২৪২: তাবুক যুদ্ধ-১৫: মসজিদ ধ্বংসের কারণ ও কৈফিয়ত!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর তাবুক অভিযানের প্রাক্কালে কী অজুহাতে ‘মসজিদ ধ্বংসের’ নির্দেশ জারী করেছিলেন, তা তিনি নিজে তাঁরই রচিত ‘ব্যক্তি-মানস জীবনী গ্রন্থ’ কুরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (কুরআন: ৯:১০৭)। আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারী তাঁদের সিরাত গ্রন্থে ‘এই মসজিদ ও মসজিদ নির্মাতাদের’ বিশয়ে অতিরিক্ত আর কোন তথ্য উদ্ধৃত করেন নাই। কিন্তু, আল-ওয়াকিদি এই বিশয়ে আর যে তথ্যগুলো উদ্ধৃত করেছেন, তা হলো এই:

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত ও বিস্তারিত বর্ণনা: [1]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ২৪১) পর:

‘মদিনায় আগমনের পর আল্লাহর নবী আসিম বিন আদি-কে মসজিদ প্রদানের প্রস্তাব করেন, এই কারণে যে, ওয়াদিয়া বিন থাবিত ও আবু আমিরের বাড়ির পাশে তার যে বাড়িটি ছিল; যেগুলো ছিল মসজিদটির সাথে লাগানো, উভয়ই সেটির সাথে পুড়ে গিয়েছিল। সে বলে, “আমি আমার বাড়ির জন্য কখনই এরূপ কোন জায়গা নেব না। বস্তুতই আমি এটি ছাড়ায় যথেষ্ট। বরং, থাবিত বিন আকরামের কোনো বাড়ি নেই, সুতরাং আপনি তাকে তা দান করুন।” তাই তিনি থাবিত-কে তা দান করেন।

আবু লুবাবা বিন আবদ আল-মুনধির এটি তৈরি করতে তাদের-কে কাঠ দিয়ে সাহায্য করেছিল। সে ভণ্ডামিতে নিমজ্জিত ছিল না, কিন্তু সে এমন কাজ করেছিল যা ছিল ঘৃণ্য। মসজিদটি যখন ধ্বংস করা হয়েছিল, আবু লুবাবা সেটির কাঠ নিয়ে এসে দিয়ে মসজিদটির জায়গার পাশে একটি বাড়ি তৈরি করেছিল। সে বলেছিল যে ঐ বাড়িতে তার জন্য কোনো কিছু কখনোই উৎপন্ন হয় নাই। কোন কবুতর তাতে এসে থামে নাই, কখনোই নয়। কোন মুরগি এর মধ্যে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বের করে নাই, কখনোই নয়।

যারা এই মতবিরোধের মসজিদটি (The Mosque of Dissent) নির্মাণ করেছিল তাদের সংখ্যা ছিল পনেরো জন। জারিয়া বিন আমির; ইবনে আল-আততাফ, যে হিমার আল-দার নামে পরিচিত; তার পুত্র মুজামমি বিন জারিয়া, যে ছিল সেটির ইমাম; ও তার পুত্র যায়েদ বিন জারিয়া, যে ছিল সেই যার অণ্ডকোষটি পুড়ে গিয়েছিল ও যে কারণে সে বাইরে আসতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেছিল; ও তার পুত্র ইয়াযিদ বিন জারিয়া; ও ওয়াদিয়া বিন থাবিত (ও খিদাম বিন খালিদ)। যারা তার বাড়ি থেকে বের হয়ে এসেছিল, তারা ছিল: আবদুল্লাহ বিন নাবতাল; বিজাদ বিন উসমান; আবু হাবিবা বিন আল-আযার; মুয়াততিব বিন কুশায়ের; আববাদ বিন হুনায়েফ; ও থালাবা বিন হাতিব।

আল্লাহর নবী বলেন: নাকের-দড়ি, নাকের আংটার (nose-ring) চেয়ে উত্তম। চাবুক, ‘Bijād’ এর চেয়ে উত্তম। আবদুল্লাহ বিন নাবতাল – যার খবরটি জানানো হয়েছিল – আল্লাহর নবীর কাছে আসতো ও তাঁর কথোপকথন শুনতো ও অতঃপর তা ভণ্ডদের কাছে হাজির করতো। জিবরাইল ফেরেশতা জানায়, “হে মুহাম্মদ, মুনাফিকদের মধ্য থেকে এক লোক আপনার কাছে এসে আপনার কথাবার্তা শুনে তা মুনাফিকদের কাছে পৌঁছায়।” আল্লাহর নবী বলেন, “তাদের মধ্যে কে?” জিবরাইল উত্তর দেয়, “কালো মানুষটি যার আছে অনেক চুল ও যার আছে পিতলের পাত্রের মতো দুটি লাল চোখ; তার কলিজা হলো গাধার কলিজা ও সে দেখে শয়তানের চোখ দিয়ে।” [2]

আসিম বিন আদি বর্ণনা করতো, এই বলে:

আমরা [যখন] নবীজীর সাথে তাবুক যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন আমি আবদুল্লাহ বিন নাবতাল ও থালাবা বিন হাতিব-কে মতবিরোধের মসজিদটির সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। তারা জলনিকাশের পথটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছিল ও এতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তারা বলেছিল: “হে আসিম, নিশ্চয়ই আল্লাহর নবী আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি যখন ফিরে আসবেন তখন তিনি এতে নামাজ আদায় করবেন।” আমি নিজেকে বলি, আল্লাহর কসম, এই মসজিদটি নির্মাণ করেছে মুনাফিকরা, যারা তাদের ভণ্ডামির জন্য সুপরিচিত। আবু হাবিবা বিন আল-আযর এটি প্রতিষ্ঠা করেছে। আমি খিদাম বিন খালিদের বাড়ি থেকে বের হয়ে আসি ও ওয়াদিয়া বিন থাবিত ছিল সেই দলে।

আল্লাহর নবী তাঁর নিজ হাতে যে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন তা জিবরাইল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও (কাবা) ঘরের দিকে মুখ করা। আল্লাহর কসম, আমরা আমাদের যাত্রা থেকে ফিরে আসার সাথে সাথে এর ত্রুটিগুলো এবং এই ঘরের ভিতরে যে লোকগুলো সমবেত হয়েছিল ও এতে সাহায্য করেছিল তাদের ত্রুটিগুলোর বিষয়ে কুরআন অবতীর্ণ হয়।

“এরাই ছিল তারা, যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ অনিষ্ট ও অবিশ্বাসের তাড়নায়” —–এখান থেকে এই বাণী পর্যন্ত, “আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন” [কুরআন: ৯:১০৭-১০৮]। তারা বলেছে যে তা পরিষ্কার করা হয়েছিল পানি দ্বারা। “তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত যে মসজিদ” [–সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান (কুরআন: ৯:১০৮)]” —- সে বলেছে: সে বোঝাতে চেয়েছে, এর মানে হলো ‘কুবার’ মসজিদটি, যা আমর বিন আউফ নির্মাণ করেছিল। [3]

বলা হয়: এটি মদিনায় নবীর মসজিদটি-কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

সে বলেছে: আল্লাহর নবী বলেন, “তাদের মধ্যে ধন্য সেই ব্যক্তি, ইউয়াইম বিন সায়েদা!”

আসিম বিন আদি-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “কেন তারা এটি নির্মাণ করতে চেয়েছিল?” সে জবাবে বলেছিল:

তারা আমাদের মসজিদে জড়ো হয়েছিল ও তারা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করছিল ও একে অপরের দিকে ফিরছিল, আর মুসলমানরা তাদের চাহনি দিয়ে তাদের-কে অনুসরণ করছিল। এটি ছিল তাদের জন্য কষ্টদায়ক, তাই তারা তাদের নিজেদের জন্য একটি মসজিদ আকাঙ্ক্ষা করেছিল। তাদের সাথে একমত পোষণকারীরা ছাড়া আর কেউ সেটিতে যেতো না।

আবু আমির বলতো, “আমি তোমাদের এই বেষ্টিত স্থানে যোগদান করতে পারছি না। এটি এই কারণে যে, মুহাম্মদের সঙ্গীরা আমাকে অনুসরণ করে ও আমাকে এমনভাবে কষ্ট দেয় যা আমি প্রচণ্ড ঘৃণা করি।” তাই তারা বলেছিল, “আমরা একটি মসজিদ নির্মাণ করবো ও আপনি তার ভিতরে আমাদের সাথে কথা বলবেন।”‘ —

  • – অনুবাদ, টাইটেল ও [**] যোগ – লেখক।
  • >>> গত পর্বের আলোচনায় আমরা জেনেছি, তাবুক অভিযানের প্রাক্কালে নবী মুহাম্মদ ‘তাঁর আল্লাহর’ রেফারেন্সে যে অজুহাতটি ব্যবহার করে “মসজিদ ধ্বংসের” নির্দেশ জারী করেছিলেন, তা ছিল এই: [4]
  • “আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক।( কুরআন: ৯:১০৭)
  • আদি উৎসের সকল ‘সিরাত’ লেখকদের বর্ণনায় গত-পর্বের আলোচনায় আমরা আরও জেনেছি যে, তাবুক অভিযানে “রওনা হওয়ার প্রাক্কালে” যখন মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ মদিনা থেকে এক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত ‘ধু আওয়ান’ নামক স্থানে এসে যাত্রা বিরতি দিয়েছিলেন, তখন এই মসজিদ নির্মাতাদের কিছু লোক নবী মুহাম্মদ-কে তাঁদের এই নব নির্মিত মসজিদটির ভিতরে এসে প্রার্থনা ও দোয়া করার অনুরোধ করেছিলেন। আর নবী মুহাম্মদ তাঁদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই বলে:
  • “বস্তুত, আমি ভ্রমণে যাচ্ছি ও খুব ব্যস্ত আছি। যখন আমরা ফিরে আসবো, আমরা এতে তোমাদের সাথে প্রার্থনা করব।
  • কিন্তু তাবুক অভিযান থেকে প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে যখন তিনি আবার এই স্থানটিতে আসেন, তখন “জিবরাইল” তাঁকে উপরি উক্ত খবর-টি (কুরআন: ৯:১০৭) জানায়। আর তা জানার পরই মুহাম্মদ এই মসজিদ-টি পুড়িয়ে ফেলার আদেশ জারী করেন। অর্থাৎ, মসজিদ-নির্মাতারা যে “জিদের বশে এবং কুফরির তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে” এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ও তাঁরা যে “সবাই মিথ্যুক ছিলেন”, তা নবী মুহাম্মদ এই ওহী আসার পূর্ব পর্যন্ত জানতেন না! তিনি তা জেনেছেন অশরীরী জিবরাইল মারফত, যাকে একমাত্র তিনিই দেখতে পান ও একমাত্র তিনিই তার কথা শুনতে পান!
  • সুতরাং, এই মসজিদ ও মসজিদ-নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ যে অজুহাত-টি হাজির করেছিলেন, তার সপক্ষে কোনরূপ প্রমাণ (Evidence) বা সাক্ষী হাজির না করেই মুহাম্মদ মসজিদ ধ্বংসের আদেশ জারী করেছিলেন!

>>> আর আদি উৎসে আল-ওয়াকিদিরি ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা সুস্পষ্ট তা হলো, এই মসজিদ নির্মাতারা যে কারণে মসজিদটি তৈরি করেছিলেন, তা হলো:

“মুহাম্মদের এই অনুসারীরা যখন মদিনার মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেন, তখন মুহাম্মদের অন্যান্য অনুসারীরা তাদের চাহনি দিয়ে তাদের-কে অনুসরণ করতো, এটি ছিল তাদের জন্য কষ্টদায়ক।”

নিশ্চিতরূপেই তাঁদের প্রতি এই মুহাম্মদ অনুসারী মুমিনদের চাহনি সৌহার্দ বা বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না। তাঁরা তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। সে কারণে তাঁরা কষ্ট পেয়েছিলেন ও এই বিষয়টি-কে তাঁরা ঘৃণা করতেন। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের প্রত্যাশায় তাঁরা তাঁদের নিজেদের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল। এটিই ছিল তাঁদের অপরাধ!

আল-ওয়াকিদির এই বর্ণনায় আর যা সুস্পষ্ট, তা হলো:

“এই মসজিদটি মদিনায় নবীর মসজিদটি-কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল ও তাদের সাথে একমত পোষণকারীরা ছাড়া (যাদের-কে মুহাম্মদ মুনাফিক-রূপে আখ্যায়িত করেছিলেন।) আর কেউ এটিতে যেতো না।

প্রশ্ন হলো, “এই একমত পোষণকারীদের সংখ্যা কত ছিল?” যদি এই সংখ্যা সামান্য হবে তবে নবী মুহাম্মদ কী কারণে এতটা বিচলিত ও ক্রুদ্ধ হবেন? এতটায় ক্রুদ্ধ যে তিনি সেই মসজিদটি ধ্বংস করবেন ও ওহী নাজিল করে তিনি তাঁর এই কাজের ‘অজুহাত’ হাজির করবেন?

তাবুক অভিযান উপাখ্যানের গত চৌদ্দটি পর্বের বর্ণনায় প্রতীয়মান হয় যে এই অভিযানের প্রাক্কালে মুহাম্মদ নিশ্চিতই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে তাঁর বিরুদ্ধচারী অনুসারীদের (মুনাফিকদের) সংখ্যা ছিল অগণিত। সে কারণেই, এই অভিযানের প্রাক্কালে এই অনুসারীদের উপলক্ষ করে তিনি ‘তাঁর আল্লাহর নামে’ মসজিদটি ধ্বংসের এই আয়াতটি সহ কমপক্ষে সাতাত্তর-টি বানী বর্ষণ করেছিলেন (পর্ব-২২৮)। 

  • [ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এই অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে আল-ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনার মূল ইংরেজি অনুবাদটি সংযুক্ত করছি।]

The narratives of Al-Waqidi: [1]

‘When the Messenger of God arrived in Medina he offered ‛Āṣim b. ‛Adī the mosque for a house which sided the house of Wadῑ‛a b. Thābit and the house of Abū ‛Āmir; that were attached to the mosque, both had burned with it. He said, “I would never take a place such as this for my home. Indeed I am sufficient without it. Rather, Thābit b. Aqram has no house, so give it to him.” So he gave it to Thābit. Abū Lubāba b. ‛Abd al-Mundhir had helped them build it by providing wood. He was not immersed in hypocrisy, but he had done things that were detestable. When the mosque was destroyed Abū Lubāba took its wood and built a house with it beside the place of the mosque. He said that nothing was ever born to him in that house. A pigeon did not stop in it, ever. A hen did not hatch in it, ever.

Those who built the Mosque of Dissent were fifteen. Jāriya b. ‛Āmir; b. al-‛Aṭṭāf who was known as Ḥimār al-Dār; his son Mujammi‛ b. Jāriya who was its imām; and his son Zayd b. Jāriya-he whose scrotum were burned so that he refused to come out, and his son Yazῑd b. Jāriya, and Wadῑ‛a b. Thābit (and Khidhām b. Khālid). Those who came out of his house were: ‛Abdullah b. Nabtal, Bijād b. ‛Uthmān, Abū Ḥabība b. al-Az‛ar, Mu‛attib b. Qushayr, ‛Abbād b. Ḥunayf, and Tha‛laba b. Ḥāṭib.

The Messenger of God said: The nose-rope is better than a nose-ring. The whip is better than the Bijād. ‛Abdullah b. Nabtal — whose news was informed — used to come to the Messenger of God and listen to his conversation and then bring it to the Hypocrites. The angel Gabriel said, [Page 1048] “O Muḥammad, indeed a man from the Hypocrites comes to you and listens to your conversation and takes it to the Hypocrites.” The Messenger of God said, “Which of them is it?” Gabriel replied, “The black man who possesses much hair, and red eyes like two pots of brass; his liver is the liver of a donkey and he watches with the eye of Satan.” ‛Āṣim b. ‛Adῑ used to relate saying: we were preparing to go to Tabūk with the Prophet, when I saw ‛Abdullah b. Nabtal and Tha‛laba b. Ḥāṭib. standing in front of the Mosque of Dissent. They had overhauled the drain and were exhausted from it. They said, “O ‛Āṣim, surely the Messenger of God has promised us that he will pray in it when he returns.” I said to myself, by God, this mosque was built by Hypocrites, well known for their hypocrisy. Abū Ḥabība b. al-Az‛ar established it. I came out of the house of Khidhām b. Khālid and Wadῑ‛a b. Thābit was in that group.

The mosque that the Messenger of God built with his hands was established by Gabriel facing the House (Ka‛ba). By God, we had barely returned from our journey when the Qur’ān revealed its faults, and the faults of its people who gathered in its building and helped with it. Those are they who put up a mosque by way of mischief and infidelity … until His words God loves those who make themselves pure (Q. 9:107). They said they were cleansed by the water. A mosque is established on piety … He said: he means the mosque built by ‛Amr b. ‛Awf in Qubā’. It was said: It affected the mosque of the Prophet in Medina. He said: The Prophet said, “Blessed is the man among them, ‛Uwaym b. Sā‛ida!”

It was said to ‛Āṣim b. ‛Adῑ: Why did they want to build it? He replied: They were gathering in our mosque, and they were whispering among themselves, and turned to each other, [Page 1049] and the Muslims followed them with their eyes. That was hard on them so they desired a mosque for themselves. No one would visit it except those who had the same opinion. Abū ‛Āmir used to say, “I am not able to enter this enclosure of yours. That is because the companions of Muḥammad follow me and hurt me in a way that I detest.” So they said, “We will build a mosque and you will talk with us in it.”’—-

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *