নিজস্ব
    আমার বিশ্বাস এটা আপনার নিজস্ব ভাবনা। তবে ঘটনাগুলো যে ঘটবে না, তা বলা মুশকিল! কারণ সব সম্ভবের দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। সুতরাং অপেক্ষায় রইলাম….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *