বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিকর্তার বৈজ্ঞানিক নবী

একটা মানুষ দাবি করে যে তার সাথে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার যোগাযোগ আছে যিনি সবকিছু জানেন, সব কিছু বোঝেন, যার কাছে সময় বলে কিছু নেই, যিনি পৃথিবীর আদি অন্ত সব কিছু জানেন। সেই সব কিছু জান্তার কাছ থেকেও কি সেই মানুষটি জানতে পারলো না যে তার পায়ের নিচে রয়েছে তেলের ভান্ডার, তার পায়ের নিচে রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার ৷ সেই সম্পদের উত্তোলন এবং সেই সম্পদের ব্যবহার কিভাবে করতে হয় সেসব কিছুই কি সৃষ্টিকর্তা সেই মানুষটিকে শেখালো না। সেই আমেরিকা থেকে মানুষ এসে সৌদি আরবের মাটির নিচ থেকে তেল উত্তোলন শুরু করলো। আর সৌদি আরবের মানুষগুলো ১৪০০ বছরের পুরোনো আফিম নিয়েই পড়ে রইলো।

একজন সর্বজ্ঞানীর কাছ থেকে পাওয়া বইয়ে কোথায় ডায়নোসরের কথা নেই, অথচ পৃথিবীতে  ডায়নোসরের যে অস্তিত্ব ছিলো সেটা বিজ্ঞানীরা বার বার প্রমাণ করে দিয়েছে। আসলে নবী মোহাম্মদের বানানো সেই সৃষ্টিকর্তার শুধু ঐ আরব বাসীদের নিয়েই যত চিন্তা ছিলো, ওনার জ্ঞান ঐ আরব ভূখণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।

উত্তর মেরুতে যে টানা ছয় মাস এক দিন থাকে, সেখানকার মানুষগুলো কিভাবে রোজা রাখবে, কিভাবে নামাজ পড়বে সে মানুষগুলোকে নিয়ে কি ওনার কোনো চিন্তা ছিলো না। চিন্তা তখনই থাকতো যখন সেই সর্বজ্ঞানী আগে জানবে যে উত্তর মেরুতেও টানা ছয় মাসে একদিন হওয়া সম্ভব। সেটাতো সেই সর্বজ্ঞানী জানতো না। জানলে তো তার সেই আসমানী কিতাবে আয়াত নাযিল করে দিতো। তাহলে সেই ব্যক্তি সর্বজ্ঞানী কিভাবে হয় কিংবা সর্বজ্ঞানীর সাথে কিভাবে সেই ব্যক্তির সংযোগ থাকতে পারে সেটা আসলেই চিন্তার বিষয়।

এসব বিষয় কোনো মুমিন মুমিনাদের কাছে যখন বলতে যাবেন তখনই বলবে যে এটা আমাদের সাধারণ মানুষদের বোঝা সম্ভব না। আপনি একজন অভিজ্ঞ আলেমের কাছে যান। অথচ কোরানে বার বার বলা হয়েছে কোরান নাকি সহজ করে নাযিল করা হয়েছে যেন সেটা সবাই পড়ে বুঝতে পারে। তাহলে কোরান বুঝতে হলে কেন একজন আলেমের কাছেই যেতে হবে। নবী কয়টি বিয়ে করতে পারবে সেটা নিয়ে কোরানে আল্লাহ আয়াত নাযিল করলো, একজন বৃদ্ধ হয়েও ৬ বছরের একটা বাচ্চা শিশুকে বিয়ে করার জন্য নবীকে স্বপ্নে দেখানো হলো সেটা নিয়েও কোরানে আয়াত নাযিল করতে হলো, নবীর স্ত্রীরা রাগ করলে হুমকি দিয়ে কোরানে আয়াত নাযিল করা হতো। অথচ পৃথিবীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ হলো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হলো, কত মহামারী আসলো কোটি কোটি মানুষ মারা গেলো অথচ সৃষ্টিকর্তা তার দরজা বন্ধ করে দিয়ে বসে আছে।

মোহাম্মদের মৃত্যুর সাথে সাথেই আল্লাহ তার দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। যে ব্যক্তির পৃথিবীর একটা মানুষকে নিয়ে এত চিন্তা করতো, ২২ বছর ধরে একটা ব্যক্তির জীবনে যখন যে ঘটনা ঘটতো সেটার প্রেক্ষিতে একটার পর একটা কোরানের আয়াত নাযিল করতো, সে হঠাৎ করেই চুপ হয়ে গেলো, মানুষকে নিয়ে তার দুশ্চিন্তা তার হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেলো। লক্ষ বছর কোটি বছর মানুষ যে সমস্যাই পড়ুক না কেন সে আর কারোর সাথেই কথা বলবে না। সে একটা কোরান আর আর শেষ নবী দিয়েই চুপ হয়ে গেলেন। সামনের দিনগুলোতে মানুষ যত সমস্যাই পড়ুক না কেন আল্লাহ আর কারো সাথে কথা বলবেন না।

মানুষ বিশ্বাস করে মসজিদ আল্লাহ’র ঘর সেখানে আল্লাহ থাকে কিংবা তিনি সর্বত্রই বিরাজমান। তিনি সবকিছু দেখছেন, সবকিছু শুনছেন, তিনি আমাদের মোনাজাত শুনছেন, কিন্তু তিনি কিছুই বলছেন না, তিনি আমাদের সামনে প্রকাশও হচ্ছেন না। তিনি আলো আঁধারির খেলা খেলছেন মানুষের সাথে৷ তিনি রাগ ঢাক রাখছেন আমাদের সাথে, সর্বশক্তিমান হওয়া স্বত্তেও তিনি মানুষের সামনে স্পষ্ট হতে পারেন না। সেই ১৪০০ বছরের নথিপত্র ঘেঁটে আমাদের ঈশ্বর আবিষ্কার করতে হয়, ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানতে হয়, ঈশ্বরের আসল ধর্ম সম্পর্ক  আমাদের জানতে হয়। অথচ আল্লাহ বা ঈশ্বর মানুষের সাথে নিজে যোগাযোগ করতে পারে না।

চাঁদ কোনো আলো না কিংবা কোনো মোমবাতি না একটা উপগ্রহ, সেই উপগ্রহকে একটা মানুষ শুধু আঙুলের ইশারায় দ্বিখণ্ডিত করে ফেলেছে। ভাবতে পারেন দুইটা খন্ড। যে মানুষটা কখনো একটা পাথরকে দুইটা খন্ড করে দেখাতে পারে নি। যেই লোকের গায়ে পাথর এসে আঘাত করছে সেই পাথরকে সে দুইটি খন্ড করে দেখাতে পারে নি, যেই লোকের ৪ টা দাঁত কুড়ালের আঘাতে ভেঙে গেছে, সে তার নিজের দাঁতকে রক্ষা করতে পারে নি। সেই লোক আবার দাবি করে চাঁদের মত এত বড় একটা উপগ্রহকে আঙুলের ইশারায় দ্বিখণ্ডিত করে ফেলেছে। সেই উপগ্রহের মধ্যাকর্ষণের ফলে পৃথিবীতে জোয়ার ভাটা হয়। সেই উপগ্রহটাকে দুইটা খন্ড করে দিলো সেটা আবার গুটি কয়েক মানুষ দেখলো, সেটাকে আবার স্বীকৃতি দিয়ে সার্টিফাইড করলো। পৃথিবীর কেউ দেখলো না,  কেউ জানলো না, কোনো গ্রন্থে লেখা নেই, নেই কোনো ইতিহাস৷ চীন, রাশিয়া, ভারত, আমেরিকা,আফ্রিকা, ইউরোপের কোনো মানুষ সেই চাঁদকে দ্বিখন্ডিত করার দৃশ্য দেখলো না,শুধুমাত্র আরব ভূখণ্ডের গুটি কয়েক মানুষ সেটা দেখলো আর কসম কেটে সার্টিফাইড করে সেটা প্রচার করলো, আর সেটা গোটা বিশ্বের মুসলমানরা বিশ্বাস করতে থাকলো৷ এত বড় একটা উপগ্রহকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেললো অথচ সেটার প্রভাব পৃথিবীতে বিন্দুমাত্র পড়লো না।

বৈজ্ঞানিক সৃষ্টি কর্তার বৈজ্ঞানিক নবী তারা সারা জীবনে শুধু মিথ্যাচার করে গেছেন। সেই বৈজ্ঞানিক নবী নাকি ভবিষ্যত সম্পর্কে সবই জানতেন, সবই বলতে পারতেন। অথচ সে তার মৃত্যুর পূর্বে কি জানতে পারলো না যে তার খাবারে বিষ দেয়া হয়েছিলো। সাধারণ এক ইহুদি নারীর হাতে বিষ মিশ্রিত খাবার খেয়ে বৈজ্ঞানিক নবীকে বিষক্রিয়ায় যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে করুণ মৃত্যুকে বরণ করে নিতে হয়েছিলো। সেই সর্বজ্ঞানী, সর্বজান্তা এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহও তার বৈজ্ঞানিক শেষ নবীকে বাঁচাতে পারে নি। সাধারণ একজন ইহুদি নারীর কাছে বৈজ্ঞানিক আল্লাহ এবং তার বৈজ্ঞানিক নবী দুজনই পরাজিত হয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *