কাজলের দিনরাত্রি– অনেক স্বপ্ন দেখানো এক স্বপ্নের অপমৃত্যুর গল্প……


ফাওয়াজ নবী কাজল। বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত ধনী ও সফল বিজনেসম্যান আলতাফ নবী এবং অভিজাত সুন্দরী ও রূচিশীল রমণী শায়লা নবীর একমাত্র সন্তান। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাবার কারনে কাজলের জগত সীমাবদ্ধ কম্পিউটার গেমস, পাশ্চাত্য গানের দল ও স্কুলের হাইব্রিড ফ্রেন্ডদের মধ্যে। কিন্তু তার মাঝেও নিজের দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ভালবাসা অপরিসীম। দেশের সবচেয়ে দামি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়া কাজল অতিরিক্ত কাজের চাপে চিড়েচ্যাপ্টা হওয়া তার বাবাকে কাছে পায় না। বাবা তার কাছে অনেকটা অপরিচিত একজন মানুষ। তাই তার মাই তার কাছে সবকিছু। তাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত মুখস্ত করে রাখা কাজলের মা এক পলক দেখেই বলে দিতে পারেন কাজল এর পরের মুহূর্তে কি করবে, কি বলবে।

হঠাৎ এক সকালে এক ঘূর্ণিবাকে পড়ে পাল্টে যায় কাজলের জীবনজাহাজের গতিপথ। বিশ্বাস নামের এক কাঁচে হঠাৎ এক ভয়াবহ ফাটল আবিস্কার করেন কাজলের মা । ক্ষোভে, দুঃখে এক কাপড়ে ওই প্রাসাদ ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন তিনি। প্রাচুর্যে অভ্যস্ত কাজল তার বাবা-মার সম্পর্ককে এভাবে ছত্রখান হতে দেখে হয়ে যায় দিশেহারা। উদভ্রান্ত কাজল পড়ে তার ১৩ বছরের জীবনের সবচেয়ে গভীর সংকটে। সব সংশয় কাটিয়ে বাবার গড়া ঐশ্বর্যের প্রাসাদ পেছনে ফেলে সে যখন মায়ের পিছু পিছু রুঢ় বাস্তবতাকে মানিয়ে নেবার পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়, তখন হঠাৎ অপ্রত্যাশিতভাবে সে দেখা পেয়ে যায় কিছু বাধভাঙ্গা তারুণ্যের। যারা তাকে সঙ্গ দেয় চেষ্টায়, সাহসে, বুদ্ধিতে শেষ স্টেশন পর্যন্ত…

এভারেস্ট জয় করে নামার পথে অসুস্থ ও অবহেলার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করা অকালপ্রয়াত চিত্র নির্মাতা সজল খালেদের পরিচালনায় এবং জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল এর শিশুতোষ উপন্যাস কাজলের দিনরাত্রি অবলম্বনে নির্মিত শিশুতোষ চলচিত্র কাজলের দিনরাত্রি এর ওয়ার্ল্ড টিভি প্রিমিয়ার হল আজ ১০ই আগস্ট, ২০১৩ চ্যানেল আইতে। সরকারী অনুদানে নির্মিত এই চলচিত্রে অভিনয় করেছেন আল মনসুর, তারিন, ইরেশ যাকের, শামীম শাহেদ, ঝুনা চৌধুরীসহ একঝাঁক দক্ষ শিশুশিল্পী। কাজল চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশেক হোসেন তন্ময়। এই মুভির সিনেমাটোগ্রাফী করেছেন বহুবার জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন, জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত গীতিকার কবীর বকুলের লেখা গানে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান সুরকার লাকী আখন্দ। প্রথমে এই মুভিতে আফজাল হোসেন ও রোকেয়া প্রাচীর অভিনয় করবার কথা থাকলেও কোন এক অজানা কারনে পরবর্তীতে তারা আর অভিনয় করেননি। তবে যারা করেছেন, তারা তাদের অভাব একটুও বুঝতে দেননি। পুরো মুভিতে তারিন ছিলেন অতি অস্থির। আল মনসুরও তার মান বজায় রেখেছেন। ইরেশ যাকেরকে এই মুভিতে সত্যিই চমৎকার লেগেছে। বিশেষ করে তার ডায়ালগ থ্রোয়িং এ যে সমস্যাটা ছিল, তা এই মুভিতে তিনি কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন বলে মনে হল। কিছু চমৎকার ডায়ালগ ছিল। আর নতুনদের মধ্যে কিংশুক এবং তৃণা চরিত্রে অভিনয় করা ছেলে-মেয়ে দুইটার অভিনয় যথেষ্ট ভালো লেগেছে।

কিছুটা হতাশার হলেও সত্য যে বইটা যাদের পড়া আছে তারা এই মুভিটা দেখলে হতাশ হতে পারে। ফাস্ট ডায়ালগ থ্রোইং, সিকুয়েন্সে সমস্যা, কাজলের চরিত্রের ছেলেটার অপেক্ষাকৃত সাদামাটা অভিনয়, অতি অদ্ভুত এন্ডিং( যার সাথে বইয়ের এন্ডিং এর মিল খুজতে গিয়ে অনেকে চেয়ার থেকে পড়ে যেতে পারেন) ইত্যাদি অনেক অনেক অসঙ্গতি চোখে পড়বে মুভিটা দেখতে গিয়ে, যদি আপনি মুভি দেখতে গিয়ে খুঁত ধরতে বসেন। সেই মহামান্য মুভি ক্রিটিকদের উদ্দেশ্যে শুধু এইটুকু বলার— যত গুড়, তত মিষ্টি… আজকাল যেখানে কমার্শিয়াল মুভিতেই যথেষ্ট পরিমান বাজেট রাখা হয় না, সেখানে সরকারী অনুদানে অতি স্বল্প বাজেটে নবীন এক পরিচালকের জীবনের প্রথম নির্মিত চলচিত্র যা আবার শিশুতোষ, তার কাছে আপনারা আসলে কি চাইছেন তা আমার বোধগম্য না। প্রত্যেক ডিরেক্টরের প্রথম কাজেই কিছু খুঁত থাকে। তবে ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতায় তা শুধরে যায়। আমাদের এটা মনে রাখা প্রয়োজন, সজল খালেদের পক্ষে তার বানানো প্রথম মুভির ভুলগুলো শুদ্ধ করার জন্য আর ফিরে আসা সম্ভব নয়। সুতরাং, সমালোচনাটা সব দিক বিচার করে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন খালেদ… আপনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি…

১৫ thoughts on “কাজলের দিনরাত্রি– অনেক স্বপ্ন দেখানো এক স্বপ্নের অপমৃত্যুর গল্প……

  1. আসলে কোন উপন্যাস বা গল্পের
    আসলে কোন উপন্যাস বা গল্পের অবলম্বনে যদি মুভি হয়।আর আপনি যদি আগে গল্পটা পড়ে থাকেন তবে যে কোনো বড় ডিরেক্টারই ঐ মুভি বানালেও আপনার তেমন ভালো লাগবে না।কারন পড়ার সময় আপনি যেভাবে কল্পনা করবেন মুভিতে ঐ রকম হওয়া অসম্ভব।তাই মুভিকে দেখতে হবে মুভির মত করে।পঠিত বইয়ের মতন নয়।মুভিটা দেখবো এই আশা রাখছি।আপনাকে ধন্যবাদ।

    1. এটা সবসময় প্রযোজ্য নয়। অনেক
      এটা সবসময় প্রযোজ্য নয়। অনেক গল্প এবং উপন্যাস অবলম্বনে ভালো ভালো মুভি হয়েছে যেখানে গল্প বা উপন্যাসকে সেই মুভি ছাড়িয়ে গেছে।

      1. আতিক ভাই ভাল বলেছেন!!
        সার্থক

        আতিক ভাই ভাল বলেছেন!!
        সার্থক উদাহরণ আমাদেরই আছে…
        পথের পাঁচালী… উপন্যাস আর মুভি সফলতায় ১০০%!!’ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সি’ বা ‘হ্যারি পটারের’ কথা বাদই দিলাম!! এইসব দুই মাধ্যমেই সফল…
        আবার ‘ভিঞ্চি কোড’ উপন্যাস সফল মুভি ব্যর্থ বা ঐরকম সফল নয়!
        অন্যদিকে, ব্যর্থ কোন উপন্যাসের অনবদ্য মুভির উদাহরণ আমার জানা নাই… থাকলে জানাবেন :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    2. আসলে কোন উপন্যাস বা গল্পের

      আসলে কোন উপন্যাস বা গল্পের অবলম্বনে যদি মুভি হয়।আর আপনি যদি আগে গল্পটা পড়ে থাকেন তবে যে কোনো বড় ডিরেক্টারই ঐ মুভি বানালেও আপনার তেমন ভালো লাগবে না।কারন পড়ার সময় আপনি যেভাবে কল্পনা করবেন মুভিতে ঐ রকম হওয়া অসম্ভব।তাই মুভিকে দেখতে হবে মুভির মত করে।পঠিত বইয়ের মতন নয়।মুভিটা দেখবো এই আশা রাখছি।

      ঠিক তাই… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: কবিতা তোমায় দিলাম ছুটি… পুরোপুরি সহমত আপনার সাথে। কিন্তু গতকাল মুভিটা অনএয়ার হবার পর কিছু অতিবিজ্ঞ মুভি সমালোচক যেভাবে এই মুভিটা নিয়ে বলতে শুরু করেছিলেন, তা ঠিক সহ্য করতে পারিনি। নিঃসন্দেহে সজল খালেদ একজন প্রতিভাবান চিত্র পরিচালক ছিলেন আর এটা ছিল তার প্রথম কাজ। অতি অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় তার প্রতি আর কোনদিন সম্ভব নয় তার প্রথম চলচ্চিত্রে করা ছোট ছোট সীমাবদ্ধতাগুলকে কাটিয়ে উঠা… কিন্তু আমাদের এই বিশেষ+অজ্ঞ=বিশেষজ্ঞ সমালোচকদের সমালোচনা দেখে মনে হল, এই চলচিত্র আমাদের সংস্কৃতির জন্য এক বিশাল কলঙ্ক… মিজাজটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল… মুভিটা দেখার ইচ্ছা পোষণের জন্য আপনাকে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :ফুল: :ফুল: ভালো থাকবেন… 😀

  2. দেশী মুভির রিভিউ করায় আপনাকে
    দেশী মুভির রিভিউ করায় আপনাকে স্পেশাল ধন্যবাদ ।মুভিটা দেখবো আশা করি ।

    1. আপ্নাকেও কয়েকশো টন ধইন্না
      আপ্নাকেও কয়েকশো টন ধইন্না পাতা :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: , খুব দ্রুতই এই মুভিটা প্রেক্ষাগৃহে আসবে , দেখতে যাবার জন্য আমন্ত্রন ও অগ্রিম :গোলাপ: :গোলাপ: :ফুল:

  3. বইটা পড়া আছে। ভালো গল্প।
    বইটা পড়া আছে। ভালো গল্প। বাংলাদেশে শিশুতোষ মুভি খুব কমই হয়। কালেভদ্রে যাও দুই একটা হয় তাতে মূল সমস্যাটা আমার কাছে মনে হয় শিশু শিল্পীর অভিনয়গত সমস্যা। একই সমস্যা “আমার বন্ধু রাশেদ” চলচ্চিত্রেও ছিল। রাশেদ এবং ইবুর চরিত্রে যারা অভিনয় করেছিলো তাদের অভিনয় ভালো হয়নি। তবে এটাও মাথায় রাখা প্রয়োজন, শিশুতোষ মুভি শিশু দর্শকদের টার্গেট করে বানানো হয়। শিশুদের ভালো লাগলেই হলো।

    1. আমার বন্ধু রাশেদ মুভিটায় আসলে
      আমার বন্ধু রাশেদ মুভিটায় আসলে মুল গল্পটাকে ফুটিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই ছিল বলে আমার অভিমত। কিন্তু মাঝে মাঝেই দর্শকের কাছে মনে হয় অভিনয়টা বোধয় ১০০% হচ্ছে না। এর কারন হিসাবে আমার মনে হয় উপন্যাসটাই মূলত দায়ী। উপন্যাসটা এতটাই চমৎকার আর মর্মস্পর্শী যে, দর্শকের মনে এর প্রভাবটা পড়ে খুব গভীরভাবে। সুতরাং যদিও রাশেদ আর ইবু চরিত্রে অভিনেতা দুজন তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করেছে বলে আমার মনে হুয়, তারপরও দর্শকের মনে কিছুটা অতৃপ্তি থেকে যায়, দর্শকের মনে হয় আরেকটু ভালো হতে পারত। আর

      শিশুতোষ মুভি শিশু দর্শকদের টার্গেট করে বানানো হয়। শিশুদের ভালো লাগলেই হলো।

      আপনার এই কথাটার সাথে কষিয়া সহমত। পিচ্চিদের জন্য বানানো মুভি পিচ্চিদের ভালো লাগলেই হল, :ভেংচি: :চোখমারা: :চোখমারা: আমাদের মত বৃদ্ধদের জন্য তো আরও মুভি পড়েই আছে… :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাসি: 😀

    1. মুভিটা যদি গল্পের মত ভেবে
      মুভিটা যদি গল্পের মত ভেবে থাকেন তবে হতাশ হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তবুও অনন্ত ভাইয়ের সুরে আপনাকে মোস্ট ওয়েলকাম।… :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :হাহাপগে: :হাহাপগে: মুভিটা দেখার ইচ্ছা পোষণের জন্য অসংখ্য অসংখ্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ফুল: 😀

    1. অনেক অনেক ঠিক করে
      অনেক অনেক :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ঠিক করে দিয়েছি… 😀 মুভিটা হলে গিয়ে দেখার অনুরোধ রইল… :থাম্বসআপ: :গোলাপ: :ফুল:

  4. হলে গিয়ে দেখব!! যাতে করে
    হলে গিয়ে দেখব!! যাতে করে খালেদ ভাইয়ের প্রচেষ্টা সফল হয়!!
    রাআদ ভাই আবারও আপনাকে ধন্যবাদ… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. আপনাকেও অসংখ্য আর
      আপনাকেও অসংখ্য :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :গোলাপ: আর প্রেক্ষাগৃহে দেখতে যাবার জন্য আগাম :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: 😀

  5. এতদিন শুধু ধন্যবাদই পেয়েছি
    এতদিন শুধু ধন্যবাদই পেয়েছি কিন্তু আজ আপনার কাছ থেকে ধইন্না পাতাও পেলাম!

    তবু একটা কিছু পেয়েছি যে, তাতেই আমি ধন্য হলাম ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *