রেজা ভাইয়ের কষ্টের গল্প

লেখাটা বেশ কষ্ট নিয়ে লিখছি।গত পোস্টে আমাকে কপিপেস্ট ব্লগার বলা হয়েছে।আমার অনেক কষ্ট লেগেছে।হতে পারে আমি আপনাদের মত লিখতে পারিনা।তাই বলে এতটা আঘাত না করলেও পারতেন।এমনকি ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টিও আর্কষন করা হয়েছে।আমার চোখে জল চলে এসেছিল।আমার প্রথম পোস্টে ট্যাগ মানে বুঝতে না পারায়,প্রায় সব বিভাগ দিয়েছিলাম।তাই নিয়েও আমাকে নিয়ে উপহাস করা হয়েছে।মানুষ এত খারাপ হয় কীভাবে ?এতটুকু মনুষত্ব ও কি নেই মানুষের মধ্যে ?যাই হোক মনে অনেক কষ্ট নিয়ে লিখলাম


লেখাটা বেশ কষ্ট নিয়ে লিখছি।গত পোস্টে আমাকে কপিপেস্ট ব্লগার বলা হয়েছে।আমার অনেক কষ্ট লেগেছে।হতে পারে আমি আপনাদের মত লিখতে পারিনা।তাই বলে এতটা আঘাত না করলেও পারতেন।এমনকি ইস্টিশন মাস্টারের দৃষ্টিও আর্কষন করা হয়েছে।আমার চোখে জল চলে এসেছিল।আমার প্রথম পোস্টে ট্যাগ মানে বুঝতে না পারায়,প্রায় সব বিভাগ দিয়েছিলাম।তাই নিয়েও আমাকে নিয়ে উপহাস করা হয়েছে।মানুষ এত খারাপ হয় কীভাবে ?এতটুকু মনুষত্ব ও কি নেই মানুষের মধ্যে ?যাই হোক মনে অনেক কষ্ট নিয়ে লিখলাম

শিহাবের ট্রেন ভাগ্য খুবই খারাপ। তার সিট সবসময় এমন জায়গায় পড়ে, যেখানটায় লোক চলাচল একটু বেশি। ট্রেন কোন স্টপেজে থামলেই গিজগিজ করে লোক ওঠে এবং পাশ কাটিয়ে যাবার সময় কনুইয়ের গুতা খেতে হয় শিহাবকে। আর জানালার পাশে তো কখনোই সিট পড়ে না শিহাবের। যদিও বা ভুলে কখনো পড়ে-ই, তাহলে দেখা যায় জানালার শাটার নষ্ট। অনেক ঠেলাঠেলি করেও উপরে ওঠানো যাচ্ছে না।
কিন্তু এবার ঈদের ছুটিতে বাড়ি যেতে গিয়ে অদ্ভূতভাবে খুব ভাল একটা সিট পেয়ে গেল শিহাব। সিটটা ট্রেনের মাঝামাঝি জায়গায়, জানালার পাশে। না, জানালার শাটারেও কোন সমস্যা নেই। সবকিছু ঠিক ঠাক। শিহাব মনে মনে বেশ খুশী হয়ে উঠল! ব্যাগটা উপরে তুলে রেখেবেশ আরাম করে জানালায় কনুই তুলে দিয়ে বসে পড়ল। যদিও ট্রেন ছাড়েনিএখনও, কিন্তু বেশ বাতাস বইছে। আকাশে মেঘও নেই আবার রোদও নেই। কে জানে বৃষ্টি হবে কি না।
ট্রেন ছাডতে এখনও পনের মিনিট বাকি, তাই শিহাব ব্যাগ থেকে একটা উপন্যাস বের করল। আর্নেস্ট হোমিংওয়ের “আ ফেয়ারওয়েল টু আর্মস”। শিহাবের অত্যন্ত প্রিয় বই। বইয়ে মুখ ডুবিয়ে দিল শিহাব।
দশ মিনিট যেতে না যেতেই একটা মেয়েলী সুরেলা রিনিরিনি কন্ঠ বলে উঠল,”এক্সকিউজ মি, শুনছেন?” কন্ঠটা শুনে কান জুড়িয়ে গেল শিহাবের। অতিমাত্রায় সুরেলা কন্ঠ। বাংলায় এই ধরণের কন্ঠের একটা সুন্দর নাম আছে, কিন্নরী কন্ঠ।
শিহাব বই থেকে মুখ তুলে কন্ঠের অধিকারিণীর দিকে তাকাল।
পরীর মতন সুন্দর একটা মেয়ে হাতে ভারী একটা স্যুটকেস নিয়ে দাড়িয়ে আছে। শিহাব ফিরে তাকাতেই বলল,”আপনার সিট নম্বর কি B-32 ?”
“জ্বী।”
“আপনার পাশের সিটটাই আমার। কিছু মনে না করলে আপনি কি এ পাশের সিটেবসবেন? আমার আসলে জানালার পাশে না বসলে অসুস্থ লাগে…।”
“জ্বী,অবশ্যই।”
সুন্দরী মেয়েটার মুখের দিকে তাকিয়ে সিটটা ছেড়ে দিতে একটুও দ্বিধা করল না শিহাব। তবে মেয়েটাতখনই সিটে না বসে স্যুটকেসটা ঠেলেঠুলে উপরে তুলে দিতে লাগল। ভারী স্যুটকেস, সহজে ঢুকতে চাচ্ছিল না ভিতরে। শিহাব সাহায্য করতে এগিয়ে এল।
“আপনি বসুন, আমি তুলে দিচ্ছি।”
“থ্যাংকস!” কাষ্ঠ হাসি হেসে সিটেবসে পড়ল মেয়েটা।
ট্রেন ছাডতে তের মিনিট লেইট করল।যদিও তাতে যাত্রীদের কোন অভিযোগ দেখা গেল না।
শিহাব বই পড়ছে, আর পাশে বসা মেয়েটা কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছে। ওদিকে ট্রেনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে মেঘ জমতে শুরু করেছে আকাশে। এক ঘন্টা যেতে না যেতেই মেঘের বুক চিড়ে বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা পড়তে শুরু করল। রিমঝিম বর্ষা শুরু হতেই পাশের মেয়েটা “এমা” বলে দ্রুত উঠে দাড়াল। চটপট জানালার শাটার নামিয়ে দিতে চাইল। কিন্তু বিধিধাম! অর্ধেক নেমেই আটকে গেল জানালাটা। অনেক ঠেলাঠেলি করেও আর পুরোপুরি বন্ধ করা গেল না। অগত্যা ঐ অবস্থায়ই বসে রইল মেয়েটা। বৃষ্টির ছাঁটে ভিজে যাচ্ছিল তার জামা কাপড়। বাধ্য হয়ে একটু সরে বসতে হল শিহাবের দিকে। মেয়েটা এবং শিহাব,দু’জনেই বিব্রতবোধ করছিল এভাবে গাদাগাদি হয়ে বসায়। বিব্রতবোধটাআরো বাড়িয়ে দিতেই বোধহয় পকেটে ভাইব্রেট মুডে রাখা মোবাইল ফোনটা বেজে উঠল শিহাবের। কিন্তু মেয়েটা এমনভাবে সেঁটে আছে গায়ের সাথে, যে মেয়েটাকে ডিস্টার্ব না করে কোনভাবেই মোবাইলটা বের করা সম্ভব নয়। আবার দু’জনের মাঝখানে অতিরিক্ত ভাইব্রেশনটাও বেশ অস্বস্তিকর।
একসময় মেয়েটাই এগ্রেসিভ হয়ে বলল,”মনে হয় আপনার ফোন বাঁজছে।”
শিহাব মলিন হেসে বলল, “ওহ, আই সি!”
ফোন হাতে নিয়ে দেখল, রিমা ফোন করেছে। সব্বনাশ! আগেও ৯ টা মিসড কল। সবগুলো রিমার। আজকে শিহাবের কপালে বোধহয় জব্বর ঝাড়ি আছে।
“হ্যালো রিমা? সরি, সরি, সরি….!”

১৬ thoughts on “রেজা ভাইয়ের কষ্টের গল্প

  1. ভাই লিখতে থাকুন।আরো ভালো লিখা
    ভাই লিখতে থাকুন।আরো ভালো লিখা আশা করছি।আসলে গল্পে একটু ক্রাইসিস তৈরি করতে হয়।আপনার লিখাটা শুধু ভূমিকা হয়ে গেছে।আরো একটু বড়,একটু উত্তেজনা,একটু ক্রাইসিস না হলে জমে না।শুভেচ্ছা রইলো।

  2. মনে কষ্ট নিয়েও যে লিখেছেন
    মনে কষ্ট নিয়েও যে লিখেছেন এইজন্য ধন্যবাদ। অন্যের উপরে রাগ/অভিমান করে লেখা ছাড়বেন কেন?
    তবে লেখাটা অসম্পুর্ন মনে হচ্ছে। কোন ম্যাসেজ নেই গল্পে।

  3. রেজা ভাইয়ের কষ্টের গল্প
    রেজা ভাইয়ের কষ্টের গল্প শিরোনাম আলাদা কিন্তু একই লেখাঃ
    দু’কাপ চা এবং কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির গল্প (প্রথম পর্ব)
    লিখেছেন: চিন্তক
    Link: http://www.amrabondhu.com/mmibappybd/6637

    আবার রেজা ভাই এর লেখা রেজা ভাইয়ের গল্প

    খুঁজে পেলাম এখানেঃ

    কেন মেঘ আসে হৃদয়ও আকাশে( পর্ব-২)
    লিখেছেন: আহসান হাবীব
    Link: http://www.amrabondhu.com/ahasan-habib/6470

    ব্যাপারটা কি ভাই?

  4. সব সময় পজেটিভ কমেন্ট আসবে এটা
    সব সময় পজেটিভ কমেন্ট আসবে এটা কাম্য না করা টা বেটার .। আর এটা ভার্চুয়াল জগৎ এখানে ভদ্রতার খাতিরে চুপ করে থাকা হয় না.।

    আমি গল্প টা আগে পরি নি তবে পুরো গল্প পড়ে সুরু মনে হল কিন্তু হায় এটাই শেষ?

    লিখতে থাকুন যত টুকু পরেছি ভাল লেগেছে .।

    আর কায়সার ভাই এর প্রশ্নের উত্তর দেন

  5. সমালোচনা সহ্য করতে না পারলে এ
    সমালোচনা সহ্য করতে না পারলে এ জগতে না থাকাই বেটার। যদি সমালোচনার জবাব লেখা উপহার দিয়ে দিতে পারেন, তবে এ জগতে আপনার উজ্জল সম্ভাবনা বিদ্যমান…. বুঝতে পারলে এটুকুই যথেষ্ট…….

  6. “রেজা ভাই”! আপনার জন্য আমার
    “রেজা ভাই”! আপনার জন্য আমার দু’টো কথা…

    প্রথমে নিজেকে একটা প্রশ্ন করুন- আমি কেন (ইস্টিশন বা অন্য যে কোন) ব্লগে লিখব?
    প্রশ্নটা খুব সহজ কিন্তু উত্তরটা নিয়ে খুব ভাল করে চিন্তা করার ব্যাপার রয়েছে! আপনার মনে যা আসে তা-ই আপনি ব্লগে লিখতে পারেন, এতে কোন সমস্যা দেখি না! কিন্তু ব্যাপারটা হলো- সেটা তো আপনি ফেসবুকেই লিখতে পারেন- ব্লগে কেন? আসল সমস্যাটা হচ্ছে- প্রত্যেকটা ব্লগেরই কিছু নীতি-আদর্শ ও বিধিমালা থাকে। তাই বলে ভিন্নমতের কেউ যে সেখানে লিখতে পারবে না তা আমি মনে করি না। কারণ, ভিন্ন মতের কথা পাঠকের কাছে যদি না-ই পৌছে তাহলে আর কিসের ব্লগ? কিন্তু কথা হলো- আপনার বক্তব্য ব্লগে লেখা কতটা যৌক্তিক?
    সবাইকে ব্লগে লিখতেই হবে এমন কোন কথা নেই! আপনি কেবল পড়া ও মন্তব্য করার জন্যেও ব্লগে এজাউন্ট খুলতে পারেন…

    এজন্য বেটার হচ্ছে- নিয়মিত ব্লগে এসে প্রচুর পড়ুন। দেখবেন ব্লগে কী ধরনের বিষয়ে লেখা হয় বা একই বিষয় কী কী ভাবে উপস্থাপন করা হয় এটার ওপর একটা স্পষ্ট ধারনা হয়ে গেছে! তখন না হয় চেষ্টা করা যাবে!

    (কপি-রাইট আইনটা যদিও সব ব্লগেই কড়াকড়ি, তবে নতুন গল্প লেখকদের ক্ষেত্রে এটা খুব কমন পড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। ক্লাস নাইনে থাকতে লেখা আমার জীবনের প্রথম গল্পটাও একজন খুব বিখ্যাত লেখকের একটা গল্প নকল করে লেখা ছিল! সেদিন যদি আমি উৎসাহ না পেতাম তবে আর কোনদিন হয়তো লেখাই হতো না! কাজেই এটাকে আমি কোন বড় ত্রুটি মনে করি না…)

    সর্বপরি- একটা কথাই থাকবে, প্রচুর পড়ুন; সেই সাথে লিখতে থাকুন। ইস্টিশনে আমরা সবাই একটা পরিবার। আমাদের সাথে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটা টের পেয়ে যাবেন। তাই সাথেই থাকুন… আমরা পরিবারে সদস্য বাড়াতে আগ্রহী…! 😀
    [এটা কোন উপদেশ নয়। উপদেশ দেবার আমি কে?]
    জাস্ট ক্যারি অন- রেজা ভাই…
    :ফুল:

  7. সমোলচনা হবেই।সেগুলোকে আপনার
    সমোলচনা হবেই।সেগুলোকে আপনার উপর অন্যদের আর্শীবাদ রূপে দেখুন।কায়সার ভাইয়ের প্রশ্নের উত্তরটা চাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *