সময় ও স্হানের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ অসহায় হয়ে পড়ে কেউবা কাউকে অসহায় বানায়।

গতকাল হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার বিখ্যাত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে একটা অসহায় মেয়েকে গন ধর্ষনের হাত থেকে রক্ষা করেছি। চা বাগানে ঘেরা সীমাহীন এই উদ্যানটি বেষ্টিত উচু টিলা ও স্হানে স্হানে গভীর জঙ্গল নিয়ে। প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য এটি অত্যন্ত উপযুক্ত। সারা বছরই প্রচুর দর্শনার্থী আসে। কেউবা শিক্ষা সফর কেউ পিকনিকের জন্য। আর জোরায় জোরায় ছেলে মেয়ে তো আছেই। ঈদ উপলক্ষে সেখানে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমীর সমাগমও ঘটে। গতকাল যখন আমরা ছয়জন গভীর জঙ্গলে হাটছিলাম, একটা উচু জায়গায় বসে বিড়ি ফুকছি। ঠিক তখনি অদূরে দেখলাম ছয়-সাত জন ছেলে একটা ছেলে ও মেয়েকে চা গাছের স্তুপকে ঘিড়ে দাড়িয়ে আছে। ভাবলাম হয়তো ছেলে মেয়েটির পরিবারে কেউ তাদের হাতে ধরা পড়েছে, তাই পাত্তা না দিয়ে আমরা গল্প করছি। হঠাত দেখি মেয়েটি সবার পায়ে ধরছে, একটা ছেলে মেয়েটিকে জোর করে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরছে। আবার মেয়েটিকে দুইটি ছেলে টেনে আরো গভীর জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মেয়েটি দেখি কেঁদে কেঁদে ওদের পায়ে ধরছে হাতজোর করছে তবুও ওই ছেলেগুলো টানা হেছড়া চালিয়ে যাচ্ছে মেয়েটিকে নিয়ে। যখন দেখলাম মেয়েটার প্রেমিক বাধা দিতে এসে মার খাচ্ছে তখন আর বসে থাকতে পারলাম না। আমরা উঠে দূর থেকেই তাদের উদ্দেশ্য করে ডাকতে ডাকতে এগিয়ে গেলাম। তাদের একটু কাছে যেতেই মেয়েটা আমাদের দেখে অনুনয় বিনয় শুরু করে দিলো। আমাদের ভরসায় মেয়েটির যেনো প্রান ফিরে এলো। কিন্তু সেই পশুতুল্য ছেলে গুলোকে ধরতে পারিনি। দৌড়ে পালিয়ে গেলো জঙ্গলে। পরে জানত পারি ছেলে মেয়ে দুটোর বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুরে। তখন ওদের একটা অটো ডেকে মাধবপুরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেই।

এটাতো একটা সাধারণ ঘটনা। এমন ঘটনা এখানে প্রতিয়নতই ঘটে। হয়তো গতকাল আরো ঘটেছে। কারন, ঐ এলাকটি সীমাহীন জঙ্গলে ঘেড়া। এক প্রান্তে থাকলে অন্য প্রান্তে কি হচ্ছে তা বুঝার উপায় নেই।
পাঁচটা হিংস্র পশুর সাথে লড়াই করে কোন প্রেমিকই তার প্রিয়তমাকে বাঁচাতে পারবেনা। তাই নিরাপদ কাছাকাছি জায়গায় ভ্রমন সীমাবদ্ধ রাখাই শ্রেয়।
তাদের সবার কাছে গতকালটি ছিল উপভোগ্য। সময় ও স্হানের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ অসহায় হয়ে পড়ে কেউবা কাউকে অসহায় বানায়। কারন. মানুষ আর মানুষ নেই। ক্ষমতাবানদেরই আজ ঈদ, পূজো আনন্দের উপভোগের।

এরপর আমরা আমাদের বাইক নিয়ে আঁকাবাকা পথ পেরিয়ে ছুটে চলি নতুন কোন প্রকৃতির সন্ধানে। দেখি, বুঝি প্রকৃতির সৃষ্টির মাঝেই কত বিচিত্র খেলা !

৯ thoughts on “সময় ও স্হানের পরিপ্রেক্ষিতে কেউ অসহায় হয়ে পড়ে কেউবা কাউকে অসহায় বানায়।

  1. সবাই যদি আপনাদের মতো সাহস করে
    সবাই যদি আপনাদের মতো সাহস করে এগিয়ে আসত তাহলে পশুগুলো এমন করার আর সাহস পেতনা। ধন্যবাদ আপনাকে।

  2. আপনাদের সাহসের প্রসংশা
    আপনাদের সাহসের প্রসংশা করছি।আর সত্যি বর্তমানে এমন অহরহ ঘটছে।আমাদের সকলের উচিত উদ্যোগী হওয়া এবং সেই সব পশুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

  3. বাস্তব অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করায়
    বাস্তব অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করায় অজস্র ধন্যবাদ।দুর্ঘম পর্যটন এলাকায় এধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে।এ থেকে উত্তরনের উপায় হিসেবে অতিরিক্ত ঝুকি যুক্ত এলাকায় পুলিশ বা আনসার মোতায়েন করা উচিৎ।পাশা পাশি প্রেমিক যুগলদের ও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে প্রেম খেলা খেলার আহবান জানাই!

  4. আপনাদের দায়িত্ব জ্ঞানের জন্য
    আপনাদের দায়িত্ব জ্ঞানের জন্য স্যালুট জানাই…. ভবিষ্যতেও এরুপ সাহসী কর্ম অব্যাহত রাখবেন আশা করছি….

Leave a Reply to জাকির হোসেন জ্যাকি Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *