‘বিলবোর্ড’ ফর্মুলা— কি হতে যাচ্ছে নতুন ট্রেন্ড সেটার

টক শোর নতুন একটা বিষয় পাওয়া গেছে, ‘বিলবোর্ড’। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ঘ্যানঘ্যান আর ভালো লাগছিলো না। একঘেয়ে র চূড়ান্ত বলতে যা বোঝায়। একপক্ষ মুখে ফেনা তুলছেন, এর উপকারিতা বোঝাতে আর অন্য পক্ষ বোঝাচ্ছেন এর অপকারিতা। ছুটকো ছাটকা বিষয় ও মাঝে মাঝে থাকছে। জিএসপি, জামায়াতের নিবন্ধ বাতিল হওয়া না হওয়া, যুবলীগ এসব দিয়ে আর যাই হোক নতুনত্ব অ্যানা যাচ্ছে না। জামায়াত ইলেকশান করতে পারবে কি পারবে না, বিএনপি কি প্রতিক্রিয়া দেখাবে এসব ব্যাপার চায়ের আড্ডা জমাচ্ছে তবে ‘টক শো’র বিষয় হিসেবে পুরনো। এগুলো এতোটাই গতানুগতিক যে নিয়মিত যে কোন দর্শক মুখস্থ বলতে পারবে, ইলেকশান কমিশন কে নিয়ে বিএনপি থেকে আগত কোন নেতা কি বলবেন। আর আওয়ামী জবাব কি হবে।
বাঙ্গালী রাজনীতি সচেতন, তবে তারচেয়ে বেশী সমালোচক। সব কিছুর ভেতরেই সমালোচনার বিষয় খুঁজে পেয়ে যায়। হরতাল ডাকলেও যেমন সমালোচনা করে, আবার না ডাকলেও বলে ‘বেটা দের সাহস নাই’। ফলে যে কোন কাজ করলে আলাপ হবে, এটা মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে। তবে বিতর্কিত কিছু করলে লাইম লাইটে থাকা যায় অনেক দিন। অশালীন গালি দিয়েও থাকা যায় আবার ‘রাবিশ’ এর মত ভদ্র গালি দিয়েও।
‘বিলবোর্ড’ নিয়ে আমি উৎসাহিত অন্য কারণে। অনেকদিন পরে তত্ত্বাবধায়ক আর জামায়াত ইস্যু থেকে মুক্তি পাওয়া গেছে। আলোচনায় এসেছে প্রচার এর ধরণ নিয়ে। এতদিন সরকারী প্রচার মাধ্যম ছিল ‘বিটিভি’ আর সম্ভবতঃ বাংলাদেশ বেতার (সম্ভবতঃ বলছি কারণ রেডিও শুনি না, তবে দুটোই যেহেতু এক গোয়ালের ই গরু, তাই একই স্বরে ডাকার কথা)। দিনরাত নিজেদের গুণগান করিয়েও ভরসা পাচ্ছে না সরকার। গুড উইলের এতোটাই বারোটা বেজেছে, সত্য কথা বললেও দেখা যাবে সবাই মিথ্যা ভাবছে। উড়াল সেতু উদ্বোধন হয়েছে বললেও হয়তো দর্শক ভাববে, আসলে সেতুটা তৈরিই হয় নি।
সরকারী যন্ত্রটি দেখতে অনাগ্রহী বিশাল এক দর্শক শ্রেণী, কেবল টিভির কল্যাণে অনেক আগেই রিমোট হাতে নিয়েছে। জোরপূর্বক অনেক চ্যানেলকে বিটিভির খবর দেখাতে বাধ্য করা হলেও লাভ কতটা হয়েছে কে জানে। এতো উন্নয়ন করার পরেও পাঁচ সিটিতে ধরাশায়ী আওয়ামী শিবির এবার তাই ঠিক করল, ঢোল পাল্টানো দরকার। নিজের ঢোল নিজে ছাড়া পেটানোর লোক আগেও ছিল না, এখন তো আরোই নেই। পুরনো ঢোলটাও আজকাল বাজিয়ে লাভ হচ্ছে না। নতুন ঢোল হিসেবে তাই ময়দানে আসলো ‘বিলবোর্ড’।
মনের কোনে ছোট্ট একটা আশা জাগছে, বোধহয় সরকার বুঝতে পারছে, ‘বিটিভি’ দিয়ে আর হচ্ছে না। ‘রাখালের বাঘ আসবার গল্প’ এখন আর কেউ বিশ্বাস করছে না। একে বরং কারামুক্ত করে দিই। নতুন ঢোলের সন্ধানে তাই নজর দেয়া হোল, বহু সড়ক দুর্ঘটনার রূপকার এই ‘বিলবোর্ড’ এর ওপরে। এতদিন সুন্দরী রমণী দেখে লালা ঝড়িয়ে দুর্ঘটনা ঘটতো, এখন আর তা হবে না। বেজায় বিশ্রী ডিজাইনে রঞ্জিত করে পুরো ঢাকা শহর জুড়ে পাল্টে দেয়া হোল এইসব ‘বিলবোর্ড’।
অনেকেই মনঃক্ষুণ্ণ হলেও আমি হইনি। এদেশে ছিনতাই এমন কোন ব্যাপার না। ভোটের আগে যেখানে টাকা ঢেলে নমিনেশান ছিনতাই করা যায়, যেখানে রাতারাতি আশীর্বাদ ছিনতাই করা যায় সেখানে বিলবোর্ড মাত্র মাস তিনেকের জন্য ছিনতাই, এমন বড় কোন ঘটনা না। খুব স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছি আমি। এর বক্তব্য নিয়েও আমার এমন কোন নালিশ নেই। অনেকেই বলছেন, এর চেয়েও ভালো করা যেত। আমি মন বলছে, এর চেয়ে আরও খারাপ হতে পারতো। কেউ বলছেন, এমন সব জটিল পরিসংখ্যান দেয়া হয়েছে যে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারবে না। কেউ বলছেন মিথ্যে বলেছেন, ইত্যাদি। আমি খুশী অন্য কারণে, মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী অবদান নিয়ে কথা বলা অন্ততঃ থেমেছে। বর্তমানে ফিরেছে, নিজেদের কৃত কর্মের জন্য জনগণের কাছে প্রতিদান চাইছে।
যদিও পুরোপুরি স্বীকার করছে না, কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা ভয় কাজ করছে। জনগণ কিভাবে নেবে বা নিচ্ছে তা দেখে আগামী কয়েকদিনের ভেতরেই তারা ঠিক করবে তাঁদের কর্মপরিকল্পনা। এবং যথারীতি অনেক দেরী করে ফেলবে। তবে আওয়ামী শিবির যা করেছে তা নিঃসন্দেহে ‘ট্রেন্ড সেটার’ হতে যাচ্ছে। যার উর্বর মস্তিষ্ক থেকেই আসুক কাজটা আর থামবে না। আগামী নির্বাচনে যেই জিতুক তারা তাঁদের প্রচারনায় এই পদ্ধতি ব্যবহার করবে, তা একরকম প্রায় নিশ্চিত।
নতুন এই ট্রেন্ড ধীরে ধীরে আরও উন্নত হবে। এরপর থেকে বৈধ বিলবোর্ড গুলো লিজ দেয়ার শর্ত হিসেবে থাকবে একটি ক্লজ, ‘সরকার চাইলে যেকোন সময় নিজের প্রয়োজনে নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে তা ব্যবহার করতে পারবে’। উন্নতি আরও আসবে। ডিজিটাল বিলবোর্ড ও যেমন আসবে তেমনি নামকরা ডিজাইনাদের ডিজাইনে সজ্জিত হবে বিলবোর্ড। তথ্যের মারপ্যাঁচ যেমন থাকবে তেমনি থাকবে অক্ষমতা ঢাকবার কৌশল। যেকোন প্রোডাক্ট যেভাবে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় করে তোলা হয়, একটি শাসনকাল কেও তাই করা হবে।
আগামী কিছুদিন প্রচুর তর্ক বিতর্ক হবে। এবং যথারীতি কিছুই হবে না। আমাদের রাজনীতিবিদরা একটা ব্যাপারে বেশ দরিদ্র। তা হচ্ছে নতুনত্ব তৈরিতে। খুব কম খাটনিতে বড় কোন প্রাপ্তি পেতে কোন দলেরই আপত্তি নেই। তাই দেখা যায় সেই কবে থেকে ‘হরতাল’ আর ‘সংসদ বর্জন’ হচ্ছে বিরোধী দলের নিত্য সঙ্গী। আর বিটিভিকে দলীয়করন করা, বিরোধী দলকে পুলিশ দিয়ে পেটানো আর সরকারী দলের চ্যালা চামুন্ডাকে টেন্ডার দিয়ে খুশী করা, সরকারী দলের রুটিন। নতুনত্বের এই আকালে এমন একটা ফর্মুলা দুই দলেরই উর্বর মস্তিস্কের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সাদরে প্রহন করবেন, এব্যাপারে আমি নিশ্চিত। আর তা যদি হয় তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই ফর্মুলা হতে যাচ্ছে নতুন ট্রেন্ড সেটার।

১১ thoughts on “‘বিলবোর্ড’ ফর্মুলা— কি হতে যাচ্ছে নতুন ট্রেন্ড সেটার

  1. ভালো লিখছেন।কিন্তু আমি
    ভালো লিখছেন।কিন্তু আমি বিলবোর্ড ব্যবহারে তেমন কোনো নেতিবাচক কিছু দেখছি না।হয়তো তারা প্রচারণার কারণে একটু বাড়িয়ে লিখবে তাই বলে কিছু না করেই করেছে এমনটা লিখতে পারবে না।আওয়ামী সরকার সামনের নির্বাচনে জেতার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।আমার মনে হয় উঠে পড়ে লাগাই উচিত।কারন আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি ক্ষমতায় যায় তবে জামাত শিবির চলে যাবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

  2. বিলবোর্ড এর ব্যবহার নিয়ে সব
    বিলবোর্ড এর ব্যবহার নিয়ে সব সময়ই প্রশ্ন ছিল। যে কোম্পানি গুলো এতদিন এগুলো বিজ্ঞাপনের জন্যে ব্যবহার করেছে তারা কতটা নিয়মমাফিক কাজটা করেছে। যাহোক আপনি মনে হয় একটা তথ্য এখনও জানেন না যে বিএনপি অলরেডি বাকি বিলবোর্ড গুলোতে নিজেদের প্রচারণার কাজ শুরু করে দিয়েছে। কেউ পিছিয়ে নেই।

  3. আমি মনে করি, শুধু ঢাকা শহর বা
    আমি মনে করি, শুধু ঢাকা শহর বা শহরে বিল বোর্ডে সরকারের প্রচারনায় কাজ খুব একটা ভাল হবে না। কারণ শহরের মানুষ মোটামুটি সব বিষয়ে অবহিত। বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে গ্রামে গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায়, মহল্লায় মহল্লায়। বিলবোর্ডের একটা বিরাট সুবিধা হলো মিথ্যাচারের সম্ভাবনা কম। কারণ মিথ্যাচার করলে রেকর্ড থেকে যাবে। ফলে মিথ্যাচার কমে যাবে, সাথে সাথে পাবলিক তূলনা করারও সুযোগ পাবে।

  4. যাক, এই বিষয়ে আমি আর আলাদা
    যাক, এই বিষয়ে আমি আর আলাদা কোন পোষ্ট তাহলে না-ই বা দিলাম!
    এই পোষ্ট আর কমেন্ট মিলিয়ে সব চলে এসেছে…
    গুড জব ম্যান! :রকঅন:

  5. খবরে দেখেছিলাম বিএনপি ও
    খবরে দেখেছিলাম বিএনপি ও বিলবোর্ড প্রচারণা করতে পারবে কিন্তু প্রচারণা শুরু করছে তা জানতাম না।এখন জানলাম।

  6. ভাল-মন্দে কারো চুলকানি থাক বা
    ভাল-মন্দে কারো চুলকানি থাক বা না থাক আমাদের কাজ আমোদেরই করতে হবে এতে কোন সন্দেহ নাই….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *