এসএ টিভি : ঈদের দিনে চলছে কর্মী ছাঁটাই

চলতি বছরের শুরুতে (১৯ জানুয়ারি) অনএয়ারে আসে ক্যুরিয়ার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন আহম্মেদের এইচডি টিভি চ্যানেল এসএ টিভি। এসএ পরিবহনের সিস্টার কনসার্ন তাই অন্য কিছু থাকুক আর নাই থাকুক, চ্যানেলটিতে টাকা ঢালা হয় প্রচুর। আসে বিদিশি বার্তাপ্রধাণ। আর চ্যানেলটির নিউজ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেয় চ্যানেল আইয়ের মুর্সালিন বাবলা, ইন্ডিপেন্ডেন্টের সালাউদ্দিন মাহমুদ মীম, রুবিনা মোস্তফা আর ইটিভির মঞ্জুরুল আলম পান্না, জেমসন মাহমুদের মতোন সাংবাদিকেরা। এক মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুযোগ দেয়া হয় আরো ৩০ নতুন সাংবাদিককে।


চলতি বছরের শুরুতে (১৯ জানুয়ারি) অনএয়ারে আসে ক্যুরিয়ার ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন আহম্মেদের এইচডি টিভি চ্যানেল এসএ টিভি। এসএ পরিবহনের সিস্টার কনসার্ন তাই অন্য কিছু থাকুক আর নাই থাকুক, চ্যানেলটিতে টাকা ঢালা হয় প্রচুর। আসে বিদিশি বার্তাপ্রধাণ। আর চ্যানেলটির নিউজ রিপোর্টার হিসেবে যোগ দেয় চ্যানেল আইয়ের মুর্সালিন বাবলা, ইন্ডিপেন্ডেন্টের সালাউদ্দিন মাহমুদ মীম, রুবিনা মোস্তফা আর ইটিভির মঞ্জুরুল আলম পান্না, জেমসন মাহমুদের মতোন সাংবাদিকেরা। এক মাসের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সুযোগ দেয়া হয় আরো ৩০ নতুন সাংবাদিককে।

প্রাথমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে চমক দেখালেও, অল্প সময়েই খোলশ থেকে বেড়িয়ে আসে চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ। সংবাদ, অনুষ্ঠান দু’ক্ষেত্রেই অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় হাঁপিয়ে ওঠে চ্যানেলটির কর্মীরা। অনএয়ারে আসার আগেই তাদের ভারতীয় ক্রু-রা পদত্যাগ করে। চ্যানেল ছেড়ে চলে যান, মুর্সালিন বাবলা ও মঞ্জুরুল আলম পান্না।

চ্যানেল অনএয়ারে আসলে সবকিছু বদলে যাবে, এই আশায় থেকে যান অনেকে। ১৯ জানুয়ারির পর সত্যিই বেশ কিছু বদল আসে চ্যানেলটিতে। ব্রিটিশ বার্তা প্রধানের স্বেচ্ছাচারিতার বিরোধীতা করলে চাকরী হারায় একুশের চোখখ্যাত রিপোর্টার জেমসন মাহবুব। প্রাথমিক ৬ মাসের চুক্তি শেষ হবার পরেও বেতন না বাড়ানো ও স্থায়ী না করার প্রতিবাদে চাকুরী ছেড়ে দেয় নবাগত ৬ সাংবাদিক।

এসময় মিডিয়ার সাথে জড়িত অনেকেই ভাবছিল চ্যানেলটিতে পরিবর্তনের কথা। কিন্তু সালাউদ্দিন আহমেদের এজেন্ডা তখনো বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় পার্টির এই নেতা হয়তো রাজনৈতিক বিবেচনাতেই তখন স্কট ক্রেইগকে সরিয়ে বার্তাপ্রধান করে “দিগন্ত” টিভির জনাব মারুফকে।

বাজারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে এরপর মরিয়া হয়ে ওঠে এসএটিভি। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কারো নজরে না আসলে শুরু করে নিজেদের সম্পর্কে ভুয়া সংবাদ প্রচার। প্রথম দিকে অবশ্য এইসব সংবাদ অন্যের জমিতে বোর্ড টানিয়ে এসএ পরিবহনের জায়গা দখল হচ্ছে জাতীয় তথ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। টিভি হিসেবে নিজেদের নিয়ে গর্ব করার সুযোগ পায় রিপোর্টার সাজ্জাদ পারভেজের মাধ্যমে। প্রথম আরো সেরা মাদক বিরোধী রিপোর্টার পুরষ্কার পান তিনি। আর তখনি এসএ টিভি শুরু করে প্রতারণা। নিজেদের সংবাদ, প্রতিষ্ঠানটিতে জড়িত কিছু ব্যক্তির অনলাইন নিউজপেপার (ওয়াহিদ মিল্টনের ফরিদপুরকণ্ঠ, শিপন হালদারের নিউজরুম, বিপ্লব শাহরিয়ারের মিডিয়াবার্তা) মাধ্যমে চ্যানেলটি দাবী করে তাদের অনুষ্ঠান ‘খোঁজ’ এই পুরষ্কার পেয়েছে। পুরষ্কার আনতে পাঠানো হয়ে খোঁজের সঞ্চালক আশিকুর রহমান শ্রাবনকে।

খোঁজ নিয়ে এসএটিভির প্রতারণা চ্যানেলটির টিআরপি বাড়াতে না পারলেও, বেতন নিয়ে অসন্তোষ ভয়ংকর রূপ নেয় ভেতরে। তবে, বেতন না বাড়ানো ও স্থায়ী না করার ব্যাপারে অটল থাকে কর্তৃপক্ষ। আর কেউ চলে যেতে চাইলে হুমকি তো আছেই।

বেতন নিয়ে অসন্তোষের শেষ বলি (আপাতত) হচ্ছে ঈদের দিনে চাকুরী হারানো বিশেষ প্রতিনিধি সালাউদ্দিন মাহমুদ মীম, বার্তাসম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও সিনিয়র প্রেজেন্টার দিলরুবা। প্রায় দেড় বছর চ্যানেলটিতে থাকার পরেও বেতন না বাড়ানো ও নবাগতদের স্থায়ী করা নিয়ে সবসময় সোচ্চার ছিলেন মীম এবং শরীফ। সে কারণেই তাদের জন্য এই পুরষ্কার। শরীফুল ইসলাম, যিনি ঈদের আনন্দে আজ অফিসে নিজ সন্তানদের নিয়ে গেছেন, দিলরুবা আফরোজ যিনি নিয়ে গেছেন স্বামী-সন্তান, সকাল ১১টার খবর শেষ করার পর তাদের হাতে তুলে দেয়া হয় টার্মিনেশন লেটার। ভাবছেন অফিস থেকে টার্মিনেশনের আগে দেয়া শেষ নোটিসের কথা কেনো বলছিনা? কারণ কোন নোটিস নেই। কারণ সাংবাদিকরা শুধুই অন্যের অধিকারের কথা বলে। কারণ তাদের নিজেদের অধিকার নেই। এটাই বাস্তবতা।

৭ thoughts on “এসএ টিভি : ঈদের দিনে চলছে কর্মী ছাঁটাই

  1. আপনি বোধ হয় লিখাটি খুব
    আপনি বোধ হয় লিখাটি খুব তাড়াহুড়া করে লিখেছেন বিধায় মুল বিষয়টি পরিস্কার ভাবে ফোকাস করতে পারেন নি।
    আপনার লিখায় দুটি বিষয় প্রাধান্য পেয়েছে যথা, এসএ টিভির সেচ্ছাচারিতা ও সাংবাদিকদের অপার কষ্টের কথা।কিন্তু আপনি প্রকৃত পক্ষে কোন ব্যাপারটি বা কি বুঝাতে চেয়েছেন তা আমার একজনের কাছে বোধগম্য হয়নি।আশা করি মন্তব্য অংশে খোলাসা করবেন ।

  2. ছাগল দিয়ে কি আর হাল চাষ হয়?
    ছাগল দিয়ে কি আর হাল চাষ হয়? টাকা থাকলেই যদি রুচিশীল বা সৃষ্টিশীল হওয়া যেতো তাহলে তো মেধার কোন দামই থাকেনা। খুব খারাপ লাগল জেনে। ঈদের দিনেই কেন এই কাজ করতে হলো এসএ টিভির রুচিশীল (?) মালিককে?

  3. সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। এটা
    সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। এটা এসএ টিভি প্রমাণ করে দিল। সুতরাং সাংবাদিক ভাইদরে বলবো, ভবিষ্যতে জেনে বুঝে চাকরী নিয়েন….

  4. ঈদের দিন এইসব কাজ করার জন্য
    ঈদের দিন এইসব কাজ করার জন্য ওইরকম পাষানহৃদ​য় হতে হ​য়। সম্ভবত এস​এ টিভির মালিকের হার্ট এর খাঁচা টাকা দিয়া বান্ধানো।

  5. স্যার, আসল গল্পটা কিন্তু অন্য
    স্যার, আসল গল্পটা কিন্তু অন্য জায়গায়- যে মুল তিনজনকে ছাটাই করা হয়েছে- তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ঘাটুন- একই কাহিনীতে এর আগে এই তিনজন আরো ২টি চ্যানেলের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল- সময় আর ইন্ডিপেন্ডেন্ট।মাঝখান থেকে আরো কিছু মানুষের চাকরিটা খাইল এই তিনজন।

    1. এই তিনজন এবং এসএটিভির ভেতরকার
      এই তিনজন এবং এসএটিভির ভেতরকার পরিবেশ আমার বেশ ভালো ভাবেই জানা আছে। চ্যানেলটি ১ বছর হয়েছে কারো বেতন বাড়ায়নি, বেতন দেয় মাসের ১০ তারিখের পর। এই মাসে দিয়েছে ঈদের আগের দিন। এই পর্যায়ে বিরোধীতা করা যদি অপরাধ হয়, তাহলে কিছু বলার নেই। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে আমার বেশ ভালই ধারণা আছে। আমি নিজেই এসএটিভির একজন কর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *